পাখি চেনা-২

এ অঞ্চলে খয়রা মাথা সমুচা(Hooded Pitta)পাখিটির প্রজনন ঋতু শুরু হয় এপ্রিল মাস থেকে। এই সময় সঙ্গীনির খোঁজে পুরুষ পাখিটি চঞ্চল হয়ে ওঠে, গায়ের রঙ অধিকতর উজ্জল হয় এবং ডাল থেকে ডালে দুই শব্দের ‘কুঈক কুঈক’ ডাক ডাকতে থাকে, তাই এই সময়টাই পাখিটির ছবি তোলার জন্য আদর্শ সময়।মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাখিটির ছবি তুলতে পারবো কিনা এমন একটা সংশয় ছিলো তারপরও সব সংশয় পেছনে ফেলে মে মাসের ১৫ তারিখ রাতে সায়েদাবাদ থেকে সাতছরি জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশ্যে বাসে চড়ে বসলাম, সাথে বহুদিনের বার্ডিং এর সহচর আবু বকর সিদ্দিক।
খয়রা মাথা সমুচা( Hooded Pitta)পাখিটি মূলত সবুজ রঙের, মাথার চুড়ার দিকটা খয়েরি, মাথার বাকী অংশ, ঘাড়, গলা পুরোটাই কালো।
পাখিটির পাখাসহ পিঠের উপরের অংশ গাঢ় সবুজ। লেজের উপরের অংশ কালচে। ভাঁজ করা ডানার একটা বড় অংশ সবুজাভ নীল। বুক আর পেটের উপরের অংশ ধুসর সবুজ। পেটের নিচের অংশ, পায়ু অঞ্চল এবং লেজের নিচের অংশ লাল।প্রজনন ঋতুতে এর পাগুলোতে গোলাপী আভা আসে। এত্ত এত্ত রঙের সমাহার এই পাখি।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বাস থেকে নেমে অটো যোগে সকাল সাতটার আগেই পৌছে গেলাম সাতছরি। কিছুক্ষণ ঘুরা ঘুরি করেই পেয়ে গেলাম পাকড়া ধনেশ, উদয়ী ধলা চোখ, ভীমরাজ ও কিছু হরিয়াল।


ছবিও তুললাম দুজনে বেশ অনেকগুলো।সকাল দশটায় হাল্কা নাস্তা খেয়ে সাতছরির আদিবাসী ইকো গাইড রাসেল দেব বর্মা কে নিয়ে শুরু করলাম খয়রা মাথা সমুচার (Hooded Pitta) সন্ধানে যাত্রা, গভীর জঙ্গলে সেগুন বাগানে নাকি দেখা গেছে সম্প্রতি, রাসেল তাই জানালো।
এপ্রিল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, তাই ঝোপ ঝাড়ে পায়ে হাঁটা ট্রেক গলো প্রায় ঢেকে গেছে, মাঝে মাঝেই কাঁটা ঝোপে আটকে যাচ্ছে গায়ের কাপড়। আমার চোখেই ধরা পড়লো একটা বিষাক্ত লাল ঘাড় ধোড়া সাপ, ছবি তুলে নিলাম কিছু। একটু পর একটা ছড়ার মতন জায়গায় কিছু পদচ্ছাপ দেখে থমকে দাঁড়ালো রাসেল, বললো কালো ভাল্লুকের পায়ে ছাপ ওগুলো, কিঞ্চিৎ ভয়ের চিহ্ন দেখতে পেলাম রাসেলের চোখে । আমরা ওকে জিজ্ঞেস করলাম ফিরে যাবো কিনা? ও আশ্বাস দিলো আর বললো এখন সাবধান থাকতে হবে আমাদের, ট্রেক ছেড়ে জঙ্গলের ভেতরে যাওয়া যাবে না। আস্তে আস্তে বেলা দুইটার দিকে আমরা পৌছে গেলাম সেগুন বাগানে।প্রচন্ড গরম, সাথে খাকা বোতলের পানিও গরম হয়ে উঠেছে, শুকনো খেজুর সাথে গরম পানি খেয়ে নিজেদের একটু চাঙ্গা করে নিলাম। মাথার ভেতরের ভালুকের চিন্তা আমাদের খয়রা মাথা সমুচা (Hooded Pitta) দেখার ইচ্ছাটাকে মারতে পারেনি। এবং হয়ত এই ইচ্ছা শক্তির কারনেই হঠাৎ সেই অতি কাঙ্খিত ‘কুঈক কুঈক’ ডাকটা আমাদের কানে এলো এবং ক্যামেরা নিয়ে আমরা শব্দটা অনুসরন করতেই এক পর্যায়ে পেয়ে গেলাম আমাদের আজকের আরাধ্য পাখিটি। পাখিটিকে প্রথম সিদ্দিক দেখে। আমাকে ঈশারা করাতে আমি ওর পাশে দাঁড়িয়েই দেখতে পেলাম বহুরঙ্গা পাখিটিকে। আলোর স্বল্পতা থাকলেও বেশ কিছু ভালো ছবি তুলে আমরা একসময় পিছিয়ে আসলাম পাখিটিকে রেখে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 − 33 =