ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ও সুমহান মর্যাদা

এক মোল্লা ধর্মীয় জ্ঞান দিতে এসেছিলেন। তাকে বললাম, ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ও সুমহান মর্যাদা। আমার কথা শুনে মোল্লার দীঘল ঘনকালো দাড়ির মধ্যখান থেকে সাদা দাঁতের ঝিলিক লক্ষ্য করলাম। মোল্লা বললেন, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত! নারীকে এতো সম্মান আর কোন ধর্ম দেয় নি।’
মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলাম, এর জন্য কি সারাক্ষণ মায়ের পায়ের নিচে বসে থাকতে হবে? মোল্লা হেসে বললেন, না। মাকে কাজেকর্মে সাহায্য করতে হবে, মায়ের পাশে দেয়ালের মতো দাঁড়াতে হবে, সম্মান করতে হবে ইত্যাদি।

মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলাম, স্বামী যদি তার স্ত্রীকে প্রহার করে তখন কি সন্তানের উচিত পিতাকে উলটো প্রহার করা? মোল্লা বললেন, পিতার গায়ে সন্তানের হাত তোলা গুনাহ। প্রতিত্তুরে বললাম, তাহলে কি মায়ের উচিত স্বামীর গায়ে হাত তোলা? মোল্লা ভ্রূ কুঁচকে বললেন, না, কখনোই না। স্বামীর উপর হাত তোলা ইসলাম সমর্থ করে নি।

মোল্লাকে বললাম, তাহলে ইসলাম নারীকে কি সম্মান দিলো? স্বামী স্ত্রীকে প্রহার করতে পারলে স্ত্রী কেন স্বামীকে চড় থাপ্পড় মারতে পারবে না? এখানে তো সমতা হল না! মোল্লা কিঞ্চিত বিরক্তির সাথে উত্তর দিলেন যে, স্ত্রীকে সঠিক পথে রাখার জন্যে কখনো কখনো স্বামী একটু আধটু শাসন করতেই পারে। মোল্লাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে স্বামীকে সঠিক পথে রাখার জন্য স্ত্রী কেন একটু আধটু শাসন করতে পারবে না? মোল্লা হেসে বললেন, তুমি ঠিক মতো বুঝতে পারছ না। নারী ও পুরুষ তো সমান না। মোল্লাকে বললাম, আপনি তো বললেন ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, তাহলে নারী ও পুরুষ সমান হবে না কেনো? সমান যদি না-ই হয়, তাহলে সুমহান মর্যাদা কোথা থেকে পেলো? মোল্লা বললেন, তুমি তো কথা শুরু করেছিলে ঠিকভাবেই, তাহলে হঠাৎ ইসলামবিরোধী কথা বলছ কেন?

মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলাম, সমতার প্রশ্ন তোলাতেই কি ইসলামবিরোধী হয়ে গেলাম? মোল্লাকে আরও জিজ্ঞেস করলাম, ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্মান ও মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত – এই দুটি বাক্য ছাড়া কি নারীর জন্য আর কোন বাক্য অবশিষ্ট নেই? মোল্লা বললেন, নারী কোমল, দুর্বল; নারীদের দেখে রাখা পুরুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলাম, নারী যদি কোমল ও দুর্বল হয়েই থাকে, তাহলে কোমল ও দুর্বলের উপর আঘাত, প্রহার করা কি সঠিক, যুক্তিযুক্ত? এতে কি প্রমাণ হয় না ইসলাম দুর্বলের উপর আঘাত করে পুরুষতন্ত্র বজায় রাখতে চায়? নারীর ক্ষেত্রে কোমল ও দুর্বল শব্দদ্বয় ব্যবহারের সাথে সাথেই কি প্রমাণ হয় না যে ধর্ম নারীকে যথাযথ সম্মান দেয় নি? মোল্লার চকচকে দাঁত আর দেখা যায় না। একাধিক প্রশ্ন করাতে মোল্লা ক্ষুব্ধ, উত্তেজিত।

মোল্লা বললেন, ইসলাম নারীকে যে সম্মান দিয়েছে তা তুমি বুঝতে পারছ না। মোল্লাকে বললাম, তাহলে আপনি বোঝান। মোল্লা বললেন, প্রথমে তোমার চিন্তার পরিবর্তন করতে হবে এবং এইধরনের প্রশ্ন করা থকে বিরত থাকতে হবে। মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলাম, প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকলেই কি ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও সুমহান মর্যাদা দিয়েছে তা প্রমাণ হবে? মোল্লা খুব বিরক্ত ও রাগান্বিত। মোল্লা বললেন, আল্লাহ্‌র নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই ইসলামবিরোধী, নাস্তিক, কাফেরের লক্ষণ।

মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলাম, একজন নারীর তত্ত্বাবধানে পুরুষেরা কেনো নামাজ পড়তে পারবে না? একজন নারীর পেছনে পুরুষেরা দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে তা কেনো আল্লাহ্‌ কবুল করবে না? নামাজ পড়ার সময় পুরুষের পেছনেই কেনো নারীকে দাঁড়াতে হবে? এটা তো অবিচার। তাহলে কি নারীকে দুর্বল হিসেবে পরিচয় করানোই ইসলামের দৃষ্টিতে সম্মান ও সুমহান মর্যাদা?

মোল্লা বললেন, নাউজুবিল্লাহ, তুমি নাস্তিক। মুরতাদ। ভয়াবহ!
ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ও সুমহান মর্যাদা।- আমি বললাম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 − = 85