৫৭ ধারার শিকার এবার ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মাহমুদ !!!

শিশুর আঁকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আমন্ত্রণপত্রের কার্ড বানিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি ও অবমাননার অভিযোগে বরগুনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারেক সালমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ইমতিয়াজ মাহমুদ নামে সুপ্রীম কোর্টের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ১৭, তারিখ-২১-০৭-২০১৭।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি ইমতিয়াজ মাহমুদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পোস্ট করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাসিন্দাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর লক্ষ্যে তিনি এই পোস্টগুলো করেন। এতে বাঙালি জাতিকে হেয় করে ‘সেটলার’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। ইমতিয়াজ মাহমুদের ফেসবুক পোস্টগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর জন্য পূর্বপরিকল্পিত উল্লেখ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি অটুট রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

ইমতিয়াজ মাহমুদ খারাপ,সাম্প্রদায়িক!কারণ তিনি সংখ্যালঘুদের প্রতিবাদী কন্ঠ।তিনি পাহাড়ী বাংগালীদের সেটালার বলেন,এর জন্য এটা সাম্প্রাদায়িক উস্কানি!কিন্তু আপনারা ভিন্ন ধর্মালম্বীদের মালু, কাফের যখন বলেন তখন সাম্প্রদায়িকতা উস্কানি হয় না!

যখন কাসালং কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চাকমাদের হত্যা বা হামলা করার ছাত্রলীগের কর্মীদেরকে রামদা নিয়ে আসতে বলে চাকমাদের কাটার জন্য তখন সাম্প্রদায়িক উস্কানি হয় না,কিংবা ৫৭ ধারায় তখন মামলা হয় না!

কারণ, পাহাড়ী উপজাতি আর সেটেলার বাংগালীরা অনেক বছর ধরেই মিলেমিশে আছে!উপজাতিদের উপর কোন হামলা হয় না!ইমতিয়াজ মাহমুদ ভাই,ফেসবুকে মিথ্যা উস্কানি দেয়!যেমন,কিছুদিন আগে রাঙামাটি জেলার লংগদুতে যা ঘটেছে,তা ইজরায়েল থেকে অবৈধভাবে আগত ইহুদীদের তাড়ানোর জন্য প্রায় ২৫০ বাড়িঘর পুড়ানো হয়েছে প্রশাসনের সহায়তায় সেটলারদের নিয়ে!কিন্তু ইমতিয়াজ মাহমুদ সেটাকে পাহাড়ী উপজাতি নির্যাতন বলে প্রতিবাদের নামে উস্কানি দিয়েছে!যা মিথ্যা এবং বানোয়াট,কারণ অনেকদিন ধরেই বাংগালী সেটেলার এবং পাহাড়ী উপজাতিরা পাহাড়ে মিলেমিশে ভাইয়ের মত বসবাস করে আসছে!

তোমরা পিনাকীর সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেখো না!কারণ সে সংখ্যালঘুদের হয়ে কথা বলে না,সে কথা বলে জামাতীদের হয়ে!জামাতীরা যেহেতু মুসলিম সেহেতু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও জাতের ভাই!অন্যদিকে ইমতিয়াজ ভাই, যেহেতু জাতের ভাই হয়েও পাহাড়ী কিংবা ভিন্ন ধর্মালম্বীদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদী কন্ঠ সেহেতু তাকে মুরতাদ বলে ৫৭ ধারায় মামলা দিয়ে কন্ঠরোধ করার বৃথা চেষ্টা করাই যেতে পারে।

যে মানুষটির স্বরে বাংলাদেশের পাহাড়ে সমতলে সকল নির্যাতিত-নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের স্বর কথা ব’লে ওঠে, সেই মানুষের কণ্ঠরোধের পায়তারা শুরু হয়েছে। সত্যকথন যে শাসকের কানে বিষ ঢালবে সে তো জানাই ছিল। তবু কলম চলবে, প্রতিবাদ চলবে। সাদাকে সাদা সুন্দরকে সুন্দর নষ্টকে নষ্ট বলতে পারা,নিপীড়িত,নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলা, আঙুল দিয়ে ভুল ধরিয়ে দেওয়া মানুষটা সুপ্রিম কোর্ট এর আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করুন।

খুব জানতে ইচ্ছে করছে, ৫৭ ধারায় কি অন্য ধর্মের নামে কটুক্তি কিংবা ওয়াজ মাহফিলের নামে উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক ঝড় তোলা কথাবার্তা কি আওতাধীন নয়? যদি না হয়, তাহলে, আমাদেরও ৫৭ ধারা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।এক ইমতিয়াজ মাহমুদকে মামলা দিছেন শতশত কলম জেগে উঠেছে অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরুপ।

ক্ষমতা কারও কাছেই চিরদিন থাকে না।সেহেতু বর্তমান সরকারও চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে না।হ্যা,আমি একজন আওয়ামী-লীগের সাপোর্টার হয়েই বলছি,কোন সরকারই চিরস্থায়ী না।তবে বর্তমান সরকারের দলীয় লোকেরা ক্ষমতার জোরে যেভাবে ভিন্ন মতালম্বীদের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে,সেটা ঘুরে তাদের ঘাড়েই পরবে।তখন বুঝবে,কতধানে কত চাল।বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এখন আর বিরোধী কিংবা বামাতী কিংবা লুঙ্গী মজাহারদের দরকার নাই।সরকার দলের চাটুকারিতারাই যথেষ্ট দলের ক্ষতি করার জন্য।

# ৫৭ ধারা বাতিল হোক,কালো আইন থেকে মুক্তি চাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1