নৈতিকতা যেখানে এসে ধর্ষিত হয় তার নাম ইসলাম।


“রহমান ভাইয়ের প্রিয় নবী” পর্ব-৪

রাত দুইটা পনের..! শহর এখন মৃত্য। মৃত্য শহরে ঘুম ঘুম চোখে বাস থেকে নামলাম দুইজন। রহমান ভাই আগে কখনও এই শহরে আসে নি। চোখ বড় বড় করে চারপাশ দেখছে…

রহমান ভাইয়ের বিস্ময় এখনও কাটে নি। কাটার কথাও না। কারন উনি যে শহরে বড় হয়েছে সেই শহরে সন্ধ্যার পর মেয়ে মানুষ সচরাচর দেখা মিলে না, আর মধ্যরাতে তো মেয়ে মানুষ রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে কল্পনাও করা যায় না। নারী-পুরুষ বৈষম্যপূর্ণ এমন একটি নারীবন্দী শহর থেকে এসে এই শহরে মধ্যরাতে নারী দেখলে অবাক হওয়ারই কথা। যদিও এই শহরে মধ্যরাতে নারী দেখে ভাবার দরকার নেই এই শহরে নারী পুরুষে বৈষম্য নেই। বৈষম্য আছে..! খুব করে আছে। নারীরা এখানে দিনের আলোতেও নিরাপদ না, রাতের সোডিয়াম অালোতে তো তারা সেক্স ডল। সবার অধিকার আছে রাতের নারীর উপর। যেমন ঘরে তেমন বাইরে। রাতে নারী আর নারী থাকে না। হয়ে যায় ঘরের বউ। আর বউ তাহাকে বলে যাহাকে যখন তখন যেখানে সেখানে সঙ্গম করা যায়। এতে তার অনুমতি প্রয়োজন নেই বরং সে বাধা দিলে তার উপর সারা রাত ফেরোস্তাদের অভিশাপ পড়বে। এই বিষয় সহী বুখারী হাদিস নং- ৪৮১৪ তে বলা আছে,”মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রাঃ) হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সাথে একই বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর তার স্ত্রী অস্বীকার করে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা ঐ মহিলার ওপর লা’নত বর্ষণ করতে থাকে। ”

এই হলো নবী, অাল্লা এবং তাদের শান্তির ধর্ম যা নারীকে দিয়ে সর্বচ্চো সম্মান..!!

আসেন একটা ঘটনা বলি। গত শীতে অাধা লেপ গায়ে দিয়ে পড়ছিলাম অধ্যাপক স্টিফেন হকিং-এর ” A Brief History of Time”-এর বাংলা অনুবাদ ” কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস” অকস্মাৎ জিহাদ এসে ডুকলো রুমে। জিহাদ আমার রুমমেট। প্রচণ্ড ফেনাটিক (Fanatic) টাইপের একটা ছেলে। ছেলেটাকে আমার নির্বোধ মনে হয়। সে বিবর্তনবাদ মানতে রাজি না। বিবর্তনবাদ এর কথা উঠলে সে হাজারটা যুক্তি দাড় করায় বিবর্তনবাদ এর বিরুদ্ধে কিন্তু নির্বোধের মত ধর্ম ১৪০০ বছর আগে বলছে জান্নাত থেকে আদম হাওয়ার পৃথিবীতে এসেছে এবং সে থেকে আমাদের সৃষ্টি, এই কথাটার সামান্যতম বিরোধীতা না করে মেনে নেয়। কি হাস্যকর ব্যাপার..!

যাই হোক, অকস্মাৎ রুমে ডুকেই আমাকে উদ্দেশ্য করে জিহাদ বললো।
“নীল তুমি তো নাস্তিক। ধর্ম কর্ম মাননা।”

পাশ থেকে আমার আরেক রুমমেট তনয় বললো,” হুম.. ওতো নাস্তিকই। দেখো না নামাজ কালাম পড়ে না, অার কি সব ধর্ম বিরোধী কথা বলে।”

আমি বললাম, “হুম, আমি নাস্তিক। ধর্ম নিয়ে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করি না। যুক্তি, তথ্য এবং প্রমানের উপর নির্ভরশীল। ধর্মগুলো অযৌক্তিক, নিষ্প্রয়োজনীয়।

“ওমা.. তা ধর্ম যদি না থাকে আমরা নৈতিকতা অনৈতিকতা কোথাথেকে শিখবো..?” জিহাদ জানতে চাইলো।

“হুম..! একদম ঠিক কথা, বল দেখি কোথাথেকে শিখবো” তনয় বললো।

হাতের বইটা রেখে লেপ থেকে রেবিয়ে এসে গ্লাসে জল ডালতে ডালতে জিহাদ কে বললাম,” আচ্ছা জিহাদ,বলতো ধর্ম আমাদের কেমন নৈতিকতা শিখায়..?

“এই যেমন বড়দের সম্মান করা,মা বাবার কথা শুনা” জিহাদ বললো।

“দেখো জিহাজ এই গুলো খুবই সাধারন বিষয় যার জন্য ধর্ম লাগে না” আমি বললাম।

তনয় বললো,” ধর্ম না থাকলে নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশা করবে, তাই ধর্মের প্রয়োজন।”

– কেন নারী পুরুষ একে অন্যকে ভালবেসে অবাধ মেলামেশা করলে সমস্যা কোথায়..? আমি বললাম।

জিহাদ কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বললো, ” অবশ্যই সমস্যা আছে। সমাজে অনাচার সৃষ্টি হবে। তুমি কি তা চাও..?”

আমি বললাম, “মোটেও অনাচার সৃষ্টি হবে না। বরং ধর্ম প্রতিষ্ঠাতাদের মত পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব চাপিয়ে দিলে অনাচার সৃষ্টি হবে। কেউ যদি ভালবেসে চুম্বন করে তাতে অনাচারের কিছু নেই। তাতে কারও দুই পয়সার ক্ষতি হয় না। আর এখানে অনৈতিকতাও কিছু নেই। আমাদের সমাজ নৈতিকতা বলতে বুঝায় পুরুষের লিঙ্গটি একাধিক স্থানে ব্যবহার করা যাবে কিন্তু নারীর লিঙ্গটি একাধিক স্থানে ব্যাবহার করা যাবে না। আর যদি কোন কারনে কোন নারী এটি করে থাকে সে হবে সমাজে সর্বাধিক ঘৃনিত, তাকে ডাকা হবে পতিতা। আর একই কাজ যখন কোন পুরুষ করে তখন তাকে বিন্দু মাত্র অপবাদ দেয়া হয় না। এর সবচেয়ে বড় উদাহরন কবি হেলাল হাফিজ। যিনি কি না টাকার বিনিময়ে একাধিক নারীর সাথে সেক্স করতো। কই তাকে তো কেও অপবাদ দিচ্ছি না। সমাজ এই জায়গায় বৈষম্য করেছে। আসলে একজন পুরুষ একাধিক নারীর সাথে যৌনসংগম করলো বা একজন নারী একাধিক পুরুষের সাথে যৌনসংগম করলো তাতে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। যৌনতার অধিকার সকলের আছে। দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ যদি দুইজনের সম্মতির মাধ্যমে যৌনসংগম করে তাতে রাষ্ট্র,সমাজ বা ধর্মের মাথা ব্যাথা থাকা উচিত নয় বরং মাথা ব্যাথা হলে সমাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়।

তনয় কিছুটা নড়েচড়ে বসে বললো,” এই তো, ধর্ম মানো না বলেই তুমি এই সব চিন্তা করো। দুনিয়ার সব অপবিত্র কথা বার্তা “।

– ওহ..! তাই বুঝি..? ধর্ম তোমায় অনেক নৈতিকতা শিখায়..? চলো এক লোকের কথা বলি। মনে করো তার নাম আক্কাস। এখন আক্কাস মিয়া তার মেয়ের জামাই অলি মিয়াকে একটা নারী উপহার দিলো সেক্স করার জন্য এটাকে তুমি কি বলবে..? আমি জানতে চাইলাম।

তনয় বললো, “এটা তো অত্যন্ত অনৈতিক কাজ”।

“জিহাদ তুমি কি মনে করো.?” জিহাদের কাছে জানতে চাইলাম আমি।

জিহাদ বললো,” তনয়ের সাথে আমি একমত, এটা অত্যন্ত বাজে একটা কাজ। শুনতেই ঘৃণা লাগে। এমন শ্বশুরের মুখে থুথু দিলাম।”

আমি বললাম, “আচ্ছা এবার বলো তো, মনে করো আক্কাস নামে ব্যক্তিটি দুই বিয়ে করা একজন পুরুষ। সে ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে তোমার বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে অথচ তোমার মেয়ে বিয়ে মানে কি তাই বুঝে না। এমন একটি বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করার কথা চিন্তা করা কি নৈতিক না কি অনৈতিক।

তনয় বললো, ” অবশ্যই অনৈতিক। আমার মেয়ে রাজি না হলে কেন দুই বিয়ে করা পুরুষের কাছে বিয়ে দিবো..! আর যে ঈশ্বের দোহাই দিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে সেই ঈশ্বরই বা কেমন নির্লজ্জ, বেকুব ।”

জিহাদ বললো,” একদম ঠিক। সেই ঈশ্বর এবং সেই পুরুষ দুইজনই নির্লজ্জ, অসভ্য এবং বেকুব। এটা অবশ্যই অনৈতিক।

আমি বললাম,” অাচ্ছা এবার বলো তো। মনে করো আমাদের ফ্লাটে আক্কাস নামক ব্যক্তিটি একদল ডাকাত নিয়ে আক্রমন করে আমাদের সকল পুরুষকে হত্যা করে আমাদের ফ্লাটের মেয়েদের এবং আমাদের সকল টাকা-পয়সা, আসবাবপত্র নিয়ে গেলো এবং কি সেই ডাকাত সর্দার আক্কাস মিয়া আমাদের মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটির সাথে ঐ রাতে সেক্স করে, যেই রাতে মেয়েটির বাবা, ভাই এবং স্বামী কে হত্যা করা হয়েছে। এটা কে কি নৈতিক বলবে নাকি অনৈতিক বলবে।

তনয় বললো,” অবশ্যই অনৈতিকতা, শুধু অনৈতিক নয়, জঘন্যতম কাজ।

জিহাদ কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বললো, আক্কাস নামে লোকটা তো ভারি বদমাশ। একে তো নিয়ম করে প্রতিদিন ফাঁসি দেয়া উচিত”

আমি বললাম, “আচ্ছা এবার বলতো, মনে করো আক্কাস নামে লোকটা আমাদের হোস্টেলে এসে তোমাদের দুইজনকে বললো- “তোমরা যদি প্রতিদিন আমার বাবা জাক্কাস মিয়া সেরা, তিনিই একমাত্র সেরা, তার পাশে কারও দাড়াবার ক্ষমতা নেই, তিনিই এই হোস্টেলের সর্বচ্ছো জ্ঞানী এবং সর্বচ্ছো শক্তিশালী এই সব বলতে বলে এবং যারা মন থেকে ভালবেসে আক্কাসের বাবা সম্পর্কে এই সব বলবে তাদের জন্য আক্কাসের বাবা আলাদা একটা রুমে নারী, মদ এবং সকল ধরনের সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর খাবার রাখবে। আর যারা তার বাবা সম্পর্কে সুনাম করবে না তাদের জন্য তার বাবা আরেকটি রুম তৈরী করবে। যেখানে তাদের দরজা বন্ধ করে পিটানো হবে। দুইটা শক্তিশালী ছেলে রাখবে তারা পিটাপিটি করবে সারাক্ষণ।” বলোতো আক্কাস মিয়া যদি এমন একটা নিয়ম তৈরী করে দেয় তা কি নৈতিক নাকি অনৈতিক।

তনয় বললো,” মোটেও নৈতিক নয়, আক্কাস মিয়ে এমনটি করতে পারে না”

জিহাদ বললো, “ওরে বাবা, আক্কাস কে..? যে ওর এইসব অনৈতিক কথা শুনতে হবে। বরং আক্কাস এমন কথা বললে সবাই মিলে একটা রুমে নিয়ে তাকে পিটাবো।”

জিহাদের কথা শুনে তনয় উচ্চস্বরে হাসি দিতে দিতে বললো, “একদম ঠিক কথা। অন্য রুমে নিয়ে পিটাবো। হাহাহা।

আমি বললাম,” আচ্ছা এবার বলো তো মনে করো আক্কাস মিয়া যদি বলে “তোমাদের বউরা যদি তোমাদের অবাধ্য হয় এবং তোমরা যদি তাদের মারধর করো তার জন্য তোমাদের কোন রকম জবাবদিহি দেওয়া হবে না।” এমন চিন্তাচেতনা লালন করা ব্যক্তিকে কি নৈতিকতা জন্য অনুসরণ করা মানায়..?

তনয় জিহাদ দুইজনই মাথা নাড়িয়ে বললো, ” না..! এমন ব্যক্তিকে নৈতিকতার জন্য অনুসরণ করা যায় না”

জিহাদ একটু বাড়িয়ে বললো,”ইস, লোকটা তো অত্যন্ত দুর্গন্ধ যুক্ত একজন মানুষ। ”

আমি বললাম,” আচ্ছা এবার বলতো, আক্কাস মিয়া যদি নানান কায়দাকানুন করে ছেলের বউকে বিয়ে করে। তবে কি তা নৈতিক বলে বিবেচ্য হবে..?

“তুমি কি বলতে চাচ্ছো পরিষ্কার করে বলো তো, এই দুর্গন্ধ যুক্ত আক্কাস মিয়ার কথা শুনতে আর ভাল লাগছে না ” জিহাদ বললো।

“একটু ধৈর্য ধরো, এখন মনে করো আক্কাস মিয়া একাধিক বিয়ে তো করেছে সাথে আরো কিছু নারী রেখেছে যৌনকর্মের জন্য। তাদের মধ্যে একজনের নামে অপবাদ ছড়ায় যে ঐ নারীটি নাকি কোন একজন পুরুষের সাথে সহবাস করেছে। এটা জানার পর আক্কাস মিয়া তার মেয়ের জামাই
অলি মিয়াকে পাঠালো ঐ পুরুষটিকে হত্যা করার জন্য যেই পুরুষটির সাথে ঐ নারীটির (দাসী বা যৌনকর্মী) সহবাস হয়েছিল বলে অপবাদ দেয়া হয়। অতঃপর তার মেয়ের জামাই অলি মিয়া, শ্বশুর আক্কাস মিয়ার কথা মত পুরুষটিকে হত্যা করতে গিয়ে জানতে পারে পুরুষটির যৌনাঙ্গ নেই। তখন অলি মিয়া তাকে হত্যা না করে শ্বশুরের কাছে এসে বলে ঐ লোকটির যৌনাঙ্গ নেই। তখন আক্কাস সাহেব তাকে মাপ করেন এবং হত্যা করতে নিষেধ করেন।
এখন কথা হচ্ছে আক্কাস মিয়ার মত এমন একজন বদমেজাজি বেকুব টাইপের একজন মানুষ যে কিনা সত্য মিথ্যে যাচাই না করেই একজন মানুষকে হত্যা করতে আদের্শ দেয় তার কাছে কি নৈতিকতা শিখা যায়..? বা সে যা করেছে তা কি নৈতিক..? আবার দুইজন নারী পুরুষ পরস্পরের সম্মতিতে যদি সেক্স করে সেখানে তৃতীয় ব্যক্তির কোন অধিকার নেই বাধা দেয়ার। যেমন: মনে করো আমি এবং আমার বউ দুইজন দুইজনকে কথা দিয়েছি আমরা অন্যকারও সাথে শারীরিক সম্পর্ক করবো না। এটা একান্তই আমরা দুইজন করবো কিন্তু আমার বউ যদি স্ব-ইচ্ছা কারও সাথে সেক্স করে আর আমি জানতে পারি আমি কখনও যার সাথে সেক্স করেছে তাকে হত্যা করতে যাবো না আবার আমার বউকেও হত্যা করবো না। বরং আমি তার কাছে জানতে চাইবো সে কেন কথা দিয়ে কথা রাখে নি..? আমি সর্বচ্ছো তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে পারি। এর বেশি না। সুতরাং আক্কাস মিয়া এখানেও অনৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে। এখন বলো এমন মানুষের কাছে থেকে কি নৈতিকতা শিখবে।

উভয় নড়েচড়ে বসলো। তনয় জানতে চাইলো, “তুমি কার কথা বলছো..?”

জিহাদ কৌতূহলী চোখ নিয়ে দেখছে আমায়।

আচ্ছা এবার বলো তো, মনে করো ৫৩ বছর বয়সে এসে আক্কাস মিয়া যদি ৯ বছরের একটা মেয়েকে বিয়ে করে তা কি নৈতিক নাকি অনৈতিক..?

জিহাদ বললো, “এতে তো কোন সমস্যাই দেখি না। আমাদের প্রিয় নবীও তো ৯ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করেছিল। তোমার কি মনে হয় উনি অনৈতিক কাজ করেছিল..? ”

-হুমম.. এতক্ষনে লাইনে এসেছেন জিহাদ সাহেব।জিহাদ কে উদ্দেশ্য করে বলতে বলতে গ্লাসে জল ডালছি। জল ডালা শেষে জল পরিষ্কার কিনা দেখছি। জিহাদ দুই চোখ ভরা কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে।

তনয় বললো,” বুঝিয়ে বলো তো। কি হচ্ছে..! কিছুই বুঝচ্ছি না।”

আমি বললাম,” লক্ষ করে দেখো প্রথম থেকে আমি বলছিলাম আক্কাস নামে এক ব্যক্তির কথা। এই ব্যক্তিটি মেয়ের জামাইকে যৌনকর্মী উপহার হিসেবে দিয়েছিল, ঈশ্বরের দোখাই দিয়ে বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করেছিল, ডাকাতি করেছিল, নিজের বাবাই (মানে আল্লাহ) সর্বশ্রেষ্ঠ দাবী করেছিলো এবং যারা দ্বিমত প্রোষণ করেছিলো তাদের ভয় দেখিয়েছিলো মারপিট করবে বলে, বউ পিটানোকে কৌশলে স্বামীর অধিকার বলে সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছিল, নিজের পালক পুত্রের বউকে কৌশলে বিয়ে করেছিল এবং একাধিক বউ থাকার পরও যৌনকর্মী রেখেছে। এই হলো আক্কাস মিয়া। যাকে আমাদের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার, নীতিমালা এবং আধুনিক ধ্যানধারনার মাধ্যমে নীতিমান নির্ধারণ করলে আক্কাস মিয়ার কাজকর্ম অত্যন্ত অনৈতিক বলে বিবেচিত হবে। এমন একজন বেকুব, বদমেজাজি, অসভ্য,দুশ্চরিত ভন্ড মানুষের নাম শুনলে যে কোন মানুষ তার মুখে থুথু দিতে চাইবে এবং কি তোমরাও তাই করেছো কিন্তু যতক্ষন বুঝতে পারো নি আমি আক্কাস মিয়ার নাম করে আসলে নবী মহাম্মদের কথা বলছিলাম ততক্ষন তোমরা অাধুনিক ধ্যানধারনার থেকে আক্কাস মিয়ার কাজকে অনৈতিক বলে দাবি করেছিলে কিন্তু যখনই দেখলে নবী মহাম্মদের জীবনের যেই অংশ তুমি জানো সেই অংশের সাথে আক্কাস মিয়ার কর্ম মিলে যাচ্ছে তখনই তুমি স্ববিরোধী হয়ে গেলে। কারন এখন আক্কাস মিয়াকে অনৈতিক বললে নবীর কর্মকে অনৈতিক বলা হয়। তাই তুমি দাবী করলে আক্কাস মিয়া নয় বছরের বাচ্চাকে বিয়ে করে অনৈতিক কাজ করে নি। এই হচ্ছে তোমার বা আমাদের মুসলিম সমাজের সমস্যা। নবী করছে মানেই ভাল।

জিহাদ কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বললো,” নীল তোমার মাথায় সমস্যা আছে। তুমি বেশি বুঝো। নবী অনৈতিক কিছু করে নি।”

কিছুটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, “বুঝিয়ে দাও দেখি, কেন অনৈতিক নয়..?”

জিহাদ বললো,” অনৈতিক হতে যাবে কেন…? প্রথমত আয়েশা’কে নবী জি বিয়ে করেছিলো। দ্বিতীয়ত আয়েশার বয়স নয় ছিলো যা যথেষ্ট তখনকার যুগে বিয়ে করার জন্য। তৃতীয়ত আয়েশার ঋতুস্রাব হয়েছিলো। তাহলে সমস্যা তো দেখছি না। আসলে তোমাদের নাস্তিকদের যত সমস্যা ইসলাম নিয়ে। সামান্যতম যুক্তি বুঝো না অথচ দাবী করো নিজেদের যুক্তিবাদী বলে। হাস্যকর..! তোমাদের আরো পড়াশুনা করা উচিত।

আমি বললাম,” পড়াশুনা সকলের করা প্রয়োজন সে আস্তিক হোক বা নাস্তিক। প্রথমত একটা ৯ বছরের মেয়ে যার কিনা সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন বুঝে উঠার বয়স হয়নি এবং তার অনুমতি দেয়া মত বয়সও হয়নি এমন একটি মেয়ের সাথে সেক্স করাটা একটা অপরাধ এবং অত্যন্ত জঘন্য টাইপের একটি অনৈতিক কাজ। আর বিয়ে করা মানে তুমি তার সাথে সেক্স করতে পারবে..? তবে কি বিয়েটা সমাজ দ্বারা প্রাপ্ত সেক্স করার অনুমতিপত্র..??? যেই অনুমতিপত্র দিয়ে যে কোন বয়সের যে কোন মেয়ে সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া যায়। এটা কে তুমি নৈতিক বলছো..!!
দ্বিতীয়ত তখনকার যুগে ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে করা কতটা যুগোপযোগী ছিল তা নিয়ে আমি টানাটানি করবো না। আমি ধরেই নিলাম তখনকার যুগের অশিক্ষিত মানুষদের মধ্যে এই প্রথাটা ছিলো বাট নবী মহাম্মদের মত একজন মানুষ যে কিনা দাবী করে সৃষ্টিকর্তার সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ হয়, তা এমন সরাসরি সৃষ্টিকর্তার সাথে যোগাযোগ হওয়ার মানুষকে কেন সৃষ্টিকর্তা বললেন না যে, “হে মহাম্মদ তুমি যে বাচ্চা মেয়েটাকে বিয়ে করবে এবং তার সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হবে বলে যেই আসায় দিনগোনছো তা তো ঠিক না। ৯ বছরের বাচ্চা মেয়েটা তো শারীরিক এবং মানসিকী ভাবে তোমাকে গ্রহন করার জন্য প্রস্তুত নয়।” এই কথাটি কেন বলা হয় নি তাকে..?? উল্টো সেই সৃষ্টিকর্তা নবীর পক্ষে বিয়ে করার জন্য বার্তা পাঠালেন। এ কেমন সৃষ্টিকর্তা..? তৃতীয়ত বুঝে নিলাম নয় বছরের আয়েশার ঋতুস্রাব হয়েছে। ভাল কথা খুশির খবর। এবার শুরু করে দাও মেয়েটার সাথে যৌনকর্ম। যতসব নংরা, দুর্গন্ধময় যুক্তি তোমাদের..!! আচ্ছা তনয় বলোতো, একটা নয় বছরের মেয়ের ঋতুস্রাব হলেই কি সে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত..?

তনয় চুপচাপ বসে আছে। জিহাদ কিছুটা বিব্রত বোধ করছে।

আমি বললাম,” আসলে নৈতিকতা অনৈতিকতা শিখার জন্য আধুনিক সমাজে ধর্মের প্রয়োজন নেই। বরং আধুনিক চিন্তাচেতনা এবং নীতিমালা দ্বারা বিচার করলে দেখা যাবে ধর্ম আমাদের অনৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে থাকে। আমাদের সমাজে এই সময় কেউ চার বিয়ে করলে আমরা তাকে ভাল চোখে দেখি না কিন্তু চার বিয়ে করা নবীর ধর্মকে আমরা নৈতিকতার মাপকাঠি বলে বিবেচনা করি। বিষয়টা অত্যন্ত হাস্যকর ব্যাপার। আর ধর্ম অনেক ক্ষেত্রে স্ববিরোধী। যেমন কোরান হাদিসে বলা আছে বিবাহ বহির্ভুত সেক্স করা হারাম আবার একই বইতেই বলা আছে দাসীর সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া যাবে। এই সব বইকে আর যাই বলো নৈতিকতার মাপকাঠি বলে ধরা যায় না। আসলে কোন নৈতিকতাকেই চিরস্থায়ী বলে ধরা যায় না। আজকের সমাজে যা নৈতিক বলে বিবেচিত কালকের সমাজে তা নৈতিক না হতেও পারে। তাই সময়ের সাথে সাথে উচিত নতুন করে ভাবা, পুরোনো ধ্যানধারনায় না থেকে নতুনত্ব কে গ্রহন করা। আর ধর্মীয় বিধি বিধানকে চিরস্থায়ী মনে করে যারা আকড়ে ধরে রেখেছে তাদের সমাজ ব্যবস্থা পড়ে আছে সেই মধ্যযুগে। তারা এবং তাদের সমাজ বিকশিত হয় নি। সমগ্র মুসলিম দেশ গুলোর দিকে তাকালে তা দেখা যায়। অধিকাংশ মুসলিম দেশই পড়ে আছে সেই ১৪০০ বছর আগের আরবে যুগে। সেই সব সমাজে চিন্তাবিদ , দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক , কবি, শিল্পী ইত্যাদির আবির্ভাব খুবই কমই। যাই হোক আমরা কথা বলছিলাম নৈতিকতা নিয়ে। তোমরা দাবী করেছিলে ধর্ম আমাদের নৈতিকতা শিখায়। তা তোমাদের ভুল ধারনা বরং ধর্ম অনৈতিকায় পরিপূর্ণ। আর যেই টুকু ক্ষুদ্র নৈতিকতা শিখায় তাও স্ববিরোধী।

সেই দিন তনয় আর জিহাদের সাথে কথা শেষে জিহাদ রুম থেকে বেরিয়ে যায়। তনয় বসে বসে ইন্টারনেটে কোরান হাদিস খুলে বসে। নবী মহাম্মদ সম্পর্কে আমার দাবীগুলো মিলিয়ে দেখে। তার সাথে আমিও তথ্যগুলো খুজতে সাহায্য করেছিলাম। জিহাদ সম্ভবত নবীর সম্পর্কে জেনে কষ্ট পেয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় এমনই হয়। অধিকাংশ ধার্মীকরা না জেনেই দাবী করে ধর্ম নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। পরে যখন জানতে পারে তাদের ধর্মেই রয়েছে অসংখ্য অনৈতিকতার উদাহরন তখন তারা ভীষণ কষ্ট পায়। আসলে ধর্ম নৈকিকতার শিক্ষা দেয় না বরং নৈতিকতা যেখানে এসে ধর্ষিত হয় তার নাম ধর্ম।

যাই হোক,
এদিকে এখন ভোর চারটা বাজতে একটু বাকি। সোডিয়াম অালোয় চারপাশ অালোকিত। হোস্টেলে যাওয়া হয়নি। গিয়েও লাভ নেই। তনয় জিহাদ ঘুমে, ফোন ধরছে না। ৬টার আগে হোস্টেলের গেইটও খুলবে না। রহমান ভাইকে নিয়ে বসে আছি বাসস্টপে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 − = 86