বিদেশে জ্ঞান রপ্তানি : রপ্তানিকৃত জ্ঞানের মুনাফা লুট সমাচার

এদেশ থেকে যুগে যুগে অনেক কিছুই রপ্তানি হয়েছে এবং এই রপ্তানি প্রক্রিয়া মূলত কালিকট রাজ্য থেকে শুরু হয়েছিলো (বিপ্লবী সত্যেন সেনের লেখা ‘মসলার যুদ্ধ’ গ্রন্থটিতে খুব ভালো করেই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কথা বিবৃত করা হয়েছে) । এই ভারতবর্ষে বাণিজ্যের নামে পর্তুগীজরা ও পরবর্তী ব্রিটিশরা লুন্ঠন-নির্যাতন চালু করেছিল এবং শোষিত জনগণের উদ্বৃত্ত মূল্য কেন্দ্রীকরণ করে আজ তারা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সেই লুট করার প্রক্রিয়াটা এখনো রয়ে গেছে, কিন্তু এখন প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি দুইটাই পরিবর্তন করেছে। তারা তখন কল্যাণমূলক কথা বলতো, সভ্য রাষ্ট্রের কথা বলতো- কিন্তু সেইসব ছিল শুধু বাণিজ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য ও শোষণের ভিত শক্ত করার জন্য। যেটা এখনো হচ্ছে। আজ নয়শত বছর পরেও সেই একই দৃশ্য!

আমরা শুধু অবাক হই যে, এদেশের লুটেরা কতটা ছিঁচকে-ছেঁচড়া হতে পারে। কিভাবে তারা সাম্রাজ্যবাদীদের আশীর্বাদ পুষ্ট হওয়ার জন্য একটি দেশের প্রায় সকল জাতীয় পণ্য রপ্তানি করে ক্ষান্ত হতে না পেরে এই দেশের শেষ শক্তিটুকু মানুষের জ্ঞান পর্যন্ত রপ্তানি করতে উদ্যত হয়। শিক্ষামন্ত্রী আজকাল অর্থমন্ত্রীর কাজও করা শুরু করেছে! এই সব শুধু এই দেশেই সম্ভব। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৫ মার্চ একটি সভায় বিদেশে জ্ঞান রপ্তানির কথা বলেছেন বলে বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে পড়ে লেগেছে সমাজ সচেতন একটি মহল, কিন্তু বছরের পর বছর যখন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাথে দেশীয় পণ্য, কাঁচামাল, তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি করা হয় তখন এমনটা দেখা যায় না। কোন প্রতিবাদ তো না’ই।

এখন দেশ থেকে নিটঅয়্যার সামগ্রী ও ওভেন গার্মেন্টস এই দুটি পণ্যই বেশি পরিমাণে রপ্তানি হয় । এর বাইরেও বৃহৎ পরিমাণে চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিকজাত, হোম টেক্সটাইল, কৃষি পণ্য, জুতা, হিমায়িত খাদ্য, প্রকৌশল পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও মানুষের চুল রপ্তানি হচ্ছে। এ ছাড়াও সীমিত আকারে হাতে তৈরি আঁশ ও তুলা, বিশেষত টেক্সটাইল সুতা, কারপেট, কাঠ ও কাঠের তৈরি পণ্য ও সিরামিক পণ্যও রপ্তানি হচ্ছে।

কিন্তু এত কিছু রপ্তানির পর যদি এখন এদেশের জাতীয় পুঁজি খুঁজতে যায়, দূরবীন দিেয়ও তা খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ হচ্ছে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এদেশের জাতীয় পুঁজি যাতে অগ্রসর না হয় সেই ব্যবস্থাও করে রেখেছে, এদেশীয় পুঁজিবাদী দালালদের দিয়ে। এই ব্যবস্থা যতদিন না উৎপাটন করা হচ্ছে ততদিন এ দেশের মানুষের মুক্তি এই গণ্ডির মধ্যেই রয়ে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 9