নাস্তিকেরা কেন ইসলাম বিদ্ধেষী?

নাস্তিকগণ শুধুমাত্র ইসলাম বিদ্ধেষী বলে একটা ধারনা মুসলিম সমাজে প্রচলিত আছে। বলা হয় নাস্তিকেরা একমাত্র ইসলাম ধর্মেরই সমালোচনা, কটূক্তি ইত্যাদি করে থাকেন, আর অন্যান্য ধর্মের বেলায় নীরব থাকেন। এ অভিযোগে তাদেরকে ইসলাম বিদ্ধেষী বলে আখ্যা দেয়া হয়। অনেক মুসলিম মনে করে নাস্তিকতার মানেই হচ্ছে ইসলামের সমালোচনা আর এর বিরুদ্ধে কটূক্তি।

আসলে কি তাই? নাস্তিকতা মানেই কি শুধু ইসলামের সমালোচনা? এর উত্তর যে কোন নাস্তিকই সহাস্যে দিবেন যে নাস্তিকতা মানেই ইসলামের সমালোচনা নয়, যে কোনো ধর্মের সমালোচনাও নাস্তিকতা নয়, নাস্তিকতা শুধুই কথিত স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। তবে নাস্তিকেরা ধর্মের সমালোচনা করে থাকেন, সেটা ইসলাম, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু বা যে কোনো ধর্মের হতে পারে।

একজন ধার্মিকের কাছে তার নিজের ধর্ম বিশ্বাসই আসল এবং কোনো রকম সন্দেহ ছাড়াই এটি একমাত্র সত্যতার দাবী করে। তার কাছে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্ম বিশ্বাস শুধু ভ্রান্তই নয় বরং হাস্যকর। অপরাপর ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি ও অস্বীকার করার বাতিক সাধারণত ধার্মিকদের মাঝেই বেশি পরিলক্ষিত হয়। অপরদিকে নাস্তিকের সাথে ধার্মিকের পার্থক্য এই যে নাস্তিক কোন ধরনের ধর্ম বিশ্বাসে আবদ্ধ নয়। তার কাছে সকল ধর্মই সমানভাবে অগুরুত্বপুর্ণ। একজন নাস্তিকের কাছে ইসলাম যতটূকু গুরুত্ব বহন করে ততটুকু গুরুত্ব খ্রীস্টান কিংবা হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মও পেয়ে থাকে। আস্তিক ও নাস্তিকের মূল পার্থক্য হলো, আস্তিক নিজ ধর্ম ব্যতিত বাকিগুলোকে অস্বীকার করেন আর নাস্তিক গনহারে সকল ধর্মকেই অস্বীকার করেন।

সারা বিশ্বেই আজকাল ধর্মের সমালোচনা করাটা একটা স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে গেছে। এই ধর্মবিষয়ক সমালোচনা থেকে কোন ধর্মই রেহাই পাচ্ছে না। পাশ্চাত্যে কিংবা অন্যান্য দেশে যীশু খ্রীস্ট, মাতা মেরি, নান ও পাদ্রিদেরকে হাস্যরসাত্মক ভাবে উপস্থাপন একটা মামুলী ব্যপার। খ্রীস্টান ধর্মের এই বিষয়গুলোর হাজার হাজার কার্টুন নেটে পাওয়া যায়। আবার নান, মেরিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন নির্মান একটা সাধারণ ব্যপার। মজার বিষয় হলো, এই সব ধর্ম ব্যঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করে বলে জানা যায়নি। বরং ধর্মের এসব কটুক্তি বা ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনাকে কমবেশি সবাই উপভোগ করে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে হিন্দু ধর্মের উদ্ভব ঘটলেও সেখানে দেব-দেবীদের নিয়ে শুধু আলোচনা সমালোচনা নয়, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু সেখানে উগ্র ধর্মান্ধদের আস্ফালন নেই বলে তা আমাদের কাছে এতটা গুরুত্ব পায় না বা আমরা এসবের খবর পাই না।

কিন্তু ইসলাম ধর্ম নিয়ে কেউ কোন ধরনের কটুক্তি তো দূরে থাক কঠোরভাবে সমালোচনা করলেই সারা মুসলিম বিশ্বে সাড়া পড়ে যায়। দেখা যায়, যদি ডেনমার্কে কেউ ইসলামের সমালোচনা করে তাহলে গাড়ি ভাঙ্গে বাংলাদেশে, কি সমালোচনা হয়েছে তা জানারও প্রয়োজন বোধ করে না সাধারণ মুসলমানেরা। কিছুদিন আগে আমেরিকায় এক ইহুদী পরিচালক মুহাম্মাদ (স) কে নিয়ে খুবই নিম্নমানের এক সিনেমা তৈরী করে সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেয়। বিভিন্ন দেশে হামলা, নৃশংসতায় বেশ কিছু মানুষও নিহত হয়। এর ঢেউ বাংলাদেশেও এসে লাগে। আন্দোলন সমাবেশের কারনে বন্ধ করে দেয়া হয় ইউটিউব। কিন্তু অধিকাংশ মুসলমান এই ভিডিওটি দেখেননি। আর ইউটিউব বন্ধের কারনে কৌতুহলিরাও দেখতে পারেনি। না দেখেই অধিকাংশ মুসলমান উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সিনেমাটিতে উপস্থাপিত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কেউ চ্যলেঞ্জও করেনি, অথচ এটাই হতো সঠিক জবাব।

নাস্তিকগন যখন ধর্মসমালোনা করে থাকেন অর্থাত ধর্মের বানী কিংবা অন্যান্য নির্দেশনাকে যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষনের মাধ্যমে ভুল বলে প্রমান করার চেষ্টা করেন, তখন ধার্মিক ব্যক্তিদের সাথে বচসা বা বাকযুদ্ধ হয়ে যাওয়াটা খুবই সাভাবিক ব্যপার। ধার্মিকগন চেষ্টা করেন তাদের ধর্মের ধারনাকে যৌক্তিকভাবে সঠিক প্রমান করতে আর নাস্তিকগন চেষ্টা করেন তাকে ভুল প্রমান করতে। এই বাকযুদ্ধে দেখা যায়, এদেশে সংখ্যাধিক্যের কারনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের থেকে মুসলমানদের সাথেই নাস্তিকদেরকে তর্ক বেশি করতে হয়। সংখ্যালঘু হওয়ার কারনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিরা সাধারণত তর্কযুদ্ধ হতে বিরত থাকেন, আর যদি কেউ অংশগ্রহন করে থাকেনও মুসলিম সংখ্যাধিক্যের কারনে তা নগন্যরুপে পরিগনিত হয়। ফলে মনে হয় নাস্তিকের যত বিরুধ তা বোধয় ইসলামের বিরুদ্ধেই। আদতে বিরুধ নয় বরং তর্কটাই বেশি।

আসল কথা হলো, নাস্তিকেরা কোন নির্দিষ্ট ধর্মের সমালোচনা করে না। কিন্তু মুসলমানদের উগ্র রিএকশনের কারনেই মনে হয় যে নাস্তিকদের এছাড়া আর কোন কাজ নেই।

— পৃথু স্যন্যাল ( ২২/০৫/১৩)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “নাস্তিকেরা কেন ইসলাম বিদ্ধেষী?

  1. যেহেতু বাংলাদেশে মুসলিমদের
    যেহেতু বাংলাদেশে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি তাই ধারণা করা হয় যে নাস্তিক মানেই ইসলাম বিদ্বেষী। পারিবারিক ভাবে যদি কার ধর্ম ইসলাম ছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধ , খ্রিস্টান হয় তবে সেই ধর্মের লোকরা তাকে মনে করবে হিন্দু বিদ্বেষী বা খ্রিস্টান বিদ্বেষী, বৌদ্ধ বিদ্বেষী। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠরা মনে করবে সে যে ধর্মের হোক না কেন, যেহেতু সে নাস্তিক সেহেতু সে ইসলাম বিদ্বেষী।

    নাস্তিকতা কি , অনেকেই বুঝে না। গোঁড়াদের কথা বাদই দিলাম, অনেক তথাকথিত সুশীলও বুঝে না।

  2. আস্তিকরা ধর্মের নামে জেহাদ
    আস্তিকরা ধর্মের নামে জেহাদ করে স্বর্গের লোভে।।আর এই লোভ নেই নাস্তিকদের নেই বলে তারা মহান।কারো সাথে তাদের বিরুধ নেই আছে মতানক্য।

  3. নাস্তিক অর্থই হলো,
    নাস্তিক অর্থই হলো, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা ! নাস্তিক অর্থ শুধু ইসলাম বিদ্বেসী নয়…

  4. একটা ব্যাপার এদেশের মানুষ কেন
    একটা ব্যাপার এদেশের মানুষ কেন বুঝে না বুঝতে পারি না!!
    ইন্ডিয়াই নাস্তিকেরা রামের ঘাম বের করে ফেলে…
    আমেরিকায় খ্রিস্টান মিশনারিকে মামালায় পর্যন্ত প্রকৃতিবাদীদের কাছে হারতে হইছে…
    এইটাই নিয়ম!!
    “আমি যদি কোন বন্ধ আবদ্ধ জরাজীর্ণ বাসা কুঁড়ে ঘর ছেড়ে একটা খোলামেলা ডুপ্লেক্স বাড়িতে উঠব তখন আমি ঐ ভাঙ্গা বাড়িটার ১৪ না ১০০ গোষ্ঠীই উদ্ধার করব….”
    আমার জীবনের মুল্যে ঐ ভাঙ্গা জীর্ণশীর্ণ বাড়িতে থেকেছি একই মুল্যে আমি আজ মুক্ত খোলামেলা বাড়িতে আছি। তাই আমি ভাঙ্গা পচা বাড়িটার নিকুচি করি, আমাকে বঞ্চিত করেছে সে আমার জীবনের ১৬ টি বছর, অন্ধকারে রেখেছিল!!

  5. অত কাহিনীর পরে ও অন্যের
    অত কাহিনীর পরে ও অন্যের বিশ্বাসে আঘাত না হানিলে কি অতিবিশ্বাসীগনের অস্তিত্ব নিশ্চিন্হ হয়ে যায় নাকি।তাহলে কটুক্তি করা বন্ধ করে দিন না…কথা হইল ওইটা ন কর্লে ইস্টার হওন যায় না।যে বস্তুতে আমার বিশ্বাস উক্তবস্তু গলধকরন কেন চর্বন করার ও কি দরকার।যে বস্তু আমি গ্রহন করিলাম উহা পেটে যাইয়্যা হাগু কিংবা মূত্র যাহাই হউক ত্যাগ করিলেই লেটা চুকিয়া যায়।আপনার উল্টাইয়্যা দেখপার খায়েশ কেন।এখানেই লড়াই বাজিয়া যায় আস্তিক বলে যাহা হউক আমি ত্যাগ করিয়াছি নাস্তিক বলে অত্যাধুনিক ক্যামেরা দিয়া আমি তোমার পশ্চাত দেশ দর্শন করিয়াছি উহা বিষ্ঠা নয়।আব্বে হালা তুই বিশ্বাস করিস না আমি করি।আম্রে না ঘুতাই লে হয়।কিন্তু তাহা হইলে তো তুমার ব্যাঙ্ক,ব্যালেন্স ইস্টার হওয়া যাইপে না।ও ভাই একখান কথা কই তুই তোর মত থাক আমি আমার মত থাকি।আমার পেটে কৃমি হইলে চিকিৎসা আমি করাইবো…তোর কি দরকার।

  6. আসল কথা হলো, নাস্তিকেরা কোন
    আসল কথা হলো, নাস্তিকেরা কোন নির্দিষ্ট ধর্মের সমালোচনা করে না। কিন্তু মুসলমানদের উগ্র রিএকশনের কারনেই মনে হয় যে নাস্তিকদের এছাড়া আর কোন কাজ নেই।

    @একমত

    1. এর কারন খুব সোজা পৃথিবীতে
      এর কারন খুব সোজা পৃথিবীতে মুসলিমরাই বুঝেশুনে অন্তরের অন্তর স্থল থেকে তাদের ধর্ম তথা অাল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালবাসে,অার যত ধর্ম অাছে সেগুলি হল তাদের পৈতৃক ধর্ম এখানে বুঝাশুনার কোন ব্যপার নেই অাছে অান্দাজ-অনুমান অার কিছু রিতি-রেওয়াজ কৃষ্টি-কালচারের ব্যপার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

55 − 50 =