কূটতর্ক নয়- কওমী প্রেমিকদের প্রতি জিজ্ঞাসা..

অগ্রজ ছাত্রনেতা পিনাকী ভট্রাচার্যকে বলছি, হাওয়াই দাওয়াইয়ে বিশ্বাসী হলে তো- হাওয়ার পক্ষেই থাকতাম! দুই শিবিরের কোন এক দিকে, খুব সহজেই মিলতাম! আমার একটি নোটে তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কথাগুলো বলা! এ লেখা উনার কোন মন্তব্যের জবাব নয়। যে কথার জবাব অনেক ভাবেই দিয়েছি। তাই আর নতুন করে বলছি না। কূটতর্ক নয়- কওমী প্রেমিকদের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা..‍!

কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলাম যদি কখনো ক্ষমতায় আসে বা ক্ষমতা পায় তাহলে তার কি করবে? তারা কি বাংলাদেশকে উদার গণতান্ত্রিক, সভ্য, আধুনিক, মানবিক কোন সমাজ-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে? না’কি বাংলাদেশে মানবের তৈরী আইন-সংবিধানের বিপরীতে- আল্লাহর আইন ও কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিকে দেশ চালাবে? কোনটা? নিশ্চয়ই তাদের যে ঘোষিত-লিখিত কর্মসূচী আছে তার ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করবে? সমাজের প্রভাব, পরিবর্তনটা কি আপনারা দেখছেন না..?

তাহলে ভাই সকল তাদের সেই ঘোষিত-জিহাদী কর্মসূচী টা কি?

বাংলাদেশে যে কোন ইসলামী রাজনৈতিক দল, যেমন, জামায়াতে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে তারা কি করবে? ইসলামী হুকুমত কায়েম করবে, না’কি? কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ চালাবে না’কি? তারা দেশে পাশ্চত্যেরা ধারার গণতন্ত্র কায়েম করবে?

এখন প্রশ্ন হেফাজত ইসলাম তো কোন রাজনৈতিক দল নয়‍! তারা তো রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন নেয়নি। তারা তো নির্বাচন করছে না, তাহলে তারা ক্ষমতায় যাবে কিভাবে? আর ক্ষমতায় না গেলে তো দেশে ইসলামী আইন-শাসন হবে কিভাবে? অতএব বাংলাদেশে সেটা হবে না। বা তারা ক্ষমতায় গেলেও আমি যেগুলো বলছি, সেগুলো করবে না, বা করতে পারবে না!

কওমী কেবলি একটি শিক্ষার ধর্মভিত্তিক ধারা! হেফাজত কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক একটি সংগঠন, যার উদ্দেশ্য কওমীর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা! তা এই শিক্ষার উদ্দেশ্য কি? তারা এখান থেকে তালিম নিয়ে কি করতে চায়? কওমী শিক্ষার পরিষ্কার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আছে একটু জেনে কথা বলুন! আর যদি জেনে থাকেন, তাহলে আপনাদের আমার কথায় লাগার কথা নয়? নিজেরা আধুনিক সমাজে থাকবেন, সব সুযোগসুবিধা ভোগ করবেন, নিজেদের ছেলেমেয়েদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াবেন, বিদেশ ভ্রমনের জন্য পছন্দ করবেন ইউরোপ-আমেরিকা, আর দেশকে রাখতে চান আফগান ও সৌদির ধারার শাসনে! মাদ্রাসা শিক্ষার কোন পরিবর্তন না এনে, তাকে সেখানেই রেখে, সুবিধা বঞ্চিত অসহায় এতিম ছেলেমেয়ের প্রতি দরদ-ভালবাসা মুলত চুড়ান্ত স্বার্থপরতা ও ধান্ধাবাজী!

কওমী মাদ্রাসার লোকজন তো ভোটই বিশ্বাস করে না, নির্বাচন মানে না। তারা এটাকে শয়তানের কামড়াকামড়ি মনে করে! তাবলিগ জামাতের যারা ঘোর সমর্থন ও সংগঠক তারাও ভোট দিতে যায় না, ভোটকে সমর্থন করে না! তারা মনে করে, তার/তাদের ভোটে যে নির্বাচিত হবে সে যদি অন্যায় করে, আকাম করে তার দায়দায়িত্ব তার উপর এসে পড়বে। তার পাপ হবে। এজন্য হাসরের মাঠে তাকে জবাবদিহি করতে হবে! এ জন্য তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে না। তারা রাজনীতির সুবিধাভোগী হবে কিন্তু তার নৈতিবাচক কোন কিছুর অংশীদার হবে না!
যে কথা বলায় অনেকের মাথা ঘোরে, আকাশ থেকে পড়েন, অন্য গ্রহের ভাবেন, তারাই বলুন- আমার কথাগুলো অমুলক কি’না?

এ জন্য তারা ভোটের বাক্সকে তারা বলে, শয়তানের বাক্স! এ জন্য তাদের স্লোগান, বিপ্লব বিপ্লব, ইসলামী বিপ্লব! ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু, মানি না! আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান! আপনার কানে আসেনি এই আওয়াজ? এতটা বধির! না’কি দলান্ধ, ধর্মান্ধ? তারা ভোটের মাধ্যমে নয়, শান্তিপূর্ণ পথে নয়, তারা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়! দেখেন না বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ইসলামপন্থীরা শান্তির পথে, ভোটের পথে না যেয়ে বোমাবাজি, খুনাখুনি, কাটাকাটির পথ বেছে নিয়েছে! মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষা করছে। যত ধ্বংস, বিপর্যয় ততো বাণিজ্য! তাদের অর্থের উৎস কোথায়?

শুনুন কিভাবে ধর্মের নামে, নবীর নামে- অবলিয়ায় জিহাদী জোসে, প্রকাশ্যে মানুষ খুনের কথা বলে যাচ্ছে..! https://www.facebook.com/kallal.mondal1/videos/1618915881531671/

১. বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ এই গানটাকে কি তারা জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহন করবে, না’কি বাতিল করবে? যদি বলেন যে না, সেটা তো করবে কেন? তাহলে প্রশ্ন তাদের কোন অনুষ্ঠানে, কোন ইসলামী দলের কোন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশ করা হয় না কেন? কেন বাংলাদেশের কোন কওমী মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না? পরিবেশন হয়না? শোনানো হয় না? তারা কি বাংলাদেশের মানুষ না? অন্য গ্রহের মানুষ? তখন আপনাদের মনে হয় না কে কেন গ্রহে অবস্থান করে? তাহলে কি বলতেই হয় তারা, একে জাতীয় সংঙ্গীত হিসেবে এখনই গ্রহন করেনি-, ক্ষমতা তো দূর কি বাত!

শুনুন জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে তাদের ভাবনা- https://www.facebook.com/kallal.mondal1/videos/1601343819955544/

২. শহীদমিনার, স্মৃতিসৌধ, অপরাজেয় বাংলা, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা, দূর্জয় বাংলা প্রভৃতি বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংগ্রাম সম্বলিত ভাষ্কর্য-ষ্মারক কি এরা আস্ত রাখবে? তারা কি কখনো শহীদ মিনারে, স্মৃতিসৌধে কখনো শহীদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে? না জানানোর কারণ কি? কারণ তারা একে বেদাত মনে করে, শিরক মনে করে! তাহলে যে সব মুসলমানরা এগুলো করছে তাদের সবাইেক ঈমানদার মুসলিম মনে করছেন না! তারা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শহীদমিনার ও স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়া হবে না! এগুলো নিশ্চিহ্ন করা হবে। যেমন আফগানিস্তানে করা হয়েছে।
লালন, দূরন্ত ভেঙ্গেছে কারা? হাইকোর্টের ভাষ্কর্য অপসারণ কাদের দাবীর পুরণ..?

৩. তারা প্রকাশ্যে বলছে এবং তাদের ঘোষিত-প্রকাশিত বিষয় তারা ক্ষমতায় যেতে যায় মানবরচিত সংবিধান মানুষের শান্তি দিতে পারে না তাই, আল্লাহ তৈরী আইন, কোরআন, সুন্নাহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচলানা করতে চায়! অনৈসলামিক, ইসলামী মূল্যবোধ বিরোধী সবকিছুকে তারা ধ্বংস করবে। এটা কি গোপন কোন কিছু? সেটাই যদি করে, তাহলে কি? আমি যে কথা গুলো পূর্বের স্টেটাসে বলেছি, বিষয়গুলো আবার একটু মিলিয়ে দেখুন! সেখানে কোথায় আপনার বিরোধ বা আমার ভুল? তারা নিশ্চয়ই ক্ষমতায় যেয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে না!

৪. এখন প্রশ্ন করতে পারেন, মানুষ যদি তাদের সমর্থন দেয়, তাদের ভোট দেয়, তাহলে আপনার কি করার আছে? অবশ্যই আমার কিছু বলার আছে। এবং আমার যা বলার আছে, সেটাই তো আমি বলেছি! সবাইকে সতর্ক করছি, হুশিয়ার করছি! তাতেই তো মনে হলো, আপনাদের বাড়া ভাতে ছাই পড়ল! এখন আপনারা বলুন, প্রমান করুণ, আমি যা বলছি, বিষয়গুলো সত্য নয়! এখন যেমন আছে, তেমনি থাকবে! তাহলে তাদের রাজনীতিটা আসলে কি? তারা কি করতে চায়? তারা বলছে ইসলামী শাসনের কথা কিন্তু তারা আসলে একটা আদর্শ উদাননৈতিক গণতান্ত্রিক শাসন আমাদের উপহার দেবে? সেটাই কি মানতে হবে? বিশ্বাস করতে হবে?

৫. তারা কি বাংলাদেশের নারী স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নেতৃত্ব কি সমর্থন করে? তাদের দলে কি কোন নারী নেতৃত্ব আছে? কখনো কোন মঞ্চে কি তাদের বক্তৃতা দিতে দেখেছেন? জাতীয় সংসদ নির্বাচেন কোন নারী প্রার্থী দেখেছেন? আর যেটুকু চুপচাপ আছে, যা করছে সেটা লোক দেখানো, কৌশল! বিভিন্ন স্থানে নারীদের খেলাধূলায় বাধা দিচ্ছে। যেখানে যতটুকু পারছে, নারী এগিয়ে যাওয়াকে বাধাগ্রস্থ করছে! আপনার কি হুজুরের ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ ভুলে গেলেন?

৬. তারা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জিনিষটা কি? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা, মুক্তিযুদ্ধের চাওয়া। সেটা কি ছিল? সেটাকে এক কথায় বলা যায় মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি। যেটা ৭২ এর সংবিধানে ৪ রাষ্ট্রীয় স্তম্ভ হিসেবে গ্রহন করা হয়। (১) বাঙালি জাতীয়তাবাদ (২) ধর্মনিরপেক্ষতা (৩) গণতন্ত্র ও (৪) সমাজতন্ত্র

একটু বলবেন কি? এর কোনটাকে তারা সমর্থন করে? কিভাবে সমর্থন করে? মূলত, এর কোনটাকেই তারা সমর্থন করে না! আর সে কথা বললেই, ভারতের দালাল, তাদের তাবেদার! ভালই বলেছেন, এতদিন ছিলাম রুশের দালাল এখন হলাম ভারতের! জন্ম নিলাম বড় হলাম বাংলাদেশে। ছিলাম জাপানে, এখন আছি কানাডায় আর দালালি করি ভারতের! যে দেশের রাজনীতি সম্পর্কে আমার আগ্রহ এখন সামান্যই!

যদি বলেন, এটা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা তার ভিত্তি কি? ৭০এর নির্বাচন, ৭৩এর নির্বাচন। স্বাধীনতাকামী সকল দল ভোট পেয়েছিল প্রায় ৯৩ ভাগ! তার মানে এর বিরোধীতা করা মানে এই চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা বেঈমানী করা।

৭. তারা বাঙালী সংস্কৃতির বিরোধীতা করেন, তাকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি মনে করেন। ভারত উপমহাদেশের একটা ইতিহাস আছে। সেটা আমার বানানো নয়, তাই সংস্কৃতির বিকাশ, প্রকাশ, প্রভাব, প্রচার, প্রকাশ, অনুকরণ, অনুসরণ নিয়ে কথা না বাড়াই। কেবল বলি যে ধারাবহিকতা চলে আসছে এবং মানুষ যা আনন্দে পালন করছে ধর্মের নামে তাকে বাধা দেয়া হচ্ছেনা, বিরোধীতা করা হচ্ছে না? নিজেরা বিভিন্ন বলাবক্তব্যে এর বিষোধাগার করছেন, ঘৃণা ছড়াচ্ছেন! এর ক্ষমতায় গেলে কি রমনার বর্ষবরণ কি চলবে, হবে? না’কি দোয়াখায়ের হবে, মোনাজাত হবে? এদেশের ভাষা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র কোন কিছুই দোয়া, মোনাজাত, পানিপোড়া, তাবিজ-কবজে আসেনি!

শুনুন বিজয় ডিসেম্বর, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারী, শিখাচিরন্তন, ১ লা বৈশাখ প্রভৃতি সম্পর্কে ভাবনা- https://www.youtube.com/watch?v=vGr5wCQxtZc

৮. কোন মাদ্রাসায় খেলধূলা আছে? তাদের কি কোন প্রতিযোগীতা আছে? আছে কি আন্তমাদ্রাসা ফুটবল প্রতিযোগীতা? ভলিবল, ক্রিকেট প্রতিযোগীতা? দাবা খেলা? আছে কি কোন বাৎসরিক কোন ক্রীয়া প্রতিযোগীতা? কেন নেই? তারমানে তো তারা একে শিক্ষা, মনন, শরীর বিকাশের অংশ মনে করে না!

৯. মাদ্রাসায় কি টেলিভিশন আছে? টিভি রুম আছে? শিক্ষার্থীরা কি টিভি অনুষ্ঠান দেখতে পারে? পারে না! কেন পারে না? আর যদি দেখে কি দেখে তারা? কি দেখানো হয় তাদের? তারা কি দেশে-বিদেশের আলোচিত-ভালোচিত চলচ্চিত্র-মুভি দেখতে পারে? এগুলো তো তাদের দেখতে দেয়া হয় না? কেন দেখতে দেয়া হয় না? ইসলামী মূল্যবোধ বিরোধী! আর তারা ইসলামী মূল্যবোধের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে তো এগুলো বন্ধ করতে হবে, না’কি? তাহলে কোথায় আমার ভুল ও বাড়াবাড়ি?

১০. তারা কি নাচ, গান, সঙ্গীত, সংস্কৃতিকে সমর্থন করে? তাদের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে কি কোন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা আছে? তাদের জীবনে কি সংস্কৃতি বলতে কিছু আছে? তারা কেবল ইসলামী হাম-নাদকেই কেবল গান বলতে বোঝে? পালাগান, যাত্রাকে কেন নিষিদ্ধ করা হলো? মেলা-পার্বনে কেন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো? লোকজ সংস্কৃতি হিন্দুয়ানী, তাদের কাছে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় হিন্দুজমিদার ও সাম্প্রদায়িক, নজরুল মুরতাদ, সুফিয়া কামাল নাস্তিক! আর যাদের খুন করা হয়েছে, আহত-পঙ্গু করা হয়েছে, দেশান্তরী করা হয়েছে তাদের কথা নাই বলি! তার কোন প্রতিবাদ আছে? নেই কেন? ধর্মের সামান্য অনুভূতিতে গর্জে ওঠেন আর ধর্মের নামে যখন খুন হয় তখন নিরব..! মৌনতা মানে যে কি বলে..?

১১. বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, সামাজিক বিপর্যয়ে, জাতীয় স্বার্থ, সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় তাদের কোন ভূমিকা নেই এ কথা বলায়, বলছেন আমি না’কি হওয়াই বুলি রাখছি। তো দুই-চারটি উদাহরণ দিন? দুই-চারজন শহীদের নাম বলুন? দুই-চারটা প্রতিষ্ঠানের নাম বলুন? যেখানে গেরিলা যুদ্ধ করেছে সেই স্থানের নাম বলুন?

১২. চাকুরী পাওয়া বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের “সাংবিধানিক” অধিকার! কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মৌল বিষয়গুলোকে তো গ্রহন করতে হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো যখন কর্তারা গ্রহন করেন তখন তারা একটা শপথ পাঠ করেন। সেই পঠিত শপথের বিপরীত ভাবাদর্শের মানুষদের পৃষ্টপোষকতা করা মানে সেই শপথের সাথে বেঈমানী করা! আর যে কর্মসূচীর অধীনে তাদের চাকুরী দেয়া হয়েছে তা কওমীর লক্ষ্য ও হেফাজতের দারীর বাস্তবায়ন! দেখুন এই তথ্যের ভিত্তি! কওমী শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ৮ নাম্বার “ইসলামের মূল ঘাটি মসজিদ সমূহের মান উন্নয়ন এবং পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদকেন্দ্রিক মক্তব প্রতিষ্ঠা ও এর মান উন্নয়ন।” শপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি, নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্য থাকা।

১৩. পত্রিকায় দেখলাম পতাকায় জুতামারার কারণে এক বেহুদা-বেয়াক্কেল যুবককে পুলিশ কোমড়ে দড়ি দিয়েছে! কেন? কারণ এটা জাতীয় চেতনা বিরোধী, রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল! কিছুদিন আগে দেখলাম জাতীয় নেতার ছবিকে অপমান করার কারণে একজন শিক্ষককে পুলিশ জেলে পুরেছে! নেত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করায় মামলা হয়েছে। তারমানে রাষ্ট্র ও শাসক কতটা স্পর্শকাতর জাতীয় চেতনা, মূলবোধের প্রশ্নে! তাহলে যারা সরকারী চাকুরী পাচ্ছে, তাদের নীতি-আদর্শ-চরিত্র-দৃষ্টিভঙ্গী ও চেতনাবোধ ও স্তর কি দেখার বিষয় নয়? যারা দেশটার অনেক কিছুই মানেনা, সমর্থন করেনা, বরং তাদের কর্মকান্ড এর বিপরীত তারাই হচ্ছে আজ ভয়ঙ্কর নীতিহীন, স্বার্থপর রাজনীতির তাস! কিন্তু অদ্ভুদ এক সমীকরণ-মেরুকরণ লক্ষ্য করি, যখন দেখি অতি প্রতিক্রীয়াশীল ভাবনার সাথে, সম্পুন্ন বিপরীতমূখী রাজনীতির-ভাবনার-স্বার্থের চমৎকার সম্মিলন ঘটে! তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না রাজনীতি চুড়ান্ত শত্রু-মিত্রু ও তাদের শেষ অবস্থান কোথায় মিলে যায়! [পরের কিস্তিতে বাকী অংশ]
———————————————————–
ডঃ মঞ্জুরে খোদা । প্রাবন্ধিক-গবেষক । ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় । কানাডা

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “কূটতর্ক নয়- কওমী প্রেমিকদের প্রতি জিজ্ঞাসা..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 1 =