ব্যানানা রিপাবলিক

.png” width=”500″ />Banana Republic গুলো ছিল রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল। এসব দেশের অর্থনীতি ছিল মুষ্টিমেয় সম্পদপণ্য রফতানির ওপর নির্ভরশীল। যেমন- কলা ও খনিজসম্পদ ইত্যাদি। আমরা জানি, উপনিবেশবাদীরা কোনো উপনিবেশের শিল্পায়ন হতে দিত না। তবে এসব দেশের খনিজসম্পদসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কলা, চা, কফি, কোকোর বাগান ইত্যাদি তৈরি করে একচেটিয়াভাবে এসব সম্পদ লুণ্ঠন করত। কার্যত কদলি প্রজাতন্ত্রে সমাজবিন্যাস বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণীতে স্তরিভূত। দেশের জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ গরিব মেহনতি শ্রেণীভুক্ত। দেশ শাসিত হয় মুষ্টিমেয় ধনিকতন্ত্রভুক্ত শাসক ব্যক্তিদের দ্বারা। এদের মধ্যে থাকে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক এবং সামরিক এলিটরা। এ গোষ্ঠীতন্ত্র অর্থনীতির প্রাথমিক খাত নিয়ন্ত্রণ করে শ্রম শোষণের মাধ্যমে। তাই পরিভাষা হিসেবে Banana Republic বা কদলি প্রজাতন্ত্র ধারণাটি নিন্দাসূচকভাবে ব্যবহৃত হয়। আসলে এ ব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের অনুগত ডিক্টেটররা আর্থিক ঘুষের বিনিময়ে বৃহৎ বাগান-কৃষিকে (Plantation Agriculture) শোষণে মদদ জোগায়। বিশেষ করে এর অন্তর্র্ভুক্ত ছিল কলার চাষ! অর্থনীতিশাস্ত্র অনুযায়ী Banana Republic হল এমন একটি দেশ, যেখানে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হল রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ। দেশটি পরিচালিত হয় ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে। এ থেকে মুনাফা করে শাসকশ্রেণী। এ শোষণ সম্ভব হয় রাষ্ট্র ও বিশেষ আনুকূল্যপ্রাপ্ত মনোপলির যোগসাজশে। এসব দেশে সরকারি জমি ব্যক্তিগত শোষণের জন্য ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহৃত হয়। এ উদ্যোগে কোনোরূপ দায়দেনা হলে তা সরকারি তহবিল থেকে নির্বাহ করা হয়। এরকম একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হয় ভারসাম্যবর্জিত এবং এতে শহর ও গ্রামের দুস্তর ব্যবধান সৃষ্টি হয়। জাতীয় মুদ্রার কোনো মূল্য থাকে না। এর ফলে এ রকম দেশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ঋণের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হয়।

১৯০৪ সালে লেখক ও’ হেনরি কেবেইজেক্স অ্যান্ড কিংস নামে একটি বই লেখেন। এটি ছিল কাল্পনিক দেশ আঞ্চুরিয়ার কাহিনী। বইটি লেখার পেছনে লেখক অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসে ছয় মাস অবস্থান করে। বইটির দি এডমিরাল শীর্ষক ছোট গল্পে ও’ হেনরি এই দেশটিকে একটি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক Banana Republic হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাভাবিকভাবেই এ ফলটি ছিল এই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ও’ হেনরির লেখায় একটি উষ্ণমণ্ডলীয় কৃষি অর্থনীতির দেশের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠলেও এর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে দেশটি এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফল কোম্পানিগুলোর অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব। বিংশ শতাব্দীর প্রথম পাদে ইউনাইটেড ফুড কোম্পানি, যেটি ছিল একটি বহুজাতিক মার্কিন কর্পোরেশন, তার হাতেই সৃষ্টি হয়েছিল ভূ-রাজনীতির একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে Banana Republic. ইউনাইটেড ফুড কোম্পানি ছাড়াও ছিল সুয়াইমেল ফুড কোম্পানি। এসব কোম্পানি মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন পেত। ফলে যে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল তারই নাম Banana Republic.

Banana Republic-এর সূচনা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৭০ সালে কলা বিক্রির মাধ্যমে। একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জামাইকা থেকে কলা এনে বোস্টনে শতকরা ১০০০ ভাগ মুনাফায় কলা বিক্রি শুরু করে। অচিরেই আমেরিকানদের কাছে কলা একটি জনপ্রিয় পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এ ফলের দাম স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আপেলের তুলনায় অনেক কম ছিল। ১৯১৩ সালে ২৫ সেন্টে আমেরিকায় এক ডজন কলা কেনা যেত। অথচ ওই একই সময়ে ২৫ সেন্টে পাওয়া যেত মাত্র দুটি আপেল। সংক্ষেপে এটাই হল Banana Republic-এর বা কদলি প্রজাতন্ত্রের কাহিনী।
সূত্রঃ ড. মাহবুব উল্লাহ্
দৈনিক যুগান্তর, ২৪ আগস্ট ২০১৭।

২০১০ সালের ০৫-ই মে “প্রথম আলো”তে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী “ব্যানানা রিপাবলিক”কে সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে, “ বিশৃঙ্খল রাজ্য বোঝাতে শব্দটি ব্যবহূত হয়। যুদ্ধের সময় ব্রিটেনে কলা আমদানি করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধশেষে যখন কলা এল, প্রধানমন্ত্রী এটলি ঘোষণা করলেন, প্রত্যেক তরুণকে একটি করে কলা ফ্রি দেওয়া হবে। সেই কলা সংগ্রহের জন্য তরুণদের মধ্যে হইচই পড়ে গেল। শুরু হলো বিশৃঙ্খলা। এর থেকে ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ কথাটির চল হয়। কথাটির মধ্যে সূক্ষ্ম বিদ্রূপও আছে। আফ্রিকার অনেক রাজ্যে কলা প্রধান খাদ্য। এই দেশগুলো দিনরাত নিজেদের মধ্যে হানাহানি করে। কোনো ব্যাপারে তাদের ঐকমত্যহয়না। এই বিশৃঙ্খলার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ‘ব্যানানা বিপাবলিক’ শব্দবন্ধে।“
তথ্য সূত্র: কথায় কথায়, চণ্ডী লাহিড়ী

ইউটিউব লিংকঃ https://youtu.be/S7T8BPR0YBc

ধন্যবাদ
দেলোয়ার হোসেন
৩১শে আগস্ট, ২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1