যাচ্ছি কোথায় আমরা

যাচ্ছি কোথায় আমরা !
দেশ আজ কোন দিকে যাচ্ছে ,দিকভ্রান্ত আমরা কেন এতো অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছি, এটা কি আমাদের বিকারগ্রস্থ মেধা, মনন ও চিন্তার বিভৎস বাস্তবতা নাকি অন্যের শানিত বিবেকের কর্মপ্রয়াসের ফসল ! প্রকৃতির অকৃপণ দানে আমরা সুখি ও সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর প্রাক্কালে কেন এই জাতীয় বিভেদ , এটি ছোট কোন বিষয় ভেবে আপাত সমাধানের চেষ্টা না করে গভীরে সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে। বৃত্তের বাইরে সৃষ্ট ঘুর্নায়মান নানান অপতৎপরতা একটি কেন্দ্র বিন্দুকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস ,
যার সাথে মুখোমুখি অবস্থানে- বঙ্গবন্ধু ,মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ –

‘গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো এই সত্য যে সরকার এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরোধিতা করার অধিকার যে স্বীকার করতে হবে কেবল তা-ই নয়, বিরোধিতা করার এই অধিকারই গণতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্য। এটি বাদে গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না। তাই গণতন্ত্রে বিরোধিতা আইনসংগত ও সংবিধানগত। গণতন্ত্রের অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সংগঠিত বিরোধিতা।’

দেশ কেমন চলছে—এই প্রশ্নের উত্তরে একেক মহারথী একেক কথা বলবেন। বিরোধী দলের (অবশ্যই যারা সরকারের শরিক নয়) মতে, দেশ একেবারে উচ্ছন্নে গেছে। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। আবার ক্ষমতাসীনদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁরা মনে করেন, বর্তমান সরকারের আমলে এমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা অতীতে হয়নি। দেশের মানুষ এ রকম উন্নয়নও কখনো দেখেনি। অর্থাৎ দুই পক্ষই দুই মেরুতে অবস্থান করছে। কিন্তু সম্ভবত কেউ সত্যের ধারেকাছে নেই। দেশে গণতন্ত্র আছে, আবার গণতন্ত্র নেইও। ক্ষমতাসীনদের জন্য শতভাগ গণতন্ত্র থাকলেও ভিন্নমত পোষণকারীদের জন্য তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। কেননা, ক্ষমতাসীনেরা মনেই করেন, তাঁদের সঙ্গে যাঁরা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাঁরা দেশের মঙ্গল চাইতে পারেন না। আর যে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তার সুফল কারা ভোগ করছেন, কতটুকু পাচ্ছেন, সেই তত্ত্বতালাশও জরুরি।

গণতন্ত্রের সর্বজনীন সংজ্ঞা হলো সবাইকে নিয়ে চলা। সবার মতামতের সুযোগ থাকা। কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা মনে করেন, তাঁরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণতন্ত্রী ও দেশপ্রেমিক। যাঁরা তাঁদের সমালোচনা করেন, তাঁরা হয় নির্বোধ অথবা দেশদ্রোহী। অন্যান্য দেশের রাজনীতিকেরা ভুল করলে স্বীকার করেন। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকদের অভিধানে ভুল শব্দটিই অনুপস্থিত। তাঁরা কখনোই ভুল করতে পারেন না। এমনকি কেউ ভুল স্বীকার করলেও তাঁর নিস্তার নেই। এমনই এক অভাবিত ও অপরিণত গণতন্ত্রে আমরা বাস করছি!
যে পরিবেশে একজন নাগরিক সাহস করে সত্য কথা বলবেন, সেই পরিবেশ বর্তমানে বিরাজ করছে, সে কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না।

ক্ষমতাসীনেরা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির কথা বলেন। কিন্তু তাঁদের কাজকর্মে তার ন্যূনতম প্রতিফলন লক্ষ করি না। মুক্তিযুদ্ধের মূল কথাই ছিল গণতন্ত্র ও সমতা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও রাজনীতিকেরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে যা হচ্ছে, তা দলতন্ত্র। আরও স্পষ্ট করে বললে ব্যক্তিতন্ত্র। বর্তমানের চেয়ে অতীত ভালো ছিল কি না, সেই বিতর্কের চেয়েও জরুরি হলো ভবিষ্যতে কী হবে? আমরা কোথায় যাচ্ছি? অতীত খারাপ হলে সেই অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখার কোনো যুক্তি নেই। বরং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগোতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সুখী না হলেও প্রচণ্ডভাবে আশাবাদী। তারা বারবারই রাজনীতিকদের কথায় আস্থা রেখে ভোট দিয়ে তাঁদের ক্ষমতায় এনে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন চেয়েছেন। কিন্তু রাজনীতিকেরা নিজেদের ভাগ্য নিয়ে যত চিন্তিত, জনগণের ভাগ্য নিয়ে ততটাই উদাসীন।

আজকের বাংলাদেশের মানুষ ন্যায়ের বাক্যের অভাববোধ করে। শুভ জ্ঞানের উদ্রেক ঘটাতে হলে আমাদের সেই ন্যায়ের বাক্যগুলোকে মনে ধারণ করতে হবে। তাই আসুন, আমরা সকলেই আজ সেই ন্যায় আর সত্যের বাণীগুলোকে দেশের কোনায় কোনায় পৌঁছে দেই। এটি আমাদের মনে ধারণ করি। তবেই হয়তো আমরা একটি শান্তিময় দেশ গড়ে তুলতে পারব।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 + = 23