টিকফা চুক্তি : ক্ষতি বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তি’ (টিকফা) নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে চলছে সরগরম আলোচনা। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে সে দেশের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ডিলানির আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে টিকফা। দীর্ঘদিন থেকে টিকফা নিয়ে দুদেশের মধ্যে আলোচনা চললেও বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুদেশ একমত পোষণ না করায় চুক্তিটি এখন পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে এবার বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ইতিবাচক।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী সম্প্রতি টিকফার স্বপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য টিকফা স্বাক্ষর জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তিটিকে চূড়ান্ত আকার দেয়ার কাজ শেষ হয়েছে এবং তা এখন স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। টিকফার স্বপক্ষে মন্ত্রীরা কথা বললেও চুক্তিটির আদ্যোপান্ত প্রকাশে নারাজ সরকারপক্ষ। কি এই টিকফা? এতে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি কোথায়? কেন এই চুক্তি নিয়ে গোপনীয়তা? দুই সরকারের আগ্রহের মূলে কি আছে? প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা হয়েছে এই লেখায়।

টিফা-টিকফার মারপ্যাঁচ
টিফা চুক্তি নামটা অনেকদিন থেকে আলোচিত। এই টিফাই নতুন করে নাম বদলে টিকফা হয়ে সবার সামনে এসেছে। টিফা অর্থ- Trade and investment framework agreement. এই টিফা নিয়ে ব্যাপক বিরূপ সমালোচনা থাকায় সম্প্রতি নামে পরিবর্তন এনে টিকফা বলা হচ্ছে। টিকফা অর্থ- Trade and investment co-operation framework agreement. অর্থাৎ ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত কাঠামোগত সহযোগিতা’ চুক্তি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য ও আধিপত্য প্রশ্নাতীত। তাই চুক্তি দিয়ে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণেরই ব্যবস্থা হবে। এ নিয়ে যাতে সমালোচনা না হয় তাই চুক্তির নামের মধ্যে ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ’-এর সঙ্গে ‘সহযোগিতা’ শব্দটি যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

টিকফা বা টিফার কথা প্রথম শোনা যায় ২০০১ সালে। তখনই প্রথম এই চুক্তির খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। ২০০২ সালে এই খসড়া চুক্তি আরেকটু এগিয়ে এতে যুক্ত হয় ১৩টি ধারা ও ৯টি প্রস্তাবনা। ২০০৫ সালে খসড়াটি চূড়ান্ত হয়। সে সময় কিছু শর্তের কারণে চূড়ান্ত মুহূর্তে আলোচনা ভেঙে যায়। পরে জরুরি সরকারের আমলে নতুন আঙ্গিকে আরও সহজ শর্তে টিকফা চুক্তির প্রস্তাব করে যুক্তরাষ্ট্র। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় দু’দেশের মধ্যে। জরুরি সরকারের আমলে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের টিকফা প্রস্তাবনার ‘খসড়া’ ২০০৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থানপত্র তৈরি করে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে পাঠায়।

চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রধান বিভেদের জায়গাটা সামান্যই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব হচ্ছে, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে বিনিয়োগ বাতিল করাসহ মামলার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মেধাস্বত্ব অধিকার, আন্তর্জাতিক শ্রমমান এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তারা বাধ্যবাধকতা আরোপ করে আসছে। বাংলাদেশ সরকার ঘুষের কারণে মামলা ও বিনিয়োগ প্রত্যাহারের শর্তে রাজি নয়। আর আন্তর্জাতিক শ্রমমানের বিষয়টি ‘ক্রমান্বয়ে’ বাস্তবায়নের সুযোগ চায় বাংলাদেশ। সরকারিভাবে এর বাইরে টিকফা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তেমন কোনো বিরোধ নেই।

সরকার এবং অন্য পক্ষগুলো মনে করছে দীর্ঘদিন পর বর্তমান সরকারের একেবারে শেষ সময়ে এসে টিফা একটা পরিণতির দিকে যাচ্ছে। তা যে নামেই হোক। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে জিএসপি সুবিধা (শুল্কমুক্ত) পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় টিকফা চুক্তি না থাকা। তাই সরকারপক্ষ জিএসপি সুবিধা পেতে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও টিকফা করতে সম্মত। সম্প্রতি সাভারে ভবন ধসে হাজারেরও বেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিপাকে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র যে সামান্য কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দেয় তাও তুলে নেয়ার কথা বলেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে টিফা চুক্তির আলাপ। টিফা হলে আবার সব আলোচনায় আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এত আগ্রহ কেন
বাংলাদেশের মতো ছোট একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সাধারণ একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ, তার এত মাথাব্যথা কেন? এ প্রশ্ন টিফা-টিকফা নিয়ে সবসময় ছিল। এবারও উঠেছে। টিকফা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগ ও শর্তারোপই প্রমাণ করে চুক্তিটি করার জন্য তারা কতটা মরিয়া। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আছে টিকফা চুক্তির মধ্যেই। বাণিজ্যমন্ত্রী খবর দিয়েছেন, চুক্তির অনুলিপি প্রস্তুত। কিন্তু কি আছে চুক্তিতে? এই তথ্য প্রকাশে রাজি নন মন্ত্রণালয়ের ছোট বড় কোনো কর্মকর্তাই।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যেভাবে টিকফা করা হয়েছে বাংলাদেশেও তার চেয়ে খুব আলাদা কিছু হবে না। মূলত নিজেদের আধিপত্যবাদী বাণিজ্যনীতি অবাধে বাস্তবায়নের জন্য এ ধরনের একটি চুক্তিতে অন্য দেশগুলোকে আবদ্ধ রাখাটাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। টিকফা স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে তাদের মূলনীতি হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারবে না। ইতোমধ্যে তারা পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ইরাক, উরুগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তৃতীয় বিশ্বের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বাংলাদেশকে কব্জা করাটা খুবই দরকারি। পরাশক্তিগুলোর অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিপরীতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য এসব ফোরামে বাংলাদেশ যাতে কোনো ভূমিকা না রাখতে পারে সেজন্য বাংলাদেশকেও টিকফা চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সামরিক সহযোগিতা। টিকফা বাণিজ্য বিষয়ক চুক্তি হলেও বাণিজ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন ধরেই এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলে জুড়ে দিয়েছে সামরিক সহযোগিতার প্রশ্নটি। দক্ষিণ এশীয় রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সামরিক মিত্র হিসেবে পেতে চায়। টিকফার মধ্য দিয়ে এই রাস্তা অনেকটাই খুলে যাবে। বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্কিন বলয়ের ওপর অনেক বেশি নির্ভর হয়ে পড়বে। অর্থনৈতিক নানা ইস্যুতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কথা মেনে চলতে হবে। যার ফলে চীন-ভারতকে নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের একটা সহজ সমাধানও বেরিয়ে আসতে পারে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ হবে মার্কিনীদের আশ্রয়ভূমি- পাকিস্তান, সৌদি আরব, কুয়েতের মতো।

কি আছে চুক্তিতে
‘টিকফা’ চুক্তিতে কি কি ধারা রয়েছে তা দেশবাসী জানে না। এই চুক্তি নিয়ে চরম গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। যদিও সংবিধানেই বলা আছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় না হলে কোনো চুক্তি গোপন রাখা যাবে না। তা সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু টিকফার কোনো তথ্য কোথাও প্রকাশ করা হচ্ছে না। যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০০৫ সালে টিফার চুক্তি সংক্রান্ত কিছু তথ্য ফাঁস হয়। যাতে দেখা যায় অন্যান্য দেশে যে সব টিফা চুক্তি হয়েছে তার সঙ্গে বাংলাদেশের ধারা উপধারাগুলো মিলে যায়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের খবর হচ্ছে, মূল কাঠামোর বাইরে নতুন কিছু হচ্ছে না। তবে কতগুলো বিষয়ে নতুন করে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

চুক্তির কপি না পাওয়া গেলেও টিফার মূল বিষয়গুলো সবখানেই কাছাকাছি। এই চুক্তির বিভিন্ন প্রস্তাবনায় এবং অনুচ্ছেদে এমন কিছু বিষয় দেখা যায় যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

১) বাজার উন্মুক্তকরণ এবং সেবা খাতের ঢালাও বেসরকারিকরণ
২) উভয় রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উদারনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে
৩) বেসরকারি খাতের বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
৪) দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন’ প্রাইভেট সেক্টরের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল ও পরামর্শ সরবরাহ করবে
৫) যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যে বিনিয়োগ করবে, তা শুধু সেবা খাতেই। তারা কোনো পণ্য এ দেশে উৎপাদন করবে না
৬) যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য দেশের বাজার উন্মুক্ত করে দিতে হবে এবং বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধাসমূহ দূর করতে বাধ্য থাকবে বাংলাদেশ
৭) নিজস্ব দেশীয় শিল্প বা প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা প্রদানকারী বাণিজ্য সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সংরক্ষণ নীতি বাতিল করতে হবে
৮) যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির উপর কোনো কর আরোপ করা যাবে না
৯) বিনিয়োগের বিশেষ সুরক্ষা দিতে হবে এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
১০) দেশের জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ইত্যাদি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে
১১) কৃষিপণ্যের বাজার উন্মুক্ত ও কৃষি থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করতে হবে
১২) মেধাস্বত্ব আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

মোটকথা, পুরোপুরি মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশকে টেনে নেয়ার ব্যবস্থা হবে এ চুক্তির মাধ্যমে। এর ওপরে থাকবে আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণের জুজু। শ্রমমান নিশ্চিত না হওয়া বা মেধাস্বত্ব ভঙ্গ করে পাইরেটেড কিছু ব্যবহার হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা বিনিয়োগ আটকে দিবে। বা শুল্ক কর চাপিয়ে দেয়ার মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে। চুক্তি ভঙ্গের জন্য বাংলাদেশকে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি করাটা তাদের পক্ষে কঠিন নয়। এই বিষয়টাও চুক্তিতে প্রাধান্য পায় বলে জানা গেছে ।

টিকফায় বাংলাদেশের ক্ষতি
চুক্তির বিধিবিধানগুলো স্পষ্ট করে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে অকেজো একটি রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে এর মধ্যে। পুরো দেশের সেবাখাত বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির হাতে চলে যাবে। তাদের অবাধ মুনাফা নিশ্চিত করতে গিয়ে দেশের মানুষকে আরও নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হতে হবে। দাম বাড়বে প্রত্যেক সেবাখাতের। পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো হয়ে যাবে পণ্য। সরকার যে কম মূল্যে জনগণকে এসব সুবিধা দেয় তা আর চালু থাকবে না। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনধারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

এই চুক্তির কারণে দেশীয় শিল্পকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়া যাবে না। বড় একচেটিয়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে ছোট স্বল্প পুঁজির দেশি কোম্পানিগুলো টিকতে পারবে না। ধীরে ধীরে বসে যাবে নিজস্ব শিল্প। কৃষিখাতে ভর্তুকি না দেয়া গেলে এই খাত ক্রমশ কৃষকের গণ্ডির বাইরে চলে যাবে। ধ্বংস হবে নিজস্ব খাদ্যোৎপাদন ব্যবস্থা।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, ‘উদারনীতি ও মুক্তবাজারের ফলে নিজস্ব বাজার ব্যবস্থার পুরোটাই চলে যাবে বিদেশিদের হাতে। বিশাল শিল্পোন্নত দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত ও বড়। তাই উৎপাদনে তাদের ব্যয় কম। বাংলাদেশের উৎপাদিত অনেক পণ্যই সেই তুলনায় বেশি খরুচে। এসব পণ্য আর বাজারে টিকতে পারবে না। যেমন, ব্রাজিল থেকে উন্নতমানের চিনি আমদানি করে একজন মার্কিন ঠিকাদার তা বাংলাদেশে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে লাভ করতে পারবে। কয়েক টাকা কম দামে চিনি পেলেও এতে ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের বিশাল অর্থনৈতিক চক্র। প্রথমে ধ্বংস হবে চিনির বাজার। তারপর বন্ধ হবে চিনির কল। এরপর বন্ধ হবে আখচাষ। পথে বসবে আখচাষি, চিনিকলের শ্রমিক ও এর সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষ। এসব দিক বিবেচনা করেই এগুতে হয় একটি স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রকে। টিকফা হলে বিনিয়োগ আসতে পারে। তবে তার পুরোটাই এমন সব খাতে, যার মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব অর্থনীতি কেবল ক্ষতিগ্রস্তই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পণ্যের দাম বেশি পড়ছে ওদিকে কম পড়ছে এর কারণটাও কিন্তু তাদেরই তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্র নিজে বাণিজ্য সংরক্ষণ নীতিতেই চলছে। নিজস্ব কৃষি ও শিল্পকে সে বিশেষ সুবিধা দেয়। অন্য দেশের পণ্য সেদেশে ঢুকে ব্যবসা করে টিকে থাকতে বাধা-বিপত্তির শেষ নেই। দোহা এজেন্ডা অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষিতে ৫ শতাংশের বেশি ভর্তুকি দিতে পারছে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্র নিজে কৃষিতে ১৯ শতাংশের বেশি ভর্তুকি দিয়ে তাদের কৃষি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্যের দাম পড়ছে বেশি।’

এসবের বাইরে আছে মেধাস্বত্ব আইনের কঠোর বাস্তবায়ন। এটা হলে বাংলাদেশের বিকাশ অনেকটা বাধাগ্রস্ত হবে। প্রযুক্তি খাতে অধিকাংশ পণ্যই আমরা পাইরেটেড কপি ব্যবহার করে থাকি। লাইসেন্সড কপি কিনতে গেলে একটি অনুন্নত দেশের নাগরিক হিসেবে এখানকার ভোক্তাদের যে ব্যয় দাঁড়াবে তা বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। গুটিকয়েক মানুষ ব্যতীত অন্যরা প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর সুবিধা থেকে ছিটকে পড়বেন।

দোহা ঘোষণা ২০০০ অনুযায়ী বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার আওতায় বাণিজ্যবিষয়ক মেধাসম্পদ স্বত্ব চুক্তি অনুসারে স্বল্পোন্নত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৩ সালের পর বিভিন্ন পণ্য ও সেবা এবং ২০১৬ সালের পর ওষুধের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ববিষয়ক বিধিনিষেধে আবদ্ধ হবে। এরপর আর পেটেন্ট করা ওষুধ উৎপাদন এবং রপ্তানি করা যাবে না। অন্যের পেটেন্ট করা কিছু ব্যবহারের আগে কিনতে হবে। টিকফায় ২০১৩-২০১৬’র কোনো ব্যাপার নেই। চুক্তি হলেই শুরু মেধাস্বত্বের বাস্তবায়ন। অর্থাৎ এতে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, কম্পিউটার-সফটওয়্যারসহ গোটা তথ্যপ্রযুক্তি খাত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদির লাইসেন্স খরচ বহন করতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বিভিন্ন পণ্য এবং প্রযুক্তির দাম অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যাবে।

মেধাস্বত্ব আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো অনেক ওষুধ তৈরি করতে পারবে না। কয়েকগুণ বেশি দামে বিদেশি কোম্পানির পেটেন্ট করা ওষুধ কিনতে হবে। দরিদ্ররা বঞ্চিত হবে চিকিৎসা সেবা থেকে। শুধু তাই নয় যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী কোনো কিছুর যদি পেটেন্ট না হয়ে থাকে তাহলে তা যে কেউ পেটেন্ট করে নিতে পারবেন। এই হিসেবে নিম গাছের পেটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের। বাংলাদেশ, ভারত, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের নিজস্ব জীববৈচিত্র্যের অনেক জীব-অণুজীব এবং উদ্ভিদ প্রজাতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পেটেন্টের দখলে। টিকফা কার্যকরের পর এসব পেটেন্টকৃত জিনিস ব্যবহার করতে গেলে পেটেন্টকারীকে রয়্যালিটি দিতে হবে। অনুমতি ছাড়া তা মজুদ করা যাবে না। কৃষিতে পেটেন্ট বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের শস্যবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ, পুনরুৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে।

টিকফায় পণ্য ও পুঁজির চলাচলকে অবাধ করার কথা এবং সেই সূত্রে মুনাফার শর্তহীন স্থানান্তরের গ্যারান্টির কথা বলা হলেও শ্রমশক্তির অবাধ যাতায়াতের সুযোগের কথা কিছুই বলা হয়নি। অথচ শ্রমশক্তিই হলো আমাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মূল্যবান সম্পদ। যা রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে বিপুল আপেক্ষিক সুবিধা। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ‘মুক্তবাজার’ নীতিটি যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োগ করতে রাজি নয়। তারা তা প্রয়োগ করতে প্রস্তুত শুধু পুঁজি, পণ্য ও সেবা-পণ্যের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে তারা এগিয়ে আছে।

শ্রমনীতি ও জিএসপি প্রসঙ্গ
টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিষয়কে সামনে টেনে এনেছে। আন্তর্জাতিক শ্রমমান কার্যকর করতে হবে এবং টিকফা স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি (অগ্রাধিকারভুক্ত পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার) সুবিধা পাবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এর মাধ্যমে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতের চেয়ে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ছড়ি ঘুরানোর ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হবে। বাংলাদেশ চাইলেও সহসা শ্রমমান নিশ্চিতের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে এটা বাধা হিসেবে কাজ করবে।

ঢাকায় নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা গত ২৮ জুলাই সরাসরি বলেছেন, টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে না। কিন্তু দোহা নীতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ৯৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে তাদের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার কথা। একেই জিএসপি সুবিধা বলা হয়। বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এই সুবিধা দিয়েই রেখেছে। তবে তাতে যেসব পণ্য অন্তর্ভুক্ত আছে তার অধিকাংশই বাংলাদেশ রপ্তানি করে না। এখানেই শুভঙ্করের ফাঁকি।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাককে জিএসপি সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। যেসব পণ্যের জিএসপি সুবিধা রয়েছে তা থাকা না থাকা একই কথা। বরং যেসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয় তার ওপর উচ্চহারে শুল্ক বসিয়ে রেখেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের গড় আমদানি শুল্ক হার শতকরা ১ ভাগের মতো। কিন্তু বাংলাদেশের গার্মেন্টসের ওপর শুল্কহার শতকরা গড়ে ১৫ ভাগ। এই শুল্কহার আন্তর্জাতিক বিধিরও পরিপন্থী। এই শুল্ক এমনিতেই বাতিল হওয়া দরকার। এ বছরও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক বাবদ প্রদান করেছে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে ঋণ অনুদান নানাভাবে বাংলাদেশে আসে তার ৬ গুণেরও বেশি। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নয়, বরং বাংলাদেশই তাকে অর্থের যোগান দিচ্ছে।

সরকারি বক্তব্য
অনেকে মনে করেন টিকফায় আমরা লাভবানও হতে পারি। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, টিকফা হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে। অন্তত একটি প্লাটফর্ম তৈরি হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধার বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য। বর্তমানে যা নেই। অনেক দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের চুক্তি করেছে এবং কারও স্বার্থহানি হয়েছে বলে শোনা যায়নি। তবে বাংলাদেশ অবশ্যই তার নিজের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই টিকফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। বাংলাদেশের উচিত হবে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে সক্ষম হওয়া। তাহলে অন্য অনেক দেশ থেকে তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যেতে পারে।’

পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হকের বক্তব্যও একই ধাঁচের। তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো ধরনের মতপার্থক্যের মধ্যে আমেরিকার সঙ্গে টিকফা সই করবে না। আমাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী টিকফা সই হলে দেশ লাভবান হবে। টিকফার ক্ষতিকর দিক নিয়ে যা বলা হয় তার অধিকাংশই প্রচারণা। এতকিছু ঘটলে তো যেসব রাষ্ট্র এই চুক্তি ইতোমধ্যে করেছে তারা বিলুপ্ত হয়ে যেত।’

বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদেরের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি বলেন, দ্রুতই আমরা চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে চাই। এর মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়বে। চুক্তিতে দেশের জন্য ক্ষতিকর আমি কিছু দেখিনি। মেধাস্বত্বের বিষয়টিতে আমরা সময় চেয়েছি। তবে মেধাস্বত্বের প্রয়োজনীয়তাও আছে। এখন সারা বিশ্বেই জনগণের উন্নয়নের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য উদারীকরণ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও ব্যবসা-বাণিজ্য উদারীকরণ করা হচ্ছে। আগে জনগণের উন্নয়ন করতে যুদ্ধ করতে হতো। কিন্তু এখন সেটা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে করা হচ্ছে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ উন্মুক্ত করতে হবে।’
ক্ষতিকর না হলে চুক্তি গোপন রাখা হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক তৈরিতে এ ধরনের চুক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। একই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র অন্যদের সঙ্গে অন্যভাবে করেছে। আমাদের অনেক বেশি ছাড় দিচ্ছে। তাই এটা প্রকাশ করাটা দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই চুক্তি প্রকাশ করা হচ্ছে না।’
চুক্তি এখন কি অবস্থায় আছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘সব প্রস্তুত। অচিরেই ঘোষণা শুনতে পাবেন।’

শেষ কথা
টিফা-টিকফা অনেকদিনের আলোচিত বিষয়। চুক্তির নাম বদল হলেই এর ভেতরের সারবস্তু বদলে যায় না। এই চুক্তির সারবস্তু মূলত দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্ততার দিকেই ঠেলে দেয়া। তাই দেশের বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ সচেতন নাগরিক পর্যন্ত আমরা সবাই এ চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অতীতে গোপন চুক্তি দেশের ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছু করেনি। তাই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তা প্রকাশ করা ও এর ওপর উন্মুক্ত আলাপ, মতবিনিময়ের ব্যবস্থা নেয়া। সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থবিরোধী যে কোনো প্রবণতাকে বাতিল করতে হবে। নইলে গণবিরোধী এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানুষ লড়াই গড়ে তুলতে সময় নেবে না।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা : পিনাকি ভট্টাচার্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “টিকফা চুক্তি : ক্ষতি বাংলাদেশের

  1. চুক্তির সম্ভাব্য শর্তগুলা পড়ে
    চুক্তির সম্ভাব্য শর্তগুলা পড়ে তো আমাদের জন্য সুবিধাজনক কিছুই দেখলাম না। শর্তগুলা স্পষ্ট ভাষায় বললে এইরকম- “আমারে সব দিবা, আমি কি দিমু সেইটা নিয়া চুপ থাকো। না দিলে খবর আছে।”

  2. গতবার গ্যাস রপ্তানী না করার
    গতবার গ্যাস রপ্তানী না করার ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের কঠোরনীতির কারণে পরেরবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি বলে অনেকেই মনে করেন। এইবার সরকার মনে করছে এই চুক্তি না করলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আসতে দেবেনা। ক্ষমতার উৎস জনগন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মাথায় এই জিনিসটা কেন জানি নেই। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে যে কোন ধরনের চুক্তি জনগণের মঙ্গল বয়ে আনে না।

    সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই টিকফা চুক্তির শর্তগুলো আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি বা যে কোন দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি করা হয় দেশের এবং জনগণের স্বার্থে। টিকফা চুক্তির বিষয়েও সরকার এমনটাই বলছে। যদি সেটাই হয়ে থাকে, তাহলে এত লুকোচুরি কেন? চুক্তির শর্তগুলো প্রকাশ করা হোক। আমাদের বিশেষজ্ঞরা শর্তগুলো সম্পর্কে জানুক। জনগণও জানুক। লুকোচুরি করে যে কোন চুক্তি করা হলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়, সেটাতে জনগণ ও দেশের স্বার্থ সংরক্ষন করে করা হচ্ছে না। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় চুক্তির শর্তগুলো প্রকাশ করা হোক। যতক্ষণ প্রকাশ করা হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ধরে নেব এই চুক্তিতে দেশ ও জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত হচ্ছে না।

  3. শাসক শ্রেণীর প্রয়োজন ক্ষমতায়
    শাসক শ্রেণীর প্রয়োজন ক্ষমতায় আকড়ে থাকা। সেটা যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও করতে হবে। এসব চুক্তি করার মানে হচ্ছে প্রভুকে খুশী রাখা। ক্ষমতায় আসার জন্য রাস্তা পরিষ্কার রাখা।

  4. কাঠাল পাড়বে আমার গাছ থেকে,
    কাঠাল পাড়বে আমার গাছ থেকে, পাড়াবে আমাকে দিয়ে, ভাংবে আমার মাথায়, আর আমাকে দিয়ে যাবে না উচ্ছিস্টও , কিছু হলো?

    1. মাঝখানে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী
      মাঝখানে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী আছে। আপনার আমার কিছু না হইলেও তাদের ছেলে মেয়ের বিদেশে মাস্তির ব্যবস্থা এর মধ্য দিয়ে হয়ে যাবে আশা করা যায়।

  5. টিফা থেকে টিকফা !!! নতুন
    টিফা থেকে টিকফা !!! নতুন বোতলে পুরানো মদ। কাটতি ভালই। ভাল হবে না? দালালী করার প্রতিযোগিতায় কে কারে টেক্কা দিয়া ফাস্ট হইব, সে রেস চলে যে দেশে , ভালতো হওয়ারই কথা!!! যাইহোক একটা তথ্য শেয়ার করি। তথ্য টি পোস্টে থাকলে আরও ভাল হইত। যে জিস পি র মুলা দেখাইয়া টিকফা চুক্তি হালাল করতে চাচ্ছে, সেখানে আমাদের লাভ কতখানি? যুক্তরাষ্ট্রে যদিও বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী কিছু পণ্যের জন্য জিএসপি (সাধারণীকৃত অগ্রাধিকার সুবিধা) প্রদান করেছে, বাস্তবে রপ্তানিমুখী ৯৫ শতাংশ পণ্যই জিএসপি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর এই পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো তৈরি পোশাক।
    আরও আছে
    ওয়াশিংটন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের এক তথ্যে জানা গেল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ হারে (১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ) শুল্ক আদায় অব্যাহত রেখেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে ৪৮৭ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে ৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের আমদানি শুল্ক আদায় করেছে দেশটি। গড়ে শুল্কহার ছিল ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার আমদানি পন্যের বিপরীতে তেনাকে(হিলারি কে) দিতে হবে ১৫ টাকা ৩০ পয়সা।

    উন্নত দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিরাট শুল্ক ছাড় সুবিধা ভোগ করছে। এমনকি আশেপাশের দেশ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এরাও বাংলাদেসের চেয়ে বেশী শুল্ক সুবিধা ভোগ করছে। গরিব দেশগুলো থেকে আমদানির ক্ষেত্রেই উচ্চ হারে শুল্ক আদায় করছে যুক্তরাষ্ট্র, যাকে শুল্ক শাস্তি (ট্যারিফ পেনাল্টি) বলে অভিহিত করেছে গ্লোবাল ওয়ার্কস, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আদায় করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশী।
    খানকী মাগিরা খালি রান দেখাও না কামও দেয়, কিন্তু আমরা এমন এক খাঙ্কি(হিলারি)র পাল্লায় পড়ছি কি কমু? লগে আছে আমাগো দেশের দুয়ো রানী আর সুয়ো রানী…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3