হাতুরীতন্ত্র!


এতো সাহস, স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে অধিকার চাস! যতবড় মুখ না তত বড় কথা কিসের অধিকার? কিসের কোটা, আমরা যেভাবে সব সেট করবো সেইভাবে হবে। দেশ মধ্যম আয়ের ক্যাটাগরিতে এমনি এমনি যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, তো কি হয়েছে? প্রয়োজনের অনেক কম স্কুল-কলেজ আছে তো কি হয়েছে? বিদেশী ব্যাংকে সাড়ে চার হাজার কোটির উপরে টাকা রয়েছে আমাদের একদল মানুষের উন্নয়ন নয় সেটা। যানজটে দেশ স্থবির মানে দেশের মানুষের একের অধিক গাড়ি কেনার ক্ষমতা হয়েছে। এই উন্নয়ন কি চোখে লাগে না। ডাক্তার-হাসপাতাল কম তো কি হয়েছে? মানুষ দেশে চিকিৎসা না করে বিদেশে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে। কোটি টাকার অধিক খরচ করে ফ্ল্যাট কিনছে কারণ দেশে কিছু মানুষ সক্ষম এখন।

আগে মানুষ দুর্ঘটনায় মারা গেলে ৫ হাজার টাকা সাথে একটা ছাগল দেয়া হতো। এখন গাড়ী চাপায় মানুষ মারা গেলে ২০ লাখ টাকা দেয়া হয়। ৫ হাজার থেকে ২০ লাখ কত্ত উন্নয়ন হয়েছে ভাবা যায়। আগে পুলিশের ভয়ে অপরাধী লুকিয়ে থাকতো এখন পুলিশ কত অপরাধী বান্ধন, অপরাধীকে সেভ করে বাসায় পৌঁছে দেয়। কেউ চা-সিগারেটের খরচ দেয় মাত্র, কিম্বা খুশী হয়ে কেউ কেউ কোক খাবার পয়সা দেয় তার পরিমাণ কত তা আলোচ্য বিষয় হতে পারে। কিন্তু পুলিশ ও অপরাধী কেমন ভাই-ভাই বা বন্ধু-বন্ধু ভাব। এমন কি আগে ছিলো? উঁহু! উন্নয়নের কারনে হয়েছে। আজ অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরতে পারে, মন্ত্রী এম পি, নেতা ও পুলিশের সামনে ঘুরে বেড়ায়। কেউ কিছু বলার সাহস রাখে না। অপরাধী বুক ফুলিয়ে রাস্তায় হাটার যোগ্যতা রাখে। ভেবে দেখেছিস কত উন্নয়ন এখানে। সম্পর্কের উন্নয়ন। হিন্দি সিরিয়াল কাল্পনিক গল্প ফেল মারবে আমাদের এই সত্যি গল্পের কাছে ।

একদল ছেলে-মেয়ে কি শুরু করছে কোটার নামে। আন্দোলনের নামে শয়তানী,ছাত্রদের সাথে শিক্ষকরাও দেখি শয়তানী করছে। এক শিক্ষক পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হাত রেখেছিল, এতে যে প্রিজনভ্যানের ক্ষতি হয়ে যেত, শিক্ষক তো হাত দিয়ে আসামী ভ্যান তুষ করে ফেলতে পারতো, এ কারনে এরেস্ট করার জন্য টানাটানি চলছিল। বেটা বেঁচে গেছে যে এরেস্ট করিনি। কত্ত সাহস! পুলিশের সামনে পুলিশের ভ্যানে হাত। হাত ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেব হাতুড়ী মেরে। আমাদের হাতুড়ীতন্ত্র জিন্দাবাদ। যেই আন্দোলন করবে তাকে হাতুড়ী পেটা করে পঙ্গু করে দেব চিরতরে। একজন পঙ্গু হলে তাকে দেখে হাজার হাজার আন্দোলনকারী ছেলে মেয়ে ভয়ে পালায় যাবে।

এতো কিছুর পরও এই ছাত্ররা কিসের আন্দোলন করে। তাদের তো বলায় হয়েছে কোটা বাতিল, তারপর আবার কি? কিসের রুপরেখা? যখন করার করবো? বেইমান ছোটলোকের দল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িস তো নাম মাত্র বেতন দিয়ে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলির লেখা পড়ার খরচ জানে কত?? সেই তুলনায় তো মাগনা পড়ছিস, তাহলে এতো বড়াই কিসের। তোরাই যদি চাকরি করবি তাহলে এই যে সারা বছর দলীয় পোলাপান দলের জন্য লাফালাফি করে ওদের কি হবে? ওদের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে কর্তব্য আছে। তোরা সব ছোটলোকের দল তোদের জন্য প্রায় ফ্রি করে দেয়া হয়েছে পড়াশোনা সেগুলি কর। পাশ করে চাকরি পাবি কি পাবি না। বাঁচবি কি বাঁচবি না সেগুলি দেখাও কি আমাদের দায়িত্ব।

আমাদের কত্ত কত্ত বড় দায়িত্ব রয়েছে, আমাদের নেতারা ঋণ করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিদেশ থেকে দেশ ও দশের উন্নয়নের জন্য, সেই টাকায় দেশের কাজে না লাগালেও দশের কাজে মানে আমাদের কিছু মন্ত্রী, এম পি ও নেতার উন্নতির কাজে লাগছে। সুইসব্যাংকে জমছে টাকার পাহাড়, হ্যাঁ আমরা কিছু মানুষ ভালো থাকবো, তাতে কি তোদের ভালো লাগছে না। তোরা মানুষের ভালো চাস না কেন? শুধু নিজের কথা ভাবিস? ভর্তি, চাকরি নিয়ে আন্দোলন করিস? আরে মানুষকে নিয়ে ভাব। আমরা দলের সবার কথা ভাবি, হাতে রাখতে তাদের করা সব অন্যায়ে চোখ বুজে রাখি। কেউ প্রমাণসহ ধরিয়ে দিলেও আমাদের বোধ, বিবেক জাগ্রত হয় না। কেমন বিবেক বর্জিত চামার হয়ে আছি।

শুধু কোটা কেন সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন কথা কেউ বলতে পারবে না, বললেই চলবে হাতুড়ী। চলবে মামলা। হ্যাঁ গাড়ী চাপা দিয়ে মানুষ খুন কর, ব্যাংক লুঠ কর, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি কেড়ে নে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করে, মানুষকে ঠকিয়ে পথের ফকির করে দে, সরকারী সম্পত্তি ভোগদখল কর, রেপ কর, রেপ করে খুন করে, ছিনতাই, রাহাজানি কর, ঘুষ খা, যা ইচ্ছে তাই কর শুধু দলের ছাতি মাথায় দিয়ে কর, তাহলে সব মাফ, সাত খুন মাফ। ন্যায়ের গান শোনাবি কি হাতুড়ীর এক আঘাতে বুঝবি কত ধানে কত চাল।

এত্তো এত্তো কিছু করার অপশান থাকতে নিরস্ত, নিরামিষ কোটা আন্দোলন, যেখানে নেই অস্ত্রের ঝনঝনানি, নেই গোলাবারুদ গন্ধ, নেই পিকেটিং তাহলে কিসের আন্দোলন রে, দেখ তোদের আন্দোলেনকে কেমন আলোচিত করে দিলাম হাতুড়ী মেরে। মেয়েদের বেশ্যা উপাধি দিয়ে। মেয়েগুলিকে রেপের ভয় দেখিয়ে বের করে দেব হল থেকে ভার্সিটি থেকে। আর ছেলেগুলি তো জেল আর হাতুড়ীর ভয়ে পালিয়েছে।

দুই টাকার আন্দোলনকারীরা কি খবরে দেখিস আমরা কত উচ্ছৃঙ্খল, যা ইচ্ছে তাই করি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকেও রেয়াত করিনা। তার সামনে গণভবনে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে এসেছি। আমাদের হাতুড়ী জোরে কত তা সবাই বোঝে শুধু বুঝিস না দুই টাকার জনগণরা। পড়ে নিস খবর “গণভবনে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ছাত্রলীগের, সুত্রঃ বাংলা ট্রিউবিন, ৫ জুলাই”।

চোখের সামনে রাস্তা, দালান, ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিচ্ছি তা দেখেও যে জাতি চুপ। সেই জাতি ও দেশের পিছনে বাঁশ দিয়েছি, তাদের অনুভূতিতে নেই। অনুভূতি নেই বলেই আমরা বুক ফুলিয়ে হাতুড়ি বাড়িতে চুপ করিয়ে চলেছি, জয় হাতুড়ী, জয় হাতুড়িতন্ত্র।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 14 = 23