একশো টাকা পেঁয়াজ

ভর দুপুরে চরবাজারে
জ্ঞান হারালো ভোলা,
গমগমিয়ে উঠলো হঠাৎ
সমস্ত হাটখোলা।

কি বা হলো কেমনে হলো?
উঠলো শোরগোল,
হাটের মানুষ ভীর জমালো
বাজলো যেন ঢোল।

মাছ বাজারের হরি এলো
গাছ বাজারের গৌরি,
সবজি হাটের সলিম-কলিম
চলে আসলে দৌড়ি।

কেউ বা বলে বাতাস কর
মাথায় ঢাল পানি,
কেউ বা বলে টিপে ধর
কড়ে আঙুলের কানি।

বাতাস দিলো, পানি দিলো
ফিরলো না তো হুঁস,
কেউ বা বলে খাওয়ায় দেখ
গেলাস ক্ষানিক জুস।

জুস খাওয়ালো, ঠুস খাওয়ালো
লাভ হলো না কোন,
একজন বললো ডাক্তার লাগবে
আমি বলছি শোন।

ক্ষানিক পরে ডাক্তার এসে
বললো ভিষন রাগে,
হার্টফেল করে মারা গেছে
ঘন্টা খানেক আগে।

আম জনতা ধরলো চেপে
দোকানদারের গলা,
যেই দোকানে মসলা কিনতে
এসেছিলো ভোলা।

দোকানদারে সাফাই গাইলো
বললো নিজের পক্ষে,
তারপরেও কোনমতে
হলো না তার রক্ষে।

হর্ন বাজিয়ে ডজন খানেক
পুলিশ ঢুকলো হাটে,
জুটলো এসে সকল মানুষ
যারা ছিলো মাঠে।

ঘাটের মাঝি মাঠের চাষি
আসলো সবাই ছুটে,
শোর গোলে করিম মুদির
নিদ্রা গেলো টুটে।

পুলিশ এসে দোকানিকে
নিয়ে গেলো থানায়,
এই লোকটি খুন করেছে
পুলিশ গেলো জানায়।

জেল-গারদে দোকানিকে
দিলো লাঠির ডলা,
মারের চোটে দোকানদারে
শুরু করলো বলা।

দোহায় লাগে মারবেন না আর
বলছি দিব্যি কেটে,
লাঠির ঘায়ে রক্ত ঝরছে
গা খানি মোর ফেটে।

স্যার, চরবাজারে ব্যবসা করি
নেয়াজ আমার নাম,
আদা, রসুন, লঙ্কা, পেঁয়াজ
বেচাই আমার কাম।

জিনিসের দাম শুনে ক্রেতার
হার্ট করলে ফেল,
তার জন্য কি খাটতে হবে
দোকানদারকে জেল?

ভোলা এসে বললো আমায়
দাম কেমনরে নেয়াজ,
আমি শুধু বললাম তাকে
“একশো টাকা পেঁয়াজ”!

রম্য রচনা
রহমান বর্ণিল।
রচনাকাল-সাম্প্রতিক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 2