জয়নব ও নবী মুহাম্মদ: নবীর পক্ষে আল্লাহর পক্ষপাতিত্ব

নবী একদিন তার পালকপুত্র যায়িদের বাড়িতে গেলেন। যায়িদ তখন বাইরে ছিলেন। তিনি যখন যায়িদকে নাম ধরে ডাকলেন তখন তার নব বিবাহিত স্ত্রী যয়নব ভিতর থেকে জানালেন যে যায়িদ বাড়ীতে নাই। কিন্তু মুহাম্মদ তার কৌতূহল দমন করতে পারলেন না। সঙ্গে সঙ্গে ফিরে না গিয়ে তিনি যায়িদের বাড়ীর ভিতরে উঁকি দিলেন। সেখানে তিনি তার পুত্রবধূ যয়নবকে দেখলেন। আরবের গ্রীষ্মকালীন গরমের দিনে যয়নব তখন ফিনফিনে পোশাক পরা অবস্থায় ছিলেন। মুহাম্মদ সুন্দরী যয়নবের আকর্ষণীয় প্রায় নগ্ন শরীর দেখে মোহিত হয়ে পড়লেন।…………. সুন্দর মনের কোন শ্বশুর হলে পুত্রবধূর ঘরের ভিতর উঁকি দেওয়ার মত ভুল করার জন্য লজ্জা পেয়ে ফিরে যেতেন। তার পরিবর্তে মুহাম্মদ সম্ভবত সুন্দরী যয়নবের যৌনাবেদনময়ী শরীর দেখে নিজের শরীরের ভিতর যৌনতার মহাপ্লাবন অনুভব করেছিলেন।

জয়নবকে অর্ধনগ্ন বসনে দেখার পর তিনি নিশ্চিত হলেন যে, জয়নবকে পাওয়া প্রাক্তন ক্রীতদাস জায়েদের জন্য খুব বেশী হয়ে যায়। এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য নবী যেমন সতত আল্লাহ্‌কে ব্যবহার করতেন, এ ক্ষেত্রেও ঠিক তাই করলেন।

কাহিনীটি নিম্নরূপঃ

একদিন বিকালে মুহাম্মদ আয়েশার ঘরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই সময় কিছুক্ষণ তিনি চোখ বন্ধ করে রইলেন। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তিনি জয়নবের দেহসৌষ্ঠবের কল্পনায় বিভোর ছিলেন। অতঃপর একটি সমাধান উদ্ভাবন করে আকস্মিকভাবে চোখ খুললেন। চোখ খোলার পর নবী মুখে হাসি এনে বললেনঃ “কে জয়নবের কাছে যাবে ও তাকে সুসংবাদ দিবে? তাকে বিবাহ করার জন্য আল্লাহ্‌ আমাকে আদেশ করেছেন।”

এ প্রসঙ্গে নবী আল্লাহর মুখ দিয়ে নিম্নোক্ত আয়াত নাজিল করালেনঃ

“মনে রেখ, আল্লাহ্‌ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, তুমি তাকে বলছিলে, ‘তুমি তোমার স্ত্রীর সহিত সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহ্‌কে ভয় কর।’ তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন করছ আল্লাহ্‌ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন; তুমি লোকভয় করছিলে অথচ কেবল আল্লাহ্‌কেই ভয় করাই তোমার জন্য অধিক সঙ্গত। অতঃপর জায়েদ যখন জয়নবের সহিত বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাকে তোমার সহিত পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করলাম, যাতে মুমিনদের পোষ্য পুত্রগণ নিজ স্ত্রীর সহিত বিবাহসূত্র ছিন্ন করলে সে-সব রমণীকে বিবাহ করায় মুমিনদের কোন বিঘ্ন না হয়। আল্লাহ্‌র আদেশ কার্যকর হতে বাধ্য।” (কোরান- ৩৩:৩৭)

কোরানের মূল আরবী ভাষ্যের অমার্জিত রূপকে ঢাকার জন্য অনুবাদকগণ সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অনুবাদ করেন আয়াতটির। উপরোক্ত অনুবাদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
আরবী শব্দ “ওয়াতারা” শব্দের অর্থ হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া, প্রয়োজন, অথচ ইউসুফ আলী, পিকথাল ও অন্য অনুবাদগণ তাকে “বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো” এবং “বিবাহ বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিকতা” ইত্যাদি অর্থে অনুবাদ করেন, যা পড়ে আমি না হেসে পারি না। মুহাম্মদের সময় কী ধরনের আনুষ্ঠানিকতা জানা ছিল?

আরও নির্ভুল অনুবাদ হওয়া উচিত ছিলঃ

“যখন জায়েদ তার (জয়নবের) কাছে যা চেয়েছিল, তা পাওয়া শেষ করেছিল”।

মানুষের কাছে স্ত্রীর প্রয়োজন হয় জীবনের জন্য। সফল বিবাহের জন্য কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নাই যে, নয়া আছে চাওয়া-পাওয়ার সমাপ্তি। সে কি তার স্ত্রীকে বলতে পারে, “তোমার কাছে যা পাওয়ার ছিল, তা পাওয়া হয়েছে”? একমাত্র যৌন প্রয়োজনের যখন কেউ বিয়ে করে, সে ক্ষেত্রে এমন কথা বলা যেতে পারে।

আল্লাহ খুব সহজ ভাষায় উপরের আয়াতে বলছেনঃ

“যেহেতু জয়নবের কাছ থেকে জায়েদের যা পাওয়ার ছিল তা সে পেয়ে গেছে, এখন এখন তোমার পালা, হে মুহাম্মদ।”

আয়াটির সবচেয়ে লক্ষণীয় ন্যাক্কারজনক দিক হচ্ছে, সমগ্র ঘটনায় সবচেয়ে বড় বলি জায়েদকে হৃদয়হীনভাবে মুহাম্মদের অতীত অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ। আয়াতটিতে সাধারণভাবে “নারী” এবং “বিবাহ” প্রথার প্রতি স্পষ্ট শ্রদ্ধাহীনতা প্রকাশ পেয়েছে। কেননা আয়াটিতে মূলত এ-কথাটি বলতে চাওয়া হয়েছে যে, জায়েদের সঙ্গে জয়নবের বিবাহ ছিল কেবলই যৌন-লালসা পূরণের জন্য। আয়াতটি জয়নবের প্রতি আল্লাহ তথা মুহাম্মদের মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে তার অসততা ধরা পড়েছে এবং তিনি যে জয়নবকে কেবল যৌন সামগ্রী হিসাবে পেতে চেয়েছিলেন, জায়েদের জন্য জয়নব তা ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন জায়েদের প্রেমময়ী স্ত্রী, যে ধারণা কামুক মুহাম্মদের মানসে কখনো স্থান পেয়েছিল ব’লে মনে হয় না।

সুত্র: সহি মুসলিম ৮ নং পুস্তক। সংখ্যা ৩২৪০/ কৃতিত্ব স্বীকার- ইসলাম ও বিতর্ক, হাসানুজ্জামান মানিক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 79 = 83