আজও বাতাসির রাত মিশে বাতাসে। ধুম ধুম ধুম

বণিক বাড়ির রান্নাঘর থেকে হৈ-হল্লোড় ভেসে আসছে। বাড়ির বৌ ঝি সহ, কাছের আত্নীয় বাড়ীর মহিলারা এসেছে শীতের পিঠা বানাতে। পিঠা পাঠানো হবে মেয়ের শ্বশুড়বাড়ী। এ অবস্থা দেখে ভ্যান চালক নুরু মিয়া ও তার পুত্র চোরা কামাল বৌয়ের উপর চওড়াও হলো। চোরা কামাইলা নেশার টাকা যোগাড় করতে পুরানো জাঙ্গিয়া পর্যন্ত চুরি করে। গ্রাম দেশে এমন উদাহরণ কয়েক শতাব্দী পর এক দুবার পাওয়া যায়। কামাইল্লার মা ও বোন এসে বৌ বাতাসির উপর চওড়া হলো। সবার একই কথা ছেলের বৌ বাড়ি থেকে কেন শীতের পিঠা আসছে না।

বাতাসির শ্বাশুড়ী কখনও কখনও চাল ভাঙ্গার কলে কাজ করে। তার কন্ঠ বেজায় কর্কশ। বাতাসির মা বাজার ঝাড়ু দেয়। বাপে ৬ মাস জেলে নৌকায় কাজ করে, সাগরে যায়। বাকি ৬ মাস ঠিক ঠিকানা নাই।

বণিক বাড়ির বিদেশ শিক্ষিত আল পাচেনো স্টাইলে চুল কাটে। নুরু মিয়ার ছেলেও চোরা কামাইল্লাও কম যায় না- সে মুন্ন ভাই অক্ষয় খানার স্টাইল ফলো করে। অক্ষয়ের মতো পোশাক পরত যদি পারত। এমন কি বাতাসির ভাই আকবর যে কিনা বাপের ভাগে পাওয়া কয়েক কেজি মাছ বাজারে বিক্রি করে, বাকি সময় চরে ঘোড়ার ঘাস বেচে সেও তামিল স্টাইলে চুল কাটে মোছ রাখছে।

বাতাসির চুলে কাটের সাথে দেশি নায়িকা মৌসুমীর আগের চুলের স্টাইলের সাথে কিছুটা মিলে।

উম হম বণিক বাড়ির পোলার হাতে একটা স্যামসং আছে। চুরা কামাইল্লা ঠিক করেছে টাকা জমিয়ে এমন একটা মোবাইল কিনবে। চুরি করতে পারলে মমমমম।

বণিক বাড়ির পিঠার রিতীর গন্ধ রিক্সাওয়ালা নুরু মিয়ার বাড়ি পৌছানোর পর তা “পিটা”তে বিবর্তিত হলো।

বাতাসি ধুম ধুম। ধুম ধুম বাতাসি। আজও বাতাসির রাত মিশে বাতাসে। ধুম ধুম ধুম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 − = 25