SO, পাট ও পাটকল নিয়ে গল্প শেষ…………এবার নতুন গল্প…

অধ্যায় -১
“পাট একটি বর্ষাকালীন ফসল। বাংলাদেশে পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়ে থাকে এবং পাটই বাংলার (বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের) শত বর্ষের ঐতিহ্য।“
http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9F

অধ্যায় -২
“পাট বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা লাভের পর পরই পাটশিল্পের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।“

অধ্যায় -৩
আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের দাম কমে আসছিল। এবার পাটের প্রধান তিন ক্রেতা,চীন,ভারত আর পাকিস্তানও পাট কেনা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। এর কারণ তেমন কিছুই না, তাদের চাহিদা কমে গেছে। অর্থাৎ তারা নিশ্চই বিকল্প কিছু একটার সন্ধান পেয়েছে। এর বিপরীতে আমাদের পাট নিয়ে কায়কারবার করা সংস্থার ‘শ্বেতহস্তিদের কথা বার্তা শুনলে মনেই হবে না যে পাট নিয়ে আমরা যতটা না ভাবি তার চে অনেক বেশী ভাবে এর ব্যবহারকারীরা। আমাদের এই কর্তারা যখন চোঙার সামনে কথা বলবেন তখন মনেই হবে না যে পাটের বাজারের কোন তারতম্য হয়েছে বা হচ্ছে! তারা এটা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন যে পাটের বহুমুখি ব্যবহার বাড়াতে হবে, পাটের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা বাড়াতে হবে, পাটচাষীদের নায্যমূল্য দিতে হবে…..। পাট নিয়ে আমাদের রাজনীতিক আর নীতিনির্ধারকদের যে কি পরিমানে দরদ তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো আমাদের সবচেয়ে বড় পাটকলটি বন্ধ করা, কারণ আদমজী নামক সেই পাটকলটি নাকি বছরের পর বিপুল পরিমানে লোকাসান গুনছিল! সেই লোকসান থেকে তারা জাতিকে পরিত্রাণ দিয়েছেন (!!!!!!!) । পাট এবং বাংলাদেশের অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে বিশ্বব্যাংক,এইএমএফ,এডিবি সংস্থাগুলোর যে প্রেসক্রিপশন ছিল তার কোনটিই এদেশের জন্য উপযোগী ছিল না। তার পরও আমাদের সেসব মানতে হয়েছে। গিলতে হয়েছে। এখন যখন আমাদের যেটুকু পাট উৎপন্ন হতো সেটুকুরই বাজার শেষ, তখন বিশ্বব্যাংকঅলারা কোন নতুন প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন না। দেবেন না, কারণ আর কোন প্রেসক্রিপশর নেই। আমাদের দেশে আগেও যে পরিমানে পাট ব্যবহার হতো, এখনো সেই পরিমানেই পাট ব্যবহারের চল গড়ে ওঠেনি।
দৈনিক সংবাদ , ১০ জানুয়ারী ২০০৯

অধ্যায় -৪
পাট খাতে দীর্ঘদিন লোকসান থাকায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চালু করতে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। চলতি বাজেটে বরাদ্দকৃত ৫০০ কোটি টাকার পূর্ণ অর্থায়ন তহবিলের টাকাও বেসরকারি খাতের পাটব্যবসায়ীরা পাননি। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বেসরকারি খাতের পাটব্যবসায়ীদের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ করা হয় , এতে সমগ্র পাট খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩ জুন ২০১১

অধ্যায় -৫
২০০ কোটি টাকার পাটকল দেড় কোটি টাকায় হজম!
রহ্মপুত্র নদের তীরে শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত এ পাটকলটি ১৯৯৩ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৫০০ লুমের পাটকলে তখন প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ১৯৯৭ সালে শ্রমিকরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দুর্দশার কথা জানালে তিনি উদ্যোগী হয়ে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের মাধ্যমে মাত্র ১১ কোটি দুই লাখ টাকার বিনিময়ে পাটকলটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন শ্রমিক-কর্মচারীদের। শর্ত ছিল শ্রমিক-কর্মচারীরা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১০ বছরে পুরো টাকা পরিশোধ করলে পাটকলের মালিকানা বুঝে পাবেন। কিন্তু ওই সমিতি প্রথম কিস্তির এক কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আব্বাস উল্লাহকে অংশীদার করে।
এ ব্যাপারে বিজেএমসির চেয়ারম্যান তুলসী দাস মিত্র বলেন, শ্রমিকদের নামে দেওয়া পাটকল কিভাবে কোটিপতি ব্যবসায়ীর দখলে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখা হবে। টাকা না দিয়েও পাটকলটি কুক্ষিগত করে রাখার পেছনে বিজেএমসির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাটকলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, লোহালক্কড় ও গাছপালা চুরির অভিযোগে ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিন মাস জেল খাটেন আব্বাস উল্লাহ। কয়েক মাস আগে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ময়মনসিংহ পাটকল পরিদর্শনে যান। তখন শ্রমিকরা পাটকলের সমস্যা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। মন্ত্রী ঘুরে আসার পর আব্বাস উল্লাহ বলে বেড়াচ্ছেন, তিনি মন্ত্রীকে ম্যানেজ করে অচিরেই পাটকলের মালিক হয়ে যাবেন।
আব্বাস উল্লাহ বলেন, ‘পারলে মন্ত্রী আমাকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করুক।’ তদন্তে তাঁকে চোর হিসেবে চিহ্নিত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর কিছু আসে যায় না।
পাটকলের রপ্তানি কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানিমুখী ও লাভজনক। ৫০০ লুমের মধ্যে মাত্র ১০৪ টি চালু রয়েছে। তাতে প্রতিদিন ১০-১২ টন চট, বস্তা ও ব্যাগ উৎপাদন হচ্ছে। এসব পাটপণ্য অধিকাংশই রপ্তানি হয় ভারত, ইরান, ইরাক ও ইন্দোনেশিয়ায়।
আব্বাস উল্লাহ বলেন, তিনি ময়মনসিংহে কোনো শ্রমিক পাচ্ছেন না বলে সব লুম চালু করতে পারছেন না। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আপনার কাছে কোনো শ্রমিক থাকলে আমাকে সরবরাহ করেন।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী জানান, ময়মনসিংহ জুট মিলস লিমিটেড এখনো কাউকে লিখে দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিস্তারিত বলতে রাজি নন তিনি।
দৈনিক কালের কন্ঠ,

SO, পাট ও পাটকল নিয়ে গল্প শেষ……
এবার আমি শুরু করব আমার কথা এই ময়মনসিংহ জুট মিলস লিমিটেড দিয়েই…।
আমার জন্ম এই ময়মনসিংহ জুট মিল এর অফিসার’স কলোনীতেই… জুট মিলটা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম ,একটু একটু করে বড় হয়েছি এই প্রতিষ্টানটির প্রতিটি ইঞ্চিতে ঘুরে বেড়িয়ে…………
মিলের লম্বা বিশাল এক তলা প্রোডাকশন শেড কে আমার মনে হত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঘর যেখানে মাত্র ৫০০০ লোক রাতদিন কাজ় করে যাচ্ছে… ,
মিলের শ্রমিক কলোনীর মাঠে প্রায়ই যাত্রা,পালা,গান কিংবা ইসলামিক ওয়াজ মাহফিল এর জমজমাট আয়োজন মনের মা্ঝে উতসব এর আনন্দ বয়ে নিয়ে আসতো…।
মিলের হসপিটাল আর ইস্কুলের মাঝের কাঠাল গাছের কাঠাল চুরি করতে গিয়ে মিল সিকিওরিটির গার্ডদের দৌড়ানি খাইছি কতবার…

আজ আমি বড় হয়েছি …। জীবিকার তাগিদে আমি আজ পোশাক শ্রমিক, কিন্তু সুউচ্চ ভবনে গাদাগাদি করে প্রোডাকশন চালিয়ে যেতে যেতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ময়মনসিংহ জুট মিলস এর লম্বা বিশাল এক তলা প্রোডাকশন শেডকে অনেক মনে পড়ে…। শ্রমিক হসপিটাল বা স্কুল, কিংবা শ্রমিক কলোনী আমাদের মতো পোশাক শ্রমিকদের জন্য স্বপ্ন বিলাস…।
কিন্তু যখন শুনি ময়মনসিংহ জুট মিলস গুলোর মত এত সুন্দর সাজানো কাঠামো ওয়ালা প্রতিষ্টান গুলো আজ সরকার এর উদাসীনতায় প্রায় লুন্ঠিত…। তখন মনে হয় সরকারতো ইচ্ছা করলেই পারত শ্রমিক্ কল্যানকর শর্ত সাপেক্ষে বেসরকারি এই পোশাকমালিকদের কাছে লীজ দিতে। তাতে সময়ের প্রয়োজনের পরিব্তন এর সাথে পা মিলিয়ে চলে এই প্রতিষ্টান গুলো যেমন লুন্ঠিত হত না। তেমনি হাজার হাজার শ্রমিকে হয়ত আজ ভবন চাপা পড়তে হত না।
সরকার আজ এই পোশাকশিল্প এর কাঠামো গত পরিবরতন এ বদ্ধ পরিকর। এর জন্য হয়ত নতুন নতুন কাঠামো তৈরির পরিকল্পনায় ব্যাস্ত তারা… কিন্তু অনেক সুন্দর সুন্দর কাঠামো যে পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায় …তার দিকে নজর দেয়ার একটুও কি অবকাশ আছ তাদের ????

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “SO, পাট ও পাটকল নিয়ে গল্প শেষ…………এবার নতুন গল্প…

  1. প্রথম পোস্টেই ফাটাই দিছিস।
    প্রথম পোস্টেই ফাটাই দিছিস। তুই একটা পাটকলের মৃত্যুর সাক্ষী, আর আমি সাক্ষী কিভাবে পাকশী কাগজ কারখানাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ব্লগিং জগতে স্বাগতম বন্ধু। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ধন্যবাদ বন্ধু আতিক!!!!কিন্তু
      ধন্যবাদ বন্ধু আতিক!!!!কিন্তু মনের আক্ষেপ, সরকার কিনব্বা আমরা কেউই কি একটুকু এভাবে ভাবতে পারি না …?।।এই দেশটার অনেক আছে ……কিন্তু হয়ত আমাদের দেশপ্রেমটা নাই………

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 3 =