আলোকিত মানুষেরা যে জঙ্গিবাদী ও ধর্মান্ধদের চক্ষুশুল


আলোকিত, প্রজ্ঞাবান, সুশিক্ষিত এবং বিবেকবান মানুষেরা চিরদিনই ধর্মান্ধ ও জঙ্গিবাদীদের চক্ষুশুল ছিল। আলোকিত, প্রগতিশীল মানুষেরাই পারে সমাজকে, একটি দেশকে আলোকিত করতে। তারা পারে একটি জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলতে। আর ঠিক এখানেই জঙ্গিবাদীদের ভয়, ধর্মান্ধদের ভয়। আলোকিত মানুষদের কলমের কালি যে তাদের চাপাতি, রাম দা, ছুরির চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী। জঙ্গিবাদী ও ধর্মান্ধরা কখনও চায় না একটি জাতি বিবেক জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক, সচেতন হয়ে উঠুক, নিজেরাই নিজেদের ভালমন্দ বুঝতে শিখুক।

জঙ্গিবাদীরা এবং ধর্মান্ধরা সাধারণ মানুষকে কুসংস্কারাছন্ন রেখেই তারা তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিল করতে চায়। একজন হুমায়ুন আজাদকে, একজন রাজীব হায়দারকে এবং একজন অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে ফেললেই আলোকিত মানুষেরা নিঃশেষ হয়ে যায় না। তাদের মত আলোকিত মানুষেরা একটি সমাজ ও দেশে প্রতিনিয়তই জন্মায়। শুধু দরকার একটু সাহসের এবং জাতির বিবেককে জাগিয়ে তোলার।

প্রশাসনের উচিত এসব আলকিত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া এবং এসব জঙ্গিবাদীদের সমূলে নির্মূল করা। সম্প্রতি পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে বিরাজমান সমস্যার মত বাংলাদেশেও ধর্মান্ধ জঙ্গিরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা, আইএস, বুকো হারাম, ইত্যাদি সংগঠনগুলোর মত বাংলাদেশেও হিজবুত তাহেরির, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, জামায়াত-শিবির ইত্যাদি প্রাণঘাতী সংগঠনগুলোও ধর্মের অজুহাতে তাদের জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের দেশের সাধারণ জনগণকে তাদের বিরুদ্ধে সজাগ ও সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে। সত্য ও জ্ঞানের আলোয় জাতি যত বেশী আলোকিত হবে, দেশে জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসীদের অবস্থানের স্থান ততই সংকীর্ণ হয়ে আসবে; তাদের অস্তিত্ব ততই বিপন্ন হয়ে উঠবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য তাদেরকে সামাজিকভাবে এবং জাতিগতভাবে বিতারিত করতে হবে। তাদেরকে সমূলে নির্মূল করার দায়িত্ব শুধু কোন সরকারের একার কাজ নয়। সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব জঙ্গিবাদীদের প্রতিহত করতে হবে।

উল্লেখ্য, সমাজে জঙ্গিবাদ এবং ধর্মান্ধতা দিন দিন যত বেশী বৃদ্ধি পাবে জাতির মেধাবী সন্তানেরা ততবেশি অনিরাপদ হয়ে পড়বে। জঙ্গি- ধর্মান্ধদের ভয়ে মেধাবীরা কোণঠাসা হয়ে পড়বে। সরকার তথা প্রশাসনের এ ব্যাপারে কঠোর থেকে কঠোরতর হতে হবে। যেকোন মূল্যে প্রশাসনের সর্বশক্তি কাজে লাগিয়ে এসব ঘাতক মৌলবাদী- জঙ্গিবাদীদের দেশের কোনা-কোনা থেকে তন্ন-তন্ন করে খুঁজে বেড় করতে হবে। আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সর্বোপরি, এসব ধর্মান্ধ, উগ্রবাদি এবং জঙ্গিবাদীরা যে সমাজের ক্যান্সার। দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের মেধাবী এবং আলোকিত প্রগতিশীল মানুষদের বাঁচাতে হলে, দেশকে সার্বিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে ক্যান্সারের জীবাণু বহনকারী এসব জঙ্গিবাদী-মৌলবাদীদের যে নির্মূল করতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের বসবাস উপযোগী সুষ্ঠু ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের মেধাকে লালন করা শিখতে হবে। জাতি হিসেবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা একবার মেধাশুন্য হয়েছিলাম। আবার নতুন করে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে এসে ধর্মীয় অজুহাতে মৌলবাদী-জঙ্গিবাদীদের হাতে আমাদের নতুন প্রজন্মের আলোকিত ও মেধাবী সন্তানদের হারাতে চাই না।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক
@M.KhurshadAlam

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

94 − = 90