আসলে নবীজি “সত্য” বলতেন


কিছু নাস্তিক দাবি করে থাকেন যে নবী মোহাম্মদ সব মিথ্যে কথা বলতেন। অথচ একজন খ্রিস্টান হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ান অস্তিত্ববাদী লেখক Fyodor Dostoyevsky মনে করেছিলেন নবী মুহাম্মদ খুব সম্ভবত মাঝে মাঝে সত্য কথাই বলতেন। ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট এর রচয়িতা এই রাশিয়ান উপন্যাসিক দস্তয়ভস্কি যাকে মনে করা হয় সেই সাহিত্য ব্যক্তিত্ব যিনি পশ্চিমা উপন্যাসকে তার সম্ভাবনার চরম শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছেন – উনি মনে করতেন নবীজির কিছু অভিজ্ঞতা অন্তত তার নিজের জন্যে বাস্তব ছিল। তার মানে এই অর্থে নবীজি সত্য বলছিলেন। নবী মুহাম্মদকে দস্তয়ভস্কি এভাবে বুঝতে পেরেছিলেন কারণ তিনি নিজেও নবীজীর মত Temporal Lobe Epilepsy (TLE) বা মৃগী রোগাক্রান্ত ছিলেন। এই রোগটি তিনি পেয়েছিলেন তার পিতা থেকে। নবী মুহাম্মদের Epileptic seizure প্রথম হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর দস্তয়ভস্কির হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। তারপর ২৫ বছরের একটা বিরতি হয় তারপর থেকে কিছুদিন বাদে পর পর ই তার seizure হতে থাকে। ভালো ও মন্দের ভেতর দিয়েই চলতে থাকে তার রোগের অবস্থা। অতিমাত্রিক সুখের অনুভূতি থেকে হঠাৎ করেই ভয়ংকর ভিতি র অনুভূতি সঞ্চারিত হতে থাকে তার ভেতর। দস্তয়ভস্কির লেখা একটি গল্পের ক্যারেক্টারের দৃষ্টিকোণ থেকে তার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা স্বর্গের বর্ণনা পাওয়া যায়। তার যখন মহানবীর মত epileptic seizure হতো তখন তিনি এক সময় দেখতে পেয়েছেন যে সারি সারি ফেরেশতাগণ, স্বর্ণালী trumpet বাজাচ্ছে স্বর্গের ভেতর। দুইটি বিশাল সোনালী দরজা খুলে গেছে এবং একটি সোনালী সিড়ি ঈশ্বরের সিংহাসন পর্যন্ত উঠে গেছে। এখন আপনাদের মনে তারপরও প্রশ্ন জাগতে পারে হতেই পারেনা একজন মানসিক রোগী কিভাবে পবিত্র কোরআন শরীফের মত এত সুরেলা কবিতা লিখতে পারবে। বিষয়টা সহজ ভাবে বোঝার জন্য কিছু বিখ্যাত ব্যাক্তি, নেতা, লেখক সাহিত্যিক উপন্যাসিক এবং কবি যাদের এই প্রজাতির মানসিক রোগ ছিল তাদের কয়েকজন সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করব

১। দস্তয়ভস্কি সম্পর্কে আগেই বলেছি তার সম্পর্কে আর বলছি না।

২। Harriet Tubman নামক একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা নেত্রী যিনি আমেরিকান দক্ষিণ থেকে কয়েকশো ক্রীতদাসদেরকে কানাডা নিয়ে মুক্তির পথ দেখিয়েছে তাকে কৃষ্ণাঙ্গদের মুসা নবীর হিসেবে তুলনা করা হয। কারন মুসা নবী সংক্রান্ত যে মিথলজি প্রচলিত আছে সেটাতেও মুসা তার israelite দের দাসত্ব অবস্থা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন নেতৃত্বে মধ্য দিয়ে। Tubman ক্রীতদাসী হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন অল্প বয়সে তার মালিক অন্য ক্রীতদাসকে “heavy metal weight” দ্বারা আঘাত করতে গিয়ে ভুল করে তার মাথায় আঘাত করে। প্রচণ্ড ব্যাথা পান সারা জীবন তাকে কষ্ট করতে হয়। একই সাথে তিনি অদ্ভুত স্পষ্ট (strange visions and vivid dreams) আপাতদৃষ্টিতে আমাদের নবীজির মত অলৌকিক অনেক কিছু দেখতে পান।

৩। সেন্ট পল যিনি সবচেয়ে বড় খ্রিস্টান ব্যাক্তিত্ব এবং উনি না হলে ইউরোপ ব্যাপী খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার কখনো সম্ভব হত না উনিও এই জাতীয় দৈব দৃষ্টি সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

৪। Joan of Arc মধ্যযুগীয় ফ্রান্সের প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র কৃষকের অশিক্ষিত কিশোরী মেয়ে যে কিনা চমৎকার যুদ্ধ নেতৃত্ব দিয়ে ফরাসি বাহিনীর অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে ইতিহাসে ধারা পাল্টে দিয়েছিলেন। ১৩ বছর বয়স থেকেই তিনি মাথার ভেতরে সেইন্ট দের ঐশ্বরিক কণ্ঠস্বর শুনতে পেতেন এবং মিখাইল ফেরেশতার দেখা পাইতেন । দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে পরবর্তীতে ফ্রান্সের শত্রুপক্ষ ইংরেজি বাহিনীর সমর্থনকারীদের হাতে ধরা পড়ায় তারা তাকে ইংরেজদের হাতে তুলে দেয়। ইংরেজদের পক্ষের ধর্মগুরু গণ তাকে ডাইনি বলে সাব্যস্ত করে মাত্র ১৯ বছর বয়সে আগুনে পুড়িয়ে মারে। এখানে একটি বিষয় দর্শনীয় যে ফরাসিরা এবং ইংরেজরা একই (খ্রিষ্টান) ধর্মের অনুসারী ছিল এক পক্ষ তার কৃতিত্বের জন্য তাকে সেইন্ট বা সাধু হিসেবে দেখত অন্যপক্ষ তাঁকে তাঁর কৃতিত্বের জন্য ডাইনি হিসেবে অভিযোগ দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। যদিও আরো অনেক পরে তার বিরুদ্ধে দেওয়া সমস্ত অভিযোগ ভুল ঘোষণা করে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে সেইন্ট উপাধি দেয়া হয়।

৫। ডিভাইন কমেডি রচয়িতা দান্তে।

৬। স্যার ওয়াল্টার স্কট যিনি কিনা british সাহিত্যের romantic period এর শীর্ষস্থানীয় সাহিত্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন ।

৭। গালিভার্স ট্রাভেলস এর রচয়িতা জোনাথন সুইফট ।

৮। ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকান সাহিত্যিক Edgar Allan Poe

৯। তিনজন শীর্ষ ইংরেজি রোমান্টিক কবি Lord Byron, Percy Bysshe Shelley, and Alfred Lord Tennyson:
Alfred Lord Tennyson তার epileptic seizure হবার অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন
“the clearest of the clearest, the surest of the surest, the weirdest of the weirdest, utterly beyond words”

১০। এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ এর রচয়িতা লুইস ক্যারল তার নিজের temporal lobe epilepsy সম্পর্কে লেখ গেছেন এবং এলিসের খরগোশের গর্তে পড়ে যাওয়ার এবং পরবর্তীতে ঘটনার বর্ণনা গুলি এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড তার সঙ্গে অনেক এপিলেপটিক রোগীর epileptic seizure চলাকালীন মানসিক অনুভূতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু কিছু সমালোচক দাবি করেন যে এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড এর সম্পূর্ণ গল্পটি epileptic seizure চলাকালীন মানসিক পরিস্থিতির রূপক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

১১। কাউন্ট লিও তলস্তয় ঊনবিংশ শতাব্দীর রাশিয়ান উপন্যাসিক যিনি ওয়ার এন্ড পিস বা আনা কারেনিনা মত উপন্যাস লিখে গেছেন তারও epileptic seizures হতো।

১২। গুস্তাভ ফ্লাবার্ট: সাহিত্যের আরেকটি মহান নাম। এই উনবিংশ শতাব্দীতে ফরাসি সাহিত্যিক Madame Bovary এবং A Sentimental Education এর মত মাস্টারপিস লিখেছিলেন। গুস্তাভ ফ্লাবার্ট এর সাধারণত সিজার যখন শুরু হত অনুভূত হইত যেন আসন্ন বিপর্যয় ধেয়ে আসতে যাচ্ছে, তারপর কিছুক্ষণ নিজেকে খুব অসহায় অনুভব করতেন । এক সময় তার মনে হত যেন তিনি একটি অন্য মাত্রায় (Dimension ) এর মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তার চেতনা যেন একটি ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত সামুদ্রিক জাহাজের মত যা ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে । তার জন্য epileptic seizure একটি ঘূর্ণিঝড়ের মতো আক্রমন করত যা কিনা নিয়ে আসত অনেক আইডিয়া এবং ছবি। উনি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠতেন, এক গাঁদা স্মৃতি তার উপর ফিরে আসতো সেই সাথে ছিল আগুনের মত কিছু হুলিসিনেশন । মুখের মধ্যে ফেনা জমে যেত, ডানহাত আপনা আপনি নড়তে শুরু করতো । দশ মিনিট ধরে ট্রান্স স্টেট এর মধ্যে থাকতো তারপর হতো বমি ।

১৩। অ্যাগাথ্রি ক্রিস্টি: রহস্য উপন্যাসের নেতৃস্থানীয় ব্রিটিশ লেখিকাও epileptic seizure হবার অনুভূতি কথা লিখে গেছেন। উপরের আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে আমাদের কবি দুঃখিত আমাদের নবী epileptic seizure আক্রান্ত একমাত্র প্রতিভাবান ব্যক্তি বা কবি ছিলেন না। তাঁর কল্পনাপ্রবণ শক্তি, কেয়ামতের চিন্তা, তার বিষণ্নতা, তার আত্মঘাতী ভাবনা, তার উদাসীনতা, ধর্মের প্রতি তার আগ্রহ, এবং তার পরকালের দৃশ্যাবলী কল্পনা এবং তার চাক্ষুষ বিভ্রম এবং শ্রবণীয় ভ্রান্তি এবং তার অনেকগুলি শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যগুলি TLE দ্বারা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে, এই TLE বা মৃগী রোগটি নবী মুহম্মদর নির্মমতা, সহানুভূতির অভাব, গণহত্যা এবং তার মানসিক দৃঢ়তার ব্যাখ্যা করে না। এগুলি তার পুঞ্জিভূত নারসিসিজমের মানসিকতার ফলাফল ছিল বলেন লেখক আলী সিনা তার Understanding Muhammad: A Psychobiography of Allah’s prophet বইতে দাবি করেন।

নরমপন্থী’র চরমপোস্ট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 4