গণজাগরণ মঞ্চ এবং মূক ও বধির সুশীলের মানবতা জ্ঞান

গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে অনেক কথা, অনেক বিশ্লেষণ করেছি সাথে এও বলেছিলাম মঞ্চের আন্দোলনের সার-সংকলন টানার সময় এখনো আসে নি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, সেই সময় চলে আসছে এবং সার-সংকলন টানার সময়টি আরও বেশী ঘনীভূত রূপ পাচ্ছে এবং আরো পাবে; বিশেষ করে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক পরিবেশে। না মঞ্চের বিষয়ে আগাম কিছু বা পুড়ানো বিশ্লেষণ তুলে ধরে কিছু বলব না। কিন্তু আজ গণজাগরণ মঞ্চ, প্রজন্ম ও সুশীল সমাজের কাছে একটি প্রশ্নই করব এবং এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মূল প্রশ্নে যাবার আগে একটু অন্য কথা বলি। আমার কাছে কোরআন পোড়ানো অথবা অন্য কোন ধর্ম গ্রন্থ পোড়ানো, এমনকি অন্য কোন পুস্তক পোড়ানো সমান কথা। আপনাদের নিকটও নিশ্চয় তাই!! কারণ আমরা সবাই বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্ত চিন্তা ও মুক্ত দর্শনে বিশ্বাসী। ফলে আমাদের কাছে কার কোন ধর্ম, সে অনুযায়ী কার কোন গ্রন্থ এটা বিবেচ্য নয়।যে কোন গ্রন্থ পোড়ানোকে আমরা নিন্দা জানাই। আমি জানি, গণমঞ্চের কর্মী, প্রজন্মের তরুণ ও সুশীল সমাজ তাঁরাও এই মত পোষণ করবেন। আমি জানি আপনারা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক ভাবেন এবং সমগ্র জনগণকে ‘জনগণ’ রূপেই বিবেচিত করেন। নির্দিষ্ট মত বা পথের সংকীর্ণ গলিতে নিয়ে গিয়ে ‘জনগণ’কে বিচার করেন না।

গণজাগরণ মঞ্চের কথা দিয়েই মুল প্রসঙ্গে যাই। গণজাগরণ মঞ্চ সমাবেশ, হরতাল, মিছিল আহ্বান করে আবার হরতাল প্রতিহত করার ডাক দেয়। সেটা মঞ্চ করতেই পারে, কারণ অরাজনৈতিক ট্যাগ নিলেও রাজনীতির বাইরে যেমন কিছু নাই; তেমনি যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সামনে নিয়ে আসতে হলে কিছুটা রাজনৈতিক ভূমিকা চলে আসে। এটা মঞ্চ বুঝে উঠার আগেই আমার উপলব্ধিতে এসেছিল। সে যাইহোক, আস্তিক নাস্তিক প্রমাণ করতে গিয়ে মঞ্চ চলতি পথে হেফাজতিদের সাথে করমর্দন ও হাসি বিনিময় করতেই পারে। সে দৃশ্য দেখে আমি আনন্দিত হয়েছিলাম। আবার তাঁদের সাথে মত বিনিময় বা বিতর্কের আহ্বান মঞ্চ করতেই পারে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নাই।

কিন্তু এই সব ঠিকের মাঝে একটা বেঠিক হয়ে গেল। হেফাজতি সমর্থকদের সাথে গণজাগরণ মঞ্চ হাসি বিনিময় করল,করমর্দন করল; কিন্তু এই সমর্থকরা যখন ৫ তারিখে রাতের অন্ধকারে মারা পড়ল (সংখ্যা যাই হোক) , গণজাগরণ মঞ্চ এর প্রতিবাদ করল না। বরং অনলাইনে দেখা গেল,মৃতের সংখ্যার পিছনে মঞ্চের কিছু কর্মীর ছোটাছুটি, যেমন করে এই সংখ্যার পিছনে ছুটাছুটি করেছিল জামাত, বীয়াম্পী! গণজাগরণ মঞ্চ হেফাজতি তাণ্ডবের প্রতিবাদ করে কিন্তু কিলিং এর প্রতিবাদ করে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি রাতের অন্ধকারে এভাবে মানুষ মারতে পারে? যদি পারে তবে দুটি প্রশ্ন ,তাহলে মানবতার সংজ্ঞা কি? গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কি? মুক্তচিন্তার একজন মানুষ বা তাঁদের সমন্বয়ে যে মঞ্চ তারা কিভাবে প্রতিবাদ না করে থাকে? এদের মাঝে গণতন্ত্রী আছে, সমাজতন্ত্রী আছে , এরা কিভাবে প্রতিবাদহীন থাকতে পারে?

এই যে যারা মারা গেল, তারা যারাই হোক, যে মতাদর্শের হোক, যে শ্রেণীর হোক, যে মত ও পথের হোক গণ জাগরণ মঞ্চ কি মনে করে এদের প্রাণের কোন দাম নাই। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেই এই দেশে হেফাজতি জামাতি মারা জায়েজ তবে প্রশ্ন থাকে কয়টা হেফাজতি – জামাতি নেতা কর্মী মারা গেল সে রাতে? আবার ধরে নিলাম গণতান্ত্রিক সরকার যদি জামাতি- হেফাজতি নেতা কর্মীদের মেরেই থাকে এবং সেটা যদি জায়েজ হয় তবে পাল্টা প্রশ্ন, তবে কেন আল্লামা শফিকে জামাই আদরে হেলিকপ্টারে করে বাড়ী পাঠীয়ে দেয়া হল? মূল নাটের গুরু যারা তারা কেন আইনের বাইরে, গ্রেফতারের বাইরে? প্রশ্ন থাকে রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগগুলো কেন সময়মত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে সঠিক ব্যবস্থা নিলো না, যদি নিতে পারত এতো প্রাণহাণী এড়ানো কি যেত না? রাষ্ট্র যদি এদের হুমকি মণে করত তবে সমাবেশের অনুমতি রাষ্ট্র না দিলেও পারত। আবার অনুমতি দিলই যখন, তখন কেন রাষ্ট্রীয় প্রশাসন সমাবেশ স্থল সন্ধ্যার মধ্যে না হোক রাত দশটার মধ্যে কেন ফাঁকা করল না? বলা হয় পরের দিন আরও খারাপ কিছু তারা ঘটাত। তর্কের খাতিরে মানলাম কিন্তু সেই মানার সাথে সাথে আবার প্রশ্ন জাগে, তবে কেন এত এত গোয়েন্দা বিভাগ থাকা সত্বেও প্রশাসন কেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তে না এসে রাতের অন্ধকারে যুদ্ধকালীন অপারেশন চালানোর মত একটি অপারেশন চালাতে হল??

ঠিক আছে , রাষ্ট্র তার চরিত্র অনুযায়ী এমন একটি অপারেশন না হয় চালাতেই পারে। কিন্তু যে গণমঞ্চ হাসি বিনিময় ও করমর্দন করতে পারে, হেফাজতি তাণ্ডবের প্রতিবাদ করতে পারে তবে কেন এসবের সমান্তরালে ৫ তারিখের রাষ্ট্রীয় কিলিং এর ব্যাপারে গণজাগরণ মঞ্চ ন্যূনতম প্রতিবাদী ভূমিকাও পালন করে নি? যদি এই প্রতিবাদী ভূমিকা মঞ্চ রাখতে পারত, তবে চিন্তা চেতনায় পিছিয়ে পড়া একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে গণমঞ্চ তাঁদের আস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে পারত। মঞ্চ সেই সুযোগ নষ্ট করেছে। নিজেদের নিরব ভূমিকা দিয়ে মঞ্চ মনে হয় নিজেই এখন ধর্মভীরু এক শ্রেণীর মানুষের কাছে আস্থার সংকটে পড়ে গিয়েছে। যে আস্থার সংকট ছিল হেফাজতিদের পূঁজি!!

যাইহোক, আগুনে পোড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্মগ্রন্থের যেমন পার্থক্য করা চলে না , তেমনি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানুষকে এভাবে মেরে ফেলার মাঝেও মত, পথ দিয়ে পার্থক্য করা চলে না। কিন্তু এখানেই গণজাগরণ মঞ্চ, প্রজন্মের তরুণ- তরুণী, সুশীল সমাজ, গণতন্ত্রী- সমাজতন্ত্রী একটি পার্থক্য তৈরি করে কিলিং এর ঘটনাকে সহি বিবেচনা করে বসল এবং নিরব ভূমিকা পালন করে গেল।

মঞ্চ যতই বলুক তারা “রাষ্ট্রের রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না” কিন্তু মঞ্চ এ বিষয়ে নিরব থাকা এবং মঞ্চের কিছু কর্মীর এই সংখ্যার পিছনে ছোটাছুটি প্রমাণ করে, যতোই প্রগতিশীলতা ট্যাগ লাগাক না কেন তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি সীমাবদ্ধতা আছে।

আজকাল প্রজন্মের তরুণ তরুণীদের কাছে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা ক্রিকেটে ‘টিম বাংলাদেশ’ কে সাপোর্ট করার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যারা একটু রাজনীতি সচেতন দাবী করে, তাঁদের কাছে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা সরকার বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার এক শ্রেণীর কাছে রাজাকার বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু মাঝখান থেকে দেশের বারোটা থেকে তেরটা কিন্তু ঠিকই বেজে যাচ্ছে এবং আমাদের দেশপ্রেম, মানবতা জ্ঞান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ক্রসফায়ার/ এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং/ এনকাউনটার যখন চালু হল, তখন বলা হল এর শিকার যারা; এরা সন্ত্রাসী। এভাবে এই রাষ্ট্রীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা হল যে , এই সব কথিত সন্ত্রাসীদের বিচার বহির্ভূত হত্যার প্রয়োজন আছে। রাষ্ট্র যে চশমা দিয়ে এই প্রয়োজনকে দেখে, লেন্সটিকে পাল্টে সেই একই চশমা দিয়ে জনগণকে দেখানো হল ক্রস ফায়ার একটি হালাল জিনিস , জনগণ প্রতিবাদ করল না। এই ব্যর্থতা সমগ্র জনগণের দৃষ্টিশক্তিকে এতটাই ক্ষীণ এবং রাষ্ট্রযন্ত্র কে এতটাই শক্তিশালী করল যে , এখন খোদ জনগণ নিজেই এর শিকারে পরিণত হচ্ছে। ক্রসফায়ারে এক- দুই জনকে হত্যা করে, রাষ্ট্রের হাত যেমন পাকলো; তেমনি ক্রসফায়ারের শিকার ভিকটিমের এক- দুইয়ের সংখ্যাকে, দুই অংকের সংখ্যায় উন্নীত করার রাষ্ট্রীয় স্পৃহা ও জিঘাংসা আরো বেশী তীব্রতায় রূপ নিলো । ৫ তারিখের হেফাজতের মহা সমাবেশে রাতের অন্ধকারে যা ঘটেছে, সেটা এমনই দুই অংকের একটি কিলিং; পরিসংখ্যান যাই হোক।

কিন্তু ক্ষীণ দৃষ্টির জনগণকে এই কিলিং এর ঘটনাকে দেখার জন্য এবার আর চশমা নয় , এবার দূরবীন সরবারহ করা হল। সে দূরবীন হল ‘মত ও পথে’র দূরবীন। এই মত ও পথের দূরবীন দিয়ে দেখতে গিয়ে জনগণ এই কিলিংকেও হালাল ভাবতে শিখল। যারা মারা গেল তারা আমার মতের বা পথের নয়, আমার আদর্শের নয়, তাই এই কিলিং সহি- জনগণকে এমনটি ভাবতে শিখালো!!!

নিঃসন্দেহে এভাবে মত ও পথের দূরবীন দিয়ে দেখতে দেখতে জনগণের দৃষ্টি শক্তি ( বোধ) আরও বেশি ক্ষীণ হবে এবং অনাগত ভবিষ্যতে যদি আবার এমন কোন কিলিং এর ঘটনা ঘটে এবং জনগণ যদি ভিকটিম হয়, তবে দূরবীনের বদলে আমাদের আতশি কাঁচ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হবে আসলেই কিলিং হয়েছে কিনা? সেই কিলিং সহি কিনা? মানবতা ও গণতন্ত্র খুঁজতে হবে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে!!

কিন্তু এভাবে মতের বা আদর্শের চশমা, মতের বা আদর্শের দূরবীন দিয়ে দেখায় জনগণের দৃষ্টি শক্তি ক্রমান্বয়ে ক্ষীণ হলেও শক্তিশালী হচ্ছে রাষ্ট্র যন্ত্র, রাষ্ট্র যন্ত্রের চরিত্র হয়ে যাচ্ছে নিপীড়ক!!

সাভারের গণহত্যাকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি না, কিন্তু এক রেশমার উদ্ধারে আমরা আনন্দাশ্রুতে ভেসে যাই। ৫ ই মে সমাবেশে যারা মারা গেল, এরা এই রেশমাদের ভাই; সমাজের নিম্ন বর্গের মানুষ। এদের খাদ্য, বস্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র এই দায়িত্ব পালন করে না। সমাজের এই অপাংক্তেয় সর্বহারা শ্রেণীর দায়িত্ব রাষ্ট্র তূলে দিয়েছে কিছু ধর্মান্ধ লোকের হাতে। এই ধর্মান্ধ লোকগুলি এই রেশমা ও তার ভাইদের কাছে ২য় জন্মদাতার মত। আমরা শিক্ষিত লোকজন যখন ভাল মন্দ বিচার করতে জানি না, সেখানে এই অপাংক্তেয় আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশু- কিশোর- তরুণেরা ভাল মন্দ নির্ণয় করতে পারবে এটা আশা করা ভুল! তারা কারো প্ররোচনায় ভুল পথে ভুল রাজনীতিকে হয়ত সমর্থন করতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এরা রাজনীতির মূল স্রোতে আসতে পারে বা নেতৃত্ব দিতে পারে। এরা চিরকালই ব্যবহৃত হয়; কখনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দ্বারা কখনো মূল স্রোতের রাজনীতির দ্বারা। যারা এম.পি, মিনিস্টার হন তারা তাঁদের এলাকায় একটি স্কুলের চেয়ে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করতে বেশী ভালবাসে।এদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা পরিচয় নাই, গড়ে উঠে নাই! এদের বেশিরভাগই পড়াশুনা শেষে রাজনীতিতে আসে না, আবার যারা আসে তারা কিন্তু মূল নেতৃত্বে আসে না। আসতে পারে না। সাম্প্রদায়িক নেতৃত্বেরও লাটাই থাকে গোঁড়া আশরাফ শ্রেণীর হাতে। এই আশরাফ শ্রেণী মরে না কিন্তু এরা মারায় বটে! এই আশরাফ শ্রেণী আবার মুল ধারার রাজনীতির সহায়ক শক্তি বিশেষ!

যাইহোক, এই অপাংক্তেয় আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশু- কিশোর- তরুণেরা মারা পড়ল। কিন্তু আমরা এই মারা যাওয়ায় রাষ্ট্র যন্ত্রের মানবতা লঙ্ঘিত করার মত কোন কিছু দেখলাম না। ইবলিশের প্ররোচনায় মানুষ যদি ভুল করে, ভুল পথে পা বাড়ায় তবে সে ইবলিশ হয়ে যায় না, মানুষই থাকে। কিন্তু মতিঝিল সমাবেশে আগত এবং সেখানে রাত্রিযাপনে যারা ছিল; এদের বেশীর ভাগই শিশু ও কিশোর বা সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ তরুণ, এদের আমরা মানুষ নয় জামাতি হেফাজতি ‘ইবলিশ’ মনে করে রাষ্ট্র যন্ত্র দ্বারা এদের হত্যাকে বৈধ মণে করলাম !

এপ্রসঙ্গে শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের চাটুজ্যে মশাইয়ের কথা মনে পড়ল। চাটুজ্যে মশাই বলেছিলেন- মড়ার আবার জাত কিসের? তিনি যদি একবিংশ শতক অব্দি বাঁচতেন তাহলে নিশ্চয় দেখতেন মড়ার শুধু জাত নয়, পোশাক-আশাক, চেহারা-সুরত, বর্ণ এমনকি মত-পথও আছে!

পর্দার অন্তরালে বসে রাষ্ট্রযন্ত্র, মিডিয়া আমাদের বলে দেয়, কোন মৃত্যুতে আমরা হাসব এবং কোন মৃত্যুতে আমরা কান্না করব। রাষ্ট্রযন্ত্র, শাসক শ্রেণী, মিডিয়া যেভাবে মানবতাবিরোধী ও মানবতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিচ্ছে এর বাইরে আমরা কিছু বুঝি না। ভাঁড়ামির একটা সীমা থাকা উচিৎ কিন্তু সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, আমরা সে সীমাটাকেও টপকে অন্য পারে চলে গিয়েছি…।

যে শিক্ষক, কবি, বুদ্ধিজীবী, কেরানী, শ্রমিক, কৃষক প্রকাশ্য বা রাতের অন্ধকারে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রজাতন্ত্রের সন্তান হত্যার বিচার চায় না, প্রতিবাদ করে না; মূক ও বধির ভূমিকা নেয়, তাদের করুণা করতেও আমার ঘৃণা হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “গণজাগরণ মঞ্চ এবং মূক ও বধির সুশীলের মানবতা জ্ঞান

  1. আপনার পুরুস্কার সাদরে গ্রহণ
    আপনার পুরুস্কার সাদরে গ্রহণ করিলাম এবং যথারীতি আমার জৈব সারের প্রজেক্টে পাঠালাম। উল্লেখ্য যে এই সার মাথায় মাখলে হতচ্ছাড়াদের মন্তব্যের শ্রী বৃদ্ধি ঘটে, আপনার বরাবরে এই সার কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেয়া হবে

  2. ইস্টিশন মাষ্টারের নিকট অনুরোধ
    ইস্টিশন মাষ্টারের নিকট অনুরোধ এই ব্লগ মুছে দেয়া হোক। বাশেরকেল্লায় এই জাতীয় পোস্ট মানায়। এইখানে না।

  3. হতচ্ছাড়া , কষ্টকরে আবার লাদি
    হতচ্ছাড়া , কষ্টকরে আবার লাদি ত্যাগ? কি দরকার ছিল? হ্যাডাম থাকলে গঠন মুলক সমালোচনা করুন।

  4. ইস্টিসন মাস্টারের দৃষ্টি
    ইস্টিসন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, একজন মুমুর্ষ ডায়াবেটিস রোগী প্লাটফর্মে হিসি করে পরিবেশ নষ্ট করছে, তাকে টয়লেট দেখিয়ে দিন।

  5. সেদিন রাতে কারা মারা গেছিল
    সেদিন রাতে কারা মারা গেছিল তাদের লিস্ট কেন আসেনা? তাদের কি বাপ-মা-ভাই-বোন-হুজুর কেউ নাই? সবাই চুপ হয়ে আছে? আর আগের দিন সারা বিকেল সন্ধ্যা জুড়ে তারা যে তাণ্ডব চালাইল সেটা নিয়ে আপনার কি মতামত। সেই প্রেক্ষিতে সরকারের কি করা উচিৎ ছিল? আপনি কি পরবর্তিতে বিভিন্ন রিপোর্টে দেখেন নাই পরের দিন থেকে জামাত-বিএনপি গ্রুপের আরও বড় ধরনের নাশকতা করার প্ল্যান ছিল। আর এইজন্যই তাদের নির্দেশেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও শফি হুজুর সমাবেশে যান নাই, যাতে সমাবেশ শেষ করার ঘোষণা না দিতে পারে। এই যে এতগুলো বাচ্চা বাচ্চা মাদ্রাসার ছাত্রদের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অপরিচিত একটা শহরে আনা হলো, যারা কিনা জানেই না কেন এসেছে, কার বিরুদ্ধে এসেছে, এটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? হুদাই সুশীলতা ফলায়েন না।

  6. “সেদিন রাতে কারা মারা গেছিল
    “সেদিন রাতে কারা মারা গেছিল তাদের লিস্ট কেন আসেনা?” এই লিস্ট প্রসঙ্গ এসেছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন শত শত মানুষের মারা যাওয়া ও লাশ গুমের দাবী করা হয়েছে। কিন্তু আমি তেমন কিছু অলিক দাবী করি নি। এখানে রাষ্ট্রের লিস্টের কথা আর আপনার লিস্টের কথা এক হয়ে গেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। রাষ্ট্র রাষ্ট্রই কিন্তু আপনি আম জনতা। আমি যা দাবী করেছি, “৫ তারিখের হেফাজতের মহা সমাবেশে রাতের অন্ধকারে যা ঘটেছে, সেটা এমনই দুই অংকের একটি কিলিং; পরিসংখ্যান যাই হোক ।” সেটা রাষ্ট্র, মিডিয়া সবাই স্বীকার করে নিয়েছে এবং একটি পরিসংখ্যান বা লিস্ট আছে। তাছাড়া আমি আগেই বলেছি সংখ্যার পিছনে আমি ধাবিত হব না। তারপরও তালিকাসহ সংবাদ মাধ্যমে যা এসেছে, তা হল, প্রথম আলো হাসপাতাল ও মর্গের সূত্র উল্লেখ করে লিখেছে ঐ দিন ২২ টি লাশ এসেছে তার মধ্যে ১১ টি লাশ হাসপাতাল ও মর্গে পৌঁছেছে ৬ তারিখ ভোরের দিকে। অর্থাৎ রাতে যে অ্যাকশন হয়েছিল এই ১১ টি লাশ তার ফলাফল। তালিকা আছে দেখে নিতে পারেন http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-05-07/news/350344,
    এখন এই ১১ টি লাশ কি এড়ানো যেত না? প্রথমত আমার প্রশ্ন সেখানেই ছিল। ২য়ত, এই লাশের দায় যেমন হেফাজতিদের তেমনি রাষ্ট্রের। কিন্তু হেফাজতিদের কৃতকর্মের চেয়ে আমি রাষ্ট্রের দায়দায়িত্বকে বড় করে দেখি। আমি রাষ্ট্রের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন অ্যাকশন ও কিলিং এর বিরুদ্ধে , এর মানে এটা নয়, হেফাজতি তাণ্ডবকে আমি সমর্থন করছি । হেফাজতি তাণ্ডবের চেয়ে রাষ্ট্রের তাণ্ডব বেশি হয়ে গেছে আমি তাই মনে করি। “বড় ধরনের নাশকতা করার প্ল্যান”, এরশাদ ও বি চৌধুরীর সেখানে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায়, অভ্যুত্থানের আশ্বাস এসবই আপনি যেভাবে জানেন আমিও সেভাবেই জানি। এখন রাষ্ট্র কি সেভাবে জানত? রাষ্ট্রের এই জানার বিষয়টি কি এমন যে রাষ্ট্র সন্ধ্যা রাতে জানল এমন কিছু হবে আর ভোররাতে অ্যাকশনে গেল। যদি তাই হয় , তার মানে কি দাঁড়ায়? রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য সংস্থা সব কাজে লাগছে না ! যদি শেষ সময়ে এসে রাষ্ট্র এত কিছু বুঝতে পারে তবে কেন মুল নাটের গুরু আল্লামা শফিকে গ্রেফতার করা হল না? কেন তাকে জামাই আদরে হেলিকপ্টারে করে বাড়ী পাঠীয়ে দেয়া হল? আবার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা গুলো যদি কাজেই না আসে হয় তবেতো এই প্রশ্ন আসা উঠিত কেন তারা কাজে লাগেনি? এমন হলে আপনার নেতা নেত্রীরাও নিরাপদ নয়, রাষ্ট্রও নিরাপদ নয়। অন্তত সে বিবেচনায় গোয়েন্দা সংস্থার সমালোচনাও আসা উচিত ছিল কিন্তু আমরা তো তাও করছি না। তারা যদি ঠিক মত তথ্য দিতো সমাবেশের অনুমতি না দিয়েই এই প্রাণ হানি এড়ানো যেত। যদি সরকার মহাসেনের জন্য এক মাসের জন্য সারাদেশে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে পারে তবে ঐ দিনের জন্য হেফাজতিদের সমাবেশের অনুমতি না দিলেও পারত।
    সংঘবদ্ধ কতিপয় ব্যক্তি অনেক কিছু করতে পারে , সেটা অপরাধ হতে পারে, মানবাধিকারের লঙ্ঘন হতে পারে কিন্তু এই কতিপয় ব্যক্তি রাষ্ট্রের মত কোন প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তির যা পারে রাষ্ট্র কি তাই করতে পারে? কিন্তু আপনি আপনার মন্তব্যে রাষ্ট্রের কৃতকর্মের চেয়ে কতিপয় ব্যক্তির কৃত কর্মকে এতটাই বড় করে দেখেছেন যেন, আপনি আম জনতা নয় আপনি নিজেই যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ। কেন এমনটি করে ভাবছেন তার যথেষ্ট বিশ্লেষণ লেখায় আছে সে প্রসঙ্গে আর গেলাম না, আপনার মন্তব্য কিন্তু হুদাই নয় ; আম জনতার মানসিকতা বুজতে আপনার সুশীল মন্তব্য আমাকে নিঃসন্দেহে সাহায্য করেছে। সে জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

    1. আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছি-
      আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছি- রাষ্ট্রের কি করা উচিৎ ছিল? রাষ্ট্র তো আমার বা আম জনতার প্রতিপক্ষ নয়। কিন্তু আপনার কথার সুরে তাই মনে হচ্ছে।

  7. আতিক সাহেব, কি করা উচিত ছিল,
    আতিক সাহেব, কি করা উচিত ছিল, তার কিছু সংকেত পোস্টে দেয়া আছা। পূর্ব সতর্কতা স্বরূপ কি করা যেত তারও একটা সংকেত দেয়া আছে। আসলে অনেক ভাবেই অনেক কিছু করা যায় বা যেত। এখানে বেশি কিছু বলা ঠিক না, যা বলেছি তাতেও বিপদ আছে, যাইহোক , আপনার কোথায় আসি, ” রাষ্ট্র তো আমার বা আম জনতার প্রতিপক্ষ নয়।” মার্ক্সবাদে রাষ্ট্র কে একটি নিপীড়ক যন্ত্র বলা হয়েছে। কেন বলা হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে কিছু উত্তর আপনি পাবেন। আর গত ৪০ বছরে আমাদের রাষ্ট্রের যে চরিত্র আমরা নির্মাণ করেছি সেটাও একটু বিশ্লেষণ করুন, আশা করি আপনার উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন। দুঃখিত দেরীতে রেসপন্স করার জন্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

24 − 22 =