ছফার চোখে তসলিমার যত দোষ

============================ আহমেদ ছফা সাহেবের ভাষ্যমতে, তসলিমা নাসরীনের ‘লজ্জা’ কিংবা ‘বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা’-এই কতিপয় কারণ গুলোই বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান কে উগ্রপন্থী করেছে কিংবা উগ্রপন্থী হতে উস্কানি দিয়েছে, যা পরোক্ষ ভাবে অধিক হারে হিন্দু নির্যাতনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।ধরে নিলাম, ছফা সাহেবেই ঠিক–তাহলে প্রশ্ন, আচ্ছা এই লোক গুলো কি এই ‘লজ্জা’ কিংবা ‘বাবরি মসজিদ’ ভাঙ্গাতেই উগ্রপন্থী /জিহাদি /জঙ্গি মানসিকতা সম্পূর্ণ হয়ে গেল??একদিনের ঘটনা কিংবা ‘একখানা বই’ই কি তাদের একবারে ‘শান্তির কবুতর’ থেকে ‘অশান্তির শকুন’ রূপান্তরিত করে দিল??নাকি এই ‘উগ্রতা /জঙ্গি মানসিকতা ‘ তাদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত অবস্থায় ছিল, যা অনুকূল পরিবেশ পেয়েই বিকাশিত হয়ে পড়ল’–এই প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞ ছফা সাহেব-ই ভাল দিতে পারতেন ?? আবার, প্রশ্ন উঠে, শুধু এই ‘লজ্জা’ই নয় বরং তার অনেক আগে থেকে সেই ১৯৪৭কিংবা তারা অনেক আগে থেকেই ইতিহাসে ভুরিভুরি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনার নজির বাঙালি কিংবা উপমহাদেশীয় ইতিহাসে আছে?’৭১ এর পরেও স্বাধীন বাংলায় অনেক নজির আছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের এবং তা বর্তমান পর্যন্তই চলমান রয়েছে??–তাহলে ছফা যে বললেন, ‘তসলিমাই দায়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য,তার লেখাই শান্ত মুসলিম মন কে সাম্প্রদায়িকতার বিষে নীল করে দিয়েছে।কিন্তু বাঙালির ইতিহাস, উপমহাদেশের ইতিহাস তো বলে অন্য কথা বাঙালি মুসলিম মনে সাম্প্রদায়িকতা বহু বছর বহু যুগ আগেই প্রাপ্ত,এ কথা উপমহাদেশীয় হিন্দু সমাজের ক্ষেত্রেও সমান সত্য। তাহলে ইতিহাস ও ছফার কথা বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট যে ছফা সাহেব যে দোষরোপ করেছেন ‘তসলিমা’ কিংবা ‘বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার’ কারণে হঠাৎ-ই বঙ্গ মুসলিমরা উগ্রবাদী হয়েছে- তা আসলে সত্য না??তারা সাম্প্রদায়িক কিছুটা উগ্রবাদী বহুযুগ আগে থেকেই অর্থাৎ এ সাম্প্রদায়িকতা হঠাৎ সৃষ্ট নয়।বরং ‘লজ্জা’ কিংবা ‘বাবরি ভাঙ্গার’ আগে বঙ্গ মুসলিম সমাজে যে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ‘নীরব চোষণ পর্ব ‘চলছিল তা ‘লজ্জা’ কিংবা ‘বাবরি ভাঙ্গার’পর আর বৃহৎ আকার ধারণ করে সেই ‘নীরব চোষণ ‘কালক্রমে এখন শক্ত থাবায় পরিণত হয়েছে যা এখন শুধু সংখ্যালঘুদের ঘরই পোড়ায় না,তা বাঙালি সংস্কৃতি অংশ ‘নববর্ষ উৎসব পালন কে চ্যালেঞ্জ করে’, রাষ্টীয় ক্ষেত্রে ‘সংবিধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েছে’, –এখন বাঙালি সমাজে সাম্প্রদায়িকতা স্ব-নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠিত শক্তি। যা হউক ছফা সাহেব আরেকটি দোষারোপ করেছেন তসলিমা’র নামে তিনি বাঙালির শান্তিপূর্ণ সমাজকে ‘ধর্ম বিরোধী লেখা লিখে/নারীর সমানাধিকার চেয়ে/ধর্মের সমালোচনা করে’ অশান্ত করে তুলছেন-এখন কথা হল, তা হলে কি শান্তি নষ্ট হওয়ার ভয়ে কি সত্য বলা, লেখা সব বন্ধ করে দিব,ছফা সাহেব নিজেও অনেক সময় সত্য বলে বিভিন্ন দলের লোকদের উগ্রতা বৃদ্ধি করেছেন, যা তার তথাকথিত শান্ত পরিবেশ কে কিছুটা হলেও অশান্ত করেছিল–এই সব ভেবে কি ছফা সাহেব সত্য বলা, লেখা সব ছেড়ে দিয়েছিলেন???? অবশ্য ছফা সাহেবের ‘শান্ত শান্তিপূর্ণ সমাজের সংজ্ঞা আমার জানা নেই’।কিভাবে নীরবে সংখ্যালঘু শোষণে লিপ্ত একটি সমাজ ‘শান্তিপূর্ণ সমাজ’ হিসেবে পরিগণিত হয় এর উত্তর ছফা সাহেবেই সবচাইতে ভাল দিতে পারতেন!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ছফার চোখে তসলিমার যত দোষ

  1. রকমারী ডট কমের পাতায় পাতায়
    রকমারী ডট কমের পাতায় পাতায় দেখি আহমদ ছফার বই ঝুলে থাকে। আমার মনে আছে ২০১৪ সালে ফারাবীর হুমকি পেয়ে এই সাইট যুক্তিবাদী লেখক অভিজিৎ রায়ের সমস্ত বই এই সাইটে রাখা বন্ধ করেছিলো। আর তসলিমা নাসরিনের বই সেতো আগুন হয়ে যাবে এই রকমারীরর জন্য। এরপর এখন আবার দেখি পিনাকির বই ঝুলে থাকে শেখানে। আর মুমিনিও হাদীস আর কোরানের ব্যাখ্যা দিয়ে ছেলে ভোলানো বই তো আছেই নিয়োমিন আয়োজন। এই সব দেখে এখন আমার মনে হয় শেখানে যাদের লেখা ঝুলে থাকে তারা সবই পিনাকী টাইপের লোক তাই আহমেদ ছফাও হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 4 =