পরশু, গতকাল আমার মন খারাপের দিন ছিল

পরশু, গতকাল আমার মন খারাপের দিন ছিল। আজও কিছুটা রয়ে গেছে। তিন বছরের নাম না জানা একটা মেয়ে মন খারাপ করে দিয়েছে। আমার স্নেহের ছোট ভাই বিভাসের মেয়ে। বিভাসের সাথে সম্পর্কের শুরু ফিল্মে অর্নাস করতে গিয়ে। বিভাসের পুরা পরিবার থাকে ঈশ্বরদীতে। তাদের বাড়ীতেও গেছি। ওর বাবা মা খুব খুব ভালো মানুষ। খালা খুব সাহসী মানুষ। রেলওয়ে চাকরী করেন। খালু নির্বিরোধী, নিরীহ টাইপ মানুষ। মুক্তিযোদ্ধা। অধ্যাপক। গাছ,পালা, সাহিত্য নিয়ে থাকেন। আমাকে খুব পছন্দ করেন গণজাগরণের কারণে। তাছাড়া বিভাস পাগলামী করতো। বিভাসের লোকাল অভিভাবক আমরাই। বিভাসের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ নাই অর্নাস শেষ করার পর থেকে। এনটিভিতে চাকরী করতো। কিন্তু আমার বিষয়ে ওর বেশ পাগলামী ছিল, আছে। ২০১৫ সালের শুরু দিকের কথা সম্ভবত। ভোর রাত। হঠাৎ বিভাসের ফোন!! এখন তো এই পাগলামী করার সময় না ওর। বিয়ে করছে। ধরলাম। হাউমাউ করে কান্না। আমি হতভম্ব। ভাবলাম খালা, খালু…….. !! ঐ সব না। সে স্বপ্নে দেখছে আমারে মেরে ফেলছে। ওর বৌ সাথে কথা বললাম। ঐ প্রথম। সে বিব্রত- ভাইয়া ওরে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম, পরে ফোন দিতে বলছিলাম……………….. ।
বিভাসের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলেও বিভাসের একমাত্র ছোট ভাই, ওর আত্না বিকাশের সাথে যোগাযোগ বেশ নিয়মিত। বিকাশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যতত্বে পাশ করা। প্রেম করে পারিবারিক ভাবেই বড় ভাইয়ের আগেই বিয়ে করেছিল এক সহপাঠীকে। কিন্তু……….. । সামনা-সামনি কেউ বুঝতো না তার ভিতরের কষ্ট। সে অপেক্ষা করে ছিল তার বৌএর জন্য, প্রেমিকার জন্য। খুব হাসিখুশি। সে বিকাশ কয়েক মাস আগে হঠাৎ করেই মারা গেল। হয়তো ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যাচ্ছিল শারিরীক ভাবেও। কাউকেই বলেনি। আহারে স্বপ্নবাজ বিকাশ!!! বিকশিত হওয়ার আগে অভিমানে ফুরুৎ
” যাওয়া আসার এ যন্ত্রণা জানলে জনম হতো না আমার
কেন যে আসিলাম ভবে কোথায় যাবো
নিয়া আসলাম ষোল আনা
আমার যাইবার কালে কাফন মেলে না”।

প্রায় এক দেড় বছর পর বিভাস কাল ফোন দিল। এর ভিতর আমি ফোন দিয়ে ছিলাম কিন্তু কথা হয়নি। বিকাশের মৃত্যুর পরও না। বিভাস এমনই। কাল ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো আমার বই আসছে কিনা, খালা খালু ঢাকায় এসেছে, মেলায় যাবে। আমি যাবো কিনা। আমি এবার মেলায় যাবার সময়ই পেলাম না। এক পর্যায়ে বিভাসের তিন বছরের মেয়ে কথা বলতে চাইল। দারুন স্মার্ট। কড়কড় করে কথা বলে। চাচ্চু কবে আসবা? কই তুমি? আরও কত্ত কত্ত কথা। আমার হঠাৎ মনে হলো ও অণ্যকে কোন চাচ্চুর কথা বলছে। তারপর বাই বলে চলে গেল। বিভাস- ভাই বিকাশের সাথে ওর সারাদিন ফোনে কথা হতো, বিকাশ ঢাকায় থাকলে সারাদিনই বিকাশের সাথে থাকতো। এখণ কেউ ফোন করলে এসে জিজ্ঞাসা করে কে? আপনাদের সাথে কথা বলার সময় বলি- চাচ্চু। ও ভাবে বিকাশ। তাই এ চকলেট টকলেট চায়, ধমক দেয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

96 − = 90