একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আরাকানে বাঙালি শরণার্থীর আশ্রয়

১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাক বাহিনী চট্টগ্রাম শহরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এরপর একই সাথে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হয়। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান পথ হলো আরাকান সড়ক। এ সড়কে কর্ণফুলী নদীর উপর কালুরঘাট সেতু কেন্দ্রিক প্রতিরক্ষাব্যূহ ছিল মুক্তিবাহিনীর অন্যতম প্রধান প্রতিরোধ কেন্দ্র। ১১ এপ্রিল পাক বাহিনীর নিকট কালুরঘাটের পতন হলে পশ্চাদপসরণ করা মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে উত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। কালুরঘাট থেকে আরাকান সড়ক দিয়ে পাক বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিরোধ করার মতো ন্যূনতম সামরিক শক্তি দক্ষিণ চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের ছিল না। এমতবাস্থায় পাক বাহিনীর অগ্রাভিযানের মুখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিশেষত কক্সবাজার এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকগণ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কর্ণফুলী সেতুর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর পাক বাহিনী দক্ষিণ চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে। ফলে ১১ এপ্রিল কালুরঘাটের পতন হলেও প্রায় দেড়শ’ কি.মি. দক্ষিণের মহকুমা শহর কক্সবাজার (অবশ্য ২৭ এপ্রিল কক্সবাজার মহকুমার চকরিয়ার পতন ঘটে) পৌঁছতে এক মাস সময় নেয়, এ পথ অতিক্রম করতে তাদেরকে কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে না হলেও তারা পুরো পথে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিরোধবিহীন কক্সবাজার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়ব্যাপী পাক বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা নির্যাতন ও গণহত্যার মাধ্যমে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে যার ফলশ্রুতিতে বাঙালিরা ব্যাপক হারে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

মিয়ানমারের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে যোগাযোগ
কালুরঘাট পতনের পর উত্তর চট্টগ্রামে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং চট্টগ্রাম শহর ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে ভারতে যাওয়ার সব কয়টিপথ বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের একটি অংশ প্রতিবের আরাকান প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে পুনরায় সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। কালুরঘাট পতনের পর সেনা সদস্যরা ১৩ এপ্রিল ডা. বিএম ফয়জুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান নেয়। সেখানে অনেকে অস্ত্র পোশাক ইত্যাদি রেখে তাদের গন্তব্য স্থলে চলে যান। ডা. ফয়েজ এসব ফেলে যাওয়া মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। ১৪ এপ্রিল আতাউর রহমান কায়সার ও ডা. জাফর (ইউটিসি এর ক্যাপ্টেন শহীদ ফরহাদের বড় ভাই)সহ বার্মা চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে টেকনাফে পৌঁছেন। ওখানে কক্সবাজার আসনের জাতীয় পরিষদ সদস্য এডভোকেট নুর আহমদ, চকরিয়া-কুতুবদিয়া আসনের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এডভোকেট জহিরুল ইসলাম, রামু-উখিয়া-টেকনাফ আসনের এমপিএ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, উখিয়ার শমসের আলম চৌধুরী, চকরিয়ার ডা. শামসুদ্দিন, টেকনাফের এম আবদুশ শুক্কুর, হাজী আবদুল করিমের সাথে সাক্ষাৎ পান। এমএনএ আবু সালেহ, এম ইদ্রিস আহমদও তখন টেকনাফে পৌঁছলে এন-ই-১৫৫-রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ আসনের এমএনএ এম ইদ্রিস, এন-ই-১৫৯-বাঁশখালী-আনোয়ার আসনের এমএনএ আতাউর রহমান কায়সার, এন-ই-১৬০-সাতকানিয়া-কুতুবদিয়া-চকরিয়া আসনের এমএনএ আবু সালেহ, এন-ই-১৬১- কক্সবাজার আসনের এমএনএ এডভোকেট নুর আহমদ এবং পি-ই-২৯৩-চ-১৩-সাতকানিয়া ও পটিয়ার আংশিক অংশ নিয়ে গঠিত আসনের এমপিএ ডা. বিএম ফয়েজুর রহমান, পি-ই-২৯৬-চ-১৬-চকরিয়া-কুতুবদিয়া আসনের এমপিএ এডভোকেট জহিরুল ইসলাম, পি-ই-২৯৮-চ-১৮-রামু-উখিয়া-টেকনাফ আসনের এমপিএ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, এম আবদুশ শুক্কর, আবদুল করিম ও আমীর আলী মাস্টার প্রমুখ এক বৈঠকে মিলিত হন। যুদ্ধের পরবর্তী প্রস্তুতির জন্য বার্মায় যাওয়া এবং এর আগে বার্মা সরকারের মনোভাব জানার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এ বৈঠকে। এ লক্ষ্যে ডা. বিএম ফয়েজুর রহমান, ডা. জাফর, ডা. কামাল-এ-খান, আতাউর রহমান কায়সার, এডভোকেট নুর আহমদ এমএনএ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ২০ এপ্রিল নাফ নদী পার হয়ে বার্মার বলিবাজার গিয়ে বার্মার এক অফিসারের সাথে কথা বলেন। বার্মা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় ‘তারা বাঙালিদের আশ্রয় দেবে তবে খাবার খরচ দেবেনা। ক্যাম্প থেকে পাক বিরোধী কোনো কার্যকলাপে অংশ গ্রহণ করতে দেবেনা। এমনকি এ সময় যদি পাক হানাদার বাহিনী আক্রমণ করে তবে তাদের কিছু করার থাকবেনা।’ বার্মা কর্তৃপক্ষের এ কথা শুনে ডা. বিএম ফয়েজুর রহমান, আতাউর রহমান কায়সার, মো. ইদ্রিস (সেখান থেকে চকরিয়ার মধুখালী গ্রামের টইটং পাহাড়ের মনির বাপের খামারে আশ্রয় নেন, পরে চকরিয়ার ফাইস্যাখালীতে অবস্থানরত এম এ আজিজের ছেলে নুরুদ্দিন জাহেদ মঞ্জুরের সাথে যোগাযোগ করে তাকে রাজাখালীতে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে বাঁশখালী-কুতুবদিয়াতে যোদ্ধাদের সাথে কাজ করেন, তার সাথে চকরিয়া-কুতুবদিয়া আসনের এমপিএ জহিরুল ইসলাম, বিএলএফ কক্সবাজার কমা-ার এএইচ সালাউদ্দীন মাহমুদও ছিলেন), আবু সালেহ প্রমুখ কক্সবাজারে ফেরত আসেন। সেখান থেকে ট্রলারে করে রাজাখালী, রাজাখালী থেকে টেটং এবং সেখান থেকে ভিন্ন পথে ভারত চলে যান ডা. বিএম ফয়েজুর রহমান। আর দিকে আতাউর রহমান কায়সার, এডভোকেট জহিরুল ইসলাম চকরিয়া মধুখালীর টইটং পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে বাঁশখালী-কুতুবদিয়ার যোদ্ধাদের সাথে মিলিত হয়ে যুদ্ধে অংশ নেন।১

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে ব্যাপক সংখ্যক বাঙালি জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী দেশসমূহে আশ্রয় নেয়। প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ মিয়ানমারে আশ্রয় গ্রহণ করে। মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকে এ সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক বলে ধারণা করা হয়। জুন মাসে বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ৫০, ০০০ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাস্তুচ্যুত শরনার্থীদের প্রতি ঐকান্তিক সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘হানাদারদের হঠিয়ে দিয়ে বাঙলাদেশ সরকার স-সম্মানে দেশত্যাগী বাস্তুহারাদের ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিঙ্গ। আপনারা বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনাদের বাড়ি ঘর ফিরে পাবেন।’ ২

মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া বাঙালি বৌদ্ধ শরণার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে আরো একটি তথ্য পাওয়া যায়। আনন্দবাজার পত্রিকা ২২ জুলাই ১৯৭১ ‘পূর্ব বাঙলার বিপন্ন বৌদ্ধেরা’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়,
‘পূর্ব বাঙলার নানাস্থানে, বিশেষ করে চট্টগ্রামে যে সংখ্যালঘু বৌদ্ধেরা ছিলেন, পাকিস্তানি ফৌজের গু-ামী ও বর্বরতায় তারাও অন্যদের মতো নিরাশ্রয় হয়েছেন। তাদের মঠমন্দি র ভেঙে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে কুলনারীদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে পাকিস্তানি দুষমনরা যে নরকের আবহাওয়া সৃষ্টি করেছে তাদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব। নিছক প্রাণের দায়ে তাই ২০ হাজার বৌদ্ধ ব্রহ্মদেশের (মিয়ানমারের) আরাকান অঞ্চলে জঙ্গলে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ব্রহ্মদেশীয় এক বাঙালি বৌদ্ধই এ সংবাদ জানিয়েছেন আসামের বৌদ্ধ প্রধান জিনরতন মহাস্থবিরকে। আসামে পাহাড় অঞ্চলেও নাকি এসেছে প্রায় ১৫ হাজার বৌদ্ধ এবং তারা এসেছেন বর্বরতার শিকার হয়ে। ’৩

অপরদিকে তৎকালীন ছাত্রনেতা ও কক্সবাজার ‘জয় বাংলা বাহিনী’ প্রধান কামাল হোসেন চৌধুরী ব্যক্তিগত এক সাক্ষাৎকারে প্রায় ৬০ হাজার শরনার্থী মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া বিভিন্ন শরনার্থী শিবির ঘুরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ১৫ হাজার তরুণের নাম সংগ্রহ করে ভারতস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে সহায়তা একটি চিঠি লেখেন। মিয়ানমার সরকার আশ্রিত বাঙালিদের শরণার্থী হিসেবে থাকার অনুমতি প্রদান করে; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে কোনো ধরনের তৎপরতার ওপর কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের প্রতি আরাকানি মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গী:
শরণার্থী নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎকার ও আলোচনা করে জানা যায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পাকিস্তানিদের পক্ষ অবলম্বন করে। এমনকি আরাকানের সাধারণ মুসলমানেরাও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল। কারণ মিয়ানমারে মুসলমানরা সংখ্যালঘু এবং সংখ্যালঘুর নিরাপত্তাহীনপার্শ¦বর্তীোধ থেকে তারা পার্ মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশ পাকিস্তানকে বিপদের দিনে আশ্রয়স্থল বলে মনে করত। পাকিস্তান সরকারও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত। এজন্য আরাকানি মুসলমানরা পাকিস্তানের ভাঙ্গন বা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে তাঁদের স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করত। আরাকানি মুসলমানদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ভূমিকা প্রসঙ্গে এডভোকেট নূর আহমদ এম.এন.এ এর উদ্ধৃতি দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় মিয়ানমারের বাঙালি শরণার্থী’ নামক এক প্রবন্ধে লেখেন. তাদের অনেকেই ‘রাজাকার বাহিনী’তে যোগ দিয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে সরাসরি সাহায্য করেছে। এমনকি আরাকানি মুসলমানরাও শরণার্থীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেনি। তাঁরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল। তাঁরা বাঙালি মুক্তিবাহিনীকে ঘৃণা করে বলত ‘মূর্তি বাহিনী’। তারা বলত, ‘আমাদের একটি আশ্রয়স্থল আছে Ñ পাকিস্তান। আর এরা সেটি ভেঙ্গে ফেলতে চাইছে।’ মসজিদে নামাজের পর ইমাম দোয়া করত, ‘আল্লাহ তুমি পাকিস্তানকে রক্ষা কর’। তখন শরণার্থীরা হাত নামিয়ে ফেলত। এটা ছিল প্রতিবাদ।৪

আরাকানি সশস্ত্র বিদ্রোহী মুসলমান ‘ফুরুইক্যা’রা৫ মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দেয়ার অঙ্গীকারে পাক বাহিনীর নিকট থেকে বেশকিছু অস্ত্রশস্ত্র হস্তগত করে। ফুরুইক্যারা শরণার্থী নিরস্ত্র ই.পি.আর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের আক্রমণ করে দুইজন ইপিআর জওয়ানকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দেয় বলে তৎকালিন কক্সবাজার আসনের তৎকালিন এমএনএ এডভোকেট নুর আহমদ ও প্রফেসর মোশতাক আহমদ ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে জানান। ফুরুইক্যাদের দ্বারা নেতৃস্থানীয় শরনার্থীদের পাকিস্তান সরকারের হাতে তুলে দেয়ার আশংকায় নেতৃস্থানীয় শরণার্থীদের শিবির থেকে বেশী দূরে যাওয়া নিষেধ ছিল। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নেতৃস্থানীয় শরনার্থীদেরকে বলতেন,“আরাকানি ‘ফুরুইক্যা’রা তোমাদের বাগে পেলে ধরে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিবে। তোমরা একটু সতর্ক থাকবে। ক্যাম্পের বেশী দূরে তোমরা যাবে না।” ঐসময় ষাট হাজারেরও অধিক বাংলাদেশী শরণার্থীকে সন্দেহজন অস্ত্রধারী হিসেবে টংবৈয়ু, নাকখোরা, বলিবাজার, সাববাজার এলাকা থেকে একত্র করে মংডু চার মাইল নামক এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে অন্তরীণ করে রাখে বর্মী সরকার। বার্মায় আশ্রয় নেয়া কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবসার কামাল চৌধুরী, এন-ই-১৫৫-রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ আসনের এমএনএ এম. ইদ্রিস, এন-ই-১৬১-কক্সবাজার আসনের এমএনএ কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর আহমদ, পি-ই-২৯৮- চ-১৮-রামু-উখিয়া-টেকনাফ আসনের এমপিএ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, কালুরঘাট যুদ্ধে আহত ক্যাপ্টেন হারুন-অর-রশিদ চৌধুরী, উখিয়ার আওয়ামীলীগ নেতা শমশের আলম চৌধুরী, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) নেতা প্রফেসর মোশতাক আহমদ, ১৯৭০ সালের ২৮ অক্টোবর পি-ই-২৯৬-চ-১৬-চকরিয়া-কুতুবদিয়া আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রতাহারকারী প্রার্থী ডা. শামশুদ্দিন চৌধুরী ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদের সদস্য), কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরী, ১৯৭০’র নির্বাচনে চট্টগাম-১৪ প্রাদেশিক পরিষদ-২৯৭ (কক্সবাজার-মহেশখালী) আসনের প্রার্থী ও মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এ. কে. এম. মোজাম্মেল হক, হলদিয়া পালং ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বাদশা মিয়া চৌধুরী (পরে অবশ্য গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘটিত করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেন), চকরিয়ার ভাষা সৈনিক এস.কে শামশুল -দা, উখিয়ার আলী আহমদ সিকদার, বদিউর রহমান চৌধুরী, তেজেন্দ্র বিজয় রায় চৌধুরী, নুরুল ইসলাম চৌধুরী প্রকাশ ঠা-া মিয়া, বক্তার আহমদ চৌধুরী (পালংখালী), নুর আহমদ মিয়া, জাফর আলম চৌধুরী, টেকপাড়ার ছুরুত আলম, প্রিয়দর্শী বড়–য়া, অমিত শ্রী বড়–য়া, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য সুনীল কৃষ্ণ দে, মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সন্তোষ দা, কৃষ্ণ প্রসাদ বড়–য়া, প্রবীর ভট্টাচার্য, মো. জুলফিকার আলী, কালারমারছড়ার খায়ের উল্লাহ, ভালুকিয়ার রাজু বাবু প্রমুখকে ক্যাম্পে বন্দি করে রাখে বর্মী সরকার। বার্মায় শরণার্থীদের এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে, এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যাতায়ত নিষেধ ছিল। এমনকি ওখানকার মুসলমানদেরও এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যোগাযোগ নিষেধ করে দেয় বর্মী সরকার। শরনাথী জীবনে মানুষের আনুকূল্যে পাওয়া যে কতো মূল্যবান, তা ওই সময়ে মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া শরনার্থীদের কথা বললে পাওয়া যাবে। তাছাড়া ওই সময়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাঙলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড. আনিসুজ্জামানের ‘আমার একাত্তর’ গ্রন্থ পাঠ করলেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা আরো স্পষ্ট হবে। তিনি মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের ওই সময়ের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আওয়াল এর এক চিঠির বরাত দিয়ে ‘আমার একাত্তর’ গ্রন্থে লেখেন-
‘শরনাথী জীবনে মানুষের আনুকূল্যে পাওয়াটা যে কতো মূল্যবান, সে কথা বিশেষ করে অনুভব করেছিলাম আকিয়াব থেকে আমার ছাত্র আবদুল আউয়ালের চিঠি পেয়ে। ১৯৭১ সালে আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় এম এ পরীক্ষার্থী দিচ্ছিল। সে ছিল ছাত্র ইউনিয়নের একনিস্ট কর্মী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে নিজের এলাকায় চলে যায়, তারপর অবস্থাবৈগুন্যে সীমান্ত পার হয়ে বার্মায় আশ্রয় নেয়। সেখানকার মাটিতে পা দেওয়ামাত্র পুলিশ তাকে এবং তার মতো অনেক শরনার্থীকে- ধরে নিয়ে ক্যাম্পের মতো একটি অস্থায়ী জেলে আটক করে রাখে। তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা ছিল নিতান্ত অপ্রতুল, খাবার পানির জন্যে অনেক সময়ে নির্ভর করতে হতো বৃষ্টির ওপরে। বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ করা ছিল একেবারে নিষিদ্ধ । আকিয়াবের মংডাউ এলাকার এক ইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেনের আনূকূল্যে সে মুক্তিযুদ্ধের কিছু খবর সংগ্রহ করতে এবং আমার কাছে চিঠি লিখতে সমর্থ হয়। তাঁদের ঐ বন্দী জীবন থেকে মুক্তিলাভের ব্যাপারে আমরা কিছু করতে পারি না, এ ছিল আউয়ালের জিজ্ঞাসা। এই সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করি কিন্তু বার্মা সরকারকে প্রভাবান্বিত করার কোনো সম্ভাবনা তখন তিনি দেখতে পাননি। অনেক পরে আউয়ালেরা ছাড়া পেয়েছিল। আউয়ালের চিঠি পাওয়ার পরে বিশেষ করে মনে হয়েছিল, আমরা কতো ভালো আছি। কতজনের আন্তরিক ভালবাসা ও অকৃত্রিম সমর্থন আমাদের ঘিরে রেখেছে। ৬

এছাড়াও ওই সময়ে বার্মায় আরো আশ্রয়গ্রহণকারীরা হলেন: নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চকরিয়ার তাহের আহমদ, নুরুল হক, খলিলুর রহমান, টেকনাফ ছাত্রলীগ নেতা সলিম উল্লাহ, খুনিয়াপালংয়ের আবদুর রহিম চৌধুরী, নতুন বাহারছড়ার আবদুস সাত্তার, মহেশখালীর মোহাম্মদ ইসহাক, যোগেন্দ্র লাল বড়ুয়া প্রমুখ।

পাকিস্তান সরকারের শরনার্থী ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
পূর্ব পাকিস্তান সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গী আকর্ষণের জন্য ৪ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানের ‘বিদ্রোহী’দের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং শরণনার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের অধ্যাপক শামশুল হক এম পি এ (প্রাদেশিক পরিষদ-২৮২-চট্টগ্রাম-২- সীতাকুণ্ড) যুদ্ধের এক পর্যায়ে পক্ষ পরিবর্তন করে পাকিস্তানের পক্ষনিয়ে মন্ত্রী সভায় স্থান করে নেন। তাঁর মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। অধ্যাপক শামশুল হক বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে ঢেকিবুনিয়া শরণার্থী শিবিরে খবর দিয়ে অধ্যাপক মোশতাক আহমদ, শমসের আলম চৌধুরী, এ.কে.এম. মোজাম্মেল হক প্রমুখ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে হ্যা- মাইকে এপার থেকে ওপারে যোগাযোগ করেন।৮ ‘চার মাইল’ শরনার্থী শিবিরেও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে যোগাযোগ করা হয় এমনকি শরণার্থী নেতৃবৃন্দকে মন্ত্রীত্বের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও চিঠি দেয়া হয়; কিন্তু শরনার্থী নেতৃবৃন্দ পাকিস্তান সরকারের আহ্বান বা প্রলোভনে সাড়া দেননি বলে এডভোকেট নুর আহমদ এমএনএ ও ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর বরাত দিয়ে কামরুল হাসান সম্পাদিত ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ৪২তম বিজয়ের পুূর্তি স্মারক ‘বিজয় স্মারক ২০১২-এ প্রকাশিত ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক ‘মু্িক্তযুদ্ধের সময় মিয়ানসমারের বাঙালি শরণার্থী’ নামক এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন।৯ অবশ্য শরণার্থীদের মধ্যে দু’একজন ফিরে এলেও তাদের ভাগ্য খুব একটা সুপ্রসন্ন ছিলনা। তাছাড়া মিয়ানমারে অবস্থানরত শরনার্থীদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে প্রত্যাবর্তনকারী শরনার্থীদের হত্যা করা হয়েছে। এজন্যে শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। এ প্রসঙ্গে শমসের আলম চৌধুরী তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, “পাকিস্তান সরকার শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিলেও শরনার্থীরা ফিরে আসেনি। কেননা যারা ফিরে এসেছে তাদেরকেই হত্যা করা হয়েছে। তাই আমরা কষ্ট হলেও বার্মা থেকে তাদের ডাকে ফিরে আসিনি।” ১০

মুক্তিযুদ্ধকালীন মিয়ানমার ছিল চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ। এ উভয় দেশ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে পাকিস্তান বিরোধী কোনো কার্যক্রম গ্রহণে যথেষ্ট পরিমাণে প্রভাবিত করায় মিয়ানমার প্রশাসন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেমন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, তেমনি বাংলাদেশের শরণার্থী সংক্রান্ত সমস্যাকেও কোনো ক্রমেই আন্তর্জাতিকীকরণ করতে চায়নি। ফলে শরণার্থী নেতৃবৃন্দ বেশ কয়েকবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করলেও ব্রক্ষ্মদেশ (মিয়ানমার) সরকার এ ব্যাপারে কোনোরূপ ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। শরণার্থী নেতৃবৃন্দ মিয়ানমার সরকারের অসহযোগিতা, শরণার্থীদের বিভিন্ন অসুবিধা এবং যুদ্ধে অংশ গ্রহণের আকাঙ্খা জানিয়ে ডাকযোগে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃস্থানীয় সংগঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শরনার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং যুুদ্ধে অংশ গ্রহণের আকাঙক্ষা এবং ভারত ও অস্থায়ী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে মিয়ানমারের শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া জয় বাংলা বাহিনীর প্রধান কামাল হোসেন চৌধুরী লিখিত চিঠির ৯ সার্কাস এ্যাভিনিউ, কলকাতা-১৭ ভারতস্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের হাই কমিশন থেকে চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যুত্তর দেয়া হয়। (ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে জয় বাংলা বাহিনীর প্রধান(১৯৭১) কামাল হোসেন চৌধুরীর মিয়ানমারের মৌলভী সুলতান আহমদ টংব্য, মংডু আকিয়াব এর ঠিকানায় লিখা চিঠি, স্বারক নং বি-৫/১৮/৭১, ১৫ নভেম্বর, ১৯৭১)। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের হাই কমিশনের হাই কমিশনার আনোয়ারুল করিম চৌধুরী লেখেন,
Dear Mr. Choudhury
Kindly refer to your letter dated October 17, 1971.
We are very much pained to note the plight our nationals in different evacuee camp in India and Burma. We would like to inform you that the matter regarding Bangladesh nationals we have taken shelter in Burma has been taken up with the authorities concerned. We shall severs to you again as soon as we hear in the matter.

এরপর শরনার্থীদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে বাংলাদেশ সরকার জাহাজে করে তাদেরকে ভারতে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করছে। এ প্রেক্ষিতে শরনার্থীরা নিজ উদ্যোগে শরনার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ রকম কোনো কার্যক্রম গৃহীত হয়নি বলে সমশের আলম চৌধুরী, প্রফেসর মোশতাক আহমদ, কামাল হোসেন চৌধুরী প্রমুখ শরণার্থী সূত্রে জানা গেছে। আবার মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও শরনার্থীরা নিজেদের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করে। উদাহরণ স্বরূপ, এক পর্যায়ে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগ নেতা কৃষ্ণ প্রসাদ বড়–য়া মিয়ানমারের তৎকালীন রাজধানী ইয়াঙ্গুন প্রবাসী আত্মীয় স্বজন এবং ইয়াঙ্গুন প্রবাসী বাঙালি বৌদ্ধদের সংগঠন ‘বুড্ডিস্ট মিশন সংসদ’র সাথেও যোগাযোগ করেন।১১ বৌদ্ধ মিশন সংসদএর সভাপতি মিয়ানমারের প্রভাবশালী বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু বিমলাচরণ মহাস্থবির ও অন্যান্য কয়েকজন বিশিষ্ট লোক এসে শরনার্থীদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখে যান। কিন্তু তাঁরাও শরণার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু করতে পারেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মিয়ানমারের বাঙালি শরণার্থীরা দেশের ঘটনাপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক পরিম-লের এতদসংক্রান্ত ব্যবস্থাবলী সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত ছিলেন। শরনার্থীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং বি.বি.সি.’র মাধ্যমে যুদ্ধের খবরাখবর জানতে পারতেন। ৬ ডিসেম্বর কক্সবাজারে মিত্রবাহিনীর বোমা হামলা এবং নৌবাহিনীর গোলা নিক্ষেপের ফলে পাক বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা কক্সবাজার ত্যাগ করে। মুক্তিযুদ্ধের শেষপর্বে শরণার্থী নেতৃবৃন্দ ১০ ডিসেম্বর থেকে গোপনে মিয়ানমার ত্যাগ করা শুরু করে। ১২

গেরিলা যুদ্ধ ও সামগ্রিক প্রস্তুতি
প্রতিকূল পরিবেশে মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভুমিকা পালন করা সম্ভব হয়নি, মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়ব্যাপী তাদেরকে সেদেশে সাধারণ শরণার্থী হিসেবেই অবস্থান করতে হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের কড়া নজরদারির মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধারা গোপনে সংগঠিত হয়ে কক্সবাজার এলাকায় সীমিত পরিসরে গেরিলা তৎপরতা চালাতে সক্ষম হন। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও শরণার্থীরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সীমিত পরিসরে হলেও কার্যক্রম গ্রহণ করে। এভোকেট নুর আহমদ এমএনএ, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী এমপিএ, প্রসেফর মোশতাক আহমদ, মনিরুল হক চৌধুরী, একেএম মোজাম্মেল হক, নুর আহমদ সিকদার, আলী আহমদ সিকদার, শমসের আলম চৌধুরী, কামাল হোসেন চৌধুরী, ক্যাপ্টেন আবদুস সোবহান প্রমুখ শরনার্থী নেতৃবৃন্দ মিয়ানমারে আশ্রয় গ্রহণকারী ১৫ হাজার ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের সংগঠিত করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা তৎপরতা চালানোর জন্য ৯-১০টি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। অবশেষে ৬ সেপ্টেম্বর শমসের আলম চৌধুরীর নির্দেশে তার ছেলে কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও কফিল উদ্দিন ফাত্রাঝিরি এলাকার আবদুল করিমের বাপের খামরের গোপন স্থান থেকে ৮টি রাইফেল এবং ৮৫ রাউ- থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি এবং আলি মিয়া চৌধুরী ৮টি মার্ক ফোর রাইফেল ও ২৫টি গুলিসহ হাবিলদার আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে ১৭ জনের একটি গেরিলা দল প্রথম বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভালুকিয়া পালং যোগেন্দ্র লাল রায় সিকদার (রাণীর বাপ) এর মালিকানাধীন রেজু পাড়া খামার বাড়িতে অবস্থান নেয়।

হাবিলদার আবদুস সোবহানের নেতৃত্বাধীন ১৭ জনের গেরিলা দলে যারা ছিলেন, ইপিআর হাবিলদার আবদুল জলিল, নায়েক ফয়েজ আহমদ, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নায়েক আবদুস সালাম, ইপিআর সিপাহী নুরুল ইসলাম গাজী, সিপাহী আবদুল খালেক, সিপাহী এম এ ওহাব রাজা, সিপাহী মোহাম্মদ হোছাইন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সিপাহী রেজাউল করিম, মঞ্জুর আলম চৌধুরী, হ্নীলার আবুল খায়ের এর ছেলে আইয়ুব বাঙালি, নুর আহমদ সিকাদেরর ছেলে নুরুল আমিন সিকদার ও সিরাজুল হক সিকদার (প্রয়াত), অজিত আলীর ছেলে কবির আহমদ, ভালুকিয়ার বিপিন চন্দ্র সিকদারের ছেলে পরিমল বড়ুয়া, হোয়াইক্ষ্যং ছৈয়দুর রহমানের ছেলে জাফর আলম, রামুর উখিয়ার ঘোনার আবদুর রহিমের ছেলে মোজাফ্ফর আহমদ।১৩

হাবিলদার আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রবেশ করা গেরিলা দল প্রথমে ভালুকিয়া এলাকায় পৌঁছলে বেঙ্গল রেজিমেন্টের নায়েক রাজা মিয়া, চকরিয়ার খলিলুর রহমান, তুমব্রুর আলী আকবর, পরিমল দাশ, ভালুকিয়ার রাজেন্দ্র বড়–য়া, বালুখালীর নজির আহমদ, হলদিয়ার দুধু মিয়া, জয়সেন বড়–য়া, উখিয়ার তেজেন্দ্র মল্লিক, মধু সূদন দে, চেপটখালীর মোহাম্মদ মোস্তফা, সোনারপাড়ার লোকমান হাকিম মাস্টার হাবিলদার আবদুস সোবহানের গেরিলা দলে যোগ দেয়। ওই খামারে অবস্থানকালে হাবিলদার আবদুস সোবহানের শ্বশুর মৌলানা আবদুল জব্বার তার সাথে যোগাযোগ করে পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের খবরাখবর দিতেন এবং মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপকে প্রয়োজনীয় সামগ্রি দিতেন বলে ক্যাপ্টেন সোবহান তার সেনানিবাস ও রনাঙ্গনে নামক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন।
হাবিলদার ছোবহানের নেতৃত্বাধীন গেরিলা দল ছাড়াও মিয়ানমার থেকে গোপনে সংগঠিত হয়ে ছোট ছোট মোট ৪টি গেরিলা দল বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এমন একটি দল এ কে এম আবদুল মান্নানের দল। দু:সহ অবস্থার মধ্যে প্রচ- ঝুুঁকি নিয়ে ছোট একটি গেরিলা যোদ্ধাদল মংড়– আর্মি ক্যাম্পকে ফাঁকি দিয়ে নাফ নদী অতিক্রম করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় প্রবেশ করে। কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবসার কামাল চৌধুরী, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, একেএম মোজাম্মেল হক, আলি মিয়া চৌধুরী প্রমুখ আওয়ামী লীগ নেতা অধিকৃত অঞ্চলের সঙ্গে অতি কৌশলে যোগাযোগ করে তাদের পূর্বে সংগ্রহিত ও গুপ্তস্থানে লুকায়িত কিছু বন্দুক রাইফেল, পিস্তলসহ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এই ছোট দলটিকে সংঘটিত করে এ কে এম আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে কক্সবাজারে পাঠায়, অনেক সংগোপনে নদী পথে শাহপরীরদ্বীপ হয়ে সাবরাং ও হ্নীলা পাহাড় অরণ্যের আবরণে অগ্রসর হতে পারলেও কোনো জনপদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। এসব অঞ্চলে বসবাসরত অধিবাসীরা পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো শক্তিকে সাহায্য ও সম্পর্ক রাখতে রাজী ছিলোনা। বরং পাকিস্তান বিদ্রোহী কোনো শক্তির সংবাদ পেলে পাক বাহিনী কিংবা দালালদের জানিয়ে দিয়ে কার আগে বাহবা নিতে পারে তার প্রতিযোগিতায় ছি। ১৪ পরে এ দলটি কোথায় গিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন কিনা এ তথ্য অদৃশ। এ সময় মিয়ানমারের চার মাইল শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট সহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশে প্রবেশ করে গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে। অবশেষে কালুরঘাট যুদ্ধে আহত ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ চৌধুরী , বাদশা মিয়া চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে হাবিলদার মেজর ইদ্রিস মোল্লাহর নেতৃত্বে ইপিআরের ৯ জন, বেশ কয়েকজন বেঙ্গল রেজিমেন্ট সদস্য ্ও জহর লাল পাল চৌধুরী, অজিত পালসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে একটি গ্রুপ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ইদ্রিস মোল্লাহর এ গ্রুপটি প্রথমে রামুর সোনাইছড়ি এলকাায় ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখান থেকে হাবিলদার সোবহান, এফএফ গ্রুপ কমা-ার শহীদ আবদূল হামিদ গ্রুপের সাথে মিলিত হয়ে লামা থানা অপারেশনে অংশ নেয়। এর পর তারা চুনতি, সাতকানিয়া, পুটিবিলা, আমিরাবাদ অঞ্চল রাজাকার ও হানাদার মুক্ত করে ১৪ ডিসেম্বর টেকনাফে গিয়ে রাজাকার বাহিনীকে আটক করে। ওই গ্রুপের সদস্য জহর লাল চৌধুরী ৩৫ জন পাঞ্জাবী সৈন্যকে হত্যা করে বলে জানা যায়। এ গ্রুপের অজিত পাল পরে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে দেশ মাতৃকার টানে প্রাণ হারান। সেনা ইপিআর ও পুলিশ সহ সশস্ত্র বাহিনীর প্রশক্ষিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ইদ্রিস মোল্লা গ্রুপটি বেশ শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রাম বিশেষ করে কক্সবাজারে। ইদ্রিস মোল্লাহর গ্রুপের সাথে কক্সবাজার, রামু, উখিয়া টেকনাফ এবং চকরিয়ার যারা ছিলেন তাদের মধ্যে ছৈয়দ নুর মোহাম্মদ (ফাঁসিয়াখালী, চকরিয়া), তেজেন্দ্র লাল (ঘুনিয়া, চকরিয়া), আনোয়ার হোসেন (লক্ষ্যাচর), জহিরুল ইসলাম ছিদ্দিকী (কাকারা, তিনি মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে শহীদ আবদুল হামিদ গ্রুপের সাথে সংযুক্ত ছিলেন), জহরলাল চৌধুরী, পরিমল বড়–য়া (মানিকপুর), পুলিন বিহারী শর্মা (মাতারবাড়ি), খোরশেদ মোল্লা, মোহাম্মদ শফি, আবদুল কাদের, আবদুল হক, হেলাল সিরাজ, জালাল, এস এম কামাল উদ্দিন, নুরুল হক, শামসুল আলম, নুরুল হোছাইন, অংথাই ধাতু প্রমুখ। ১৫

কামাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি বালুখালী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে হাবিলদার সোবহানের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে কক্সবাজারকে হানাদার মুক্ত করতে সহায়তা করে। অন্য ২টি গেরিলা কক্সবাজার মহকুমাসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।

দোহাই
১. ডা. মাহফুজুর রহমান, ‘বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম’, মার্চ ১৯৯৩, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে গবেষণা কেন্দ্র, চট্টগ্রাম, পৃ:
২. রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বাঙলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের চারদফা পূর্ব, সূত্র: কালান্তর, ৬ জুন ১৯৭১, কলকতা, উদ্ধৃতি: হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’, চতুর্দশ খ-, ১৯৮৪, পৃ. ৭৯৬।
৩. হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’, চতুর্দশ খ-, পৃ. ৮৬৪।
৪. ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক, ‘মু্িক্তযুদ্ধের সময় মিয়ানমারের বাঙালি শরণার্থী’, ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, বিজয়, জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার, পৃ: ৪২
৫. মিয়ানমারের স্বাধীনতা লাভের পর আরাকানের স্বাধীনতার জন্য আরাকানের মুসলিম প্রধান অঞ্চল মংডু, বুচিদং ও রাচিদং-এ জাফর আহমদের নেতৃত্বে ‘মুজাহিদ বাহিনী’ নামে একটি সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবক দলে গড়ে উঠে। পরবর্তীতে এ বাহিনী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং কাসেম রাজা একটি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। আরাকানের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে অসন্তোষ জিইয়ে রাখার জন্য পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কাসেম রাজাকে অস্ত্র সাহায্য দেয়। পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ঠ হয়ে কাসেম রাজা টাংগীর পাহাড় থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা তৎপরতা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে অনুসারীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হলে ১৯৫৪ সালে কাসেম রাজা ৪ স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ সীমান্ত অতিক্রম করে চট্টগ্রামে আশ্রয় নেন। কাসেম রাজা চট্টগ্রামে চলে আসার পর আরাকানে আর একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠে। এই বাহিনীই ‘ফুরুইক্যা বাহিনী নামে পরিচিত (দৈনিক বাংলা, ১৩ এপ্রিল, ১৯৭২)। আরাকানি চৎঁশশুধ শব্দের অর্থ গেরিলা। রোহিঙ্গা উচ্চারণে এটা ‘ফুরুইক্যা’ হয়েছে।
৬. ড.আনিসুজ্জামান, আমার একাত্তর, ৬ষ্ঠ মুদ্রণ, অগাস্ট ২০০৬, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা, পৃ. ১৩৭-১৩৮।
৭. ডা. আবদুল মালিক মোতালিব সরকারের বেসরকারি পুনর্বাসন ও ত্রান মন্ত্রী শামসুল হক।
৮. প্রফেসর মোশতাক আহমদ এর সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার, ২৯ নভেম্বর ২০০৯ কক্সবাজারের টেকপাড়াস্থ তার কন্যা রামু কলেজের অধ্যাপক আকতার জাহান কাকলীর বাসায়।
৯. বিস্তারিত জানার দেখুন, ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক, ‘মু্িক্তযুদ্ধের সময় মিয়ানমারের বাঙালি শরণার্থী’, বিজয় স্মারক ২০১২, জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার, পৃ: ৪১-৪২।
১০. ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার, মুক্তিযুদ্ধকালীন উখিয়া থানা আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ও কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম কমিটির সদস্য শমসের আলম চৌধুরী, ২২ অক্টোবর ২০০৭, উখিয়া রত্মাপালংস্থ বাড়িতে।
১১. কৃষ্ণ প্রসাদ বড়ুয়া, ‘স্মৃতিতে অম্লান’, মুজিবুর রহমান সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার’, পৃ ২২
১২. কামাল হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে কক্সবাজার (মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার, মুজিবুর রহমান সম্পাদিত), ডিসেম্বর ১৯৯৯, পৃ: ১১-১২।/ আতাউর রহমান খান কায়সার এম.এন.এ. ২ অক্টোবর ২০০৫, নূর আহমদ এডভোকেট এম.এন.এ. ২৭ মার্চ ২০০৬;/বিএম ফয়েজুর রহমান, ১৯৭১ সনের প্রতিরোধ সংগ্রামের দিনগুলো’, মুক্তিযুদ্ধে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, ফেরদৌস ইসলাম খান (সম্পা.) ‘মুক্তিযুদ্ধে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ’, পৃ ৬৪।
১৩. ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার, ১৯৭১ সালের কক্সবাজার ও বান্দরবান মহকুমার মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন (অব) আবদুস সোবহান, ২ মার্চ ২০০৮, মরিচ্যা পালংস্থ বাসায়।
১৪. রফিক আনোয়ার, ‘একাত্তরের মহাবিদ্রোহ: অগ্নিপুত্ররা কোথায়?’ ফেব্র“য়ারি ২০০১, শৈলী প্রকাশন, চট্টগ্রাম, পৃথ ৭৫
১৫. জহিরুল ইসলাম ছিদ্দিকী, ‘একাত্তর ও আমি’, ঋণবর্ণ প্রকাশন : চকরিয়া, ২১ ফেব্র“য়ারি ২০১৪, পৃ : ২১-২২।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 6