বোকা বাবাটা:

– বোকা বাবাটার বড় মেয়েকে বোকা বাবাটার বড় ছেলে বলেছিল : বুবু তোমার আব্বারে আমি আব্বা ডাকি?
বোকা বাবাটা নিজের ছেলে মেয়ে ছেড়ে ব্যাস্ত তখন গরীবরে, কৃষকরে, শ্রমিকরে ক্ষুধার যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচাতে। জেলের ভিতর পঁচতে।
– বোকা বাবাটা পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজত্বকালে ১৫ বছরের কাছাকাছি জেলে খেটেছে। বোকা বাবা বড় অপরাধী ছিল। বোকা বাবা বাঙালির ভালো চাওয়ার মতো বড় অপরাধ করতো খেয়ে না খেয়ে।
– বোকা বাবাটা ২৫ মার্চ পালিয়ে গেলে ঢাকার ম্যাসাকার আরও অনেক বেশি হবে, তার সাথে বোকা বাবাট ভাবতো তার জিবীত থাকার চেয়েও বাঙালদের স্বাধীনতা জরুরী। বোকা বাবাকে ধরে পাকিস্তানীরা ওয়ারলেসে সংকেত দিয়েছিল “বিগ বার্ড ইন কেইজ।
– শত্রু, রেজাকারের বউ, পরিবার এসেও সাহায্য চাইলে বোকা বাবাটা ফিরিয়ে দিত না। বাবা তো বখাটে হয় না, সন্তান ভুল করে। আহারে বোকা বাবা! বোকা বাবা!
– জিয়ার শত্রুরা কথা জেনেও বোকা বাবা সরল ভেবেছিলেন বয়সকালে ঠিক হবে। কম বয়সের অভিমান। বোকা বাবা। বোকা বাবা।
– গোআযমের প্রোরচনায় সৌদী আরব বাংলাদেশিদের জন্য হ্বজ নিষিদ্ধ করে ছিল। বোকা বাবা দেন-দরবার করে দিষেধ তুলিয়েছেন। বোকা বাবাটা ইসলামি ফাউন্ডেশন বানিয়েছেন, বোকা বাবাটা বলতো আমরা “ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী” । আহা বোকা বাবা, বোকা বাঙালির বোকা বাবা। কেউ কেউ এখন বলে তিনি ইসলামের শত্রু।

বোকা বাবাটার শরীরে যখন বুলেট ঢুকছিল তখন তিনি একটুও ব্যাথা পাননি। সেদিনের আকাশ, বাতাস, ধানমন্ডিলেক, বোতল ব্রাশ, শিরীষ, রেইনট্রিরা সাক্ষী, সাক্ষী লেকের পানি, মাছ, ছোট ছোট ঢেউগুলোও বোকা বাবা সেদিন ব্যাথা পাননি বিস্ময়ে।

আজ বাঙালির বোকা বাবাটা, ভালো বাবাটার জম্মদিন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1