সরকারের কাউয়া চালাক নীতি ; রোহিঙ্গা সঙ্কট ।

আমি বরাবরই বলে আসছি আওয়ামীলীগ সরকার হচ্ছে কাউয়া চালাক সরকার। ইনারা চোখ বন্ধ রাখেন বলে ধারণা করেন সবার চোখ বন্ধ, কেউ কিচ্ছু দেখে না। আমরা বিভিন্ন ভাবে ২০১৩ সাল থেকে বলে আসছি দেশে জঙ্গি আছে, তাদের গোপন কার্যক্রম চলছে। আমি ২০১৩ সালের শেষ দিকে ফেসবুকে পোস্ট করেও দাবি করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৩ হাজার যুবক ছেলে নিখোঁজ। তারপর একে একে ব্লগার, সাংবাদিক, প্রকাশক, অনলাইন এক্টিভিস্ট, লেখক, ইসলামী চিন্তাবিদ, কথিত দরবেশ কে হত্যা করা হলো। আমরা বললাম জঙ্গিরা এসব করছে। সরকার বলল দেশে কোন জঙ্গি নাই, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২০১৬ সালে হলী আর্টিসানে হামলারপরো সরকার অস্বীকার করেছে দেশে জঙ্গি আছে। তখনো তাদের দুষ্কৃতিকারি বলা হচ্ছিলো। ফাইনালি সিরিয়া থেকে জঙ্গিদের ভিডিও আর দায় স্বীকারের পর সরকার এখন ডেইলি বেসিসে জঙ্গি মারছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

আমরা বললাম রোহিঙ্গাদের জন্য বর্ডার উন্মোক্ত করে দিন। সরকার তা না করে বর্ডার সিল করে দিলো। আবার অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশের সুযোগও করে দিলো। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খবর মাধ্যমের বরাতে জানা যায় বাংলাদেশে ১ লাখ মতান্তরে ২ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে।

এবার বর্ডার খুলে দেয়ার ব্যাখ্যা দেয়া যাক।
রাখাইন, আরাকান থেকে যেসকল মানুষ বাংলাদেশে ছুটে এসেছে তারা অনুপ্রবেশকারী নয়, তারা ছিলো স্মরনার্থী। বাংলাদেশ কে বুঝোতে হবে অনুপ্রবেশকারী আর স্মরনার্থীর পার্থক্য। বাংলাদেশ যদি বর্ডার খুলে দিত তাহলে কি হত ? তাহলে কেউ আর অনুপ্রবেশ করত না। সবাইকে সিরিয়ালি দেশে গুণে গুণে ঢুকানো যেত। তাদের ছবি ও হাতের আঙ্গুলের চাপ নিয়ে একটা ডাটাবেজ তৈয়ার করা যেত। সেই ডাটা বেজ নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের সাথে কানেক্ট করা যেত। তাহলে চাইলেই আর কোন রোহিঙ্গা এই দেশে ভোটার কিংবা পাসপোর্ট করতে পারত না। একই সাথে এই ডাটাবেজ UNHCR এর কাছে হস্তান্তর করা যেত তাদের প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য। এরা চাইলেই আর বাংলাদেশী কোন সুযোগ সুবিধা নিতে পারত না। ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে পারত না। এতে আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্বল হত। একই সাথে কি পরিমাণ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে তা ট্র্যাক করা যেত। তাদের কে এক জায়গায় আশ্রয় দেয়া যেত সরকারি নিয়ন্ত্রণে। সারা পৃথিবী জানত প্রকৃত অর্থে কত স্মরনার্থী আশ্রয় নিয়েছে। এটা একটা প্রমাণ থাকত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ কর্মিদের আমন্ত্রণ জানানো যেত। প্রয়োজনে ভিসা টিকেট দিয়ে হলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের এনে টেকনাফে রেখে প্রতিদিন ব্রিফিং করতে পারত যে দেখ এখানের কি অবস্থা ? তোমরা বিশ্ব বিবেক কে জানাও। আমরা আর পারছি না। তারা আপ টু ডেট নিউজ করত। এগুলো এভিডেন্স হিসেবে কাজ করত।এরপর আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশ দাবি তুলতে পারতো সে মানবিক আশ্রয় দিয়েছে এখন তাদের জন্য মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের নিয়ম অনুযায়ী হয় পূনর্ভাসন করুক কিংবা নিজ দেশে ফেরত পাঠাক। কিন্তু আমরা সরকার কিংবা রষ্ট্রের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ দেখলাম না। বরং অদৃশ্য ভাবে অবৈধ পন্থায় রোহিঙ্গাদের ঢুকার সুযোগ করে দেয়া হল।

এখন কি হল বর্ডার না খুলে ?
আপনি বর্ডার খোলেননি আবার বিভিন্ন ভাবে তাদের কে ঢুকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন।
এতে প্রকৃত কত রোহিঙ্গা প্রবেশ করল তার কোন হিসাব আপনার কাছে রইলো না। যেহেতু আপনি প্রবেশাধিকার দেননি সেহেতু আপনি কোন স্মরনার্থী আশ্রয় দিয়েছেন এমন কোন প্রমাণ ধোপে টেকে না। তাই আপনি চাইলেও তাদের আর ফেরত পাঠাতে কিংবা আন্তর্জাতিক সাহ্যা প্রত্যাশা করতে পারেন না। এরা এখন সবাই অনুপ্রবেশকারী। আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র সীমা রেখা অতিক্রম করার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে এখন এদের সকলের জেলে স্থান হওয়ার কথা। যেহেতু রোহিঙ্গাদের কোন জাতীয়তা পরিচয় নেই, সেহেতু মায়ানমার এসব চলে আসা রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক নয় বলেই দাবি করবে, যা বিগত দিনেও করে আসছে। এখন রোহিঙ্গারা এলোমেলো ভাবে যে যেভাবে পারছে সে ভাবে প্রবেশ করছে । তাদের বেশীরভাগের অবস্থান ও সংখ্যা সম্পর্কে সরকার জানে না। এই সুযোগে এদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে জামাত-শিবির-হেফাজত আর জঙ্গিরা। তারা এখন খুদার্ত, তাদের এখন দরকার মাথা গোঁজার ঠাই, অন্ন, বস্র, চিকিৎসা, অর্থ। যার সবই দিচ্ছে জামাত-শিবির আর হেফাজতি জঙ্গিরা। নুন যার খাবে গুণ ত তারই গাইবে। পরবর্তিতে রোহিঙ্গাদের আজকের দূর্বলতাকে পুঁজি করে এই জামাত -শিবির আর হেফাজতি জঙ্গিরা এদের কে দিয়ে নান অপকর্ম ও জংগিপনা করাবে। রোহিঙ্গারা যেহেতু এই দেশে অসহায় হয়ে আসছে এখন যারা তাদের পাশে দাঁড়াবে তারা ত তাদের কথা শুনবে, পরবর্তিতে তাদের হয়েই কাজ করবে। তাদের কে ঈশ্বর দেবতা মানবে। ইতোমধ্যে জামাত শিবিরের ক্যাডাররা ছুটে গেছে টেকনাফে, তারা রোহিঙ্গা বিয়ে করবে। এতে দুইটা লাভ-১। নিজেদের যৌন চাহিদা মিটাবে। ২। রোহিঙ্গারা তাদের প্রতি অনুগত হবে। এর ফল হবে- এই রোহিঙ্গাদের ইচ্ছেমত যে কোন ঝুকিপূর্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেহেতু সরকার একটি শূন্যস্থান তৈয়ার করে দিয়েছে অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেহেতু এই শূন্যস্থানটা জামাত-শিবির আর হেফাজতি জঙ্গিরা দখল করে নিয়েছে।

কোথাও কোথাও দেখলাম পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের পূনর্ভাসন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে পাহাড় ধসের এমন সব দৃষ্টান্ত থাকার পরও কেন পাহাড় কাটা হচ্ছে ? শুধু রোহিঙ্গা নয় বাঙ্গালীর জন্যও ত পাহাড় কাটা উচিৎ হবে না ।
রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়া প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানবিক কর্তব্য, কিন্তু রোহিঙ্গাদের পূনর্ভাসন মোটেও বাংলাদেশের দায়িত্ব নয়। তাঁবু টাঙিয়ে তাদের খাওয়া, চিকিৎসা, জরুরী সামগ্রী দেয়া হোক। তাদের কে পূনর্ভাসন করা মানে তাদের কে স্থায়ীভাবে মেনে নেয়া। এখন সরকারের উচিৎ সকল রোহিঙ্গাকে এক জায়গায় করে তাদের কে মানবিক সহায়তা দান করা। তাদের কে তাঁবুর বাহিরে নিয়ে পূনর্ভাসন কিংবা কোন স্থায়ী কাঠামোতে স্থানান্তর করাই হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

এখনো সময় আছে সকল আশ্রয় প্রত্যাশীর ডাটাবেজ তৈয়ার করুন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এদের থাকা ওখাওয়ার ব্যবস্থা করুন। কোন সংগঠন চাইলে স্মরনার্থী ক্যাম্পে তাদের সাহায্য ও অনুদান দিতে পারবে। ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ সেখানে কোন রকম কার্যক্রম চালাতে পারবে না । রাষ্ট্রই তাদের সকল বরনপোষোনের দায়িত্ব বহন করবে। তাহলে এদের কে নানান অসামাজিক অবৈধ ও অনৈতিক কাজ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। একই সাথে তাদের মনিটর করা সহজ হবে। এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে এটা হবে বাংলাদেশের জন্য বিশাল হুমকি।

আশা করি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সরকারের কাউয়া চালাক নীতি ; রোহিঙ্গা সঙ্কট ।

  1. পড়লাম। বাহ সুন্দর
    পড়লাম। বাহ সুন্দর
    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + = 11