মাফিয়া দল বনাম মুসলিম দল

সাধাণত লুটপাট ভিত্তিক মাফিয়া দলকে যদি গডফাদারেরা নিয়ন্ত্রনে রাখতে চায় তাদের নানা ভাবে হিমশিম খেতে হয়। কারণ মাফিয়া দলটির সদস্যরা অনেকে লোভী হতে পারে এবং সবদিক দিয়ে সবসময় সবাইকে নজরদারি করা কঠিন। এই দিক দিয়ে আমাদের নবীর একটা বিশেষ ক্ষমতা ছিল সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখার, সেটা হচ্ছে তার ফেইক আইডি আল্লাহর নাম দিয়ে বাণী রচনা করা যাতে সবাই একটু নিয়মকানুন মেনে চলে ।
এই উদাহরণ টা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন।

একবার নবীজির কিছু সাঙ্গোপাঙ্গ দল তাদের যাত্রাপথে সোলেম গোত্রের (Solaym tribe) একজন রাখাল কে দেখতে পেল যে তার ভেড়ার পাল নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল । তখন আল্লাহর নবীর মাফিয়া দলকে দেখে সে সম্মান করে ( কিংবা ভয় বসত) সে ইসলামিক উপায়ে বলল “আসসালামুয়ালাইকুম”। এই সালাম টা একটা পাসওয়ার্ড হিসেবে কাজ করত । এই পাসওয়ার্ড দিয়ে একজন মানুষ আরেকজনকে বুঝিয়ে দিত যে সে ও একজন মুসলমান। নবীজির সাঙ্গ-পাঙ্গরা ধরে নিল যে সে ভয় বসত সালাম দিয়েছে সে হয়ত মুসলমান না। আর এই অজুহাতে তাকে হত্যা করল এবং তার সব ভেড়াগুলো গনিমতের মাল হিসেবে নিয়ে নিল। তখন এই আয়াত খানা নাযিল হয়েছিল। সূরা ৪:৯৪

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَتَبَيَّنُواْ وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلاَمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِندَ اللّهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنتُم مِّن قَبْلُ فَمَنَّ اللّهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُواْ إِنَّ اللّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
94

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে, তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে, তুমি মুসলমান নও। তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ কর, বস্তুতঃ আল্লাহর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরা ও তো এমনি ছিলে ইতিপূর্বে; অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খবর রাখেন।

শুধু গনিমতের মালের লোভে কাউকে অমুসলিম সন্দেহ করে যাতে হত্যা না করা হয়। এখন কয়েকটা বিষয় আপনাদের নজরে আনতে চাই। ১। রাখাল টি নিরস্ত্র ছিল, নবীর সাহাবীদেরকে নিজে আক্রমণ করেনি। শুধু সালাম দিয়েছে । ২। রাখাল টি যদি অমুসলিম হইত তাহলে হত্যা করার ব্যাপারে আল্লাহ কিংবা তাঁর নবীর কি কোনই আপত্তি ছিল না? ৩। এই আয়াতের উদ্দেশ্য কি শুধু মুসলমানদের হাতে মুসলমানদের হত্যা কান্ড কমানো যাতে নবীজির সাঙ্গোপাঙ্গ সংখ্যা কমে না যায়? সবার মন্তব্য এবং ইসলামী বিশ্লেষণ আশা করছি। আপনাদের গালি গালাজ ও আমার অনেক বড় অনুপ্রেরণা। মুমিন ভাইরা যদি কিছু না পারেন কিছু গালি দিয়ে যাবেন। বুঝবো ঔষধের রিয়েকশন শুরু হইছে।

নরমপন্থী’র চরমপোস্ট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 38 = 44