“আজেবাজে কথা এবং একটি চন্দ্রগ্রহণ”

১০-১২-২০১১
আজ আমি বাসায় একা এ মুহূর্তে।বারান্দায় বসে ধোঁয়া টানছি। মা- বোন সিলেটে।
নির্দিষ্ট কোন কাজ নেই। বাবা চল্লিশ টাকা ধরিয়ে দিয়ে গেলেন। আমি বললাম লাগবে না। বাবা বললেন কেন? টাকা ধার করেছ নাকি? ধার করবে না। ধার করা খুব খারাপ।

আমি ধার করি নি। কাল এক আপুর জন্মদিনে গিফট কেনার পর কিছু টাকা বাকি ছিল। সেটাই রয়ে গেছে।
দুলাভাই অসুস্থ। সিলেটে এক হাসপাতালে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই স্ট্রোকের জন্যে আমার বোন কিছুটা হলেও দায়ী। কিন্তু তাকে দুলাভাই এর পরিবার যেভাবে দায়ী করছে তা মানসিক অত্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। আমার মা সিলেটে গিয়ে এর ভাগ নিচ্ছেন। এর শেষ কোথায় তা আমার অজানা।

আমি নিজের সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু পাশের এ জিনিস নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। (চলবে)
ডিভোর্স কোন সমাধান নয়। কিন্তু এমতাবস্থায় এ ছাড়া কোন যুক্তিপূর্ণ সমাধান ও আমার মাথায় খেলছে না।

আমার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফলাফল কাল দেবে। যদিও ভর্তির ইচ্ছা নেই, তবুও আশা করতে ভাল লাগে। কিন্তু তার পাশে সমস্যার চোরাবালি আমায় মাটির নিচে নিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে পারিবারিক নির্যাতনের এবং ঝগড়ার রুপ বদলায় না। নতুন মানুষ আসে এবং পুরনোকেই ফলো করে। কিছুই বদলায় না।

“জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুনাধারায় এসো…।”
আমার জীবন তো শুকিয়ে গেল। করুনাধারা তো খুঁজে পাচ্ছি না।
মানুষের নিজের নাকি পাঁচটি নীলপদ্ম থাকে। এ কটি একবারই মানুষ কাউকে দিতে পারে। আমার প্রশ্ন , আমি কি পাঁচটি পদ্ম ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছি? নাকি কাকে দিয়েছি তা ভুলে গেছি?

আজ রাতে আমার জীবনের বাকি থাকা এক অস্তিত্বকে দেখলাম। রাতে বাইরে গিয়েছিলাম নান-রুটি আর ভাঁজা মুরগি কিনতে। মাঝখানে পাঁচ মিনিট পেয়ে ঢুকলাম গলিতে। ধোঁয়া টানবো। টানতে টানতে তাকালাম আকাশের দিকে।

একি! চাঁদ কে দেখা যাচ্ছে আলো আছে। এক কোনা দিয়ে বের হয়ে আছে একফালি আলো। আবার দেখা যাচ্ছে পুরো চাঁদটাকেই। কিন্তু আলো শুধু তরুনির হাসির মত এক অংশ দিয়েই দেখা যাচ্ছে। আর কোন দিকে নয়। প্রকৃতই মনে হচ্ছে চাঁদ একটা দ্বিমাত্রিক থালা, যার রঙ হাল্কা কমলা-হলুদ। আর যার কোনার দিকে সৃষ্টিকর্তা একটুখানি ত্রিমাত্রিক করবার চেষ্টায় ব্যস্ত…।

আরি! এ তো চন্দ্রগ্রহণ। সারাজীবন বইতে পড়েছি। ছবি দেখেছি। এই প্রথম উপলব্ধি করলাম চাঁদ কত সুন্দরী। তার গায়ে গ্রহণ সুন্দরীর লজ্জা পাওয়ার চাইতেও চমৎকার!

ধন্য প্রকৃতি! ধন্যবাদ তোমায়! আমার মত নিচুশ্রেনির জীবনকে এ অসাধারন মমতা উপহার দেবার জন্যে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on ““আজেবাজে কথা এবং একটি চন্দ্রগ্রহণ”

  1. ভর্তির রেজাল্ট কি বলেন, ভর্তি
    ভর্তির রেজাল্ট কি বলেন, ভর্তি হয়েছিলেন? আর ডিভোর্সের ব্যাপারটা পরিস্কার করেন।

  2. নীল পদ্মের বিষয়টা আর একটু
    নীল পদ্মের বিষয়টা আর একটু ক্লিয়ার রাখলে ভাল হত। কারণ, সবার বই নাও পড়া থাকতে পারে… সেক্ষেত্রে তার বিষয়বস্তু বুঝতে কষ্ট হবে…

  3. অনেকগুলো বিষয়ের অবতারণা করে
    অনেকগুলো বিষয়ের অবতারণা করে কোনটাই শেষ করলেন না। পুরা লেখায় যেটা বুঝা যায়, সেটা হলো অনেকগুলো বিষয়ের সুচিপত্র…. পরবর্তীতে প্রত্যেকটি সুচির বিস্তারিত লিখবেন আশা রাখছি..

  4. শুধু ধন্যবাদ দিলেন ! সুচিগুলো
    শুধু ধন্যবাদ দিলেন ! সুচিগুলো অনুসরণ করে পরবর্তীতে লিখবেন কিনা তা বলেলেন না ?

  5. লেখাটা পড়ে আরাম পেলাম। তবে
    লেখাটা পড়ে আরাম পেলাম। তবে অসম্পূর্ন। চালিয়ে যান। একটা ভালো গল্প হতে পারে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 − = 69