আওয়ামী লীগ বনাম লীগ কামড়ানিস

মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই এন্টি আওয়ামী লীগ কয়েক খান গ্রুপ আছে। এরা আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করতে গিয়ে ইতিহাসের বিরোধীতা, দেশের বিরোধীতা এমন কি নিজেরও করে বসে কখনও কখনও। আওয়ামী লীগ কোন তত্ব প্রতিষষ্ঠার জন্য শুরু হয়নি । আওয়ামী লীগ গণ মানুষের দল। সময় আওয়ামী লীগের জম্ম দিয়েছে। বাঙালিয়ানা এ দলের মূল দর্শণ। অন্য দিকে অন্যান্য দলগুলোর সময়ের প্রয়োজনে তেমন একটা জম্ম হয়নি। বেশির ভাগেরই জম্ম হয়েছে বিভিন্ন তত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে। আর কয়েকটির জম্ম বিদেশি ষড়যন্ত্রে। আওয়ামী বিরোধীতাকারীদের একটা অংশ এলিট শ্রেণীর। এরা ব্যাপক পড়ালেখা করা। তাই এদের কিছু প্রভাব স্বাভাবিক সমাজে আছে। এই প্রভাবে আওয়মী সমলোচনা কারো কারো কাছে ফ্যাশন এবং কারো কারো কাছে জ্ঞান প্রকাশের মাধ্যম হয়ে গেছে।

ক’দিন গ্রামে ছিলাম। বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা আগে থেকেই। তবে তেমন একটা জ্বালাও পোড়াও হয়নি কখনও। সেখানকার এক দোকানে মাঝে মাঝে দাঁড়াতাম সন্ধ্যার দিকে। আধা কিলোমিটারের মধ্যে ২/৩ টা দোকান। বাধের উপর পাকা রাস্তা। গাড়ি বলতে হোন্ডা কম সমংখ্যক ইজি বাইক, ইজ্ঞিনের রিকশা। রাতের দিকে দোকানে দাড়াতাম গাড়ি শব্দ শুনতে। নির্জন বড় রাস্তায় হঠাৎ ইজি বাইকের শব্দ কেমন যেন। যাইহোক দোকনদার আমাকে বললেন সামনের বার আওয়ামী লীগ আসলে উন্নয়ন হবে, এখনও হচ্ছে কিন্তু দেশে গণতন্ত্র থাকবে না। শান্তি আছে। কিন্তু গণতন্ত্রও তো থাকতে হবে। এর অবস্থা
“জলে টানে উত্তরে আর হাওয়ায় টানে দক্ষিনে” । যাক উনি একপেশে গোয়ার্তামী করেন নি । উন্নয়ন স্বীকার করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিরোধীতা করতে হবে।

এবার যাই শিক্ষিত শ্রেণীতে। বিভিন্ন সচেতন বন্ধু জন নিয়ে। কিছু দিন আগে কয়েক জন ভিসি আওয়ামী লীগে যোগ দিল। এ নিয়ে নেটে ব্লগে ঝড় শুরু হলো। গেলরে গেলরে। অথচ বিশ্ব বিদ্যালয় শিক্ষক রাজনিতী আইন সিদ্ধ। তবে অবসরের চার বছরের মধ্যে কেউ জাতীয় নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ভিসিরা না হয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ পদবীতে যোগ দিয়েছে ইদানীং কিন্তু ড. আনোয়ার হোসেন, আনু মোহাম্মদসহ অনেক অধ্যাপক, প্রাক্তন ভিসি আগে থেকেই দলীয় রাজনিতীর সাথে জড়িত। বিশ্ব বিদ্যালয়ে দলীয় মনোনয়ণ নিয়ে শিক্ষক নির্বাচন হয়। তা নিয়ে পত্রিকায়ও খবর হয় বড় করে। অথচ প্রায় প্রায় পড়া এ খবর তারা ভুলে গেছে – আওয়ামী লীগ শব্দটা শুনার সাথে সাথেই। আওয়ামী লীগে যোগ না দিয়ে জামাতে যোগ দিলেও কোন শব্দ করতো না কেউ। কিন্তু যেহেতু আওয়ামী লীগ তাই ………… ।

এবার আসি হালের গেল গেলতে। স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে। মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে ছাত্র রাজনিতী নিয়ে আমার অবস্থান- ছাত্ররাজনিতী বন্ধ হোক।
মূল প্রসঙ্গে যাই- ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি করা নিয়ে কেন গেল গেল করছেন? স্কুলের ছাত্র রাজনিতী শুরুতো বৃটিশকাল থেকেই। বঙ্গবন্ধুসহ উপমহাদেশের অনেক নেতার রাজনিতী শুরু স্কুল জীবন থেকেই। ৭২ সালেও বাংলাদেশে স্কুল ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে বলে জানি। দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগের এ কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। এখণ শুরু হলো আবার। আওয়ামী লীগ এতদিন বন্ধ রাখলেও শিবির, মৌলবাদী দল কিন্তু বন্ধ রাখেনি। তারা নামে, বেনামে ছাত্রদের তাদের রাজনিতীর দিকে ঢুকিয়েছে। তারা ড্যাডিকেটেড কিছু কর্মী/ক্যাডার তৈরি করেছে এটা মানতে হবে। কারণ তারা স্কুল লেভেল থেকেই চেতনার ভিতর বিনয়ের সাথে তাদের দর্শন তৈরি করেছে। সেজন্যই অনেক মেধাবী ছাত্রকেও দেখি ডাই হাট জামাত করতে। আমার জানা মতে কমিনিস্ট পার্টি ও কোন কোন বাম দলের এমন স্কুল ভিত্তিক রাজনিতীর নিয়ম আছে। যদিও এগুলো নিষ্ক্রিয়। ডানপন্থী করছে, বামপন্থী করছে আর বাংলাপন্থী আওয়ামী লীগ করলে আপনাদের গেল গেল শুরু হয় কেন একবার ভাবেন। আওয়ামী লীগকে কোন না কোন কারণ দেখিয়ে কামড়াতেই হবে।

বর্তমানে চলমান জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, পাকি প্রেম, রাজনিতীতে ধর্মের ব্যাবহার, ইউরোপ-আমেরিকার অনুসরণ ইত্যাদির বিরুদ্ধে ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে স্কুল ভিত্তিক ছাত্রলীগের সঠিক কার্যক্রম। ১০-১২ বছরের মধ্যে আমরা বাংলায় ফিরতে পারবো। আজকে যে আফ্রিদি প্রিতি এসব থাকবে না। ছাত্রলীগের হাত ধরে নতুন ফ্রেশ বাঙালি জেনারেশন বের হতে পারে। কিন্তু লীগ কামড়ানিসরা সেটাও হতে বাধা দিচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

30 − 29 =