প্রসঙ্গ নাস্তিকতা- একটি নিরিহ-নিরপেক্ষ পোষ্ট

আমি জানি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এধরনের ব্লগ লেখা বেশ ঝুকিপূর্ণ! কিন্তু তবুও লিখছি… জানি এরকম হাজার লেখা হাজার কথা ব্লগে-ফেসবুকে প্রতি নিয়ত লিখছেন জনপ্রিয় ব্লগার বা ফেসবুক ইউজাররা। সেই সব জনপ্রিয়দের ভিড়ে আমার মত নিরিহ ঘরকুনো অপরিচিত একজনের লেখার গুরুত্বই বা কতটুকু? কিন্তু তবুও লিখছি…
লিখছি কারণ, এছাড়া আর কিইবা আমি (বা আমরা) করতে পারি?

ইদানিং ব্লগ-ফেসবুকে একটা বহুল আলোচিত ইস্যু হচ্ছে আস্তিক-নাস্তিক… নাস্তিকতার পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর কথা প্রচুর লেখা প্রচুর আলোচনা-টকশো, মিটিং মিছিল…
এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান বোধহয় আগেই জানিয়ে রাখা নিরাপদ! ভাই- আমি আস্তিক, তবে ধার্মিক কি না বলা মুশকিল! নবীকে সম্মান করি যদিও দাড়ি রাখা হয় না। আল্লাহকে ভয় করি কিন্তু জুম্মা ছাড়া আর নামাজগুলো পড়া হয়ে ওঠে না… মোটামুটি এভাবেই চলছে!
তাই বলে আমি কারো সাফাই গাইবো না! তবে নাস্তিকদের ব্যাপারে আমার অভিমত- একজন নাস্তিক কখনোই কোরআন-এর প্রবিত্র কালাম পড়ে নাস্তিক হয় না। সে নাস্তিক হয় আমার মত কিছু “বক ধার্মিক”দের ভন্ডামী দেখে! কারণ, আমার মত কিছু নামে মাত্র আস্তিকদের দেখে তারা গোটা মুসলিম জাতিকে আর আমার আচরণ দেখে ইসলামকে বিচার করে! চারপাশে আল্লাহর এতো এতো নিদর্শন, সূরা “আর-রহমান” এর মত চমৎকার বানী সমৃদ্ধ দিকনির্দেশনা, এতো কিছু থাকতেও কেন একজন লোক আল্লাহকে অস্বীকার করে? কারণ আর কিছুই নয়, এটা আমাদের ব্যর্থতা যে- আমরা তাদেরকে এগুলো বোঝাতে পারি নাই… (ব্যতিক্রম থাকতেই পারে যদিও!) আর হেদায়াতের মালিকও একমাত্র আল্লাহ!

আমি মনে করি- একজন মানুষ নাস্তিক, সেটা তার দুর্ভাগ্য! কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন-এর নিয়ামত সম্পর্কে জানার সৌভাগ্য তার হয় নি!!!
অপরাধ যদি কারো হয়- সেটা আমাদের! আমরা যারা সেটা জেনেও ঐ নাস্তিক (কিংবা হয়তো মূর্খ!) লোকটাকে সেটা বোঝাতে পারি নি বা বলা উচিৎ- বোঝাই নি…

একটা গল্প বলি- ছোট বেলায় আমি একবার আমার বই (আদর্শলিপির) ওপর পা রেখেছিলাম। মা এজন্য ভিষন মারলো! আমি রাগে-জেদে আরও বেশি করে বইয়ে লাথি দিতে লাগলাম!
কারণ- তখনো জানতাম না বইয়ের কী মহিমা বরং রাগটা হলো- “ওটার জন্যই মার খেয়েছি!” মা আমাকে মারে আর আমি রাগে ক্ষোভে বইয়ে আরও লাথি দেই!
কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর আমার ছোটমামা দু’জনকেই থামালো। অনেকক্ষণ বুঝিয়ে সুঝিয়ে আমার কান্না থামিয়ে শান্ত করলো। তার পর অনেক সুন্দর করে বোঝালো- বাবা, এটা বই। বই হচ্ছে জ্ঞান-বিদ্যা, এটাকে কখনো লাত্থি দিতে নেই…
পাঁচ মিনিট সুন্দর করে ‘যুক্তি দিয়ে’ বোঝানোর পর আমি বুঝলাম। সেদিনের পর থেকে আমি বইকে সালাম করতে শিখেছি… আজও আমি পড়া শেষে (গল্পের বই হলেও!) বই সালাম করে রাখি! লাথি দেবার তো প্রশ্নই ওঠে না! (গল্পটা থেকে কি কিছু বোঝা গেল?)

আমরা প্রতিদিন ১০টা করে নাস্তিক জবাই করলে ইসলাম/দেশের যতটুকু না উপকার হবে তারচেয়ে বোধহয় অনেক বেশি উপকার হচ্ছে ডঃ জাকির নায়েক যখন তার লেকচারে একজন নাস্তিককে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে সক্ষম হন- আল্লাহ/ইসলাম/মুসলিম কী?

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য হলো, (আমি সহ!) প্রায় সবাই কোরাআন-হাদিসের সেই সব আয়াত বা বানীগুলোই রেফারেন্স হিসেবে ব্যাবহার করি যেটা আমার বক্তব্যের পক্ষে যায়! অর্থাৎ- নিজের জন্য সুবিধাজনক আয়াত/বানী/নির্দেশনাগুলোই আমরা ব্যবহার করছি… যেটাকে বলে “ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা”!
কিন্তু, সত্যিকারে পূর্ণাংগভাবে ধর্ম/কোরআনের চর্চা কই?
নবীর আর কোনো সুন্নত মানলাম না- চারটা বিয়ে করে দিব্যি ধর্মের দোহাই দিয়ে ফেললাম! এটাই কি “বক ধার্মিক” চরিত্র না?
আর আমাদের এহেন চরিত্র দেখে যখন একজন মানুষ ভেবে বসে এটাই হচ্ছে ইসলাম আর এই হচ্ছে মুসলমান তখন সে ইসলাম বা মুসলমান এমন কি আমাদের নবী-রাসুল এবং স্বয়ং আল্লাহকে গালাগাল দেয়! মূলতঃ তারা গালাগাল দেয় আমাকে- ইসলামকে নয়! আমার ভন্ডামীকে- আমার আল্লাহকে নয়!
কারণ আমি কখনোই বিশ্বাস করি না- একজন মানুষ যদি পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলাম বা রাসুল (সঃ) জীবনী স্টাডি করে, তার কোন সুযোগ আছে এগুলোকে অবমাননা করার।
কিন্তু বাস্তবে তারা আসলে এগুলো কিছুই করে না। তারা একজন “বাংলাভাই”কে দিয়ে মুসলমান বোঝে কিংবা জামায়াতে ইসলাম আর (ধর্ম) ইসলামকে গুলিয়ে ফেলে (আমি “জামাত”কে কটাক্ষ করার জন্য বলছি না!)
ব্যাপারটা আমার কাছে অনেকটা অন্ধকে দুধ চেনানোর মত!
দুধ খাবি?
দুধ কেমন?
দুধ সাদা!
সাদা কেমন?
সাদা বকের মত!
বক কেমন?
বক হচ্ছে ঘাড় বাঁকানো একটা পাখি!
বাঁকা কেমন?
বাঁকা হচ্ছে কাস্তের মত!
কাস্তে কেমন?
(উত্তরদাতা বিরক্ত হয়ে অন্ধের হাতের কবজি বাকিয়ে ধরে) বললঃ কাস্তে হচ্ছে এরকম!
(অন্ধ ব্যাথা পেয়ে) উঁহ! তাহলে খাব না- গলায় বিঁধবে!

বাস্তবতা হচ্ছে- দুধ গলায় বিঁধে না। এটা উত্তরদাতার অপারগতা যে সে অন্ধকে সঠিকভাবে বোঝাতে পারেনি। আর আংশিক সত্য দিয়ে কখনও কাউকে সঠিকভাবে বোঝানো যায়ও না।
মানুষ কিতাবের সুন্দর বানী বা মুখের সুন্দর কথা আগে দেখে/শুনে না- আগে দেখে ঐ কিতাবওয়ালার ব্যাবহার, দোষ-গুণ! যত লোক রাসুল (সঃ) এরর ওপর নাজিলকৃত কোরআন পড়ে ইসলামে এসেছে তারচেয়ে অনেক বেশী লোক ইসলামে এসেছে তাঁর আচার-ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে। আজকে যদি প্রশ্ন তোলা হয় আমার মত তথাকথিত মুসলমানের কি গুণ আছে যা দেখে লোকে আমার মত (মুসলমান) হতে চাইবে? কি উত্তর আছে আমার? যখন আমি মুখে দাড়ি রেখে অবলীলায় মিথ্যা বলি- তখন মানুষ কি সেই দাড়ি কে সম্মান করবে? আর এভাবেই আমার মত কিছু বক ধার্মিক নষ্ট করে ধর্মের মর্যাদা!

যারা ভাবছেন নাস্তিকদের পক্ষে অনেক সাফাই গাইলাম তাদের কথা মাথায় রেখে এবারে আসা যাক নাস্তিক ভাইদের দিকে। আমি মানছি আপনি নাস্তিক কারণ আস্তিক হবার মত যথেষ্ট যুক্তি আপনি পাননি যতটা যুক্তি হয়তো আপনি নাস্তিক হবার পেছনে খুঁজে পেয়েছেন! কিন্তু আমার জানা মতে প্রতিটি নাস্তিকই নিজেকে একজন মুক্তমনা মানুষ দাবী করেন। আমাকে একটি প্রশ্নের জবাব দেবেন কি? আপনি কি মনে করেন আপনি যা জানেন তার বাইরে এই মহা বিশ্বে আর কোন জ্ঞান নেই? যদি থেকে থাকে তাহলে কোন যুক্তিতে আপনিই বা নাস্তিকতার পক্ষে এতোটা গোড়ামী করেন?
গোড়ামী যদি খারাপই হয় তাহলে সেটা নাস্তিকতার বেলায়ই বা ভাল হবে কেন?
সবচেয়ে বড় কথা- একজন মুক্তমনের মানুষের প্রথম গুণ হবে সে সব মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলবে। তাহলে আপনি যখন কোন ব্যক্তিকে বা তার ধর্মীয় অনুভূতিকে বা যে কোন সামাজিক-রাজনৈতিক মতাদর্শকে আঘাত করেন তখন সেটা আপনার কেমন তর “মুক্তমন”-এর বহিঃপ্রকাশ?
আপনি যদি স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাসই হন তবে একজন ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন মানুষকেই বা আপনি আক্রমন করছেন কোন যুক্তিতে?
পারস্পারিক শ্রদ্ধা-ভালবাসার মূল্যবোধ তো একজন “মুক্ত মন”এর মানুষ হিসেবে আপনারই থাকার কথা ছিল আগে!!!
একজন চরম পন্থী নাস্তিক কিভাবে আশা করেন কোটি কোটি ধর্মীয় অনুভুতি সম্পন্ন মানুষের মনে আঘাত দিয়ে কথা বললেই বা বলার পরেও সমাজে আপনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হবে?
বাক স্বাধীনতা মানে কি অন্য কারো স্বাধীন চিন্তাকে আক্রমন করার অধিকার???

সর্বপরি আমি মনে করি ব্লগ-ফেসবুক বা যে কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যদি শুধু মাত্র একটা সাধারণ মূল্যবোধ বজায় রাখি, একটু মানবতা বোধ থেকে শুধু যদি পরস্পর আরেকটু সহিষ্ণু হই, একে অপরের প্রতি আরেকটু শ্রদ্ধাশীল হই, আরেকটু যদি ভালবাসা তৈরী করতে পারি দল-মত-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি, তাহলেই বোধহয় অনেক সমস্যা তৈরীই হতো না এই সমাজে…

(আস্তিক-ধার্মিক-নাস্তিক সবাই কি বিবেচনা করবে কথাগুলো???)

– সফিক এহসান
৪ এপ্রিল ‘১৩
(রাত ২:৩০)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২২ thoughts on “প্রসঙ্গ নাস্তিকতা- একটি নিরিহ-নিরপেক্ষ পোষ্ট

  1. প্রথমত
    আমি জানি দেশের বর্তমান

    প্রথমত

    আমি জানি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এধরনের ব্লগ লেখা বেশ ঝুকিপূর্ণ! কিন্তু তবুও লিখছি… জানি এরকম হাজার লেখা হাজার কথা ব্লগে-ফেসবুকে প্রতি নিয়ত লিখছেন জনপ্রিয় ব্লগার বা ফেসবুক ইউজাররা। সেই সব জনপ্রিয়দের ভিড়ে আমার মত নিরিহ ঘরকুনো অপরিচিত একজনের লেখার গুরুত্বই বা কতটুকু? কিন্তু তবুও লিখছি…
    লিখছি কারণ, এছাড়া আর কিইবা আমি (বা আমরা) করতে পারি?

    লেখার শুরুতেই এটা একটা অপ্রয়োজনীয় কথা ।
    দ্বিতীয়ত ,

    সে নাস্তিক হয় আমার মত কিছু “বক ধার্মিক”দের ভন্ডামী দেখে!

    কথাটার জন্য :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    তৃতীয়ত,

    ছোট বেলায় আমি একবার আমার বই (আদর্শলিপির) ওপর পা রেখেছিলাম। মা এজন্য ভিষন মারলো! আমি রাগে-জেদে আরও বেশি করে বইয়ে লাথি দিতে লাগলাম!
    কারণ- তখনো জানতাম না বইয়ের কী মহিমা বরং রাগটা হলো- “ওটার জন্যই মার খেয়েছি!” মা আমাকে মারে আর আমি রাগে ক্ষোভে বইয়ে আরও লাথি দেই

    রুপক টা সত্যিই চরম একটা সত্য কে উন্মোচন করে । :তালিয়া: :তালিয়া:

    চতুর্থত ,

    আমি “জামাত”কে কটাক্ষ করার জন্য বলছি না!

    কটাক্ষ করলে কি আসে যায়?

    পঞ্চমত ,

    তাহলে আপনি যখন কোন ব্যক্তিকে বা তার ধর্মীয় অনুভূতিকে বা যে কোন সামাজিক-রাজনৈতিক মতাদর্শকে আঘাত করেন তখন সেটা আপনার কেমন তর “মুক্তমন”-এর বহিঃপ্রকাশ?
    আপনি যদি স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাসই হন তবে একজন ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন মানুষকেই বা আপনি আক্রমন করছেন কোন যুক্তিতে?

    এটা ব্যাখ্যা করেন । গরমিল আছে ।

    1. চমৎকার পোস্টমর্টেম করার জন্য
      চমৎকার পোস্টমর্টেম করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ- অচিন্ত্য দূর্বাঘাস!
      ১। “অপ্রয়োজনীয় কথা”টা আসলে মুখবন্ধ… সাহস কম তো, তাই… 😛
      ৪। “কটাক্ষ” করলে কার কি এসে যায় জানি না, আমি ব্যক্তিগত ভাবে সবার বিশ্বাসকেই সম্মান দেখাতে পছন্দ করি। জগৎটাই যেখানে আপেক্ষিক- সেখানে ভুল/সঠিক এর মাপকাঠি আমি নির্ধারন করি কিভাবে?
      ব্যাখ্যা করার কিছু দেখছি না! যে ব্যক্তি “মুক্তমনা” সে কারোরই স্বাধীনতায় হস্তাক্ষেপ করবে না। সে নিযে যেমন আল্লাহ বা রাসুল (সঃ)-কে না মানার অধিকার রাখে(!) তেমনি কেউ চাইলে মানারও অধিকার রাখে। নিজের ধ্যান ধারনা প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যের বিশ্বাসকে অবমাননা করতে সে পারে না!
      সবচেয়ে বড় কথা- গালাগালি বা কটাক্ষ করার ক্ষমতা কখনওই কারো সুগুণ হতে পারে না!

  2. আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টা আর
    আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টা আর দেখতে বা পড়তেও ভাল লাগেনা। এ বিষয় অনেক পুরানো হয়ে গেছে। দয়া করে এটা পরিত্যাগ করে সাম্প্রতিক যে কোন বিষয় নিয়ে পোস্ট লিখলে ভাল হয়….

  3. ডঃ জাকির নায়েক যখন তার

    ডঃ জাকির নায়েক যখন তার লেকচারে একজন নাস্তিককে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে সক্ষম হন- আল্লাহ/ইসলাম/মুসলিম কী?

    জাকির সাহেব কি বোঝান? নাকি; বোঝানোর ভান করে, অবমাননা করেন?
    ইউটিউবে; উনার কয়েক হাজার; ভিডিও আছে, তার মধ্যে; সবচেয়ে; মজার ভিডিওটা হলো; পাঁচ মিনিটে পঁচিশখানা ভুল।
    এছাড়াও; অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সাথে; তর্কের সময়; উনার; একটি সুস্পষ্ট অবস্থান থাকে, আর; সেটি হলো; এক ইসলাম ছাড়া; আর বাকী সব ভুয়া।

    তবে আপনার চিন্তা-ভাবনাগুলো অনেক ভালো। আশা করছি আগামী দিনগুলোতে উত্তরোউত্তর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবে।

    1. ধন্যবাদ… প্রফেসর!
      আমি আসলে

      ধন্যবাদ… প্রফেসর!

      আমি আসলে এই পোস্টে ডঃ জাকির নায়েক-এর সমালোচনা করতে চাইনি।
      মূলতঃ আমি ওনার উদাহরনটা এনেছি এই জন্যে যে- উনি অন্তত ওনার বিপরীত চিন্তার লোককে গালাগাল বা ক্ষতি কামনা করেন না…
      এটাই খুব সম্ভবতঃ “ভদ্র আচরন”!

      আবারও ধন্যবাদ…

  4. একজন নাস্তিক কখনোই কোরআন-এর

    একজন নাস্তিক কখনোই কোরআন-এর প্রবিত্র কালাম পড়ে নাস্তিক হয় না।

    এটা মনে হয় সঠিক না, লোকের ভণ্ডামী দেখে হয়তো ধর্মের ব্যপারে জানতে চেষ্টা করে, কিন্তু নাস্তিক হয় ধর্মগ্রন্থগুলো সম্পর্কে জানার পড়েই।

    একটা কথা আছে এরকম, ” যে কোরান হাদিস বাংলা অর্থসহ পড়বে, তার কি আর সাধ্য আছে আস্তিক থাকার?””

  5. আমার মত কিছু নামে মাত্র

    আমার মত কিছু নামে মাত্র আস্তিকদের দেখে তারা গোটা মুসলিম জাতিকে আর আমার আচরণ দেখে ইসলামকে বিচার করে! চারপাশে আল্লাহর এতো এতো নিদর্শন, সূরা “আর-রহমান” এর মত চমৎকার বানী সমৃদ্ধ দিকনির্দেশনা, এতো কিছু থাকতেও কেন একজন লোক আল্লাহকে অস্বীকার করে? কারণ আর কিছুই নয়, এটা আমাদের ব্যর্থতা যে- আমরা তাদেরকে এগুলো বোঝাতে পারি নাই… (ব্যতিক্রম থাকতেই পারে যদিও!) আর হেদায়াতের মালিকও একমাত্র আল্লাহ!

    বর্তমানে গোটা মসলিম বিশ্বের কি আর কাদের দেখে মুসলমান ইসলামকে মূল্যায়ন করা যাবে? যদি কাউকে না পাওয়া যায়, তাহলে কি বলা যাবে, ইসলামের প্রয়োজন আসলেই লোকের কাছে ফুরিয়েছে, তাই পুরোপুরি মানছে না, কিন্তু ঈমান হারনোর ভয়ে শুধু মুখে ইসলামের নাম বলছে?

    আর হেদায়াতের মালিক যদি আল্লাহ হোন, তাহলে তো সব ল্যাঠা চুকেই গেল। আপনারো কথা বলার দরকার নাই, নাস্তিকেরও শাস্তির ভয় নাই। কারণ তার নাস্তিকতার জন্য তো আল্লাহই দায়ী, দায়ী ব্যক্তির বিচারটাই যুক্তিযুক্তি নয় কি?

    1. ইসলাম মানে যদি “শান্তি” হয়,
      ইসলাম মানে যদি “শান্তি” হয়, তবে তার প্রয়োজন কনোদিনই ফুরাবে না! আস্তিক-নাস্তিক সবাই কিন্তু “শান্তি প্রতিষ্ঠা”র ব্যাপারে একমত। আর ধর্ম বলতে আমি শুধু “ইসলাম” নয় সকল ধর্মকেই বুঝাচ্ছি। নাম যা-ই হোক সকল ধর্মের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু মোটামুটি ঐ একটাই। অন্তত ধর্মগ্রন্থগুলো তা-ই বলে।
      তবে কি- প্রায় প্রতিটি ধর্মেই দেখা যায় ধর্ম নেতাদের নৈতিকতার যথেষ্ট অভাব থেকে যায়। (আফটার অল তারাও যে প্রথমত একটা জৈবীক প্রানী, একটা জন্তু…)
      সেটা সেসব ধর্ম নেতাদের সমস্যা, ধর্মের নয় নিশ্চয়ই!

      বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও “শান্তিপূর্ণ” নয়। সমস্যা রাজনীতির নয়, সমস্যা রাজনীতিক নেতাদের! আমরা কি তাহলে বলব- “রাজনীতির প্রয়োজন আসলেই লোকের কাছে ফুরিয়েছে”???

      ধর্মকে ধর্ম/নীতি/আদর্শ যে নামেই ডাকি না কেন- আসল কথা হচ্ছে “শান্তি” প্রতিষ্ঠা।
      সেটা কোন পদ্ধতিতে সহজে অর্জন করা যায় সেটাই গুরুত্বপূর্ণ!
      অতীতে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ঐ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিল। [যেমনঃ অন্ধকারচ্ছন্ন আরববাসীর মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন মুহাম্মদ (সঃ) তার ধর্ম (ইসলাম) দিয়ে।] সেটাই ধর্মকে মানুষের মাঝে যুগ যুগ প্রচলিত রাখার মূল চালিকা…
      🙂

      1. শান্তির প্রয়োজন কখনোই ফুরাবে
        শান্তির প্রয়োজন কখনোই ফুরাবে না। তার মানে ইসলামের প্রয়োজনও ফুরবে না, এটা ভুল। ইসলামের প্রয়োজন যে নাই তার ভুরি ভুরি উদাহরণ বিশ্বে আছে।

  6. বাক স্বাধীনতা মানে কি অন্য

    বাক স্বাধীনতা মানে কি অন্য কারো স্বাধীন চিন্তাকে আক্রমন করার অধিকার

    ধর্ম কখনোই স্বাধীন চিন্তার নাম না।

    1. আমার মনে হচ্ছে আপনার আপত্তিটা
      আমার মনে হচ্ছে আপনার আপত্তিটা “ধর্ম” শব্দটাতে…

      বেশতো- ধর্ম না বলে আসুন নীতি বা আদর্শ বলি। ইংরেজিতে Quality বা Characteristics ও বলতে পারেন। এবার হলো তো? স্বাধীন চিন্তা করতে আর কোন বাধা আছে কি?
      🙂

      1. নীতি আদর্শ বললে তো আর অনুভুতি
        নীতি আদর্শ বললে তো আর অনুভুতি বলে কিছু থাকে না জনাব। নীতি আদর্শের সমালোচনা করা যাবে, এমনকি প্রয়োজনে বাদও দেয়া যাবে। ধর্মের ব্যপারে ?

  7. আপনার এই লিখার একটা বড় রিভিঊ
    আপনার এই লিখার একটা বড় রিভিঊ লিখেছিলাম! শেষ মুহূর্তে কেন জানি ল্যাপটপটা গত কয়েক মাসের মত করে ব্লু-স্ক্রীন দেখিয়ে রিস্টার্ট করল… আর মন্তব্য করা হল না! আজ আবার বসলামঃ
    ১) বাংলাদেশে নাস্তিকতা নিয়ে টক-শো তে মুক্ত আলোচনা হয়েছে? মনে হয় না! যা হয়েছে ব্লগের নাস্তিকতাকে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর্যালোচনা!
    ২) “একজন মানুষ নাস্তিক, সেটা তার দুর্ভাগ্য!”– এইটা নিজে সান্তনা দেয়ার মত শুনাচ্ছে কেননা এমনটি আমরা মুসলমানেরা-হিন্দুরা-খ্রিষ্টানের সবাই মনে করতে পারি। আবার ধর্ম না কিন্তু অন্যতম জনপ্রিয় আদর্শবাদ বৌদ্ধরাও মনে করতে পারে! (বৌদ্ধ কে আদর্শবাদ বলা যায়, ঠিক ধর্মের স্বরূপে এক করা যায় না তাদের…)! আর সবচে মজার ব্যাপার যারা নাস্তিক তারা সবাই জন্মগতভাবে কোন না কোন ধর্মের ছিল। এমনকি ১৬-১৭ বছর বয়স পর্যন্ত ঐ ধর্মের সকল রীতিনীতিতে অভ্যস্থ ছিল। তারপরে সে জেনেশুনেই নাস্তিক হয়েছে। তাই একথাটি অবান্তর…
    ৩) ইংরেজরা খারাপ না। সভ্যতার অগ্রগতিতে অনেক অবদান তাদের। এমনকি আমাদের উপমহাদেশেই তাদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক ভাল গুনাবলি আছে। তারপরও ওরা আমাদের কাছে ব্রিটিশ! যারা ১৯০ বছর শোষণ করে গেছে… আমি বলতে চাচ্ছি ধার্মিক মানে অথবা ইসলামিক লেভাজ অর্থাৎ দাড়ি-টুপি খারাপ না কিন্তু তাদের অবিরাম ভণ্ডামি আর কূপমণ্ডুকতায় আজ বিশ্বের মানুষের কাছে তাদের স্বরূপ এমনভাবে চিহ্নিত…

    ৪)”মুক্তমন”-এর বহিঃপ্রকাশ!এ বিষয়ে যা বলেছেন আপনি তাতে শুধু দ্বিমত না আমি আহতবোধ করছি। আজ জাকির নায়েক ও গং রা যদি টিভিতে নাস্তিকতাকে হেঁসে উরিয়ে দেই তাতেও কারো আপত্তি থাকে না খালি হুমায়ুন আজাদ কঠোর ভাষায় আগাত করলেই বাকস্বাধীনতার অপব্যাবহার হয়… আগে নিজেকে স্বাধীন করুণ যদি থাকে পিছুটান হবে না মুক্তির গান...

    ৫) একজন মুক্তমনের মানুষের প্রথম গুণ হবে সে সব মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলবে।… ১০০% সহমত! কিন্তু মানুষরুপী শয়তানকেও কি সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে? আজ দেশে সাইদি-গু আজম-নিজামি-বাবুনগরি-শফি এদেরকে সম্মান দিয়ে কথা বলব আমি? আর এদেরকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করলে আমার মুক্তমন কুলষিত হবে? উত্তরের আশায় থাকলাম…

    ৬) আমি রবীন্দ্র বা নজরুল সমালোচক বলতে তাঁদের পুজারিদের বা রবীন্দ্র-নজরুল মাজারের মুরিদদের বুঝি না। আমি সমালোচক বলতে বুঝি যে তাঁদের গঠনমূলক সমালোচনা করে। তাঁরা শিল্পী তাঁদের সমালোচনা তাই শিল্পের শৈল্পিক ছুঁয়ায় হবে…

    ৭) রামমোহন রায় বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যখন সমাজ সংস্কার করেছেন তখনও এমন বাধা এসেছে।। জীর্ণতাকে পরিবর্তন করতে আধুনিকতাকে সর্বকালে সবসময় বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে এইটাই স্বাভাবিক…

    আগে নিজেক স্বাধীন কর তবেই তুমি বুঝতে পারবে কোনটা সঠিক… রবীন্দ্র মাজারের মুরিদ হয়ে তার গঠনমুলক সমালোচনা সম্ভব না! আগে বিশ্ব সাহিত্যের বিচক্ষণ পাঠক হতে হবে তবেই বুঝা যাবে আমাদের বিশ্বকবির দুর্বলতা কি!!

    (বিঃ দ্রঃ অথচ তিনিই এই দুনিয়ার সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ ৪ জন সাহিত্যকের একজন…
    তাঁর মত মেধাবী সাহিত্যিক ও কবি এই ভুবনে বিরল যিনি মানব অনুভূতির সবকিছু নিয়ে কাজ করে গেছেন…তাঁর প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই হু আজাদ তাঁর সমালোচনা করেছিলেন! আমার সেই জ্ঞান ও সাহস নেই… )

  8. ধর্ম হোক মধ্যবিত্ত কোনো
    ধর্ম হোক মধ্যবিত্ত কোনো পরিবারের শো –
    পিস, যতক্ষন ঘরে থাকবে শোভা বর্ধন
    করে যাবে। বাইরে বের করা হলে শুরু
    হবে মালিকানা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক
    জটিলতা ।।

  9. “সবচেয়ে বড় কথা- গালাগালি বা
    “সবচেয়ে বড় কথা- গালাগালি বা কটাক্ষ করার ক্ষমতা কখনওই কারো সুগুণ হতে পারে না!”
    ১০০% সহমত……& যার যার মানুসিক শান্তি তার তার কাছে। সারা পৃথিবীটাই আপনার (যার যার লজিকের) শুধু কারো ক্ষতি না করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 + = 22