বুদ্ধ ও বিজ্ঞানের মৌলিক স্মৃতি

এক মহাবিষ্ফোরণ – বিগব্যাঙ। সূর্য হতে অসংখ্য ছিটকে পড়া বিগলিত লাভা খণ্ড যার যার অবস্থানে স্থির হয়ে আছে মাধ্যাকর্ষণ-শুণ্য মহাবিশ্বব্রহ্মাণ্ডে। সহস্র আলোকবর্ষের পরিক্রমায় অগ্নিকুণ্ডগুলো ঠান্ডা হতে থাকে। তাদেরই এক খণ্ডানুর নাম – পৃথিবী। উত্তপ্ত এই অগ্নিকুণ্ড হতে অনবরত নির্গত হতে থাকা বাস্প মাহাশুণ্যের কোনে সৃষ্টি করছে মেঘ। ঝরে এসেছে মেঘ আবারো পৃথিবীতে, নানান খাদে জমেছে জল। সম্পূর্ণ প্রাণশূন্য এক মরভূমি, চারদিকে কলজে হু হু করা নিরবতায় শুনশান। এভাবে হঠাত একদিন কি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটে।

উদয়ঃ
এক মহাবিষ্ফোরণ – বিগব্যাঙ। সূর্য হতে অসংখ্য ছিটকে পড়া বিগলিত লাভা খণ্ড যার যার অবস্থানে স্থির হয়ে আছে মাধ্যাকর্ষণ-শুণ্য মহাবিশ্বব্রহ্মাণ্ডে। সহস্র আলোকবর্ষের পরিক্রমায় অগ্নিকুণ্ডগুলো ঠান্ডা হতে থাকে। তাদেরই এক খণ্ডানুর নাম – পৃথিবী। উত্তপ্ত এই অগ্নিকুণ্ড হতে অনবরত নির্গত হতে থাকা বাস্প মাহাশুণ্যের কোনে সৃষ্টি করছে মেঘ। ঝরে এসেছে মেঘ আবারো পৃথিবীতে, নানান খাদে জমেছে জল। সম্পূর্ণ প্রাণশূন্য এক মরভূমি, চারদিকে কলজে হু হু করা নিরবতায় শুনশান। এভাবে হঠাত একদিন কি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটে। জলে পরমাণুজাত হয়ে সৃষ্টি হয় পৃথিবীর এক নতুন আগন্তুক এককোষী সদস্য। আধুনিক বিজ্ঞান সে আদিজীবের নাম দেয় – এমিবা। হাহাহা….! কি অবাক করা কাণ্ড হে! এই প্রথম পৃথিবী নামক গ্রহে জীবন্ত সদস্য এসেছে মহাবিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে অবাক করে দিয়ে। সে ক্ষুদে ক্ষুদে নড়েচড়ে। এই আণুবীক্ষণিক আদিজীবই পৃথিবী সর্বপ্রথম জীব। হ্যা, সে এসেছিলো বলেই আজকে আমরা এসেছি। নাহয় এই মহাজগতই প্রাণহীন থেকে যেতো। ক্রমে সে অণুজীব বৃদ্ধি পায়, অবয়ব পরিবর্তন হয়। লক্ষ বছরের আবর্তনে হয় বিবর্তন। জলজ হতে বিবর্তন হয় স্থলে। কী অদ্ভুত তার লীলা। সে এককোষী হতে আসে প্রাগৈতিহাসিক ডায়নোসর যুগের বিকটকায় জীব। আধুনিক যুগে যার ফসিল উদ্ধার হচ্ছে। এমন যে আরো কতো জীব ছিলো জানা নেই। সেসব প্রাণীগুলোর বিবর্তন হতে হতে আজকের এই আধুনিক মানুষ। মানুষ তো আর শুণ্য হতে আসে নি। সেই কোটি বছর পূর্বের আদিজীব এমিবা, সে ই তো আমাদের আজকের জীবসত্ত্বার দাতা। এবং সেই লক্ষ-কোটি বছর পূর্বের ন্যায়, আগামী লক্ষ-কোটি বছর পর এই পৃথিবী নামক গ্রহটি যদি থাকে, এই দেহাবয়ব বিশিষ্ট মানবের বিবর্তিত রূপ কী যে হতে পারে তা ভাবতেই আশ্চর্য হচ্ছি। জীবের কিভাবে যে কত বিবর্তনে পরিবর্তন হয় তা বিজ্ঞান না থাকলে হয়তো জানতামই না আমরা।

বিলয়ঃ

আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত প্রকৃতির একটি সত্য হল “পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে যে পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত ছিল তার কাছে, এখনও তা একই পরিমাণেই স্থিত আছে, শুধু তার রূপ পরিবর্তীত হচ্ছে”। পদার্থবিজ্ঞান যাকে “নিত্যতার সুত্র” বলে। অর্থাৎ, প্রতি নিয়তই সকল সৃষ্টির পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে, যার মান প্রাকৃতিকভাবেই অপরিবর্তনীয় রয়েছে। অতএব সৃষ্টিলগ্ন থেকে আজ অবধি এই শক্তির শুধু রূপ পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু শক্তির মান ০ (শুণ্য)ই থেকে গেছে। শুণ্য থেকে কমছে না বা মাইনাস হচ্ছে না, একইভাবে তা বড়ছে না বা প্লাসও হচ্ছে না। শক্তির মান ধ্রুব ০ (শুণ্য)ই স্থিত। যাকে মধ্যমস্থিতি বা মধ্যম অবস্থান বললে কিঞ্চিত অর্থের পার্থক্য ঘটে না। মহাবিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই “স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি বা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি বা মধ্যম নিত্যতা”কে ২৫০০ বছর পূর্বের আদিজ্ঞানী বুদ্ধ “মধ্যম পন্থা” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু তখন কোনও বিজ্ঞানী ছিল না আজকের মত, ছিল না কোনও গবেষণাগার। বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো এই ভবঘুরে কিন্তু ঠিকই এ মহাসত্যকে আবিষ্কার ও অনুভব করেছেন। এবং তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এই মধ্যম মহাসত্যকে মানুষ অনুভব ও ব্যবহারিক জীবনে চর্চা করলে তাদের মাঝে শান্তি ফিরে আসে, মানুষ আর চরমপন্থায় উদ্যত থাকে না, প্রকৃতির সন্তানকে প্রকৃতির সাথে এভাবেই পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বুদ্ধ। মহাপ্রকৃতির এ পরিবর্তন ধর্মকে তিনি “প্রতিত্য-সমুৎপাদ বা ক্ষনিকবাদ” তত্ত্বে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই ক্ষণ-পরিবর্তনশীল জগতের কোনোকিছুই আগের মত থাকে না। বুদ্ধ ও বিজ্ঞানের ভাষায় এই “ধ্বংস-সৃষ্টি বা উদয়-বিলয়” চলমান মহাপ্রকৃতির মহাসত্য হল সে “অনিত্য”। যেখানে এসে বুদ্ধ ও বিজ্ঞান একাত্ম-একাকার হয়ে যায়, যা মানব ইতিহাসের অবিস্মরণীয় স্মৃতি হিসেবে তোলা থাকবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =