মুহাম্মদের লুটের মাল

বলা হয়ে থাকে মুহাম্মদ আল্লার দূত এবং আল্লার হুকুমে দ্বীন কায়েম করতে যেয়ে সত্তরের অধিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। এটা এখনো বোধগম্য নয় যে – সত্য প্রতিষ্ঠা করতে, মানুষকে সঠিক পথের দাওয়াত দিতে কেন যুদ্ধ করতে হবে? যুদ্ধের নামে হত্যা করতে হবে? নারীকে ভোগ করতে হবে? সম্পদ লুট করতে হবে?
আর সে যুদ্ধ যদি হয় আল্লার নামে, তবে এ আল্লা কেমন সৃষ্টিকর্তা? নাকি পুরোটাই মুহাম্মদের চালাকি!
সত্য বা দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দেওয়া যেতে পারে, জীবন নিয়ে কি সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে মুহাম্মদই ভালো জানে?

মুহাম্মদের কথায় জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে তার সাহাবীরা। কিন্তু মুহাম্মদ যুদ্ধ লব্ধ লুটের মালের ভাগ সবাইকে সমান ভাবে দেয়নি ।যা স্পষ্টত মুহাম্মদ আসল রহস্য উম্মোচন করে দেয়।কথিত আল আমিন বলে খ্যাত মুহাম্মদ নিজের লোকদের সাথেই করেন বেঈমানি। তাফসীর ইবনে কাসির থেকে – “হুনাইন যুদ্ধের পর নবী যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সকলের মাঝে বন্টন করে দিতে থাকেন। বন্টনের সময় অনেকেই সন্দেহ পোষন করলো যে উক্ত বন্টন সুষ্ঠ হচ্ছে না। এদের মধ্যে যুল খুয়াইসির নামক এক ব্যাক্তি নবীকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্টভাবে বলেই দেন যে – “ন্যায়নীতি অবলম্বন করুন। এ বিচারে আপনি সুবিচার প্রদর্শন করেননি। ”
তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন – “আল্লাহ তো আমাকে বিশ্বস্ত রুপে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আমি যদি সুবিচার না করি তবে তো তুমি ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। “((মুহাম্মদ যখনই কোন জায়গায় কট খেতেন হুমকি আর ভয় দেখানো ছিলো তার শেষ ভরসা))
লোকটি চলে গেলে ওমর বলেন -হে আল্লাহর রাসূল, আমি তাকে হত্যা করে ফেলি, আমাকে এ অনুমতি প্রদান করুন। “(4র্থ খন্ড)
অসম বন্টনের আরও একটি হাদিস দেখুন – “ইয়াহইয়া ইবনুল বুকায়ব (রহঃ) জুবায়ের ইবনুল মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্নীত, তিনি বলেন, আমি এবং উসমান ইবনুল আফফান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বললাম আপনি খায়বারের প্রাপ্ত খুমুস থেকে বনী মুত্তালিবকে অংশ দিয়েছেন, আমাদেরকে দেননি। অথচ আপনার সাথে বংশের দিক থেকে আমরা এবং বনী মুত্তালিব একই পর্যায়ের।তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিঃসন্দেহে বনী হাশিম এবং বনী মুত্তালিব সমমর্যাদার অধিকারী।যুবায়র (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) বনী আবদেল শামস ও বনী নাওফিলকে (খায়বার যুদ্ধের খুমুস থেকে কিছুই দেননি।

মুহাম্মদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো দ্বীন প্রতিষ্ঠা নামে সম্পদ লুন্ঠন, নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করা।ক্ষমতার আধিপত্য দিয়ে সাহাবীদের সাথে প্রতারণা। খায়বার যুদ্ধে ইহুদী দলপতি হুমাঈ ইবনু আখতার এবং তার জামাতা কেনানা ইবনুর রাবী যুদ্ধে নিহত হয়।গনিমতের মাল হিসেবে নববধূ সাফিয়্যা প্রথমে এক সাহাবীর অংশে পড়ে। পরবর্তীতে অন্য সাহাবীদের কাছে সৌন্দর্যের বর্ণনা এবং নববধূ শুনার পর মুহাম্মদ তাকে চাতুরীতার আশ্রয় নিয়ে নিজের করে নেন।
সহীহ বুখারী :3886 – সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আনাস (রহঃ)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যকার যুদ্ধে (খায়বার যুদ্ধ) সক্ষম লোকদের হত্যা করলেন। আর শিশু ও মহিলাদেরকে বন্দী করলেন। বন্দীদের মধ্যে ছিলেন সাফিয়্যা [বিনতে হুইয়াই (রাঃ)]।প্রথমে তিনি দাহইয়াতুল কালবীর অংশে এবং পরে নবী (সাঃ) তাকে আযাদ করত এই আযাদীকে মোহর ধার্য করেন (এবং বিবাহ করেন)। (আরও পড়তে বুখারী -3896)।

লুটের মালের ভাগ নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে অনেক দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া যায় বিভিন্ন হাদীস থেকে।
‘ফায় ‘ থেকে প্রাপ্ত অংশের ভাগভাটোয়ারা নিয়ে সাহাবীরা মনমালিন্য হলে ওমর হস্তক্ষেপে এর সমাধান করতে হয়েছিলো।
লুটের মালের বন্টনে মুহাম্মদের স্বজনপ্রীতিরও আবাস পাওয়া যায়।
“আবদান ও আহমদ ইবনুল সালিহ (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে গনিমতের মাল থেকে আমার অংশে আমি একটি উট পেয়েছিলাম।’ ফায় ‘(বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) থেকে প্রাপ্ত এক পঞ্চমাংশ থেকেও সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি উট প্রদান করেন। আমি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমার সাথে বাসার রাত যাপন করার ইচ্ছা করলাম এবং বনু কায়নকা গোত্রের এক ইয়াহৃদী স্বর্ণকারকে ঠিক করলাম যেন সে আমার সাথে যায়। (বুখারী -3713)
উল্লেখ্য যে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের বাৎসরিক ভাতা পাঁচ হাজার দিরহাম নির্ধারিত ছিল।

বর্তমান শাসকরা যেমন অবৈধ সম্পদে ফুলেফেঁপে উঠে নেতৃত্ব ধরে রাখতে চায়, মুহাম্মদের মাঝেও সেই গুণটি ছিলো। ক্রমান্বয়ে নিজের সম্পদ, আত্মীয় সম্পদ তদুপরি দলের সম্পদ বৃদ্ধিই শাসকবৃন্দের পছন্দ। তাই মুহাম্মাদকে মহামানব ভাবার কোন কারণ নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − = 13