আপনার নিজের মা, তিন তালাক ও হিল্লা বিয়ে


ধরুন, আপনার মা ও বাবার মধ্যে ঝগড়া হলো, এক পর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে আপনার বাবা আপনার মাকে বলল- আমি তোকে তালাক দিলাম – এক তালাক , দুই তালাক , তিন তালাক। তাহলে কি ঘটনা ঘটবে ? তাহলে যা ঘটবে তা কোরান ও হাদিস থেকে জেনে নেয়া যাক —

সুরা বাকারা – ২: ২৩০: তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়।

উক্ত আয়াতের ব্যখ্যাটা মুহাম্মদের কাছ থেকেই জানা যাক —–

তালাক অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬৩ :: হাদিস ১৮৬
সাঈদ ইব্ন ‘উফাইর (র)….. ‘আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফা‘আ কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ! রিফা‘আ আমাকে পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদের তালাক (তিন তালাক) দিয়েছে। পরে আমি আবদুর রহমান ইব্ন যুবায়র কুরাযীকে বিবাহ করি। কিন্তু তার কাছে কাপড়ের কিনারা সদৃশ বৈ কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ সম্ভবতঃ তুমি রিফা’আর নিকট ফিরে যেতে ইচ্ছা করছ। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমি তার স্বাদ গ্রহণ কর।

তালাক অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬৩ :: হাদিস ১৮৭
মুহাম্মদ ইব্ন বাশ্শার (র) ‘আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে সে (স্ত্রী) অন্যত্র বিবাহ করল। পরে দ্বিতীয় স্বামীও তাকে তালাক দিল। নাবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলঃ মহিলাটি কি প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ হবে ? তিনি বললেনঃ না। যতক্ষণ না সে (দ্বিতীয় স্বামী) তার স্বাদ গ্রহণ করবে, যেমন করেছিল প্রথম স্বামী।

এখানে ‘তালাক’ শব্দটা তিনবার উচ্চারন করাকেই বরে তিন তালাক। এটাই দুনিয়ার সকল ইসলামী আলেমদের মতামত। কিন্তু জাকির নায়েক বিষয়টাকে নিজের মত ব্যখ্যা করে বলেছে , তিন তালাক নাকি তিনবার তালাক। তার মানে পর পর তিনবার তালাক দিলেই অত:পর সেই স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে বসে , তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে প্রাক্তন স্বামীকে বিয়ে করতে পারবে। তার মানে গোটা বিশ্বের আলেমরা যা বলেছে এটা তার বিপরীত। গোটা মুসলিম সমাজ গত ১৪০০ বছর ধরে যা জেনেছে , তা ভুল , সেটাই জাকির নায়েকের বক্তব্য। অন্য কথায় জাকির নায়েক মুহাম্মদের চাইতে বেশী ইসলাম জানে।

সুতরাং যা ঘটবে , তা হলো , আপনার মাকে অন্য এক পুরুষের সাথে বিয়ে বসতে হবে। সেই পুরুষ আপনার মায়ের সাথে যৌন সঙ্গম করবে। তারপর সে যদি আপনার মাকে তালাক দেয়, তাহলেই মাত্র আপনার মা আবার আপনার বাবার সাথে বিয়ে বসে ঘর সংসার শুরু করতে পারবে ও পরিবার টিকবে। আর এটাই হলো সহিহ ইসলামী বিধান। আল্লাহ ও তার রসুল মুহাম্মদের বিধান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

40 + = 48