মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের ডুয়াইনগর এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুরে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআন ছিঁড়ে ফেলা ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করার অপরাধে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার তাকে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই যুবক মাওলানা মান্নানের পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে এলাকায়।

জানা যায়, সিংহশ্রীর ডুয়াইনগর এলাকার মাওলানা মান্নান সাহেবের পুত্র মামুন নামের ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরেই কোরআন চর্চা করতেন। প্রায়ই তাকে স্থানীয় আলেমদের সাথে কোরআন বিষয়ে আলাপ আলোচনা ও যুক্তি তর্ক করতে দেখা যেতো।
এর ফলে স্থানীয় আলেমরাও তাকে পছন্দ করতেন এবং কোরআন বিষয়ে আগ্রহের কারনে তার সাথে অন্যান্য আলেমদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেন তারা।

মামুন কোরআন বিষয়ে বিশদ জানার জন্য বিভিন্ন দেশি বিদেশি বই পুস্তক নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে তাফসীর ও ব্যাখ্যার জন্য অনেকেই আসতেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

তবে এই পড়ালেখার পর থেকে আস্তে আস্তে তার মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে তার পিতা মাওলানা মান্নান বলেন। কোরআনের কিছু বিষয় নিয়ে তার মধ্যে মত পার্থক্য দেখা যায়, সেই সাথে সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পিতার সাথে তর্ক করতেন মামুন।

যার ফলে বিভিন্ন সময় সময় ইসলাম ধর্মের সেই সব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতনে সরাসরি। বিভিন্ন সময় ফেসবুকে নানা স্ট্যাটাসও দিতেন।

হঠাৎ গত শুক্রবার জুমার নামাজের আগ মুহুর্তে তিনি ডুয়াইনগর মোড়ে মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে কোরআন এর পাতা ছিঁড়ে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন ইসলাম কোনো ধর্মই নয়।

/কোরআনও কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি একটি সাধারণ বই। মোহাম্মদ কোন নবী নয়, আল্লাহ বলতে কিছু নেই।/ কিন্তু বিপত্তি বাজে তখনই,আর ঠিক এ সময় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

আমার মতেও কোন ধর্ম কিংবা সৃষ্টিকর্তা নাই একজন অবিশ্বাসী হিসাবে,তবে এখানে একটা বিষয়,কোরান ছিড়া আমি সমর্থন করতে পারি না,তেমনি যেকোন বই।কারণ বই ছিড়লেই যেমন সব সত্য প্রমানিত হয়ে যায় না তেমনি অসত্য হয় না।বরং আমি যুক্তিতে বিশ্বাসী।বাকী কথা,যে জাগায় যেভাবে যেটা বলতে হয় এবং যেভাবে সত্যটা সেখানে সেভাবেই কৌশলে প্রয়োগ জানতে হয়।যেমনটা ধর্মযাজকরা সেই কৌশল গ্রহন করেছিলো এবং করছেও।

শুধু আঘাত করলেই হয় না,সেই আঘাত কতোটা কাজে লাগানো যেতে পারে সেটাও বুঝার ক্ষমতা রাখতে হয়।

অন্যদিকে ভিডিওতে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন,তার সাহসিকতা এবং মনোবল।অন্যদিকে তার প্রতি জোর করে ধর্ম চাপানোর চেষ্টা এবং তাকে গনপিটুনী দিয়ে হত্যার ঈংগিতও পাওয়া যায়।কারণ তাকে বারবার জিগাইতেছিলো সে ইসলাম বিশ্বাস করে কিনা?যখনই সে না বলতো তখনই হামলা হতো তার উপর।যদিও তাকে একবার মারা হয়েছে,কিন্তু পরেরটা ঠাণ্ডা মাথায় করা হতো।অন্যদিকে সে মনে সাহস এবং কৌশলের কারণেই হয়তো প্রানে বেচে যায়।

সূত্র

শেষে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতার কয়েকটা লাইন দিয়ে শেষ করবো,

মানুষেরে ঘৃণা করি’
ও’ কা’রা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি’
ও’ মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর ক’রে কেড়ে,
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে।
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল! মূর্খরা সব শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ

  1. পড়লাম ।
    পড়লাম ।

    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

ড. লজিক্যাল বাঙালি শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 42 = 47