আজটেক প্রার্থনা ১ঃ হুইটসিলোপোশ্তলি এর প্রার্থনা

হুইটসিলোপোশ্তলি এর প্রার্থনা

১। হুইটসিলোপোশ্তলি১ সারিতে প্রথম, কেউ নয়, কেউ নয় তার মতো; আমি কি তার গান (তার প্রশংসা) গাইবো না যে এগিয়ে আসে আমার পূর্বপুরুষের পোশাকে; আমি উজ্জ্বল হই, আমি ঝলমল করি।
২। সে মিহতেকাদের২ নিকট আতঙ্ক; সে একাই ধ্বংস করে দেয় পিশা-হুয়াস্তেকাদের৩, সে তাদের উপর জয়ী হয়।
৩। তীর-নিক্ষেপকারী৪ শহরের জন্য একটি উদাহরণ, যেনো সে তার কাজ শুরু করে দেয়। যে যুদ্ধক্ষেত্রে নির্দেশ প্রদান করে তাকে বলা হয় আমার দেবতার প্রতিনিধি।
৪। যখন সে সজোরে চিৎকার করে সে প্রবর্তন করে ভয়ঙ্কর আতঙ্ক, স্বর্গীয় তীর-নিক্ষেপকারী, দেবতা নিজেই নিজেকে বদলে নেন যুদ্ধসাজে, স্বর্গীয় তীর-নিক্ষেপকারী, দেবতা নিজেই নিজেকে বদলে নেন যুদ্ধসাজে।
৫। আমানতেকা৫, নিজেদের একত্রিত করো আমার সাথে, একসঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে, তোমার শত্রুদের মুখোমুখি, নিজেদের একত্রিত করো আমার সাথে।
৬। পিপিতেকা৬, নিজেদের একত্রিত করো আমার সাথে, একসঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে, তোমার শত্রুদের মুখোমুখি, নিজেদের একত্রিত করো আমার সাথে।

টিপ্পনী

১ হুইটসিলোপোশ্তলি
হুইটসিলোপোশ্তলি আজটেকদের সবচেয়ে শক্তিশালী দেবতা। সমস্ত আজটেক জনপদেই তার অর্চনার প্রচলন ছিলো। তিনি যুদ্ধ এবং একইসাথে সূর্যের দেবতা। আজটেকরা যে নরবলি দিতো তা সাধারণত তার সম্মানেই দেয়া হতো। আজটেক লোককথা অনুসারে, পৃথিবীর আদি দেবতা দুইজন, ‘তোনাসাসিহুয়াতল’ এবং ‘তোনাসাতেসুতলি’। এই দুইজনের চার সন্তান। চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোটো হুইটসিলোপোশ্তলি। তিনি ও তার বাকী ভাইয়েরা পিতামাতার নির্দেশে এই মহাজগৎ সৃষ্টি করেন। প্রথমে হুইটসিলোপোশ্তলি যুদ্ধের দেবতা হিসেবে পূজিত হন। ক্রমে তিনি আজটেক সভ্যতায় সূর্যের দেবতা হিসেবেও আরাধনা পেতে শুরু করেন। আজটেকরা মনে করতো একমাত্র হুইটসিলোপোশ্তলিই তাদের যুদ্ধে জয় এনে দিতে পারেন। আজটেকদের বিজিত এলাকা যতো সম্প্রসারিত হতে থাকে ততোই ছড়িয়ে যেতে থাকেন হুইটসিলোপোশ্তলি। স্প্যানিশরা আক্রমনের পূর্ব পর্যন্ত হুইটসিলোপোশ্তলি পূজিত হতেন মেহিকো (মেক্সিকো) ও গুয়েতেমালার আটলান্টিক উপকূল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত। তার বাম হাতে আগুনের সাপ ‘হিউহকোয়াতল’ আর ডান হাতে স্বর্গীয় আয়না। তার মাথায় শোভা পেতো হামিংবার্ডের নীল আর সবুজ পালক, পরনে থাকতো স্বর্ননির্মিত পোশাক।
২ মিহতেকা
মিহতেকাতল এর বহুবচন। মিহতেকাপান এর অধিবাসীদের বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহৃত হতো। মিহতেকাপান প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী আজটেকদের শত্রুশহর।
৩ পিশা-হুয়াস্তেকা
হুয়াস্তেকা জাতি। হুয়াস্তেকারা ‘মায়া’ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তারা মেহিকো উপসাগর তীরবর্তী অঞ্চলে বাস করতো। আজটেকদের শত্রুজাতি।
৪ তীর-নিক্ষেপকারী
তীর-নিক্ষেপকারী, দেবতা হুইটসিলোপোশ্তলি নিজেই। তিনি তার হাতে থাকা আগুনের সাপ ‘হিউহকোয়াতল’ শত্রুদের দিকে নিক্ষেপ করেন।
৫ আমানতেকা
আমান্‌তলান অঞ্চলের অধিবাসী। আজটেকদের মিত্রভাবাপন্ন।
৬ পিপিতেকা
অনির্ধারিত কোনো অঞ্চলের মিত্রভাবাপন্ন জাতির নাম। স্থান নির্ধারন করা যায়নি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

23 + = 24