যে জীবন মৃত্যুর চেয়েও যন্ত্রণাময়!

সারাদিন পড়ে থাকি ঘরে, চলাফেরা সীমিত। এমন একজন মানুষ নেই অামার কাছে যাকে মনের কথা খুলে বলা যায়। বিশ্বেস করুন, এমন একজনও নেই।
(মোবাইলে কথা বলে কি অার সামনাসামনি কথা বলার তিয়াস মেটে?)
যে দু’একজন ভারতীয়ের সাথে সামান্যতম পরিচিত ছিলাম তাদেরকেও এখন এভয়েড করে চলি, তাদের পুরুষতান্ত্রিক মনোবৃত্তির কারণে।

মাঝেমাঝে পার্কে গিয়ে চারদিক দেখি, নিরবে বসে দেখি। মানুষের প্রাণবন্ততা দেখি।
কত মানুষ হাসছে, কত মানুষ খেলছে, কত মানুষ গান গাইছে!
অামি বড় নিসঙ্গ, বড় একা।
অামার একাকীত্ব নিয়ে কেউ ভাবে না, অামার বিষণ্ণতা নিয়ে কেউ ভাবে না, অামার বন্দিদশা নিয়ে কেউ ভাবে না।
হে ইসলামি মৌলবাদী সম্প্রদায়, প্লিজ অামাকে কুপিয়ে যাও, তোমাদের বেহেশত গমন নিষ্কন্টক কর। নাস্তিক মুফতিকে মারার সোয়াব কেন মিস করতে চাও?
তোমাদের কাছে অামার লোকেশন প্রকাশ করা হয়েছিল একবার, এবার অামিই তোমাদের কাছে অামার লোকেশন প্রকাশ করবো
প্লিজ অামাকে কুপিয়ে যাও…..এই নিঃসঙ্গতার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়।
কোপানোর সময়ে যথাসম্ভব জোরে কোপ দিও, যাতে তাড়াতাড়ি মৃত্যু হয়।

অনেকদিন যাবত শান্তি প্রতিষ্ঠা হচ্ছেনা জিহাদি ভাই। অন্য কাউকে দিয়ে নয়, বরং প্লিজ অামাকে দিয়ে অাবারো একটু শান্তি প্রতিষ্ঠা কর।
তোমাদের শান্তির ধর্ম এতই শান্তিপূর্ণ যে সন্তানকে পিতার থেকে ছিনিয়ে নেয়, মাকে সন্তান থেকে পৃথক করে দেয়, ভাইকে ভাইয়ের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। শান্তির জন্য মানুষের ঘাড়ে চাপাতি বসায়।
তোমাদের শান্তির ধর্মের শান্তিতে অামি পরম সুখে সুখিত!
এসো হে জিহাদি ভাই, শান্তি প্রতিষ্ঠা করে যাও!
তোমরা অামাকে তওবা করতে বল, তাই না? তওবা অামি করেছি, শান্তিধর্মে ফেরা হতে তওবা করেছি, এ তওবার রদবদল হবে না।

তোমরা যারা অামার ফোন নাম্বার, লোকেশন চাচ্ছ তারা দ্রুত ইনবক্সে যোগাযোগ কর, বেহেশতের স্টক সীমিত। যত কোপ তত নেকি, এ তো তোমাদের মহানবীর অমিয় শান্তিবাণী!
জান্নাত তরবারির ছায়াতলে, এটাও তো তোমাদের ‘শান্তিনবীর’ শান্তিবাণী।
এসো হে প্রিয় জিহাদি, কুপিয়ে যাও নাস্তিক।

অাজ হোক কাল হোক মরতে হবেই। অার যেহেতু বেহেশত-দোজখে বিশ্বাস করিনা, সেহেতু মরতেও কোন ভয় পাই না।

যেভাবে বেঁচে অাছি তাকে মৃত্যুর চেয়েও অধম বলা যায়। এমন জীবন চাই না, তবে অামি পরাজিত পুরুষ নই যে, নিজেকে নিজে নি:শেষ করে দেব। বরং বীরত্বের সাথেই হোকনা মৃত্যুটা!
হে জিহাদি ভাই, তোমার কি সাহস হবে অামাকে কোপানোর? তোমার কি সাহস হবে সামনে থেকে এসে কোপানোর?
প্লিজ চলে এসো, বসন্তের এই সু-লগনে তোমার বেহেশতের টিকেট কনফার্ম করে নাও, অার অাল্লাহর দোজখের অাকাল দূর কর। অামারও একাকীত্ব ঘুচুক।
তোমাদের অাল্লাহর দোজখে লোক পাঠানোর ঠিকাদারি তোমাদের ঘাড়েই চাপিয়েছেন অাল্লাহ রাব্বুল অালামীন, সুতরাং এ দায়িত্বে কেন অবহেলা করবে?

নিরানন্দ এ ক্ষণগুলি, নিরালোক এ বেলাগুলি, নিরাশ্রয় এ দেহখানা না হয় রক্তস্নাত হয়ে বিদায় নেবে!
বাংলাদেশে থাকতে বেঁচে থাকার অাগ্রহ ছিল, প্রকাশিত হওয়ার অাগ্রহ ছিল।
এখন অামি প্রকাশিত, অতএব এখন মরলেও দুখ নেই। হাজারো অালেম, লাখো জনতা এখন মনেমনে এক্স মুসলিম। তারাই এগিয়ে নেবে মুক্তচিন্তার এ অান্দোলন।

অামার পৃথিবীটা এখন বড় তিক্ত। অামার অাকাশটা বড্ড নিল।

কি হবে অার চাঁদনি রাতের অাকাশের নিচে বসে থেকে?
কি হবে অার সী বিচের ছাতার নিচে বসে থেকে?
কি হবে অার বসন্তের কোকিলের ডাক শুনে?
কি হবে অার থোকায়থোকায় ফোটা পুষ্প দেখে?

নিল চাঁদোয়া, সাগরের ঢেউ, কোকিলের ডাক, প্রস্ফুটিত ফুল দেখে যে অানন্দ পাই তা কার সাথে শেয়ার করবো?
বড় স্বার্থপর এক জগতের বাসিন্দা অামি।
এখানে গাছের পাখিটাও বুঝছে না অামার একাকীত্ব, এখানে সাগরের গর্জনও দেখছে না অামার গুমরে মরা দুখ, এখানে নিল অাকাশও শুনতে পাচ্ছে না অামার বিষাদ-কাব্য!

এ পৃথিবীতে একজন মাসুদ না থাকলে কিছু যায় অাসেনা কারো।
এ পৃথিবীতে একজন মাসুদ হারিয়ে গেলে কারো কিছু অাসবে-যাবেও না।
বরং একজন মাসুদের মৃত্যুতে কারো হবে জান্নাত যোগ, অার কারো হবে নাম যোগ।
মানুষের উপকার করার জন্য নিজেকে বলি দিতে পারলে অামি অবশ্যই ধন্য হবো।
সুইসাইড করবো না কোনোকালেই। কারণ, প্রথমত অামার দৃষ্টিতে এটা পরাজিত লোকদের কাজ। অার দ্বিতীয়ত, যাদের সুখের কথা ভাবছি তারা তো অার উপকৃত হবে না!
তাই হে বেহেশতের অনুগামী মোহাম্মদী জাতক, বল কোথায় এলে কিভাবে এলে তোমাদের সুবিধে হয়?
অামি অাসবো, তোমাদের নবীর যেহেতু রক্ত খুব পছন্দ – হৃদয়ের রক্ত এবং শরীরের রক্ত – তাই তোমাদের নবীর নামে তোমরা চাইলে চাপাতি এখন থেকে শান দেয়া শুরু কর।

চারদিকে কত মানুষ গিজগিজ করছে, কেউ অামাকে চেনে না।
মানুষ মানুষের কত কথাই তো শুনছে, লাইভেও কত মানুষ অামার কথা শুনছে, কিন্তু কই কেউ তো অামার কাছে এসে অামার কথা শুনছে না!
যদিওবা শুনতে চায় অামিই তো বলতে পারিনা। অামি বিশ্বাস করি না কোন হিন্দু কিংবা মুসলিমকে। অার মানুষ, সে তো বড় দুষ্প্রাপ্য বস্তু এখন।
কাউকে পেলেই বা কি হবে?
প্রাণখুলে কি কথা বলা যাবে?
কি হবে বললে? সহানুভূতি দেখাবে? ভালোবাসা দেখাবে?
কেন যেন ভালোবাসায়ও অামার অভক্তি এসে গেছে, ঘৃণায়ও অভক্তি এসে গেছে, পানিতে অভক্তি এসে গেছে, বাতাসে অভক্তি এসে গেছে।

যারা অামার ভিডিও এবং পোস্টের কমেন্টে অামাকে কতল করার জন্য মরিয়া হয়ে যান তারা কোথায়?
প্লিজ যোগাযোগ করুন অামার সাথে।
চাপাতি নিয়ে সোজাসুজি চলে অাসবেন। জানেন তো, মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী!
অামাকে কোপাতে এলে অাপনাকে বাঁধা দেব না, কিন্তু মোহাম্মদের নাম উচ্চারণ করলে অাপনার কপালে বিপদ হতেও পারে, না-ও হতে পারে! কারণ অামি জানিনা, খালি হাতে অাপনার চাপাতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবো কিনা!

অামি কোন বাহাদুরি দেখাচ্ছি না। অামি কেবল একাকীত্ব দূর করতে চাই। মানুষ মৃত্যুকে পরোয়া না করলে যেকোনো কিছু করতে পারে, অামি তো এখন মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছি না!

হে জিহাদি সম্প্রদায়, এটা নয় নিছক অাবেগ। এটা সত্যিকার সত্য কথা।
বেহেশতের স্টক শেষ হওয়ার পূর্বেই লুফে নাও এ অফার!
তোমাদের হুর-প্রাপ্তি এবং অামার নিঃসঙ্গতা-মুক্তি হোক না একসাথে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

90 − = 88