একজন জাপানি নবী বনাম একজন আরব নবী


জাপানি নবী শোকো আসাহরা কথা আপনাদের মনে আছে কিনা আমি জানিনা- যিনি এক সময় খুবই কুখ্যাত হয়েছিলেন নিজের উম্মতদের দিয়ে জাপানের পাতাল ট্রেনে বিষাক্ত গ্যাস (1995 sarin gas attack on the Tokyo subway ) ছড়াবার জন্য এবং সেও নবী মোহাম্মদের মত ই একজন apocalyptic নবী ছিলেন। সে দাবি করতেন যে পৃথিবী কিছুদিনের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে। এখন একটা বিষয় বুঝতে হবে। আমার মনে হয়, একটা ছুরি কতটা ভালোভাবে কোনকিছু কাটতে পারে তা যেমন নির্ভর করে সেটা কতটুকু ধারালো, একই রকমভাবে একজন নবী কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করে সে কেয়ামত যতটুকু সন্নিকটে দাবি করবে তার উপর। যুগ যুগ ধরে এই ধরনের epileptic এবং apocalyptic অনেক নবী দাবিকারী ব্যাক্তির বর্ণনা আমি পালাক্রমে সংকলন করবো। কেয়ামত প্রসঙ্গে আমি কেন বললাম সেটা পরে আসছি, তার আগে জাপানি নবী চরিত্রটি সম্পর্কে একটু আলোকপাত করতে চাই। কোথাও কিছুর মিল পাই কি না জানা দরকার।

ধরা পড়ার পরে জাপানি নবীর শোকো আসাহরার ব্যাক্তিগত রুমে বোতলের ভেতরে নারীদের কোকড়ানো চুল পাওয়া গিয়েছে । প্রতিটি বোতলে একজন করে নারী উম্মতদের নাম লেখা আছে। যদিও উনি তার নর-নারী উম্মতের মধ্যে বিবাহ কিংবা যৌন সম্পর্ক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন – উনি নিজে মাশাআল্লাহ বহু নারী সাথে যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যেতেন। তার যুক্তি ছিল যে একাধিক নারীদের সাথে এই ভাবে যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারলে তার পক্ষে সহি (একাগ্রতা পূর্ণ) তান্ত্রিক দীক্ষা অর্জন করা সম্ভব হবে (the integrity of tantras initiation.) । কুমারী মেয়েদেরকে তিনি “ডাকিনী” বলে সম্মোধন করতেন এবং এরকম একজন ডাকিনী দিয়েই পাতাল ট্রেনে উনি বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিলেন। আজ নবীজী র সাথে নারী সংক্রান্ত ব্যাপারে মিল আছে কি না সে মন্তব্য করে কারো অনুভূতি তে আঘাত দিলাম না।

আমাদের নবীজি অনেকগুলো ধর্ম থেকে যেমন আরবের পুত্তলিকতা, ইহুদি ধর্ম এবং খ্রিস্টান ধর্ম থেকে টুকিটাকি একত্র করে জোড়াতালি দিয়ে ইসলাম ধর্ম উপহার দিয়েছেন। শোকো আসাহরাও তার ধর্ম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার নাগালে পাওয়া Chinese astrology, Taoism, western esotericism, yoga, meditation, esoteric Buddhism এবং esoteric Christianity সবকিছু মিলিয়ে অর্থাৎ তার হাতের নাগালে যতগুলো ধর্ম পেয়েছে তা জোড়াতালি দিয়ে সে তার ঐশ্বরিক ধর্ম শুরু করেছিলেন। তবে আমাদের নবীজি অনেক আগে হওয়াতে ভন্ডামি করে ধর্ম টা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন কিন্তু শোকো আসাহরা একবিংশ শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে এসে আর তার ধর্মটাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি ।

নবীজি নিজেকে বলতেন slave of god এবং আসাহরা নিজেকে বলতেন Lamb of God । এ উপাধিটা যীশু কে খ্রিস্টানরা বলে থাকে -যীশু সবার পাপ নিজের উপর নিয়ে নাকি পৃথিবীতে পাপমুক্ত করেছেন। (তবে এখনো আসাহরার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়নি, সে এখনো জেলখানায় কালাতিপাত করিতেছেন।)

উনার সম্পর্কে লেখা উইকিপিডিয়া পেইজে এটাও রেফারেন্সসহ বলা আছে যে উনিও সবসময় চতুর্দিকে ষড়যন্ত্র খুঁজে পেতেন, ইহুদিদের দ্বারা করা ষড়যন্ত্র কিংবা freemasons দের করা ষড়যন্ত্র , British royal family করা ষড়যন্ত্র কিংবা জাপানি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মগুলোর দ্বারা করার ষড়যন্ত্র চারপাশে অনুভব করতে পারতেন । সুবহানাল্লাহ ! কি আশ্চর্য মিল। আমাদের নবীজি ও ইহুদীদের ষড়যন্ত্র অনুভব করতে ( থুক্কু ফেরেস্তা যোগে জানতে) পারতেন। নবীজির জীবনকালের ঘটনাবলী এবং কোরআন হাদিসের পর্যালোচনা করে নিন্দুকেরা বলে উপযুক্ত সময়ে কাল্পনিক ষড়যন্ত্রের বাহানা করতে পারা এবং এই অভিযগে বিবেকহীন ভাবে ইহুদীদের নিধন করতে পারা নবীজীর মদিনাতে সফল হবার অন্যতম কারণ ছিল। আজ আমি সে প্রসঙ্গটা ও এড়িয়ে গেলাম।

এই জাপানি নবীও বলেছিলেন যে পৃথিবী শেষ হয়ে যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে, কেয়ামত এসে যাচ্ছে ।তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পারমানবিক বোমা আক্রমণ সবাইকে মেরে ফেলবে। এই নবী “Armageddon” শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা কিনা Book of Revelation 16:16 থেকে নেয়া হয়েছে। আমাদের নবীজিও কথায় কথায় কেয়ামত কখন হবে তা বলে মানুষকে ভয় দেখাতেন। এ সংক্রান্ত নিচের কয়েকটি হাদিস পড়লে যদি কারো ইসলাম বিশ্বাসে ধাক্কা লাগে আমি নরমপন্থী এর জন্যে দায়ী থাকবনা।

নবীজীকে যখন জিজ্ঞেস করা হতো কেয়ামত কখন আসবে তিনি তাদের সামনে উপস্থিত সবচেয়ে কম বয়স্ক লোকটিকে দেখিয়ে বলতেন- তাঁর জীবনকালে কেয়ামত আসবে ।
Sahih Muslim, Book 41, Number 7050
Sahih Muslim, Book 41, Number 7051:
Sahih Muslim, Book 41, Number 7052:
Sahih Muslim, Book 41, Number 7053:

এই সহি হাদীসসমূহের রেফারেন্স সহকারে নিচে কপি পেস্ট করছি। তবে যদি কেয়ামত নবীজীর সময়কালের ঐ সভায় উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিটির জীবনকালে হবার কথা আর আমরা নিশ্চিত ঐ ব্যক্তি মরে তার হাড়গোড় অলরেডি পচে গেছে এবং শরীর মাটির সাথে মিশে গেছে। তার মানে বুঝতে হবে কেয়ামত ও হয়ে গেছে। আমারও মাঝে মাঝে মনে হয় যে কেয়ামত সম্ভবত হয়ে গেছে। আমরা আসলে বেহেশতে আছি । কারণ বর্তমান যুগের এমন অনেক কিছুই আছে যা নবীজির কল্পিত বেহেস্তে পাওয়া যাবে না । ওখানে বিনোদন বলতে সত্যিকার অর্থে কিছুই নাই যা আছে নিতান্ত জৈবিক কার্যাবলী – যেমন খাওয়া-দাওয়া এবং যৌনকর্ম। বর্তমান যুগে আমরা তার চেয়ে বহুগুণে উন্নত লাইফ লিড করছি। যেমন আমাদের আছে ইন্টারনেট, ফেইসবুক, মোবাইল ফোন কিংবা অফুরন্ত জ্ঞান চর্চার সুযোগ ইত্যাদি ইত্যাদি।

আরও একটি সহি হাদীস আছে যেখানে নবীজি বলছেন আজকের রাতটা খুবই স্পেশাল কারণ আজকে থেকে ১০০ বছর পর পৃথিবীর মাটিতে কেউ থাকবে না (Sahih al-Bukhari, Volume 1, Book 10, Number 539 / Sahih al-Bukhari, Volume 1, Book 10, Number 575/ ) এই কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে উনি উপস্থিত মানুষদেরকে ভয় দেখাচ্ছিলেন যাতে উনার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখে। এইসব হাদীসগুলোর লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল নবীজির হিজরতের ২০০ বছর পরে তারপরও নবীর – প্রতি বিশ্বাসে কারো একটুও ফাটল ধরেনি। সুবহানাল্লাহ।

Sahih Muslim, Book 41, Number 7050:

‘A’isha reported that when the desert Arabs came to Allah’s Messenger (may peace be upon him) they asked about the Last Hour as to when that would come. And he looked towards the youngest amongst them and said: If he lives he would not grow very old that he would find your Last Hour coming to you he would see you dying.

Sahih Muslim, Book 41, Number 7051:

Anas reported that a person asked Allah’s Messenger (may peace be upon him) as to when the Last Hour would come. He had in his presence a young boy of the Ansar who was called Mahammad. Allah’s Messenger (may peace be upon him) said: If this young boy lives, he may not grow very old till (he would see) the Last Hour coming to you.

Sahih Muslim, Book 41, Number 7052:

Anas b. Malik reported that a person asked Allah’s Apostle (may peace be upon him): When would the Last Hour come? Thereupon Allah’s Messenger (may peace be upon him) kept quiet for a while, then looked at a young boy in his presence belonging to the tribe of Azd Shanilwa and he said: If this boy lives he would not grow very old till the Last Hour would come to you. Anas said that this young boy was of our age during those days.

Sahih Muslim, Book 41, Number 7053:

Anas reported: A young boy of Mughira b. Shu’ba happened to pass by (the Holy Prophet) and he was of my age. Thereupon Allah’s Apostle (may peace be apon him) said: If he lives long he would not grow very old till the Last Hour would come (to the old People of this generation).

Sahih al-Bukhari, Volume 1, Book 3, Number 116:

Narrated ‘Abdullah bin ‘Umar:
Once the Prophet led us in the ‘Isha’ prayer during the last days of his life and after finishing it (the prayer) (with Taslim) he said: “Do you realize (the importance of) this night? Nobody present on the surface of the earth tonight will be living after the completion of one hundred years from this night.”

Sahih al-Bukhari, Volume 1, Book 10, Number 539:

Narrated Abdullah:
“One night Allah’s Apostle led us in the ‘Isha’ prayer and that is the one called Al-‘Atma by the people. After the completion of the prayer, he faced us and said, ‘Do you know the importance of this night? Nobody present on the surface of the earth tonight will be living after one hundred years from this night.’” (See Hadith No. 575).

Sahih al-Bukhari, Volume 1, Book 10, Number 575:

Narrated ‘Abdullah bin ‘Umar:

The Prophet prayed one of the ‘lsha’ prayer in his last days and after finishing it with Taslim, he stood up and said, “Do you realize (the importance of) this night? Nobody present on the surface of the earth tonight would be living after the completion of one hundred years from this night.”

নরমপন্থীর চরমপোস্ট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 + = 52