বাংলাদেশের মেয়ে : ভারতের স্বামী-স্ত্রী

জানি না ভালবাসার আরেক নাম লাভ জিহাত হয় কি না । সবাই বলে ভালবাসার নাকি ধর্ম নেই । কিন্তু তবে যে দেখি ভালবাসার বিবাহে ধর্ম আছে । তবে কি ধর্ম ও ভালবাসা একে অপরের পরিপূরক ? জানা নেই । গল্প সত্য । ব্যপারটা ভীষণ কষ্টের । আর সেই কারণেই কলম ধরা । নষ্ট হলো তিনটি পরিবার এর চে সত্য আর কি হতে পারে ……

রহিম বর্ধমানের ছেলে । বর্ডার লাগোয়া গ্রামে রহিম বসবাস করে । মাঝে মাঝেই রহিম বাংলাদেশে ঘুরতে যায় । দুরসম্পর্কের কেমন যেনো আত্বীয় আছে রহিমের খুলনাতে । বেশ কিছুদিনের যাওয়া-আসাতে পরিচয়ের বহরটাও বেড়েছে ।

সীমা আনসারি । পাশের বস্তিতে বসবাস করে । সংসারের খারাপ অবস্থায় , সংসারের হাল সীমা ধরে । সীমা সাহেব বাবুদের বাড়িতে রান্নার কাজ করে । রহিমের আত্বীয়ের বাড়ির সামনে দিয়েই যাওয়া-আসা সীমার । সীমা গরিব পরিবাবের মেয়ে হলেও দেখতে রূপবতী ।

যাওয়া-আসার পথে রহিম সীমাকে দেখে । আর মনে মনে ফন্দি আটে । কি ভাবে সীমাকে কাছে পাওয়া যায় ? শেষমেষ সীমার অভাবের দুর্বলতার সুয়োগ নিয়ে সীমাকে বাগে আনে । রহিম সীমা-কে কাজের লোভ দেখিয়ে ; সীমাকে ইণ্ডিয়ায় পাড় করে নিয়ে আসে । তারপর কাজের খোঁজে সীমা ও রহিম দিল্লীতে চলে আসে । রহিম সীমাকে ফ্ল্যাট বাড়ির কাজে ঢুকিয়ে দেয় । বেশ কিছু দিন রহিম ও সীমা এক সঙ্গে থাকতে থাকতে একটা সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় রহিম সীমাকে বিয়ে করে । বিয়ের পর সীমাকে রহিম আর কাজ করতে দেয় না । সীমা সংসার নিয়ে বেশ কাটছিল । বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একটা বাচ্চাও হয়ে যায় সীমার । বাচ্চার নাম রাখে আলী । বেশ কিছুদিন যেতে না যেতেই সীমার জীবনে অশান্তি শুরু হয় । সীমার প্রতি রহিমের অবহেলা , সীমাকে ভাবিয়ে তুলে । সীমা বুঝতে পারে না রহিমের অবহেলার কারণ ।

রহিম দিল্লীর এক ঠিকাদারের আণ্ডারে কাজ করতে শুরু করে । বছর ঘুরতে না ঘুরতেই । কাজের জায়গা থেকে পাশের পাড়ায় এক হিন্দু মেয়ে শালিনী নামে মেয়ের সঙ্গে রহিমের পরিচয় হয় । তারপর প্রেম । প্রেমে রহিমের বিবাহিত জীবনে ছন্দ-পতন ঘটায় । এবং শেষমেষ হিন্দু মেয়ে শালিনীকে রহিম বিয়ে করে । শালিনীর বিয়ের পর তার নাম হয় মমতাজ । সীমা এই বিয়ে কে মেনে নিতে পারে না । সীমা শালিনীর মানে মমতাজের কাছে একদিন এসে বলে, “রহিমকে তুমি ছেড়ে দাও । ”

কিন্তু মমতাজ সাফ জানায় , “না সে রহিমকে ছাড়তে পারবে না । কেননা সে রহিমের জন্য ধর্ম ও মা-বাবা সমস্ত পরিবার কে ছেড়েছে । তাই রহিমকে ছাড়া তার পক্ষে সম্ভব না । ”

সীমা আনসারী মমতাজ ওরফে শালিনীকে বাঁগে আনতে না পেরে । একদিন সীমা নিজের পথ পরিষ্কার করতে শালিনীকে ( মমতাজ ) মেরে ফেলে । প্রথমে শ্বাসরোধ তারপর ছুড়িকাঘাত । সীমা মমতাজ কে মেরে । রহিমকে ঘটণাটা মোবাইলে জানিয়েছিল । রুদ্র কণ্ঠে সীমা রহিমকে বলেছিল ,“ মমতাজ খুন হওয়ার জন্য দায় তোমার ।”

রহিম খবরটা পাবার সঙ্গে সঙ্গে গা ঢাকা দেয় । পুলিশ রহিমের বাড়িতে রেড করতে আসলে । রহিমের বাবা সত্যটা জানিয়ে দেয় । তারপর সীমাকে পুলিশ গ্রেফতার করেন ।

এখন সীমা আর সীমার নাবালক ছেলে আলী জেলে আছে । রহিম কোথাও নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছে । নিজেকে বাঁচাতে । পুলিশ রহিমকে পাগলের মত খুঁজে রেড়াচ্ছে । কিন্তু পাচ্ছেন না । অনুমান করছে পুলিশ রহিম বাংলাদেশেই আবার কোথাও গা ঢাকা দিয়েছে ।

( ঘটনা সত্য । নাম নিজের দেওয়া )
ছবি – আমার তৈরি

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 31 = 33