আইন এখন অপরাধের গডফাদার


অডিও ক্লিপ শুনে যা বুঝলাম তাতে নিশ্চিত এটা পরিকল্পিত হত্যা কোন সন্দেহ নেই৷ আমি আমিতো চট্টগ্রামেরই তাই বুঝার ক্ষেত্রে একটা শব্দও মিস করিনি৷ আমার তেমন কষ্ট হচ্ছেনা, দেখতে দেখতে অভ্যাস বলা যায়৷ এ দেশে অভিজিত, হুমায়ুন আজাদ, ওয়াশিকুর, নিলয়, সামাদ সবারই পরিবার ছিলো৷ সবারই কষ্ট স্বজন হারার বেদনা আছে৷ একটা হিংস্র প্রাণীর যেমন মৃত্যুর আর্তনাদ থাকে তেমনি একটা উপকারী নিরীহ প্রাণীরও৷ মৃত্যুর সময় সবাই নিরীহ বাঁচতে প্রলয়৷ তেমনি একটা খুনিরও মৃত্যুর যেমন অসহায়ত্ব আছে, আছে সুন্দর মানুষগুলোরও৷ হয়তো আজকের দেশময় হাহাকার কাউন্সিলরও অভিজিতদের মৃত্যুর পর হেসে মেনেছিলো অথবা ধর্মের দিক থেকে কিংবা নেয়নি৷ এই পরিকল্পিত মৃত্যুকে আমরাই পশ্রয় দিয়েছি, ধর্মের নামে, ক্ষমতার নামে, ভোটের নামে, সম্মানের নামে, সুনামের নামে, খ্যাতির নামে কোন না ভাবে দিয়েছি৷ আমার মনে আছে অভিজিত নিলয়দের মৃত্যুর পর কুকুর মরেছে বলে পোস্ট দিয়েছিলো আর চোখের সামনে ভেসে উঠেছিলো মুখগুলো৷ সেদিন তাদের পরিবারগুলো যখন কাঁদছিলো, আজকের মৃত মুখগুলো হয় হেসেছিলো নয়তো এড়িয়ে গেছিলো, দুঃখ যে করেনি সেটা শতভাগ৷ আমরা মরলেও করবে না বরং খুশি হবে আগামির কোন পরিকল্পিত হত্যার মৃত্যু মুখ৷ এক স্ত্রী বার বার আল্লাহকে ডেকেও ফিরে পায়নি তার স্বামি, মেয়ে পায়নি বাপ৷ বন্দুকের মুখে খোদাও অসহায়, অসহায় প্রার্থনা আর অবহেলিত বিচারের দেশে প্রাণ৷

কক্সবাজারের ছোট বড় সব নেতাই কোন না কোন ভাবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এটা কক্সবাজারের প্রায়ই সবারই জানা আছে৷ তার উপর বাংলাদেশের নেতা কেতা এসবের জন্ম হয় তান্ডব, অন্যায় অত্যাচার হতে৷ ছোট হতে এরা শোষণ নিপীড়ন করে বড় হয়ে নাম ধারণ করে সমাজসেবী, জনগনের নেতা এটা সেটা৷ বাইরের শোষক ঘরে মহৎ স্বামি, মহৎ পিতা মহৎ সন্তান৷ এগুো দেখে দেখে চোখ এখন কে মহৎ কে অসৎ তার বিচার করেনা৷ অসৎ বলেই নেতা এটা সংস্কার হয়ে গেছে৷ পাথর মন সব নিতে প্রস্তুত৷ সামান্য এক এলাকার ডাকাত, এক সময় বিরাট বাকশালি জনগনের নেতা এটা বাংলায় নতুন নয়৷ যেখানে খুনি, ধর্ষক, ডাকাত চোর নেতা হয় সেখানে মরার জন্য কেঁদে কিইবা হবে?

কক্সবাজারের বদির সরগরম হবার কথা এই মৃত্যুতে কিন্তু লেভাজ ছাড়া তেমন কিছু নাই৷ সন্দেহতো এমনও হয় যে এই লাশে বদি জড়িত কিনা? বন্দুক যুদ্ধে নিহত বলে প্রমাণে পরিকল্পিত হত্যাই বের হলো৷ মাদক বিরোধী এমন অভিযানে ফেবু ওয়ালে বদির সমর্থন ছিলো অথচ সেই মাদকের গডফাদার এটা মন্ত্রীসভা না জানার ভান করলেও সাধারণের জানা৷ বদির উপর যখন গডফাদারের তীর তার পরেই কাউন্সিলরের মৃত্যু৷ কাউন্সিলরের স্ত্রীর পাশে বদিরই সক্রিয় হবার কথা৷ আত্নীয়তার কথা না হয় বাদ, অন্তত সরকারী পরিবার হিসেবে৷ কুখ্যাত খুনি, ইয়াবা ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা গডফাদার হাকিম, রফিক এরা জামিন পায় যারা গুলি চালাতে একমিনিট ভাবেনা, স্থানীয় মানুষকে গ্রামছাড়া ঘরছাড়া এবং খুনের পর খুন করে৷ মাদক বিরোধী বদির এলাকায় তাদের জামিনদাতা কে কারা? নাকি এদের ইস্যু আর তার উপর নজর ঠেকাতে এই লাশ!? যেটা বন্ধুক যুদ্ধ নয় সেটা যেখানে বন্ধুক যুদ্ধ, সেখানে যা বদি নয় তার ভেরতরেই বদি নেই কে বলবে?

যেখানে অপরাধীর খালাস আর নিপরাধের শাস্তি সে দেশের নাম এখন বাংলাদেশ হয়ে দাড়ালো৷ আইন এখন অপরাধের গডফাদার৷

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

49 − 43 =