বৃষ্টি ও মানুষের অসমাপ্ত গল্প

মানুষটি তার ইচ্ছা শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। সেই সাথে বৃষ্টি। সুপুরির ডাল বেয়ে নেমে আসা সন্ধ্যাও একসময় ভোর হয়ে আসে অথচ কারো ইচ্ছাই আর ফিরে আসে না। না মানুষটির না বৃষ্টির। গত সন্ধ্যা থেকে রেলিং এ বসে ভিজতে থাকা কাকটিও অবশেষে ডানা ঝাঁপটিয়ে ফিরে যায় নিজ গন্তব্যে। বৃষ্টির তোড়ে নুয়ে যাওয়া সুপুরির ডালটিও শক্ত হয়ে স্থির হয়ে যায়। কিন্তু মানুষটি তার স্থান থেকে একপাও নড়েনা। বৃষ্টি ও কমে আসেনা একটুও। এ যেন অদ্ভুত খেলা। হারবেনা কেউ। বৃষ্টি অপেক্ষায় আছে মানুষটির সে ফিরে গেলে নিজেও থেমে যাবে। অন্যদিকে মানুষটি চেয়ে আছে বৃষ্টির দিকে। বৃষ্টি থামলে ফিরে যাবে সেও। কিন্তু কোনটিই ঘটেনা।
মানুষটির মনে পরে তার শৈশবের কথা। বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় ফিরলে মায়ের বকুনি। আজ মা নেই তাই কেও বকবে না। এই ভেবে আরও আশ্বস্ত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সে। আজ সে নড়বেনা। বৃষ্টি থামলেই তবে ?
বৃষ্টি ভাবছে সেই পাহাড়ের কথা যেখান থেকে তার নেমে আসা। এই সময় সে বুঝতে পারে এতক্ষনে সে তার ঠিকানা ভুলে গেছে। এই ভেবে সেও আশ্বস্ত হয়।
একসময় বাবার স্মৃতির মুখোমুখি হয় মানুষটি। আকাশে মেঘ দেখলে বাবার চোখ দুটি বড়ো নস্টালজিক হয়ে উঠত। তখন সাদামাটা বাবাকে দেখে মনে হত বৃদ্ধ যীশু। আজ বাবাও নেই তাই কোন যীশুকে আজ নস্টালজিক হতে দেখা যাবে না। সুতরাং সে নড়বেনা, এক চুলও না।
রংধনু ! হ্যাঁ সাতটি রঙ, যার পাশেই বৃষ্টির বাড়ি। এখন সে রংধনুর সাতটি রঙের একটিও মনে করতে পারেনা। হয়ত এভাবেই রংধনুও তাকে ভুলে যাবে।
অরনীর সাথে বৃষ্টিতে নামার সময় হাতের পিঠে আঙ্গুল রেখে বলত কোন এক বর্ষায় আমিও বৃষ্টি হয়ে আসব তোমার কাছে। অথচ সেও বরুনার মত কথা রাখেনি। এরপর থেকে অনেকবার বৃষ্টি এসেছিল। কিন্তু অরনী আসেনি। হয়ত সে আজ বৃষ্টি হয়ে ঝরছে অন্য কারো উঠানে।
মেঘের সাথে বন্ধুত্ব ছিল তার চিরদিনের। অথচ মেঘও আজ তাকে ত্যাগ করেছে। নিজ শরীরের অংশকে যে চায়না তার কথা ভেবে কি লাভ ? কেও যখন তার অপেক্ষায় নেই তবে কেন ফিরে যাওয়া ? তার চেয়ে বরং মানুষটিকে আনন্দ দেওয়া যাক।
এভাবেই সাত দিন সাত রাত পেরিয়ে যায় ধীরে ধীরে। মানুষটি বৃষ্টির ফোঁটায় পরিণত হতে শুরু করল। অন্যদিকে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা জমা হতে শুরু করে এক জায়গায়। মানুষটির প্রতিটি বোধও মিলিয়ে যেতে থাকে বৃষ্টিতে। আর বৃষ্টির অনুভূতিগুলো ক্রমশ জমাট বাঁধতে থাকে একটি, দুটি …………………

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “বৃষ্টি ও মানুষের অসমাপ্ত গল্প

  1. দারুন লিখেছেন। ইস্টিশনে বেশ
    দারুন লিখেছেন। ইস্টিশনে বেশ কিছু ভালো গল্প লেখক যাত্রীর সান্নিধ্য পেয়েছি আমি। আপনারা এতো ভালো কিভাবে লিখেন? মাথা কুটে মরলেও এতো ভালো লিখতে পারব না। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. কিছু কিছু লেখার লাগাম নিজের
      কিছু কিছু লেখার লাগাম নিজের হাতে থাকে না । ঘোরের মধ্যে শুরু হয়ে ঘোরেই শেষ হয়ে যায় । ধন্যবাদ ।

  2. আরেকটু বাড়ানো যেতে না ?
    আরেকটু বাড়ানো যেতে না ? :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:
    ভালো লিখেছেন… :গোলাপ:

    1. কিছু কিছু লেখার লাগাম নিজের
      কিছু কিছু লেখার লাগাম নিজের হাতে থাকে না । ঘোরের মধ্যে শুরু হয়ে ঘোরেই শেষ হয়ে যায় । ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 8 = 1