নারীবাদ বনাম মানবতাবাদ

নারীবাদ নিয়ে আমার মতামত খুব স্পষ্ট, নারীদের অধিকার নারীদেরই অর্জন করতে হবে, খালি পুরুষদের দোষারোপ করে নারী অধিকার অর্জন করা কল্পনাপ্রসুত ব্যাপার। যেখানে নারীবাদের মুল মন্ত্র হওয়া উচিৎ ছিল নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা, নারীদের জাগ্রত করে তোলা, তাকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। সেখানে বর্তমানে নারীবাদ মানে হচ্ছে পুরুষদের প্রতি ঘৃণা, নারীকে পুরুষদের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা, কয়েকজন পুরুষের অপকর্মের জন্য পুরো পুরুষজাতিকে দায়ী করা।

আমি কিছু কিছু নারীবাদীদের পুরুষদের প্রতি ঘৃণা দেখে রীতিমত আতংকিত। কেউ কেউ মনে করেন পৃথিবীর সব পুরুষরাই খারাপ এবং সবাই ধর্ষক। নারীদের ধর্ষণ করাই বোধহয় পুরুষদের একমাত্র কাজ। কয়েকজনকে এমন আন্দোলন করতে শুনেছি, নারীর গর্ভে পুরুষ ভ্রুন দেখামাত্রই তাকে হত্যা করা উচিৎ। পুরুষ মানেই খারাপ, পুরুষ মানেই ধর্ষক। তাদের মাথায় রাখা উচিৎ, তাদের বাবাও একজন পুরুষ, তাদের ভাইও একজন পুরুষ। কয়েকজন ধর্ষকের কারনে পুরো পুরুষজাতিকে ঘৃণা করার কোন যুক্তি খুজে পাইনা।

নারী অধিকার মানেই উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় চলাফেরা করা না। হ্যা, আপনার পোশাক পড়ার স্বাধীনতা অবশ্যই আছে, তবে অবশ্যই তা দেশভিত্তিক নিয়ম কানুন, ধার্মিক অবস্থান এবং সমাজের সাথে মানানসই হতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আপনি উলঙ্গ হতে হাঁটতে চান এবং যদি বলেন পুরুষদের না তাকাতে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ইউরোপেও যদি কোন মেয়ে দেখতে সুন্দরী হয়, তার দিকেও মানুষ তাকায়, তার সাথে ভাব জমাতে চায়। এটা পুরুষদের স্বাভাবিক আচরন ঠিক যেমনটি মেয়েরা কোন সুদর্শন ছেলে দেখলে তার দিকেও তাকায়। সুন্দরী মেয়ে দেখলে তার দিকে তাকানো আমাদের মজ্জার ভিতরে এবং এটা একটি জৈবিক কারন। আবার যদি মেয়েরা সাজুগুজু করে, কোন ছেলে যদি না তাকায়, ওই নারীরাই আবার বলে, ওই ছেলেটা হয়ত গে অথবা তার কোন সমস্যা আছে। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আর কাকে বলে।

আদিম যুগ থেকেই পুরুষ এবং নারীদের কাজের বন্টন করা আছে। ছেলেরা শিকারে যাবে, নারীরা বাচ্চাদের দেখাশোনা করবে এবং রান্না করবে। এখন যুগ পালটে গিয়েছে, নারী পুরুষ সমানতালে কাজ করছে। তাই বলে বাচ্চাকে ডে কেয়ারে রেখে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও জব করে আপনি কি এমন আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন জানতে পারি? আপনার বাচ্চা যে মায়ের আদর, স্নেহ, শাসন, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেটা কি আপনার কাছে মুখ্য নাকি চাকরি?

পুরো প্রানীজগতে সবাই নারীদের অর্জন করতে চায়। অনেক পুরুষ প্রানী নারী প্রানীকে পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করে, যেটা মানুষেরাও করে থাকে। অনেক প্রানী সুন্দর বাসা বানায়, গান করে, পালক তুলে নাচে শুধু মেয়েদের আকৃষ্ট করার জন্য, মানুষও তাই। মেয়েরা ডিমে তা দেয়, পুরুষরা খাবার সংগ্রহ করে আনে। ভাগ্যক্রমে প্রানীজগতে নারীবাদ নেই, নইলে পুরো প্রানীজগতে গন্ডগোল লেগে যেত।

ভাগ্য ভাল, মোরগের বিরুদ্ধে মুরগীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে কেউ মামলা করেনা, নইলে ডিমের মত সুস্বাদু খাবার থেকে আমরা বঞ্চিত হতাম।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীবাদ একটি হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক খবরে দেখেছি, বিশিষ্ট নারীবাদীরা সভা সেমিনারে নারীদের অধিকারের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে বাসায় এসে কাজের মেয়েকে খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেন, মারতে মারতে কাজের মেয়ের শরীর নীল করে ফেলেন, রিকশায় যাওয়ার সময় পায়ের কাছে বসান, উচ্ছিষ্ট খেতে দেন। আবার তারাই নারী অধিকারের বুলি কপচান।

অনেক নারীবাদী মনে করেন, নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু নারীরা গর্ভধারণ করেন, তাই নারীরাই শ্রেষ্ঠ। পুরুষের বীর্য ছাড়া যে গর্ভধারণ করা সম্ভব না, সেটা তারা ভুলে যান।

বাংলাদেশে কয়জন মেয়ে রেস্টুরেন্টের বিল দেন?
কয়জন মেয়ে দেনমোহরের টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান?
কয়জন মেয়ে বেকার ছেলেকে বিয়ে করতে চান?
কয়জন মেয়ে ডিগ্রি অর্জন করার পরেও বড়লোক জামাই না খুঁজে নিজেই চাকরির খোঁজে নেমে যান?
কয়জন মেয়ে পরিবারের ছেলের আশায় না থেকে নিজেই সংসারের হাল ধরেন?
কয়জন মেয়ে স্বামীর অত্যাচারের কারনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন?

যে দেশে নারীরাই পুরুষের পরজীবী হয়ে বাঁচতে চায়, সেখানে নারীবাদ একটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমার কাছে নারীবাদের চেয়ে মানবতাবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নারী পুরুষের কোন ভেদাভেদ নেই।

জগতের সকল নারী-পুরুষ সুখী হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “নারীবাদ বনাম মানবতাবাদ

  1. বাহ, বেশ বেশ !
    বাহ, বেশ বেশ !

    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

  2. আসলেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
    আসলেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীবাদ একটি হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধু হাস্যকরই নয়, বাংলাদেশের নারীবাদীদের মাঝে ভন্ডামীও চরমরূপ ধারণ করেছে। লেখাটি ভালো লেগেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

33 − 25 =