ওরা কারা, শিক্ষক নাকি নির্যাতক?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অনেক আগেই ক্ষয় শুরু হয়েছে। গত আট বছরে এই ক্ষয় আরো বেড়ে এখন বিশাল বিশাল গর্তে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এতোটাই অবনতি হয়েছে যে এখানে এখন মানুষ গড়ার কারিগররাই শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের লোভ লালসার জন্য পেটাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে ওঠে আসতে হলে সবার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গর্জে ওঠতে হবে, মেরুদন্ড সোজা করে এইসব দলদাস শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যে শিক্ষক নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলছে তার কাছে আমাদের উচ্চ শিক্ষা কোনভাবেই নিরাপদ নয়। একজন নিপীড়ক শিক্ষক হতে পারেন না। আর শিক্ষার্থীরাতো নিরাপদই নয়।

.pagespeed.ic.tiMxO4pEJi.jpg” width=”500″ />


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অনেক আগেই ক্ষয় শুরু হয়েছে। গত আট বছরে এই ক্ষয় আরো বেড়ে এখন বিশাল বিশাল গর্তে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এতোটাই অবনতি হয়েছে যে এখানে এখন মানুষ গড়ার কারিগররাই শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের লোভ লালসার জন্য পেটাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে ওঠে আসতে হলে সবার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গর্জে ওঠতে হবে, মেরুদন্ড সোজা করে এইসব দলদাস শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যে শিক্ষক নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলছে তার কাছে আমাদের উচ্চ শিক্ষা কোনভাবেই নিরাপদ নয়। একজন নিপীড়ক শিক্ষক হতে পারেন না। আর শিক্ষার্থীরাতো নিরাপদই নয়।

.pagespeed.ic.tiMxO4pEJi.jpg” width=”500″ />

শিক্ষার্থীদের দাবি কী অযৌক্তিক?
শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলো ডাকসু নির্বাচন না দিয়ে ভিসি নির্বাচনের প্যানেল দেওয়া যাবে না। খুবই যুক্তিসঙ্গত দাবী। গত ৮ বছরে বহু তর্কবিতর্ক ও উচ্চ আদালতের নানান নির্দেশ থাকা সত্বেও ডাকসু নির্বাচন কেন দেওয়া হলো না? আওয়ামী লীগ দুই দুবার ক্ষমতায় রয়েছে পরপর। তারাতো জিতেই চলেছে। ডাকসু নির্বাচনে তাদের হারারতো আমি চান্স দেখি না। ভোটে না পারলে ভোট লুট করেওতো জেতা যেতো। তাহলে ডাকসু’তে ভোট হয় না এমন বদনামতো হোত না।

সিনেটে ১০৫টি ভোট। এর মধ্যে ৫০টি পদে কোন সদস্যই নেই। বাকি ৫৫টি ভোট দিয়ে ভিসি নির্বাচন করাটা হাস্যকর নয়। এই ৫০ জন সিনেট প্রতিনিধির মধ্যে আবার ২৫টি রয়েছে রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি। আবার ৫৫ জন সিনেট প্রতিনিধির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৪৭ জন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরাও এভাবে ভিসি নির্বাচনের প্যানেল ঠিক করাকে যৌক্তিক মনে করেনি। প্রথম আলো ৩০ জুলাই প্রতিবেদনে আওয়ামীপন্থি প্রভাবশালী শিক্ষকরা বলেছেন, এটা ঠিক হয়নি। আর বিএনপিপন্থিরাতো বলবেনই ঠিক হয়নি।

ওই প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যখন পদত্যাগ করি, তখন আমাকে উপাচার্য নির্বাচন দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলাম, এখন সিনেট সম্পূর্ণ গঠিত নয়। সম্পূর্ণ করাটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ করার পর নির্বাচন করাটাই সমীচীন হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি হতাম, সিনেটের সব কটি পদ বিশেষ করে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের প্রতিনিধিসহ উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করলে। হয়তো তিন-চার মাস আগে উদ্যোগ নিলে এগুলো করা যেত।’

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো নির্বাচনে অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডারের উপস্থিত থাকা উচিত। এখানে শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী যাঁরা রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, তাঁরা সবচেয়ে বড় দুটি শেয়ারহোল্ডার। হয়তো ফল এটাই হতো, কিন্তু সবাইকে যুক্ত না করায় একটা সন্দেহ থেকে গেল। এই প্রক্রিয়ায় যিনি নির্বাচিত হলেন, তাঁর জন্য মোটেও ভালো কিছু হলো না।’

শিক্ষক, নাকি নির্যাতনকারি?

?oh=7bd1ae3d15e4dda303db8c55185450a7&oe=59EA946F” width=”500″ />

যতগুলো ছবি এ পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে এসেছে তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে, ঢাবি আওয়ামীপন্থি উপস্থিত শিক্ষককরা শিক্ষার্থীদেরকে মেরেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেত্রী প্রগতি বর্মনের গায়ে হাত তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর। এটা ভাবা যায়! বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা আর চোর বদমাইশ ধরা কিন্তু এক নয়। কিন্তু সেই সব ভেদরেখাও ভুলে যাচ্ছেন এইসব মহান দলদাসেরা।

শুধু তাই নয়-শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলায় যোগ দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী ফারুক হোসাইন। এই শিক্ষক ছাত্রলীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) প্রভাষক ফারুক বর্তমানে আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় তিনি বেশ ভাল দাপট দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলেছেন। সেখানে তিনি কেন উপস্থিত ছিলেন এটা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রক্টর আমজাদ হোসেন এনটিভি অনলাইনকে বলেছেন যে, ফারুক হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার চেষ্টা করছেন। দারুন!!

আগে শিক্ষক হতে গেলে ভাল ফলাফল মেধার খোঁজ করা হোত। আর এখানে দেখা হচ্ছে কে মাঠে বেশি শিক্ষার্থীদের মারধোর করে গদি ধরে রাখতে পারে তাকেই শিক্ষক বানানো হবে। তাহলে এরকম না করে বরং একদম ট্রেনিংপ্রাপ্ত পুলিশ ধরে সোজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে দেয়া হোক। কয়েকদিন আগে পুলিশ যেভাবে শাহবাগে সিদ্দিকুরের চোখে টিয়ারসেল মেরে দিয়েছেন ওভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চোখে গুলি করে দিবে। ব্যাস মিটে গেলো। আন্ধা হয়ে গেলে নিশ্চয় আন্দোলন করবে না।

মানুষ একবারই মরে ভিরুরা মরে প্রতিদিন
২০০১ থেকে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিলাম। কত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। আমাদের সময় গভীর রাতে পুলিশ শামসুন্নাহার হলে ঢুকে নারীদের নির্যাতন করে। এর প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তখন বিএনপির প্রচন্ড প্রতাপশালী ভিসি আনোয়ারুল্লা চৌধুরী বিদায় নিতে হয়। এরপর হুমায়ুন আজাদের উপর আক্রমন, শাহবাগে ঢাবি ছাত্রী হ্যাপির সড়ক দূর্ঘটনার পর গড়ে ওঠা আন্দোলনেও চরম ভায়োলেন্ট হয়েছিলাম আমরা। সেনাবাহিনীর সঙ্গে ২১ আগস্টের আন্দোলন না হলে আজকের এই সরকার এতো সুন্দর করে তারিয়ে তারিয়ে উন্নয়নের গল্প বলতে পারতো কিনা সন্দেহ আছে। তবে এসব আন্দোলনে ঢাবি বহু শিক্ষক জেল জরিমানার ভয় সামলে আমাদের পাশে দাড়িয়েছিলেন। আমরা একটা স্লোগান দিতাম, ‘ছাত্র শিক্ষক জনতা গড়ে তোল একতা’। আজ সেই শিক্ষকদের একটি অংশ ছাত্র ছাত্রীদেরকে মারছে। আমি বিশ্বাস করি এখনো যেসব শিক্ষক দলদাসে পরিণত হননি তারা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাবেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে বর্তমান শিক্ষার্থীদের বলি, ভিরুরা বারবার মরে, মানুষ কিন্তু একবারই মরে। এই যে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে হলে ক্যান্টিনে যেসব মাস্তানি আপনাদের সহ্য করতে হয়, আর কতদিন করবেন? ছোট ছোট অন্যায়ের সাথে আপোষ করলে এক সময় বড় অন্যায় নিজেকে গ্রাস করে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আপনাকে অনার্স ও মাস্টার্সের সনদ দিবে না সাথে আরো অনেক কিছু দিবে। পড়ালেখা শেষে যখন চাকরিতে যাবেন তখন দেখবেন আপনার সনদ খুব কাজে আসছে না অন্যান্য জ্ঞানগুলো আপনার চাকরিতে আপনাকে ভাল কিছু দিচ্ছে
লড়ুন, গর্জে ওঠুন। গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের প্রশ্নে আপনার অবস্থান জারি রাখুন। যদি মিছিলে না যেতে পারেন তাহলে সোস্যাল মিডিয়াতে সোচ্চার থাকুন। এসব না করে বিসিএসের জন্য শুধু এমপি থ্রি ফোর পড়ে ক্যাডার হতে পারবেন কিন্তু মানুষ হতে পারবেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ওরা কারা, শিক্ষক নাকি নির্যাতক?

  1. যৌক্তিক লেখা। থ্যাংকু লেখককে
    যৌক্তিক লেখা। থ্যাংকু লেখককে

    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − 11 =