দু:শাষন

দু:শাষন

ত. রহমান।

রাজা ঢুকলো রঙ্গ শালায়
আহারাদি সেরে,
এমন সময় রাজ প্রহরী
উঠলো কড়া নেড়ে।

জাহাপনা বলছি আমি
নিতান্তই এক গোলাম,
নিতে যদি আজ্ঞা হয়
এক সে প্রজার সেলাম।

মূদিত চোখ একটু খুলে
বললো রাজা রেগে,
দেখা তাকে করতে বল
উঠবো যখন জেগে।

ফরমান নিয়ে রাজ প্রহরী
এলো প্রজার কাছে,
বললো দেখা হবে না আজ
হুজুর ব্যস্ত আছে।

প্রজা কহেন তা হবে না
করেই যাবো দেখা,
রাজ্য বাসির পক্ষ হয়ে
আসছি আমি একা।

ত্যেঁদড় প্রজা নাছোড় লোক
পণ করেছে আজ,
প্রজার কথা ভুলে রাজার
কিসের অত কাজ !

ধাক্কা খেয়ে রাজ প্রহরী
হলো আগল ছাড়া,
শরাব পানে রাজা তখন
মাতাল দিশেহারা।

দৌড়ে প্রজা হুরমুড়িয়ে
ঢুকলো পান শালায়,
নেশার ঘোরে তুঙ্গে রাজা
কে তাহাকে পায়!

নর্তকিরা যাচ্ছে নেচে
গায়েন গাইছে গান,
ঢুলি চলছে ঢোল বাজিয়ে
তান পুরাতে তান।

একের পর এক হচ্ছে খালি
শানকি ভরা মদ,
বিনোদনে বাদ পরেনি
আছে যত পদ।

মোহর দিয়ে যাচ্ছে ভরে
বাইজি চরন তল,
মুক্তোর মালা দিচ্ছে খুলে
এই মাতালের দল।

লম্বা একটা প্রণাম ঠুকে
প্রজা করলো শুরু,
জাহাপনা আপনি মোদের
গোটা রাজ্যের গুরু।

নামটি আমার গোবিন্দ ধর
আপনার রাজ্যেই বাস,
কথা কিছু বলবো আমি
পায় যদি আশ্বাস।

প্রজার কথায় ছন্দ পতন
গোটা পান শালায়,
মাতালের দল শানকি পেলে
ফ্যাল ফ্যলিয়ে চাই।

নর্তকীর দল নাচ থামালো
বন্ধ ঢুলির ঢোল,
তানপুরার সুর স্তব্ধ হলো
পরলো শোরগোল।

গোবিন্দ ধর করলো শুরু
একটু থেমে ফের,
রাজার দোসে রাজ্য ধ্বংস
প্রজায় দিচ্ছে জের।

গত সনে অতি বৃষ্টি
চলতি সনে খরা,
বানে ডুবলো চাষের জমি
ঘরে ঘরে জ্বরা।

অনাহারে ধুকছে মানুষ
অন্ন, বস্ত্রহীন,
রাজ্য জুড়ে দুখির কান্না
রাত্রি কিংবা দিন।

ম্যালেরীয়ায় মরছে শিশু
টাইফয়েডে যুবা,
যক্ষা খেলো বুড়োর দেহ
কি মনোহর শোভা!

অনাহারে অর্ধাহারে
কাটছে প্রজার দিন,
মহাজনের সুদের খাতাই
বাড়ছে তাদের ঋন।

রাজ্য জুড়ে দুর্ভিক্ষ আর
বাজার জুড়ে আকাল,
ক্ষুধায় মরছে দেশের মানুষ
সন্ধ্যা কিংবা সকাল।

এসব দেখে চক্ষু মুদে
কেমনে থাকেন বসে?
কেমনে রোচে মন্ডা মিঠাই
গোস্ত চিবান কষে?

ফূর্তি করেন রঙ্গশালায়
রঙিন পানির নেশায়,
বাইজিকে দেন হীরার মালা
লজ্জা কি নেই মশাই?

রাজা আপনি, নয় ভগবান
নয় মানুষের পভূ,
প্রজাকূলের সেবক আপনি
ভেবেছিলেন কভু?

সবটা বলে থামলো প্রজা
রাগে কাঁপছে দেহ,
একটা কথাও কেউ বলেনি
দেয়নি বাঁধা কেহ।

এবার রাজা হুংকার দিয়ে
দাঁড়িয়ে পরলো সোজা,
এত বড় স্পর্ধা তোমার
জান কি এর সাজা?

এই কে আছিস ধর এটাকে
দে গারদে ভরে,
কাল সকালে মৃত্যুদন্ড
জানাও ঘরে ঘরে।

আমার রাজ্যে আমি রাজা
প্রজা মানেই গোলাম,
রাজার দ্রোহে মৃত্যুদন্ড
এই ঘোষনা দিলাম।

বললো প্রজা ভয় করি না
প্রান দিতে হয় দিবো,
ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি
সত্য বলে যাবো।

লাভ কি হবে জালিম রাজার
রাজ্যে থেকে বেঁচে?
ক্ষুদা, জ্বরা, জুলুম যেথা
লেগে থাকে পিছে।

ঘরে ঘরে দ্রোহের আগুন
রাখেন কি তার খবর?
মজলুমেরা রাজার মাপে
খুড়ছে একখান কবর।

রাত পোহালেই দেখতে পাবেন
আম জনতার ঢেউ
কামার, কুমার, মুচি, চাষি
বাদ যাবে না কেউ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 1