জিপিএ সমাচার ও ফলাফলের আদ্যোপন্ত

বেশি বেশি পাশের হার আর জিপিএ ফাইভ দিলেও দোষ, আবার কম কম পাশের হার ও জিপিএ ফাইভ কমিয়ে দিলেও দোষ।
শিক্ষাখাতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কি করবে?
এ জাতি এমন জাতি যে, কচু দিলে বলে তরকারি দিছে,
আর ভালো কোন তরকারি দিলেও বলে কচু দিছে।
সার্কাজম আর লেইম এক্সকিউজ আর কত?
আমি মনে করি, পাশের হার আর গ্রেড মান নিয়ন্ত্রণ ভালো, তবে সেটা যতটুকু ন্যায্য পাওনা তা দিয়েই।
বাস্তব অভিজ্ঞতার দিক থেকে বলা যায়, এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পাওয়া ব্যবসায় শিক্ষার এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলাম, খরচ আর ব্যয়ের মধ্যে তফাৎ কি?
মেধাবী বনে যাওয়া লোকটা বললো, কি বলেন, দুটো তো একই জিনিস।।
আরেক বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৯৪ পাওয়া পড়ুয়াকে জিজ্ঞেস করলাম সুক্রোজ আর চিনির সংকেতে কি তফাৎ থাকতে পারে? জনাব আমায় হেসে বললো, সুক্রোজের সংকেত কখনো পড়ে নাই তবে চিনির সংকেত পড়ছে আপাতত মনে নেই।
মাদ্রাসায় এ প্লাস পাওয়া হাজার ছাত্র পাওয়া যাবে যারা ঠিকমত বিভিন্ন বিষয়ে দুটো করে আয়াত বা হাদীস বলতে পারবে। আর জলের ধরে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট ঢেলে দেওয়া হয় মাদ্রাসায়।
মাদ্রাসার সাথে বিদ্বেষের জন্য নয়, এরা ওপেন স্কুলের চেয়ে বেশি ঢেলে দেয়।
কত জনকে উত্তরপত্র মার্কিং করতে দেখলাম, ভুল অংকের উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়েছে।
এমনও স্টুডেন্ট আমার ছিল যে ইসলাম শিক্ষাতে পাশ করার যোগ্যতা নেই, পরবর্তীতে সে ৪:৫০ ও পেয়েছে এবং পাড়াসুদ্ধ মিষ্টি বিলিয়েছে।
এখানে অহংকারের কোন স্থান নেই, আমি ও আমাদের সময় যারা পড়েছে, যে যতটুকু প্রাপ্য নম্বর পেয়েছে।
এ বছরের আগে পাঁচ ছয় বছর সব বর্ষার জলের মত ফলাফল বিলিয়েছে।
যখনই একটু চোখ খুলে খাতা দেখল কুমিল্লা বোর্ড, তখনই গালি গালাজ শুরু করলো।
কে দেখাতে পারবে যে, যে ছেলেটা মোটামুটি ভালো লেখাপড়া করেছে সারা বছর ধরে এবং পরীক্ষাটাও মোটামুটি দিয়েছে সে ফেল করেছে।
একই প্রশ্নপত্রে একজন গোল্ডেন জিপিএ পেলে আরেকজন কেন ফেল করবে?
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের দিকে তাকানোই দায়,
চার পাঁচটা মোবাইল, হাফ ডজন বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড, বাসায় বাসায় ওয়াইফাই, ডজন ডজন ফ্রেন্ড, অনেক গুলো রাজনৈতিক পদবী, পার্টির পিছনে দৌড়াদৌড়ি, আর গাজা আর ইয়াবার আসরে ডুবে থাকা।
আমাদের আজকালকের প্রজন্ম ভুল করেও সালাম দিলেও দশ হাত দূর থেকে গাজার গন্ধ বেড় হয়।
বোর্ডকে গালি না দিয়ে, যারা ক্যানডিডেট তাদের একটু পড়ায় মন দিতে হবে এবং যারা ক্যানডিডেটের নিকটে আছেন তাদের সাপোর্ট দিতে হবে।
তা না হলে সস্তা পয়েন্ট নিয়ে ঢাবিতে গিয়ে গড়ে ইংরেজিতে ফেল করতে হবে।
পরিস্থিতি এমন যে গতবছর রুয়েটে হাজার হাজার ছাত্র ভর্তি পরীক্ষা দিলো, অথচ রুয়েট আসনের অর্ধেক পূর্ণ করার মত ছাত্র পেল না।
যদি সস্তাধরে ভর্তি করাতো তবে প্রতি মোড়ে মোড়ে রানা প্লাজার সৃষ্টি হতো।
রাবির এক ইংরেজি প্রফেসরের সাথে অনেক আগে কথা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন তার ডিপার্টমেন্টে এমন ছাত্র ছিল যাদের পয়েন্ট ভালো তারা ক্লাস থ্রির ইংরেজি পড়তে পারে না, তারা শেক্সপিয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলী পড়তে এসেছে।।
এদেশে ছয়মাস জেলে থেকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ছাত্র জিপিএ ফাইভ পায়, দিনমজুর ছাত্র জিপিএ ফাইভ পায়, তাহলে হাওয়া খেয়ে বেড়ানো ছাত্র ছাত্রীরা কেন পেতে পারে না।
সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষাগত পদ্ধতির কতটুকু ত্রুটি আছে সেটা নয়, আমাদের ভবিষ্যত ধ্বংসের জন্য দায়ী শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, অপরাধপ্রবণ সামাজিকীকরণ, এবং নীতি নৈতিকতাহীন ও উগ্র তরুণ প্রজন্মের নগ্ন বিকাশ।
রুট লেভেলের শিক্ষাটাই দুর্বল পয়েন্টে আছে, সেখানে গ্রোথ হবে কি করে?
বিশ্বায়নের যুগে মি. পারফেক্ট না হলে, সারা বিশ্বের সাথে আমাদের টিকে থাকা অসম্ভব।
জীবনে শিক্ষাজীবনের শেষ কাটা ছোঁয়ার অপেক্ষায় কিন্তু শিক্ষা নিয়ে আত্মতৃপ্তি পেলাম না, আমাদের অগোছালো শিক্ষাব্যবস্থার কারণে।
উন্নত রাষ্ট্রের শিক্ষাগত পদ্ধতির সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে আমরা যেন স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পড়াচ্ছি না, ভেড়া খেদাচ্ছি।
উত্তরণ প্রয়োজন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1