ভাত দে হারামজাদা, নাইলে মানচিত্র খাবো।

ভাত।

খুব ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু দু অক্ষরের এই ক্ষুদ্র শব্দটা আমাদের সব কার্যকলাপকেই বৃহৎ একটা গণ্ডিতে প্রতিবিম্বিত করে। আমরা যা কিছুই করি না কেন তাতে উদ্দেশ্য একটাই এই সাদা বর্ণের ২ মিলিমিটারের বস্তুটিকে আত্তস্থ করা।

ভাত বলতে আমি শুধু ভাত না অন্নকে নির্দেশ করছি। ক্ষুধার জ্বালা বড় জ্বালা। ক্ষুধার্থ অবস্থাতে ন্যায্য অন্যায্য কখনোই চোখে পরে না। অন্ন্যায় যা কিছু সবই দু মুঠো ভাতের জন্যই।

বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা এ দুনিয়াতে কম নয়। যুগে যুগে মানুষ বঞ্চিত হয়ে আসছে সেই মানুষগুলর কাছ থেকে, যাদেরকে তারাই একদিন সমাজের উপরতলাতে বসিয়েছিল। উপরতলার মানুষগুলো বেসিরভাগক্ষেত্রেই বেমালুম ভুলে যায়, সময়ে সময়ে তাদের ভাগ্যনিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠা সেই নিপীড়িত বিপন্ন মানুষগুলোর কথা। তাদের ঘিঞ্জি বস্তিগুলোর দিকে তারাই ঘৃণা ভরে তাকিয়ে থুথু ফেলে, যাদের সেবার জন্য এই বস্তিগুলো গরে উঠেছে। যেই মানুষটার অন্ন্যায়ের জন্য একটি বাড়ির কূলবধুকে রাস্তাতে নামতে হয়েছে তাঁকে সম্ভ্রমে রাস্তা ছেড়ে দিয়ে সেই অবলাকে অনায়াসে কূলটা কিংবা বেশ্যা বলে গালি দিতে আমাদের একবারও বুক্তা কাঁপেনা। আসলেই বড়ই বিচিত্র প্রাণী আমরা। এই মেয়েটি পথে নামেছে কেন জানেন? ভাতের কষ্টে, হ্যাঁ ভাতের কষ্টে। এ কষ্টের চাইতে বড় কষ্ট কি আছে দুনিয়াতে? এই মেয়েটা যার অন্ন্যায়ে্র কারনে ক্ষুধার জ্বালাতে এই পথে এসেছে তাদের আমরা কত সহজেই না এলিট শ্রেণীতে বসিয়ে দিচ্ছি, আর বেশ্যা বলে গালি দিচ্ছি এই অবোলাকে। আমাদের তো পুরস্কার পাওয়া উচিত।

আমার এক কাজিন খুব গর্ব করে বলে বাংলাদেশের রাস্তাতে চলে না এমন ব্যান্ডের গাড়ি খুব কমই আছে। কিন্তু এই কথাটা কেউ আসলে বলে না যে এই গাড়ি গুলি চলে কিভাবে এই গরীব দেশে। এই গাড়ি গুলো কিনতে খরচ হয় কোটি কোটি ডলার, যা আসে কিছু বঞ্চিত মানুষের রক্ত ঘাম করা পরিশ্রম থেকে। আর এই বৈদেশিক মুদ্রা আনা মানুষগুলা হয় পশুর মত শেকলবন্দী হয়ে কোন রবার বাগানে পরে থাকা, অথবা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চাপা পড়ে অথবা পুড়ে কাবাব হওয়া কিছু নিচু অচ্ছুতের জীবনের বিনিময়ে।

রাজনীতি………………
এই মানুষগুলোকে নিয়ে রাজনীতির কোন শেষ নেই। এই মানুষ গুলিকে নিয়ে হয় ভোটের রাজনীতি। প্রতিপক্ষের হরতাল বিরোধী মিছিলে অংশ নেবার জন্য এদের ঢুকান হয় রানা প্লাজার মত মৃত্যুকূপে। মড়ার পোর শান্তি নাই, শুরু হয় লাশের রাজনীতি। বেঁচে গেলেও সমস্যা! সেটা নিয়েও কথার ঘোড়া দৌড়ান হয়।

বরাবরই এই মানুষ গুলি নিসচুপ থাকবে এটা ভাবা অপরাধ। এরা জেগে উঠবে, কারন এরা পর খাওয়া মানুষ। তখন তোমাদের কে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তোমাদের বাপেরাও না।

যখন এরা বলে উঠবে ” ভাত দে হারামজাদা, নাইলে মানচিত্র খাবো “, দোষ দিতে পারবা এদের, সামলাতে পারবা গদি?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “ভাত দে হারামজাদা, নাইলে মানচিত্র খাবো।

  1. আসলে আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য
    আসলে আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য মূল্যবোধ সৃষ্টি হলেও শিক্ষ্যাব্যবস্থা দুনিয়া জুড়েই সেই মূল লক্ষ্য অর্জনে সফলভাবে ব্যর্থ অর্থের ঝনঝনানিতে…যেই দুনিয়ায় এক টাকার জন্যে মানুষ খুন হয়, যেই বিশ্বে ভূমিকম্প বিধ্বস্তদের লুট করা হয় ধর্ষণ করা হয়, যেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষকে মানুষ হত্যা-খুন-ধর্ষণ-লুট করে সেখানে অবাক হওয়ার কিছু নাই। যতদিন বিশ্ব ক্ষুধা দরিদ্র আর বেকার মুক্ত না হবে ততদিন এমন অমানবিক নির্মমতা থেকে মানুষকে রক্ষা করা কঠিন। এইসব অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রত্যাশিত কিন্তু একইসাথে অবধারিতও বটে!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

23 − 19 =