শুওর VS মানুষ-৩

একবার ভাবুনতো, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, আপনার চোখের সামনে থেকে ধরে নিয়ে গেল আপনার বাবাকে, বুকে লাথি মারতে মারতে। আপনার ছোট চাচাকে (যার কাঁধে চড়ে বেড়ে উঠেছে আপনার শৈশব) ধরে নিয়ে গেল চোখে কাপর বেধে। আপনার ছোট বোন, যে মাত্র পুতুল খেলা ছেড়ে স্বপ্নের রাজপুত্রের কথা চিন্তা করে লাজুক চোখে মিষ্টি হাসি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাকে তুলে নিয়ে পাষবিক নির্যাতন করল কিছু মানুষরূপী পশু। সেই পশুগুলোকে আপনার বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসেছিল আপনার ই পরিচিত কেউ। আপনার বাবার কষ্টে, চাচার আর্তনাদে, বোনের বোবা কান্নায় প্রান খুলে হেসেছিল সেই পশুগুলো আর তাদের চামচারা।
ভেবে দেখুন, আপনার বড় ভাই সেই যে বাড়ি থেকে গেলো, আর ফিরে আসে নি কখনও। আপনার বাবা বুকের ব্যাথায় কুঁকড়ে ওঠে মাঝে মাঝে। আপনার ছোট চাচার চোখ খুঁচে উথিয়ে দেয়া হয়েছে। আপনার আদরের ছোট বোন অভিমানে আত্মহত্যা করেছে।

তাদের কি দোষ ছিল? তারা ইসলাম বিরোধী ছিল? তারা নাস্তিক ছিল? না, তাদের অপরাধ, তারা ছিল মুক্তিকামী ।

তোমার বাবাকে যারা মেরেছে, তোমার বোনকে যারা নির্যাতন করেছে, তোমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে, হত্যায় সাহায্য করেছে, তারা তোমার পরিচিত লোক ছিল, তোমার কাছে অতি সম্মানীয় একজন ধার্মিক ব্যাক্তি ছিল।

তুমি যদি কখনও সুযোগ পাও, তখন তুমি এই অপরাধী গুলোকে কি করতে?

আমি হলে গায়ের চামড়া খুলে লবন লাগাতাম, কাঁটাচামচ দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে চোখ উপড়ে দিতাম। আমি তাও চাইনি, শুধু চেয়েছি তাদের ফাঁশি। এর চেয়ে তাদের জন্য সহজ কোন শাস্তি আমার যানা নাই।

কিন্তু তুমি নীরব, নিস্প্রভ। তুমি হয়তো মাফ করে দিয়েছ, কারন সন্তান হারানো মায়ের ব্যাথা তুমি উপলব্ধি কর না, রক্তাক্ত বোনের শরীর তোমার চোখের কালো চশমাটা খুলতে পারে নি, বুটের লাথিতে বাবার থেতলে যাওয়া বুক, তোমার হৃদয়কে থেতলাতে পারে নি।

কিন্তু আমি…………… কখনও না। যত বড় আলেমই সে হোক না কেন, তাদের অবয়ব ৩৬ বার চাঁদে দেখা গেলেও সে আমার কাছে খুনি। আমি মহান স্রষ্টার কাছে তার বিচার চাইবোই।

আমিও “কিছাছ” বুঝি, হত্যার বদলে হত্যা। কোন মাফ নাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “শুওর VS মানুষ-৩

  1. কিন্তু আমি……………

    কিন্তু আমি…………… কখনও না। যত বড় আলেমই সে হোক না কেন, তাদের অবয়ব ৩৬ বার চাঁদে দেখা গেলেও সে আমার কাছে খুনি। আমি মহান স্রষ্টার কাছে তার বিচার চাইবোই।

    আমিও “কিছাছ” বুঝি, হত্যার বদলে হত্যা। কোন মাফ নাই।

    ভালো বলেছেন ভাই। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. যুদ্ধাপরাধী প্রমাণিত হলে,
    যুদ্ধাপরাধী প্রমাণিত হলে, তাদের ফাঁসির পরিবর্তে যদি শরীরের এক একটা অঙ্গ এক এক দিনে কেটে কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা যেত তাহলে বড়ই শান্তি পাইতাম…..

  3. ফাঁসি অনেক শান্তির।
    এদের জন্য

    ফাঁসি অনেক শান্তির।
    এদের জন্য দরকার অসউইটজ এর তীব্র যন্ত্রণা কিংবা ক্রুসিফিকসনের নারকীয় অনুভূতি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

40 − 33 =