চলচ্চিত্র ভাবনা – ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান : ডন অফ জাস্টিস

আমরা ভাই সাধারণ মানুষ! আমরা কি পারবো ওইরকম ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে? এই প্রশ্নে ভীত হয়ে সরে আসা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম না। আমরা ছোট বেলায় গল্প শুনতাম, হাতি নাকি ওঁর বড় কানের জন্যে নিজের পুরো শরীর দেখতে পায়না। দেখতে পেলে নাকি হাতি আরও এলাহি কাণ্ড ঘটাত। মানুষও ঠিক তেমন। না, মানুষের অত বড় শরীর নেই। তাঁর আছে বুদ্ধি আর দল হয়ে উঠার ক্ষমতা। সংগঠিত দলীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের অজস্র জয়ের কাহিনী আছে। এই দুঃসময়ে সেই কাহিনী থেকেই অনুপ্রেরণা নেওয়ার সময়।

এমনই অনুপ্রেরণার উৎস কমিকসের চলচ্চিত্র ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান। চলচ্চিত্র বরাবরই মানুষকে শিখিয়ে এসেছে। নৈতিক অনৈতিক দুই দিক থেকেই। কিন্তু সুপার হিরোদের সিনেমায় জনগণের প্রেরণা কই? প্রেরণা আছে। অন্য সকল সুপার হিরো কাল্পনিক বিভিন্ন শক্তিসম্পন্ন বা এলিয়েন হলেও ব্যাটম্যান একজন মানুষ। বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। আর যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কাহিনী নিয়ে এই চলচ্চিত্র তিনি সুপারম্যান। একজন ভীনগ্রহের প্রাণী।

ব্রুস ওয়েন গোথাম সিটির ধনাঢ্য ব্যক্তিত্য। মিলিটারি আর্মারের ব্যবসা করেন। আবার তার সৃষ্টি গোপন স্যুটের সাহায্যে হয়ে উঠেন ব্যাটম্যান। বিভিন্ন দুর্যোগ-আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন গোথাম সিটিকে। অপর দিকে পৃথিবীর বাইরের এক গ্রহের সর্বগ্রাসী যুদ্ধ থেকে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে এক দম্পতি পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়। ক্লার্ক কেন্ট নামে এক সাধারণ পরিবারেই বেড়ে উঠতে থাকে সেই সন্তান। ধীরে ধীরে তার অতি মানবিয় গুন প্রকাশ পেতে থাকে। একসময় মানব জাতিকে রক্ষা করতে নিজের পরিচয় গোপন রেখে হয়ে উঠে সুপারম্যান।

ব্যাটম্যান, সুপারম্যান দুজনেই দুজনের মতো করে মানব জাতিকে রক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু একসময় ব্যাটম্যান দেখলো, সুপারম্যানের শক্তির কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়। সুপারম্যানের শক্তি কাজে লাগাতে তার স্বজাতিয়রা বারে বারে হানা দিতে লাগলো পৃথিবীতে। স্বাভাবিকভাবেই রাজায় রাজায় সেই যুদ্ধে প্রাণ গেলো শত শত উলুখাগড়া তথা মানুষের। ব্যাটম্যান বুঝে গেলো সুপারম্যানই সমস্যার মুলে। সেই যুদ্ধ ডেকে আনছে আবার সেটা থেকে রক্ষা করে হিরো হয়ে যাচ্ছে।

জনগণের নিজের শক্তির উপর আস্থা ফেরাতে, সুপারম্যানের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলো ব্যাটম্যান। প্রমাণ দিতে যে, সাধারণ মানুষের শক্তিই যথেষ্ট। কোন সুপারম্যানের দরকার নেই তাদের। একসময় দেখা যায় এই চলচ্চিত্রে ঠিকই জয়ী হয় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি ব্যাটম্যান।

সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হওয়ায় এখন আমেরিকার নিজের কোন সমকক্ষ শক্তি নেই বলেই মনে করে তারা। তাই আগে আমরা ভিয়েতনাম, কিউবা, চিন, রাশিয়া, জাপানের বিরুদ্ধে হলিউডি যুদ্ধ দেখতাম আর এখন তারা এই গ্রহ ছেড়ে ভিন্ন গ্রহের সাথে যুদ্ধ বাধায়। মানুষের সংগঠিত হবার শক্তি মেরে ফেলতে আর চূড়ান্ত ব্যক্তি কেন্দ্রিক করে তুলতে আমদানি হয় সুপার হিরোদের। আমরাও নিজেদের মনে বিশ্বাস করি, সুপার হিরোই তো চাই। এই দেশ এই পৃথিবীকে রক্ষা করতে।

তারপরেও এই চলচ্চিত্র থেকে আমাদের শিক্ষা নেবার আছে। সাধারণ মানুষের শক্তি। মানুষই পারে নিজের ভাগ্য ফেরাতে। আমরা অনেক সময়েই ভাবি, কেউ যদি আমাদের সমাজের পরিবর্তন করে দিত! মনে রাখতে হবে আসল সমাজে কোন সুপারম্যান নেই। তাই বলে ভীত হবার কিছু নেই। সম্মিলিত মানুষের প্রচেষ্টার সামনে কোন বাধাই কিছুই না। সম্মিলিত হয়ে, সঙ্ঘবদ্ধ হলেই আমরা সবাই মিলে সুপার হিরো হতে পারি। আমাদের নিজেদের সমাজকে অসুন্দরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। নিয়ে যেতে পারি প্রগতির দিকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 88 = 91