হে রাজধানী

(অনেকদিন আগে রাজধানী ঢাকাকে নিয়ে লেখা)
হে রাজধানী, আমি এক মফস্বল কবি
দেখতে এসেছি তোমায়, বড়ই আহ্লাদে;
কিন্তু হায়,তোমার প্রকট পাষানরূপ
অদ্ভুত। তোমার নাসাগ্রে আবর্জনার পূতিগন্ধ;
তোমার গ্রীবায় করে বসবাস মুখোস-মানুষ
আর তুমি;ভাবলেশহীন নির্লিপ্ত প্রাণহীন এক
নিরেট আস্তাবলে অশ্বমুলার মতো পড়ে আছো।

যন্ত্রদানব চিৎকারে-ফুতকারে করিছে বিলাপ;
তুমি অবিচলিত আর অপলক নির্বীষ সাপ
ধুন্ধুমার রাতে নৈশপ্রহরীর মতো তুমি সংকুচিত
উদ্দাম-উচ্ছাস সবই যেন নিছক অভিনয়;
সরুচোখে সংশয় নিয়ে অবিশ্বাস এখানে
হুটোপুটি খায়।আর এক অচেনা পথশিশু
আমার জামার কোনে ময়লা হাতের টান দেয়;
চমকে উঠি–নিদ্রাভঙ্গের মতো; ডাস্টবিনের
কুকুরে শোঁকা উচ্ছিষ্ট খাদ্যের যোগাড় আজ হয়নি তার,
অথবা,সুপ্রাচীন ভাঙা চশমার কাঁচে পল্লীবৃদ্ধার
মতো খুঁজে খুঁজে পায়নি হয়তো কিছুই।

তাতে কী?তুমি তো তবুও বেশ আছো,
ক্লেদ ক্লান্তি গ্লানির আধার হয়ে;ধনাঢ্যের
সুখবাসরে, তুমিই আবার সঙ্গিন ছাড়া তীক্ষ্ণবেগী
চলমান জাহাজ।তবুও ভালো,ছুড়ি হাতে
এখনও আসেনি কেউ।যে এসেছে সে
একটি শিশু;বিষবাষ্পে নিঃশ্বাস
নিতে নিতে হয়েছে যে লেগুনে মাছ।
অথবা রাতের অভুক্ত শৃগালের ন্যায়;
আমাকে সে মুরগীর খোয়াড় ভেবেছে;
মুরগীর খোয়াড়! দারুন তো
তবুও সে তো দুর্গন্ধের সাথে সাথে মালিককে
কিছু ডিম আর মুরগী উপহার দেয়।
কখনো কখনো শৃগালকেও
খোয়াড়ের সবল বড়টি না হোক
দুর্বল রুগ্ন মুরগীটা দেয় হয়তো।
কিন্তু, আমি শুধু এখানে এসে
মন হৃদয় মস্তিষ্কে শুধুই নোংরা বিষ্টা ধারণ করছি,
দিতে পারি নি উপহার এই ক্ষুধাতুর নরের
কলেবরে শৃগালশিশুর লোলুপ দৃষ্টিকে ও মুখে
কোনো শান্তনা কিংবা আহার।

কোনো পল্লী কিশোর মনের আবেগের সাথে
হয়তো আলিঙ্গন করছে;-স্বপ্ন নিয়ে
তোমাকে দেখার জন্য হয়তো।
কিন্তু,আমার সাথে তার দেখা হলে
আমি বলে দেবো;কপট যাজকের মতো
তুমি বড়ই সুন্দর,বড়ই সুন্দর তুমি
কারণ– তার সুষমাণ্বিত স্বপ্নঘোর
আমি ভাঙবো না।ধন্যবাদ ‘হে
রাজধানী’ফিরে যাবো আগামী
সূর্যদয়ে আমার আমার স্বপ্নকে হত্যা করে
সে মফস্বলে আবার……………………………।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − = 63