বিবেক

প্রতিটি মানুষের ভেতরেই একটা শূন্যতা কাজ করে, মানুষকে অস্থির করে তোলে, হৃদয়ে সৃষ্টি করে অপূর্ণতার এক অনুভূতি। প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ উপায়ে চেষ্টা করে অপূর্নতার এ অনুভূতিতে চেপে রাখতে এবং একটা সময় পর্যন্ত আমরা সফলও হই। আমাদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা, হাসি-আড্ডা, ভোগ-বিলাস, পারিবারিক সুখ-দুঃখের স্রোতের নিচে চাপা পড়ে যায় এ শূন্যতা। তবুও একেবারে দূর হয় না। একাকী মুহুর্তগুলোতে থেকে থেকে ঐ অনুভুতি মাথা চাড়া দেয়।

আমরা চেষ্টা করি, সজ্ঞানে অথবা অবচেতনভাবে এ শূন্যতাকে যে ভাবেই হোক পূরন করতে। খেলা, মিউজিক, সিনেমা, “বন্ধু-আড্ডা – গান”, ক্যারিয়ার, প্রেম, নতুন গ্যাজেট, নতুন পোশাক, নতুন গার্লফ্রেন্ড (কিংবা বয়ফ্রেন্ড), পার্টি, ড্রাগস– কিছু না কিছুর মাঝে ডুব দিয়ে আমরা চেষ্টা করি অপূর্ণতার এ অনুভূতিকে দূর করতে কিন্তু এসব দিয়ে সাময়িক ভাবে ভুলে থাকা গেলেও বুকের ভেতরের শূন্যতাটাকে পূরণ করা যায় না। বাঁধ দিয়ে রাখা যায় কিন্তু এ স্রোতকে দমন করা যায় না। আর যখন বাঁধ ভেঙ্গে যায় তখন বন্যার মতো সমস্ত চেতনাকে, সমস্ত অস্তিত্বকে গ্রাস করে এই শূন্যতাকে।

আপনি কি জানেন কেন আপনার ভেতরে এ শূন্যতা কাজ করে?

কারন আপনি, আমি, আমরা সবাই শেকড় ছেঁড়া। আমরা এই পৃথিবীর জন্য তৈরি না। এ দুনিয়া আমাদের যাত্রাপথে একটা সাময়িক স্টপেজ মাত্র। আমাদের মুল গন্তব্য, আমাদের মূল ঠিকানা অন্তহীন পরকাল কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই চাই যাত্রাপথের এই স্টপেজেই চিরকাল থাকতে। আমরা চাই চিরন্তন জীবনকে ভুলে এ নশ্বর পৃথিবীকে আঁকড়ে থাকতে। জীবন মাত্রই মরনশীল যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে সবকিছু একদিন না একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। চোখের সামনে এই ধ্রুবসত্য থাকার পরও অবহেলায় কাটিয়ে দিই এ জীবন। একবারও ভেবে দেখার অবকাশ পাইনা, কেনই বা জন্মেছিলাম, কেনই বা মরন হবে?

জন্ম দিয়ে যে পথ চলা শুরু করি ভায়া মরন দিয়ে মরনহীন জীবনের দিকে এগিয়ে চলি। এক কথায় পৃথিবী ও পরকালকে জুড়ে দেওয়ার সেতু মাত্র। যে সেতু পার করে মানুষ অন্তহীন জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। যতোই আমরা এ দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরে আমাদের ভেতরের শূন্যতাকে পূরন করার চেষ্টা করছি, ততোই আমাদের অন্তরে আস্তরণের সৃষ্টি হচ্ছে। বিষাক্ত এ দুনিয়া আমাদের অন্তরকে কলুষিত করছে। ভাল – মন্দ, ন্যায় – অন্যায়ের অনুভুতি একটু একটু হারিয়ে ফেলছি। আমরা পরকালের জীবনকে ভুলে পৃথিবীর পেছনে ছুটে মরছি। মরিচিকা সুদৃশ্য পৃথিবীর পেছনে ছুটতে গিয়ে পিপাসার্ত হয়েই মারা পড়ছি।

শূন্যতা নামক এই ভয়ংঙ্কর দুষমনের হাত হতে মুক্তির উপায় কি?

শূন্যতার কবলে পড়া মানুষকে উদ্ধার করার কোনো রাস্তায় কি খোলা নেই?

আসলে রাস্তা আমাদের সকলের জানা কিন্তু সেই সোজাপথে না চলে জীবনকে দূরহ করে তোলাটা আমাদের ধমনীতে প্রবাহিত। প্ররোচিত মন ও প্ররোচিত বিবেক আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু।
?efg=eyJpIjoiYiJ9&oh=e43e0c7dab23f5ce660fac785c284033&oe=5AE31119″ width=”500″ />

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 55 = 64