শহুরে বাগান -১

দুনিয়া উন্নত হচ্ছে! সেই সাথে উন্নত হচ্ছে আমাদের সভ্যতা,সংস্কৃতি কৃষ্টি কালচার। এখন হাতের মুঠো ফোনটিই আপনার রাজ্যের ইনফরমেশন দাতা তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে।তাহলে বনায়ন বা সবুজায়ন কেন উন্নত হবে না?

অনেকে দেখা যায় গাছ কিনেই পরে গেছেন বিপদে। কোন টবে রাখবেন, কিভাবে রাখবেন? মহা সমস্যায় পড়েন। টব টেনে হিচড়ে সরানো। অনেক সময় বাড়িওয়ালা ছোক ছোক-মেঝে নষ্ট হল টব রেখে,টব টেনে টেনে দাগ।কখনো কখনো গাছ কিনলেও দেখা যায় টব কিনতে গিয়ে মহা ভ্যাজালে পরেছেন।
শেষমেষ টব কেনাই হল না ,সাধের গাছ ও নষ্ট। তাহলে উপায়?

তার চেয়ে চলুন গাছ লাগাই, টব ছাড়া , জমি ছাড়া শুধুই মাটিতে! হ্যা ঠিকই পড়েছেন, শুধু মাটি। তাও টব নেই , জমি নেই । কথাটা অদ্ভুত শোনাচ্ছে তাই তো ?? হ্যা! এটা সম্ভব। আর এটা সম্ভব করে দেখিয়েছে জাপানিরা। তারা আবিষ্কার করে দেখিয়েছে যে এমনটাও সম্ভব। অনেকটা ঝুলানো বাগান তৈরী
করার মতোই সুন্দর এই প্রযুক্তির নাম – “ককেডামা” ( kokedama) যার মানে হল জাপানিজ মস বল। অনেকটা এতা বনসাইয়ের মতোই বলা চলে।তবে অনেক সহজ একটি পদ্ধতি। চাইলেই যে কেউ এই পদ্ধতিতে ঝুলানো সুন্দর বাগান তৈরী করতে পারে।

ককেডামা তৈরী করতে যা লাগবেঃ
১। বনসাই এর উপযুক্ত মাটি
২। পিট মস/ মস
৩। পানি
৪। ছোট গাছ
৫। মসের পরত ওয়ালা মাটি। এটা অনেকটা কাপরের টুকরার মতো দেখতে।
৬। ঝুলানোর মতো দড়ি
পিট মস ও বনসাইয়ের মাটি পাবেন নার্সারি গুলোতে।

পদ্ধতিঃ
১। বনসাই মাটি ও পিট মস একত্রে মিশান এবং অল্প পানিতে ভিজিয়ে নিন যাতে তা কাদা না হয়ে যায় । একটু হালকা ভেজা ভাবটা থাকবে
২। এবার কাংখিত গাছের শেকড় এর চারপাশে প্রস্তুত করা মাটিটা দিয়ে সুন্দর করে হাত দিয়ে চেপে বলের মতো তৈরী করুন ।
৩।এবার এই বলের চারপাশে সুন্দর করে মসের পরত ওয়ালা মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।যাতে কোন অংশ খালি না থাকে।
৪। এবার সুন্দর করে দড়ি দিয়ে গোলক টা বেধে দিন চারদিকে। যাতে কোন অংশে ফাকা না থাকে।
৫। এবার দড়ির দিয়ে সুন্দর করে ল্যাসো তৈরী করে ঝুলিয়ে দিন । আর ঝুলাতে না চাইলে কোন ট্রে/ আপনার পছন্দ অনুযায়ী সমতল স্থানে রাখুন।
ব্যাস হয়ে গেল আপনার ককেডামা।

আরো ভালো করে পদ্ধতিটা হাতে কলমে দেখার জন্য দুইটা লিংক দিচ্ছি:
১। https://youtu.be/kQ-i_1S4eWo
২। https://youtu.be/LZdTFJjVSEg
ককেডামার পরিচর্যা করতে হবে অত্যন্ত যত্নের সাথেঃ
১। প্রতিদিন হালকা করে স্প্রেয়ার দিয়ে ককেডামার মাটির অংশটি ভিজানর চেষ্টা করুন। কারন এতে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকবে। অথবা ঝুলাতে না চাইলে হালকা পানি যুক্ত ট্রে তে রাখুন।
২। প্রতিদিন না দিলেও, তিনদিন অন্তর অন্তর পানি অবশ্যই দিবেন। যখন দেখবেন আপনার ঝুলানো গাছের ওয়েট কমে গিয়েছে এবং ম বলটি শুকিয়ে গেছে তখনই বুঝবেন যে পানি দেবার সময় হয়ে এসেছে। তবে হ্যা আলসেমী করে পাতা হলুদ না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
৩। সম্ভব হলে ল্যাসো থেকে খুলে একটা পাত্রে নিয়ে ধীরে ধীরে পানি দিন যাতে বলটা ভারী হয়ে যায়। এরপর আবার আস্তে করে ঝুলিয়ে দিন ।
৪। কোকোডেমার জন্য দরকার উজ্জ্বল রোদ। তাই বেস্ট হয় ঘরের যেদিকে রোদ আসে বা আলো আসে সেদিকে কোকোডেমা ঝুলানো ।
৫। সম্ভব হলে বছরে একবার রি-পটিং করুন কোকোডেমা।
৬। হলুদ পাতা সমূহ ছাটাই করবেন।
তাহলে আর দেরী কেন । আশা করি আজ থেকে কাজে লেগে পড়ুন। আপনার স্বপ্নের বাগান তৈরী করুন।
সকলের জন্য রইল শুভকামনা।
ছবি সংগ্রহ: Pinterest
?oh=cbb4be5858342e8ff4cc3f94002bcab4&oe=5A0A34EB” width=”500″ />


ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 2