বিলাইছড়িতে দু’বোন ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেঃ নারী সংহতি

বিলাইছড়িতে মারমা দু’বোনের ধর্ষক-যৌনসন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

“পাহাড়-সমতল-বেডরুম-বর্ডার সর্বত্র জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে নির্যাতিতদের ওপর নজরদারি বন্ধ কর”

এ রাষ্ট্র নাগরিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তার দায় এড়িয়ে ক্রমাগত আরও অগণতান্ত্রিক এবং চরম স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে। একে টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্র খুনি-ধর্ষক-যৌন সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে। ক্ষমতাধর ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় নারী-শিশু ধর্ষক, যৌন নির্যাতকের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিণত হওয়ার কারণে পাহাড়ে-সমতলে কোথাও নারীর নিরাপত্তা বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না। সাংবিধানিকভাবে জাতিগত বৈষম্য জারি রেখে বিভিন্ন জাতিসত্তার ওপর নিপীড়ন অব্যাহত আছে।

এরই ধারাবহিকতায় সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি ২০১৮ দিবাগত রাতে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়ি গ্রামে মারমা দু’বোনকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কর্তৃক ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়নি বরং গত ২৩ জানুয়ারি মারমা দুই বোনকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তাদের নিরাপত্তার বাহানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। একই সময়ে দেখা গেল, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই হাসপাতালেই চাকমা রানী ইয়েন ইয়েন ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের দ্বারা হামলার ঘটনা ঘটে, এমনকি স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া যায়।

এখানে মারমা দুবোনের উপর সংঘটিত ধর্ষণ-যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে চাকমা রানীসহ স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের দ্বারা যৌন সন্ত্রাস বিচ্ছিন্ন কোনো নতুন ঘটনা নয়, বরং কল্পনা চাকমার অপহরণসহ পাহাড়ে অব্যাহত নারী নির্যাতন রাষ্ট্রের নারী বিদ্বেষী চেহারাকেই তুলে ধরছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পালিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা জনগণকে নিরাপত্তা না দিয়ে পাহাড়ে ধর্ষণ-যৌন সন্ত্রাস এবং জাতিগত নিপীড়ন চালাচ্ছে। রাষ্ট্র নির্লজ্জভাবে এর দায় স্বীকার বা কোনো ধরনের বিচারের ব্যবস্থা না করে উল্টো নিপীড়িত ও তাদের সহায়তাদানকারীদের ওপর আবারও হামলা ও যৌন নিপীড়ন চালিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বক্তারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্রের কোথাও স্থায়ীভাবে সেনা নিয়ন্ত্রণ চলতে পারে না, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসীদের ওপর বছরের পর বছর চলে আসছে।

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নারী সংহতি’ আয়োজিত বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ থেকে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন নারী সংহতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কানিজ ফাতেমা। এতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ পরিচালনা করেন নারী সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মরিয়ম।

সমাবেশে সংহতি জানান, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, সিপিবি নারী সেলের কেন্দ্রীয় সদস্য লুনা নূর, বাংলাদেশ নারীম্ুিক্ত কেন্দ্রের সদস্য তিথি চক্রবর্তী, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর আহ্বায়ক বহ্নিশিখা জামালী, বিপ্লবী নারী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক আমেনা আক্তার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, লেখক গবেষক রেহনুমা আহমেদ, লেখক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশান্ত ত্রিপুরা, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, শিক্ষক শিল্পী বড়ুয়া, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণের ঢাকা শাখার সভাপতি বিথী ঘোষ, অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন, মানবাধিকারকর্মী নাজনীন শিফা, ইলামিত্র শিল্পীগোষ্ঠী রাজশাহী শাখা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) এর সভাপতি অলিক মৃ প্রমুখ।

প্রতিবাদী সমাবেশ হতে বক্তারা মারমা নারীদের ওপর সংঘটিত সকল ধর্ষণ, যৌন সন্ত্রাস এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে হামলার সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। পাহাড়ে চলমান সকল খুন-ধর্ষণ, গুম-দখলদারিত্রে বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং পাহাড়-সমতল-বেডরুম-বর্ডার সর্বত্র জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।

বার্তা প্রেরক
কানিজ ফাতেমা
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক

(নোটঃ লেখাটি সম্পূর্ণ নারী সংহতি প্রেস রিলিজ থেকে কপি পোষ্ট করা)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 3