অত্যাচারের হাতিয়ার শারিয়া

ঠিক এই লিখাটি আমি প্রকাশ করেছিলাম সাভারের দূর্ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন। ওইদিন অনেকেই ছিলেন প্রচুর ব্যাস্ত তাই হয়তো পড়তে পারে নি, আমি নিজেই ফেসবুকে শেয়ার করি নি লিখাটি। কয়েকটা জায়গা এডিট করে লিখাটি আবার পোস্ট করলাম।

আইনগুলো দেখলে আতকে উঠি। আমার হয়ত ধর্মে কর্মে এত মন নেই কিন্তু যারা প্রবল ধার্মিক তারাও আতকে উঠে শারিয়ার অনেকগুলো আইন দেখে। আমার চোখে সমাজের যেটা সমস্যা সেটা হচ্ছে, এই ধর্ম নিয়ে একেকজনের অনুভূতির শেষ নেই কিন্তু তারা সত্যিকারের ধর্মীয় জ্ঞানের প্রতি উদাসীন। কেউ গুটিকতক বিকৃত ইসলামের বই পড়ে ভুরি ভুরি ফতোয়া জারি করে এবং কম শিক্ষিত মানুষের কাছে স্বাভাবিক ভাবে সেটা হয়ে যায় মূল ইসলাম! আমাদের দেশে শারিয়া নিয়ে এত হৈ চৈ, মানুষের উপড় আক্রমণ, বোমা হামলা অথচ অনেকে জানতেই চান না কি আছে এর ভেতরে! আর আমার মনে হয়, সমাজ যত এগিয়ে যাবে এই আইনগুলোর অসামাঞ্জস্য তত বাড়তে থাকবে। আবার দেখা যায় কোরানে নারীদের পক্ষে অনেক সুন্দর সুন্দর উপদেশমালা আছে, সেগুলো না মানলে কিছু হয় না অথচ শারিয়া মোতাবেক নারী বিদ্বাষী আইনগুলো না মানলে কঠিন শাস্তির ব্যাবস্থা আছে। আবার মুরতাদ হত্যার ব্যাপারটা যদি আমি বলি; সমাজ এখন যে অবস্থার দিকে যাচ্ছে জ্ঞান বিজ্ঞানে শারিয়ার সব নিয়মকানুন মানা এককথায় অসম্ভব। অসম্ভব নিয়মগুলো অস্বীকার করলেও হবে কঠিনতম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। শারিয়া গুলো কেন এমন হয় এটা আলোচনার আগে আমি বলে যেতে চাই কতগুলো শারিয়া আইন যেকোন আধুনিক এবং বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষকে আতকে উঠানোর জন্যে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। তারপর না হয় এ ধরনের বিকৃত আইনের উৎস জানা যাবে (আমি বিকৃত আইন বলে কোনভাবেই ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি না; করছি তার বিকৃত ব্যাবহারকে। আমার লিখাটা নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ নিয়ে পড়লে আমার খুব ভাল লাগবে)

বাংলাদেশের ইসলামি ফাউন্ডেশন কর্তৃক ইসলামের বিধিবদ্ধ আইন ১ম খন্ড ও অন্যান্য সূত্রঃ
• খাবার, বাসস্থান এবং পোশাক দিতে স্বামী বাধ্য থাকিবে শুধুমাত্র বাধ্য স্ত্রী-কে, অবাধ্য স্ত্রী-কে নয়। এর বাইরে ডাক্তার দেখানো, সৌন্দর্যচর্চার খরচ স্বামীর দয়া বা করুনা মাত্র। (হানাফি আইন পৃঃ ১৪০; শাফি’ই আইন পৃষ্ঠা ৫৪৪)

• বৌ তালাকে সাক্ষ্য শর্ত নহে (বি-ই-আ ১ম খণ্ড ধারা ৩৪৪) ; *[অথচ সূরা তালাক আয়াত ২ এ আছে তোমরা যখন তালাক দিবে তখন দুজন সাক্ষি রাখবে।]

• যদি কোন রাস্ট্র প্রধান বা তার প্রতিনিধি কেউকে বাধ্য করে কোন নারীকে ধর্ষণ করতে তাহলে ধর্ষণকারীর সাজা হবে না। (বি-ই-আ ১ম খণ্ড পৃ ৩০১)

• বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানীকে খুন করলে খুনীর মৃত্যুদণ্ড হবে। কিন্তু বাবা-মামা যদি সন্তানকে এবং নানা নানী দাদা দাদী যদি নিজের নাতী-নাতনীকে খুন করে তাহলে খুনির মৃত্যুদণ্ড হবে না। (বি-ই-আ ১ম খণ্ড ধারা ৬৫ ক ও ক, শাফি’ই আইন পৃ ৫৮৪)

• কোন অমুসলমানকে খুন করার জন্যে কোন মুসলিম অপরাধি হবে না। (পেনাল ল’ অফ ইসলাম পৃ ১৪৯)

• বোবার সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য নয় (বি-ই-আ ১ম খণ্ড পৃ ৩১১) ; *কিন্তু বোবার চোখা আছে, কান আছে সেতো দেখতে শুনতে পায়! এতে খুনী কি পাড় পেতে পারে না?

• দাস-দাসী, গায়িকা, সমাজের নিচু ব্যাক্তির (রাস্তা পরিস্কারকারী বা শৌচাগার প্রহরী) সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। (হানাফি আইন পৃ ৩৬১, শাফি’ই আইন পৃ ৬৩৬, পেনাল ল’ অফ ইসলাম পৃ ৪৬, বিধিবদ্ধ ২য় খণ্ড ২৬৩) ; *অথচ এদেরও বিবেক বুদ্ধি আছে আমাদের মত। তারাও তো দেখতে পারে।

• হুদুদ মামলায়; বিশেষত ব্যাভিচার ও খুনের মামলায় নারী সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। (হানাফি আইন পৃ ৩৫৩, শাফি’ই আইন পৃ ৬৩৮, ক্রিমিনাল ল’ ইন ইসলাম এন্ড দ্যা মুসলিম ওয়ার্ল্ড পৃ ২৫১, পেনাল ল’ অফ ইসলাম পৃ ৪৪, বিধিবদ্ধ আইন ১ম খণ্ড ধারা ১৩৩ ও ২য় খণ্ড ধারা ৫৭৬)

• নারীদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়; তাহাদের স্মৃতিশক্তির দূর্বলতা, পরিচলনের অক্ষমতা ও বুঝিবার অক্ষমতার জন্যে (পেনাল ল’ অফ ইসলাম ৪৫)

• স্বামীর তরফ থেকে দেনমোহর হতে পারে এক জোড়া জুতো, কোরানের আয়াত বা আংটি (শারিয়া দ্যা ইসলামিক ল’ পৃ ১৬৩-১৬৪, বিধিবদ্ধ ৩য় খণ্ড ৯৭৬)

• আত্মীয়ের বাসা থেকে চুরি করলে বা মেজবানের বাসা থেকে মেহমান চুরি করলে তার হুদুদ শাস্তি হবে না। (বি-ই-আ ১ম খণ্ড পৃ ৭৯, ধারা ১৫৬ ও ১৫৭)

• তওবা করলে গণহত্যাকারীর শাস্তি হবে না। ( বিধিবদ্ধ ১ম খণ্ড পৃ ২১৮, ধারা ১৩)

• কোন কারনে ধর্ষনকারীর শাস্তি মওকুফ হলে ধর্ষনকারী ধর্ষিতাকে মোহরের সমান টাকা দিবে। (বি-ই-আ প্রথম খণ্ড পৃ ৩০১, শাফি’ই আইন #m.8.10) ; *এখানে অন্যকোন শাস্তির নাম উল্লেখ না থাকায় বাকপটু উকিল শুধু টাকা জরিমানা দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছে অপরাধীকে।

• মুসলিম পুরুষের রক্তমূল্য অপেক্ষা ১) মুসলিম নারীর রক্তমূল্য অর্ধেক ২) ইহুদি-খ্রিস্টানদের রক্তমূল্য তিনভাগের একভাগ ৩) অগ্নি উপাসকদের রক্তমূল্য পনেরো ভাগের একভাগ। (শাফি’ই আইন পৃ ৫৯০)

• রক্তমূল্যের দাবি বা খুনিকে মাফ করতে নিহতের পুত্ররাই পারে, কন্যারা নয় (শরিয়া দা ইসলামিক ল’, ডক্টর আবদুর রহমান ডোই পৃ ২৩৫)

• বিবাহিতা যুদ্ধ বন্দিনীদের বিয়ে তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়ে যাবে। (শাফি’ই আইন #o.9.13) ; *এ আইনের উদ্দ্যেশ্য অতি পরিস্কার। সেটা হল যুদ্ধ বন্দিনীদের ধর্ষন। এমনকি সেটা নবিজী মারা যারা যাওয়ার অনেক পরে জাল হাদিস বানিয়ে সেটা ধর্ষন হালাল করা হয়েছে। এ হাদিসের ভিত্তিতেই ধর্ষিতা হয়েছিল ৭১ এ আমাদের মা-বোন)

• রোজার সময় কেউ কিছু খেলে এমনকি গোপনে খেলেও তার শাস্তি হবে। (বি-ই-আ ১ম খণ্ড পৃ ২১০, ধারা ২) ; *১১ নভেম্বর ২০০৫ এ ১১ বছরের একটি ছেলে রোজা রেখেছিল। অবশেষে প্রচণ্ডো ক্ষুধায় সে খেয়ে ফেলেছিল। শাস্তি স্বরুপ ফুলের মত শিশুর ৮৫ টি বেত্রাঘাত হয়েছিল। যার ফলাফল একটি নিষ্ঠুর মৃত্যু। অশ্রু সজল হওয়ার মত একটি ঘটনা। এরকম শত শত ঘটনা ঘটছে ইরানের মত শারিয়া রাষ্ট্রে।

*আরেকটা কথা এখানে বলে নিই হবে আমি শারিয়ার সূত্রগুলো সরাসরি হাসান মাহমুদ এর লিখা ‘শারিয়া ও ইসলাম’ থেকে নিয়েছি যা লিখক অনেক খাটাখাটনি করে বের করেছেন। তাই ওনাকে আলাদাভাবে কৃতজ্ঞতা জানালাম শুধুমাত্র তারকা চিহ্ন ব্যাবহার না করে।*

আমি এখানে মূলত বাংলাদেশের ইসলামি ফাউন্ডেশন কর্তৃক ইসলামের বিধিবদ্ধ আইন ১ম খন্ড থেকে আইনগুলো তুলে ধরলাম। ১ম খণ্ডেই আছে আরো অসংখ্য বিবেকহীন আইন যা তুলতে আরো একদিন সময় লাগতে পারে। সত্যিকার অর্থে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি লিখতে লিখতে। আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে ২য় ও ৩য় খন্ডের কিছু আইনের প্রতি আলোকপাত করছি। কারো সূত্র দরকার হলে মন্তব্যে জানাবেন আমি দিয়ে দিব। অনেকগুলো আইনের মধ্যে আছে, অনাথ শিশুকে দত্তক নেবার নিয়ম নেই, হুদুদ মামলায় নারী বিচারক অবৈধ, হুদুদ মামলার সাক্ষী গোপন করা যেতে পারে, অবাধ্য স্ত্রীকে পেটানো যেতে পারে, হুদুদ মামলায় পারিপার্শিক প্রমান চলবে না (চাক্ষুষ সাক্ষির কথা বলা হয়েছে অথচ পারিপার্শিক প্রমাণ দিয়েই এখন খুনিদের অধিক ক্ষেত্রে ধরা হয়। এটা নিঃসন্দেহে খুনিদের জন্যে বিরাট সুযোগ) এরকম আরো অসংখ্য অসংখ্য আছে শারিয়া আইনের উদাহরণ যেগুলো পুরোটা দিলে আপনারা বিরক্ত হয়েই উঠে যাবেন। যাই হোক, সমস্যা হয় তখনই যখন আইনে অন্যায় থাকে।

* [ http://www.theghouseteam.com/mg/WMC_Files/Shariah_value_Dr.Farooq.pdf এখানে আপনারা বিস্তারিত শারিয়ার মূল তত্ত্ব জানতে পারবেন। এই লিংকটি আপনাদের অনেক উপকার করবে। তাছাড়া হাসান মাহমুদ শারিয়ার উপড়ে অনেক কাজ করেছেন যার প্রত্যেকটা অনেক তথ্যবহুল। এর জন্যে আপনারা www.banglarislam.com এ গিয়ে দেখতে পারেন। অসংখ সিডি, ডিভিডি দ্বারা প্রমাণ করা হয়েছে শারিয়া আইন নিজেই বেয়াঈনী] *

এতটুকু বুঝা যায় যে শারিয়া আইনগুলো একচেটিয়া ছিল পুরুষদের অধীনে। শারিয়ার কুফল ভোগ করেছে যুগে যুগে নারীরা- এটা স্বীকার না করে উপায় নেই। শারিয়াতে নারীদের গৃহপালিত পশুর উপড়ে কখনো স্থান দেয়া হয়নি। কিছু কিছু আইনে এমন দেখা যায় নারীর অস্তিত্বই পুরুষের ভোগের জন্যে। এটা যে কোন সমাজের জন্যে অনেক ভয়ংকর। আমাদের এদেশে ধর্ম নিয়ে কখনোই কিছু বলা যায় না। সত্যিকার অর্থে ধর্মকে বলার কিছু নেই। ধর্মের উদ্দেশ্যই ছিল মানবতার জয় করা। কিন্তু যখন এটিকে ব্যাবহার করে অনেক অসভ্য ব্যাবস্থা আনা হয় তখন ধর্মই হতে পারে সমাজের জন্যে প্রচুর হুমকি স্বরুপ। আমার লিখাটি যারা পড়ছেন তাদের মাঝে অনেকেই শারিয়া প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতি। তারা কি বুকে হাত দিয়ে নিরপেক্ষ হয়ে বলতে পারবেন আমি যেই আইনগুলো দেখিয়েছি এগুলো কোন অংশে মানবতার পর্যায়ে পরে?

বাংলার দার্শনিক লালন শাহ বলেছেন, দেশ সমস্যা অনুসারে ভিন্ন বিচার হতে পারে। কোরান কিন্তু একদিনে নাজিল হয়নি। হয়েছে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে। এর মানে এটি সময়ের হিসাবকে ধরেছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত শারিয়া সমর্থক বিশেষজ্ঞরাও বলছে শারিয়ার সীমাবদ্ধতা, “ শারিয়াকে এযুগে চালাতে হলে অবশ্যই প্রচন্ড ঘষামাজা করতে হবে সে ব্যাপারে আমি সবাইকে স্মরণ করে দিচ্ছি। সে যুগে যে উদ্দেশ্যে শারিয়ার নিয়ম বানানো হয়েছিল অনেক কারনে এটি এখন উদ্দেশ্য অর্জন করতে সক্ষম নয়। শারিয়ার নিয়ম নিজের পদ্ধতি ও তত্ত্বের ভেতর স্থান কালের ব্যাপারকে ঠিকমত অন্তর্ভুক্ত করে নি।
(Wt nvwkg Kvgvwj, c„t 13, 500, 504)|

আর বড় কথা হচ্ছে শারিয়া যদি আল্লাহর আইন হত তাহলে কখনো স্ববিরোধিতা থাকত না। শারিয়াতে আছে অসংখ্য স্ববিরোধিতা বা আইনে আইনে বিরোধ। এক আইন মেনে চললে অন্য আইন তার বিরোধিতা করে যা হাস্যকর। স্পষ্টই দেখা যায় শারিয়া আইন একটা সমাজের জন্যে তৈরি এবং সে সমাজের অপকর্মীদের দ্বারা পরিবর্তিত। শারিয়ার জন্যে কম মাশুল দিতে হয়নি ইসলামের ইমামদের । তার সাক্ষি ইতিহাস। শারিয়া আইনের দ্বারা মা বোনদের হাজারো কাহিনী দেখতে পাবেন এখানে http://www/wluml.org/english/index.shtml ।

আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে পড়ি শারিয়ার রক্তাক্ত কাহিনিগুলো। অবাক হতে হয় সু-সম্মানিত ইমাম যাদের আমরা চিনে এসেছি- তারা শারিয়ার জন্যে নির্যাতন সয়েছেন অনেক। ইমাম মালিককে মারা হয়েছিল চাবুক আর তার হাত টেনে টেনে ছেড়া হয়েছিল। ইমাম শাফি এবং ইমাম হাম্বলকে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল, বিষ দিয়ে খুন করা হয়েছিল ইমাম তাইমিয়ার মত সম্মানিত ব্যাক্তিকে। ইমাম বুখারিকে নিতে হয়েছিল নির্বাসনদণ্ড। সূফিদের উপড় করা হত অবর্ণণীয় অত্যাচার। ইসলামের পরবর্তি ইতিহাস ছিল রক্তাক্ত ইতিহাস। ইমাম হানিফাকেও শারিয়া রাষ্ট্রে খুন করা হল বিষ প্রয়োগে জেলখানায়। আশ্চর্যের ব্যাপার তাকে মারার পরই তার দেয়া হানাফি আইন রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে গেল ! একটা আইন করা হল, রাস্ট্রপ্রধানের নামে হুদুদ মামলা করা যাবে না! কত সাম্যের শারিয়া ! অথচ ইসলামের নাম দিয়ে সাম্যের ইসলামকে ধুয়ে খাচ্ছে এ শারিয়া!

আমি আমার লিখা শেষ করে দিব। একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন ইসলামে কখনো ইসলামি আইনের কথা বলা নেই। কোরানকে কখনো আইনের বই বানানো হয়নি। কোরানে সামাজিক নিয়মের কথা বলা হয়েছে তার মানে এই নয় যে সেটা ছিল আইনের বই।
কোরানে শুধু এতটুকুই বলা হয়েছে কোরান উপদেশের বই মাত্র। আর উপদেশ কখনো জোরজবস্তির বিষয় নয়। উপদেশ গ্রহন করে মানুষ স্বেচ্ছায়। আদেশ হিসেবেও কোরানকে তুলে ধরা হয়নি। কয়েকটা আয়াত দিচ্ছি।

• বলুন এটা তো মহা সুসংবাদ, বিশ্ববাসীর জন্যে এটি একটি উপদেশমাত্র (সূরা ছোয়াদ ৬৭, ৮৭)
• এটা উপদেশ। যার ইচ্ছে সে প্রতিপালকের পথ গমন করতে পারে। (মুজাম্মেল ১৯)
• এটা তো উপদেশমাত্র মুদাসসির ৫৪
• আপনি কি জানতেন না কোরান কি ও ইমান কি? আমি একে করেছি নূর (সূরা আশ শুরা ৫২)
• কোরান হল মুনীর অর্থাৎ আলোকিত কিতাব (সূরা ইমরান ১৮৪)
• এটি বিশ্বের জন্যে উপদেশমাত্র (সূরা আনাম ৯০)
• পরমকরুনাময় তিনি যিনি এ ফয়সালার গ্রন্থ আবস্কার করেছেন (সূরা আল ফুরকান)
• আমি এই উপদেশগ্রন্থ নাজিল করেছি (সূরা হিজর ৯)
• কোরান হল আলোকিত কিতাব (সূরা হজ্ব ৮)
• এটা উপদেশবানী (সূরা আব্বাস ১১)

আমরা যদি ইসলামের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য দেই তাহলে দেখব প্রচুর রক্তক্ষয়ের ইতিহাস, প্রচুর গৃহযুদ্ধ আর প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। এর মাঝে ছিলেন মোহাম্মদ সা. এরই ঘনিষ্ট মানুষজন। কোন একটা লিখায় বিস্তারিত না বলে নাম প্রকাশ হয়তো উচিত হবে না আমার। যাই হোক এজিদের প্রতিষ্ঠা লাভের পর ইসলাম এর একটা বিকৃত রুপ দেয়া হয়েছিল সমাজকে। যারাই সত্য বলতে চেয়েছিল তাদের হয় নির্বাসন দেয়া হয়েছিল অথবা খুন করা হয়েছিল। এজিদের সময়েও ইসলামের প্রসার ঘটে কিন্তু সেটা যে কি ইসলাম সেটা ইতিহাস ঘাটলেই বুঝা যাবে। লক্ষ লক্ষ জাল হাদিস বের হয় (সেটা অবশ্য ওসমানের সময় থেকেই) । জাল হাদিসে ছেয়ে যায় দুনিয়া ! যে যার প্রয়োজনমত হাদিস বানাতে থাকে! এরকম অসংখ্য জাল হাদিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শারিয়া আইন। আমি এখানে শুধু একটা উদাহরণ দিব সেটা হচ্ছে ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম বিষয়ে। যেটা প্রকাশ পেয়েছিল মোহাম্মাদ সা. এর মৃত্যুর ২৪ বছর পর। এবং এ হাদিস রচিয়তার কয়েক দফা শাস্তিও হয়। কিন্তু সেখবর কে রাখে ! আমরা পুরুষরা পেয়েছি নারী অবমাননার একটা আইন আর সেটা জালই হোক আর খাটি-ই হোক। হু ক্যায়ার্স? (www.submission.org/women/politics.html, The forgotten queens of Islam- , ইসলামি বিশেষজ্ঞ ফাতেমা নার্সিনি, উইম্যান’স রাইট ইন ইসলাম- শরীফ চৌধুরী )
– See more at: http://www.istishon.com/node/1384#sthash.RHhYdCXh.dpuf

[এই লিখাটি ‘ইসলাম ও শারিয়া’ এর সারমর্ম বলতে পারেন। লিখক আরো বিস্তারিতভাবে অনেক কিছু বর্ণণা করেছেন। পুরো লিখাটির বাহবা পাবেন হাসান মাহমুদই। এই পোস্টে মিশেছিল শুধু আমার নিজস্ব লিখার ভঙ্গি ও একটা স্বকীয় ধারনা , শুধু এতটুকই। আমার ভাল লাগবে আপনারা যদি সবাই অনলাইন থেকে নামিয়ে কষ্ট করে বইটি পড়ে নেন। তাহলে অনেক কিছু জানা যাবে খুব পরিস্কারভাবে। বইটি এখানে ]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৬ thoughts on “অত্যাচারের হাতিয়ার শারিয়া

  1. হুম… পড়লাম।
    পড়ে একটা জিনিসই

    হুম… পড়লাম।

    পড়ে একটা জিনিসই মনে হলো- ধর্মাবমাননা চিরকালই বেশী হয় ধার্মিকদের হাতেই!

    সম্ভবতঃ একারণেই রাসুল (সঃ) হাদিস লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেছিলেন!
    তবু একটা হাদিসের কথাই বলি- “প্রত্যেক কর্মের ফল তার নিয়াতের ওপর নির্ভরশীল”
    (সহিহ বোখারী, হাদিস নং-১)

    আসলে শুধু ইসলাম নয়, খৃস্ট, সনাতন, বুদ্ধ কিংবা আরো যত ধর্ম আছে- সব ধর্মেই দেখা যায়- ধর্ম যাজকেরা যখন নিজ স্বার্থে ধর্মকে ব্যাবহার শুরু করে, তখন থেকেই শুরু হয় ধর্মের বিকৃতি…

  2. ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের
    ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে নিজেদের মত করে আইন করে রেখেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব আইন-কানুন পরিবর্তন অত্যান্ত জরুরী। আমাদের দেশে প্রচলিত অধিকাংশ আইনই বৃটিশদের তৈরী। অখচ বৃটিশ আমলের সাথে বর্তমান প্রেক্ষাপটের অপরাধের ধরণ পাল্টে গেছে। অপরাধীরা এসব আইনের ফাঁক-ফোকরেই বিনা শাস্তিতে বেরিয়ে যায়। ফলে বর্তমানে অপরাধ প্রতিরোধে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, অরপাধ প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষের….

  3. ব্লগ এ ঢুইকা প্রথম এ এইডাই
    ব্লগ এ ঢুইকা প্রথম এ এইডাই পড়তে শুরু করছিলাম, এইটা পড়তে পড়তে অন্য বেশ কয়েকটা পড়া শেষ । এইমাত্র এইটা শেষ করলাম ।কষ্ট হইল খুব পড়তে। তবে কষ্ট বৃথা যায় নাই ।

  4. পোস্ট পড়তে যদি কষ্ট হয়, তাহলে
    পোস্ট পড়তে যদি কষ্ট হয়, তাহলে পোস্ট লিখবেন কি করে? আর পোস্ট লিখতে হলে তো পোস্টের তূলনায় দশ-পনেরো গুন পড়তে হয় তা কেমনে পড়বেন ?

    1. মুকুল ভাই – পোস্ট না পড়লেও
      মুকুল ভাই – পোস্ট না পড়লেও লেখা যায়। আর মাঝে মাঝে লিখি (সেটা মানসম্মত হোক আর না হোক ) । তাছাড়া আর আমি বোধ হয় এই ব্লগ এর সবচেয়ে বেশি পোস্ট পড়ি । কষ্টের কথা টা বলেছি মজা করে । :খুশি:

  5. অনেক কিছু , যা আমাদের চোখে
    অনেক কিছু , যা আমাদের চোখে পরে কিন্তু বিবেক এড়িয়ে যায় ,
    আবার অনেক কিছু , যা আমাদের বিবেকে পড়ে কিন্তু চোখ এড়িয়ে যায় ! :ফুল: :ক্ষেপছি: :ভাঙামন: :ভালাপাইছি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

56 + = 65