আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা………।

বাংলাদেশের বিখ্যাত সুবিধাবাদী দার্শনিক, পর্যালোচক, সমালোচক পিনাকি ভট্টাচার্যের মতে রংপুরের ঘটনার জন্য দায়ী হিন্দু ও প্রশাসন। তিনি টিটু রায়ের এফবি আইডি থেকে জানতে পেরেছেন যে তিতু রায় মারাত্মক রকমের উসকানি দিয়েছিল। কিন্তু তিনি এটা বুঝতে পারে নি এটা তার আইডি কিনা? টিটুর এফবি আইডির নাম Md titu. এই আইডি থেকে অনেক অশ্লীল ছবি আবার পারিবারিক ছবিও শেয়ার করা হইছে। জানি না তার মানসিক সমস্যা আছে কিনা? তবে কারো ন্যূনতম বোধ থাকলে নিজের আইডি থেকে এসব করবে না। যে পোস্ট টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেটি তার লেখা নয়। অন্য গ্রুপের পোস্টটি সে একবার শেয়ার ও কয়েকবার স্ক্রিনশট আকারে শেয়ার করেছে। যদি ধরেও নেই এটি তার নিজের আইডি এবং সে নিজেই এটা চালায়। তাহলে সে যখন দেখল এটা নিয়ে মামলা হয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, সে কি এটা ডিলিট করতে পারত না? সে কি এতই বোকা যে এটুকু বোঝার ক্ষমতা নেই। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার মত সাহস কোন সুস্থ মস্তিস্কের হিন্দুর আছে বলে মনে হয় না। আমি টিটুকে অপ্রকৃতিস্থ প্রমান করতে চাচ্ছি না। সে যদি এটা করে থাকে তাহলে তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য আইন আছে। কিন্তু কারো বাড়িতে আগুন দেয়ার অধিকার তো কাউকে দেয়া হয় নি।
জনাব পিনাকির মতে- রংপুরের ঘটনাকে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে ৫ দিন সিদ্ধান্তহীন ভাবে ফেলে রেখে (INACTION) তাতিয়ে উঠতে দিয়ে সহিংস হওয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ঠিক আছে মানলাম প্রশাসনের গাফিলতি আছে কিন্তু আপনার মুরিদদের বাড়িতে আগুন দেয়ার অধিকার কে দিয়েছে? তাদের যদি আগুন দেয়ার অধিকার থাকে তাহলে আইনের কি দরকার? যে যার মত অবিচারের প্রতিশোধ নিত।
তিনি আরও বলেছেন- কয়েকটি ঘরের চেয়ে মানুষের জীবন বেশি মুল্যবান। অবশই জীবনের মূল্য অনেক বেশি কিন্তু আপনাকে সেটা বলতে হবে ঘটনার প্রেক্ষিতে। সেখানে পুলিশ না থাকলে কি হতে পারত কল্পনা করেন। আপনি অন্যায় করতেছেন সেখানে পুলিশ বাধা দিলে আপনি যদি বাধা না মানেন বা পুলিশের উপরেই চড়াও হন তাহলে এমনটা ঘটা অসম্ভব না। আর তৌহিদি জনতার একটা মিছিল কি করতে পারে এটা নিশ্চয় অজানা না। নাসিরনগর, রামুর ঘটনা এত দ্রুত ভুলে যাবেন, এটা জানতাম না। পুলিশের উপস্থিতিতেই যদি এতোগুলা বাড়িতে আগুন দিতে পারে তাহলে পুলিশ না থাকলে বা গুলি না ছুড়লে কি হতো একটু ভাবুন।
অনেকের মতে- হিন্দুরা ফায়দা লোটার জন্য নিজের বাড়িতে নিজেরাই আগুন দিয়েছে। তারা মনে হয় বাড়ি পোড়ার কষ্টটা জানেন না। একদিন নিজের বাড়িতে আগুন দিয়ে দেখেন, কেমন মজা লাগে। আচ্ছা যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেই তারা নিজেরাই আগুন দিয়েছে। কিন্তু আপনাদের তৌহিদি জনতা ওখানে কি করতে গিয়েছিল। আগুন নেভাতে না আগুনে আলু পুড়ে খেতে। নিশ্চয় একটিও না। তাহলে তারা কি করছিল ওখানে?
বর্তমান সময়ে ধর্মানুভুতি একটি মরনঘাতি রোগের নাম। এটাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেরাও মরে অন্যকেও মারে। দিনে দিনে অন্য মানবিক অনুভূতিগুলো লোপ পেলেও এই একটি অনুভূতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ মানবিক হওয়ার পরিবর্তে হয়ে উঠছে ধর্মীয় পিশাচ।
জনাব পিনাকি সম্পর্কে কিছু কথা- তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম ফেসবুক সেলেব্রিটি। তিনি কিছু বইও লিখেছেন যদিও পড়া হয় নি। তিনি বর্তমান সরকারের অন্যতম সমালোচকও। সমালোচনা করেন খুবই ভালো কথা কিন্তু সেটা নিরপেক্ষ হওয়া চাই। নইলে আপানার পরিশ্রমটাই বৃথা যায়। আপনি কি সম্পর্কে বলতেছেন, কার সম্পর্কে বলতেছেন সেটা সম্পর্কে সঠিক ধারনা রাখতে হবে। এটাও খেয়াল রাখতে হবে আপনার কথাগুলো আকপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা? কোন কিছু সম্পর্কে না জেনেই হুট করে একটা কথা বললে তো হবে না। সে ক্ষেত্রে আপনার সম্মানহানির সম্ভাবনাই প্রবল। পিনাকি সাহেব সব জায়গাতেই সরকারের দোষ দেখতে পান। তিনি ইউরোপ, আমারিকার সবারই দোষ দেখতে পান কিন্তু মুসলিমদের দোষ দেখতে পান না। বাংলাদেশের হিন্দুদের দোষ দেখতে পারলেও মুসলিমদের অপকর্মগুলো দেখতে পান না। তিনি বামদের দোষ দেখতে পান কিন্তু হেজাজতে ইসলামের দোষ দেখতে পান না। ‘কোন কিছুই সমালোচনার উরদ্ধে না’ পিনাকি সাহেব এই কথাটি মনে হয় ভুলে গেছে। যদি আপনি প্রকৃতই সমালোচক হতে চান তাহলে নির্দিষ্ট একটা গ্রুপের পা চাটা বাদ দিয়ে প্রকৃত সত্য বলতে শিখুন। এতে আপনি অনেকেরই বিরাগভাজন হবেন, তাতে কি এসে যায়। সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে শিখুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 51 = 53